| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
প্রিয় আনিতা
তোমার কাছে ছুটে এসেছিলাম এটা জানাতে যে আমার প্রমোশন হয়েছে। আমাদের সিঙ্গাপুরের ব্রাঞ্চে আমাকে জিএম করে পাঠানো হবে। আগামী মাসে তোমাকে বিয়ে করে আমরা এক সাথেই সিঙ্গাপুরে যেতাম। কিন্তু এখন আমাকে একাই ফিরে যেতে হচ্ছে। তুমি আমার জীবন কিন্তু আমি তোমার জীবন হয়ে উঠতে পারিনি। না না এ জন্য তোমাকে কোন দোষ দিচ্ছি না। আমি তোমাকে জোর করে আমার কাছে ধরে রাখবো না।
আমি যে আনিতাকে ভালবেসেছি সেই আনিতা তুমি না। আমি রাতে তোমাকে আর রাহাত সাহেবকে একসাথে দেখে প্রথমে রেগে গেলও পরে বুঝতে পারি তোমার জীবনে আসলে আমার জন্য আর কোন অবশিষ্ট জায়গা নেই। কষ্ট পাইনি সে কথা কখনো বলব না। অনেক কষ্ট পেয়েছি। কিন্তু তোমার এই আনন্দের সময়ে তোমার কষ্টের কারণ হবো না।
যদি তোমার কখনো মনে হয় যে তুমি আমার তাহলে তুমি আমার কাছে ফিরে আসতে পারবে। আমি তোমার ফিরে আসার অপেক্ষায় থাকবো।
তামিম
ভোরে নিজের ঘরে ফিরে আনিতা তার মোবাইলের নিচে চাপা দেয়া চিঠিটা পেল। নিজেকে মুক্ত লাগছে আনিতার। না আর কোন বাঁধা রইল না তার আর রাহাতের মাঝে। কিন্তু তাও একটা অপরাধবোধ মনের মাঝে আঁচর কাটছে বার বার। কেন? সে রাহাতকে ভালোবাসে। নিজেকে সমর্পণ করেছে রাহাতের কাছে। কিন্তু তামিমের এ ভাবে চলে যাওয়াটা যেন আনিতার মনে বোঝা হয়ে আছে।
ঝটপট জামা টা বদলে বেরিয়ে পরে আনিতা। শীতের ভোর। কুয়াশা পরছে। একটা রিক্সা নিল সে। এয়ারপোর্টের দিকে যেতে বলল। তাড়াহুড়ায় শীতের কোন কাপড় আনেনি। রিক্সা দ্রুত ছুটছে ফাঁকা রাস্তায়। হু হু করে হিম শীতল বাতাস কাঁপিয়ে দিচ্ছে আনিতাকে।
কক্সবাজারের ছোট এয়ারপোর্ট। অর্ধেক হয়েছে বাকি অর্ধেকে এখনো কন্সট্রাকশনের কাজ চলছে। না এতো ভোরে কোন প্লেন ছাড়বে না। সকাল দশটার আগে কোন প্লেন ছেড়ে যায়না ঢাকার উদ্দেশ্যে। এখন আঁটটা মতো বাজে। এয়ারপোর্টের ভেতরে বেশিরভাগ চেয়ারে কেউ না কেউ বসে আছে। এদের মাঝে আনিতা তামিমকে খুঁজতে থাকে। সেই পরিচিত মুখটা দেখতে পায়না আনিতা।
তবে কি বাসে করে ফিরে গেলো তামিম? না পারতো পক্ষে বাসে যায়না সে। আনিতা আবার খুঁজতে থাকে। এবার দেখা পায় তামিমের। এক কোণে বসে আছে। স্থানুর মতো। আনিতা ধীর পায়ে তামিমের কাছে এগিয়ে যায়। বসে তামিমের পাশে।
এই সেই তামিম। যার জন্য আনিতার মনে হতো পৃথিবীটা এতো সুন্দর। তামিম এক মাত্র তামিমই আনিতার জীবনে সব রঙ ভরে দিয়েছিল। কিন্তু কখনো বাড়তি কোন চাওয়া ছিল না আনিতার কাছ থেকে। কিন্তু আজ আনিতা এই তামিমকে কষ্ট দিলো। তামিম তার বদলে আনিতাকে শুধুই আনিতার আনন্দের কাছে তার ভালোবাসার কাছে রেখে যাচ্ছে।
তামিম যে আশা নিয়ে ঢাকা থেকে ছুটে এসেছিলো যেই আনিতার টানে সেই আনিতা তার থেকে দূরে চলে গেছে এটা তামিমের মেনে নিতে কষ্ট হয়েছিল। কাল যখন আনিতার কাছে গেলো তখন পর্যন্ত সব ঠিক ছিল। কিন্তু রাহাত নামের সেই ছেলেটা এসে তাঁদের এভাবে ঘনিষ্ঠ ভাবে দেখে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যাবার পর থেকে আনিতা বারান্দায় তার অপেক্ষায় দারিয়ে ছিল। আনিতা কি কখনো তামিমের জন্য অপেক্ষা করেছে? না তামিম মনে করতে পারছে না। প্রতিবার আনিতার জন্য তামিমই অপেক্ষা করেছে। আনিতার চখে তামিমের জন্য এতো ভালোবাসা এতো উৎকণ্ঠা কখনো দেখেনি যতটা তখন রাহাতের জন্য দেখেছে। তামিমের বুঝতে একটু সময় লাগে যে আনিতা আর তার নেই সে এখন রাহাতের। রাতে রাহাত ফিরলে আনিতা তাকে ধরে ঘর পর্যন্ত নিয়ে যায়। সারা রাত তামিম রাহাতের ঘরের বাইরে দারিয়ে আনিতার জন্য অপেক্ষা করে। কিন্তু আনিতা ফিরে না। তামিমের এটা বিশ্বাস করতেও কষ্ট হচ্ছিল তার আনিতা এখন অন্য কারো বাহু বন্ধনে।
ফজরের আযান শুনে দারিয়ে। ফিরে আসে নিজের রুমে। কাপড় গুছিয়ে ব্যাগে ভরে। না আর আনিতার জীবনে বাঁধা হবে না। ফিরে যাবে সে। নিজেকে কথা দিয়েছিল তামিম আনিতার পাশে থাকবে বন্ধুর মতো আর কোন ব্যাপারে জোর করবে না। একটা চিঠি লিখে আনিতার রুমে রেখে আসে। ভালোবাসে সে আনিতাকে। ভালোবাসা দিয়ে জয় করতে চেয়েছিল জোর করে হাসিল করতে না।
তামিমের কাঁধে কে যেন হাত রাখল। তামিম তার চিন্তার জগত থেকে ফিরে আসে। পাশে বসা আনিতা। তবে কি তামিম ভুল বুঝেছিল আনিতাকে? আনিতা তারই আছে? সে চলে যাচ্ছে দেখে আনিতাও ছুটে এসেছে তার কাছে? পুলকে শিহরিত হয় তামিম। কিন্তু না আনিতা আসেনি তার কাছে। কোন ব্যাগ নেই আনিতার সাথে। তামিম আপন মনেই হাসে।
- আমি সরি তামিম। তোমাকে কষ্ট দিতে চাইনি।
আনিতার এই সরি বলা আর তার কাছে ছুটে আসা তামিমের কাছে বিদ্রুপের মতো লাগে। নিজেকে তুচ্ছ মনে হতে থাকে।
- না আসলে আমি সরি। তোমার জীবনে হুট করে এলাম। তুমি যাকে ভালোবাসো তার সাথে থাকো।
- আমি তোমাকে ভালবাসতাম তামিম।
তামিম হেসে ফেলে। আজ কি আনিতা তাকে বিদ্রুপ করবে বলেই এসেছে? কিন্তু মুখে বলে
- তাই কি আনিতা? কখনো আমার জন্য এতো উৎকণ্ঠা এতো মমতা এতো ভালোবাসা নিয়ে অপেক্ষা করেছিলে? কখনো সারা রাত আমার পাশে আমার কাছে আমার বিছানায় ছিলে?
আনিতা মাথা নিচু করে ফেলে। না এর কোনটাই সে তামিমের জন্য করেনি। আনিতার কানে বাজতে থাকে তামিমের শেষ কথা গুলো । “কখনো সারা রাত আমার পাশে আমার কাছে আমার বিছানায় ছিলে? তামিম কি করে জানলো কাল সারা রাত আনিতা রাহাতের সাথে একি ঘরে একি বিছানায় ছিল?” আনিতার চোখে অপরাধবোধ লজ্জা আর প্রশ্ন নিয়ে তামিমের দিকে তাকায়। তামিম বলেই যাচ্ছে
- না আমি তোমাকে আমার বিছানার সঙ্গী করে চাইনি। তাহলে অনেক আগেই তোমাকে বিয়ে করে তোমার মতের বিরুদ্ধে তোমাকে আমার করে নিতাম। আমি তোমাকে শুধু আনিতাকে চেয়েছিলাম। তুমি আমাকে ভালবাসনি আনিতা। ভালবাসার মানুষকে ছেড়ে কেউ অন্য কারো কাছে যেতে পারে না। যেমন এখন তুমি রাহাতকে ছেড়ে আমার সাথে যেতে পারবে না।
- তামিম আমি আসলে...
- না না আনিতা আর কিছু বোলো না। তুমি ফিরে যাও। আমি আগামী মাসের ৭ তারিখে সিঙ্গাপুর চলে যাচ্ছি। তোমাদের জীবন থেকে দূরে। কিন্তু আনিতা আমি তোমাকে ভালবাসি। তুমি যখন যে ভাবে চাও আমার কাছে ফিরে আসলে আমাকে তোমার পাশে পাবে।
আনিতার কপালে আলতো একটা চুমু দিয়ে উঠে দারায় তামিম। তার ফ্লাইটের সময় হয়ে গেছে। আনিতা বসে বসে দেখে তামিমের চলে যাওয়া। ক্লান্ত ভাবে প্লেনের কাছে গেলো। একটু থমকাল রিজেন্ট এয়ার লাইনের ছোট লোকাল বিমানের সিঁড়ির কাছে দারিয়ে। পেছন ফিরে আনিতার দিকে দেখল। হাত নাড়াল। আনিতার খারাপ লাগছে এ ভাবে তামিমকে কষ্ট দিয়ে। তার পরেও বিদায় জানালো তামিমকে।
এই বিদায় কি আনিতা আর তামিমের শেষ দেখা? না তাদের দেখা হবে। হতেই হবে। কিন্তু এখন না। নতুন কোন যায়গায় নতুন কোন পরিবেশে তাদের দেখা হবেই। কিন্তু তাদের পরিণতি কি হবে তা অনুমান করা দুরহ।
পর্ব ১ Click This Link পর্ব ২ Click This Link পর্ব ৩ Click This Link পর্ব ৪ Click This Link পর্ব ৫ Click This Link পর্ব ৬ Click This Link পর্ব ৭ Click This Link পর্ব ৮ Click This Link পর্ব ৯ Click This Link পর্ব ১০ Click This Link পর্ব ১১ Click This Link পর্ব ১২ Click This Link পর্ব ১৩ Click This Link
©somewhere in net ltd.