নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

দুরাসদ দ্যুলোক

দীক্ষক দ্রাবিড়

দীক্ষক দ্রাবিড় › বিস্তারিত পোস্টঃ

সুফিবাদ কি ইসলাম?

০৩ রা এপ্রিল, ২০০৬ রাত ৮:৫৩

সুফি ইজম ইসলামের একটি শাখা হিসেবেই যাত্রা শুরু করেছিলো। কিন্তু আজ সুফিবাদ এতটাই ভিন্নভাবে বিকাশ করেছে যে এর সাথে মূল ইসলামের মিল খুঁজে পেতে হলে আরেক দফা গবেষণা করতে হবে। তাদের চিন্তা-ভাবনা, আচার-আচরণ থেকে শুরু করে ধর্মপালন পর্যন্ত সবকিছুতেই ইসলামের মূলধারার সাথে তৈরি হয়েছে বিরাট ফারাক। কতটা ফারাক? পড়ুন নীচের দশটি সুফি চিন্তা-দর্শন। আর মিলিয়ে নিন আপনার চেনা-পরিচিত ইসলামের সাথে। তারপর ভাবতে শুরু করুন সুফিবাদ কি ইসলাম?



10 Sufi Thoughts



from The Way of Illumination

by Hazrat Inayat Khan





1) There is one God, the Eternal, the Only Being; none else exists save God.



2) There is one Master, the Guiding Spirit of all souls, who constantly leads all followers towards the light.



3) There is one Holy Book, the sacred manuscript of nature, which truly enlightens all readers.



4) There is one Religion, the unswerving progress in the right direction towards the ideal, which fulfils the life's purpose of every soul.



5) There is one Law, the law of Reciprocity, which can be observed by a selfless conscience together with a sense of awakened justice.



6) There is one human Brotherhood, the Brotherhood and Sisterhood which unites the children of earth indiscriminately in the Fatherhood of God.



7) There is one Moral Principle, the love which springs forth from self-denial, and blooms in deeds of beneficence.



8) There is one Object of Praise, the beauty which uplifts the heart of its worshipper through all aspects from the seen to the unseen.



9) There is one Truth, the true knowledge of our being within and without which is the essence of all wisdom.



10) There is one Path, the annihilation of the false ego in the real, which raises the mortal to immortality and in which resides all perfection.







ছবি: ঘুরে ঘুরে নাচের মাধ্যমে সুফিদের প্রার্থনার বিশেষ ভঙ্গি

মন্তব্য ৩০ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (৩০) মন্তব্য লিখুন

১| ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০০৬ রাত ২:০৪

অতিথি বলেছেন: সুফিবাদের এই যে দশটি চিন্তা এর সাথে ইসলামের কিছু কি সরাসরি মিলে? না কি সুফিবাদে আসলে কথার ধুম্রজালে আসলে ইসলামের চিন্তাগুলোকে বাদ দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে এখানে। কোথায় শরিয়া ল' আর কোথায় সুফিদের আইন। কোথায় পবিত্র কোরান আর কোথায় প্রকৃতির পবিত্র পান্ডুলিপি।
কি মনে হয় পাঠক? ইসলাম নাকি ইসলাম নয়?

২| ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০০৬ ভোর ৪:০৪

অতিথি বলেছেন: ইসলামে বিশ্বাসের দু'টি অবিচ্ছিন্ন অংশ, তাসাউউফ (আত্মিক পরিশুদ্ধি) এবং প্র্যাকটিস। তাসাউউফ থেকেই সূফী কথাটা এসেছে। দু'টোর মধ্যেই ব্যালেন্স করাই ইসলাম, ব্যালেন্সহীন হয়ে গেলে সেটা আর ইসলাম হল না...
উদাহরনটা হতে পারে ভালবাসার একজনকে উপহার দেয়া। আমি কাউকে সত্যি ভালবাসলে তার কি পছন্দ সেটা খুঁজে নিয়ে তাকে উপহার দিব। আমার পছন্দ বই, তাই 90 বছরের বুড়ি চোখে দেখতে না পা্ওয়া, পড়তে না পারা ভালবাসার দাদীকে বই উপহার দিব না। সেটা বোকামি। দাদীকে সত্যিই ভালবাসলে, তিনি যা চান, ঠিক তাই দিতাম।
আল্লাহকে ভালবাসার ক্ষেত্র্ওে একই ব্যপার হয়।
সত্যি বলতে কি ইয়ানত খানের প্রিিন্সপালে আমি ইসলামের সাথে কন্ট্রাডিকটরি কিছু পাই নি। তিনি ইসলামের প্রতি নিজের ভালবাসা একটু সুন্দর করে প্রকাশ করেছেন এই আর কি। কিছু শব্দে খটকা লেগেছে, তবে আমার ধারনা সেগুলো আরবি থেকে ইংরেজি করার সময় ইংরেজিতে প্রচলিত শব্দগুলো ব্যবহারের কারনে হয়েছে।
আপনি কি এই সাইটের শান্তিকামী সূফী সাদিককে ক্ষেপানোর জন্য এত কিছু লিখলেন নাকি?

৩| ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০০৬ ভোর ৪:০৪

:) বলেছেন: দীক্ষক, কোন কোন সময়end justifies the mean, এক্ষেত্রে আপনাকে প্রশ্ন করতে হবে

সংগীতে বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার নিয়ে 2 ধারা কী বলে ?
পরিমিত মাত্রায় এলকোহোল পান করাকে 2 ধারা কিভাবে দেখে?
ভিন্নধর্মের 2 ব্যাক্তির মধ্যে বিয়ে নিয়ে 2 ধারা কী বলে?
সমকামিতা নিয়ে 2 ধারা কি বলে?
নারীর বিকিনি পরে পরপূরষের সামনে যাওয়া কে 2 ধারা কোন দৃষ্টিতে দেখে?

ধর্মের আইন/ব্যাখ্যা কী সময়ের সাথে পরিবর্তনীয় না স্টাটিক?

আমার মনে হয় এসব প্রশ্নের উত্তরের মাঝই আসল ব্যাপারটা লুকিয়ে আছে।

৪| ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০০৬ ভোর ৬:০৪

অতিথি বলেছেন: দীক্ষক দা, পুরোদস্তুর আলোচনায় যেতে গেলে আমার ফুল টাইম রিসার্চ ওয়ার্ক বাদ দিয়ে এই আলোচনায় নেমে যেতে হবে। তাই কথা যত সংক্ষেপে বলা যায়, সেই চেষ্টা করছি।

সুফি চিন্তা এবং ইসলাম এই দুটো কত কাছাকাছি নাকি দূরত্বের সেটা নিয়ে আরেকটা পোস্টে আলাদা কথা বলা যাবে।

আপাতত এই মন্তব্যে আমি ইনায়েত খানের প্রসঙ্গে বলি। আপনাকে বুঝতে হবে ইনায়েত খান প্রথম মুসলিম সুফি যে পশ্চিমে ইসলাম এবং সুফি দর্শন প্রচারের মিশন হাতে নেন।

তিনি 1910 সালে আমেরিকায় যান তার শিক্ষকের নির্দেশে। পরবতর্ীতে তিনি ইউরোপেও দীর্ঘ সময় কাটান।

এখন তার বেশির ভাগ লেকচার এবং লেখার শ্রোতা ও পাঠক পশ্চিমের মানুষ। 1910 এমন একটা সময় যখন পশ্চিমে মানুষের ভিতরে ইসলাম সম্পর্কে কোনো রকম ধারনাই ছিলো না। সুফি তো আরো দুরের কথা।

এরকম একটা সময় তিনি এক স্রষ্টার ধারনা দেওয়ার জন্য কাজ করেছেন। ওয়ান নেস অফ গড এন্ড হিউম্যানিটি বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। (ইসলামী টার্মে যাকে তাওহীদ বলে)। এখন তার টেক্সটকে বিচার করতে হলে আপনাকে অডিয়েনস বুঝতে হবে।

তার তাওহীদ সম্পর্কে বেটার আন্ডাস্ট্যান্ডিংয়ের এ্যাপ্রোচের কারনে তিনি কনভেনশনাল ভাষায় কথা বলেন নি। তার অডিয়েনেসর কাছে তার ইউনিভার্সাল এ্যাপ্রোচটাই বেশি গ্রহনযোগ্য ছিলো। এবং তিনি অসম্ভব সফলও হয়েছেন। খ্রিষ্টান বা অবিশ্বাসী যে কাউকেই তিনি খুবই আপন করে নিতে পারতেন তার কথার মাধ্যমে।

সব ধর্ম প্রচারকমই তাওহীদের মেসেজ দিয়ে শুরু করতেন। ইনায়েত খান যেহেতু পশ্চিমে প্রথম সুফি,তাই তাকেও সেই ইউনিভার্সাল পথকেই বেছে নিতে হয়েছে।

আশা করি সেই আলোতেই তার লেখাগুলো পড়বেন। স্রষ্টার ইচ্ছায়, আশা করি মন আলোকিত হবে। সন্দেহের অন্ধকার দূর হউক, দূর হউক, দূর হউক।

আস্তমেয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা, সুন্দর করে গুছিয়ে কমেন্ট করার জন্য। দীক্ষক আপনার কাছে কৃতজ্ঞতা যে বিষয় নিয়ে লিখবো ভাবছিলাম তার সূচনা করে দেওয়ার জন্য।

৫| ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০০৬ সকাল ৮:০৪

অতিথি বলেছেন: আরেকটি যেটা মনে হলো: আস্তমেয়ের মন্তব্যের প্রসঙ্গে মনে আসলো। আমি ইনায়েেেতর সবগুলো স্টেটমেন্টকেই কুরআন এবং হাদীস থেকে কোট করতে পারবো। একই মেসেজ কুরআনেই উপস্থিত আছে। দু:খ হলো কুরআন বুঝে পড়ি না কেউ। সাদামাটা অনুবাদ পড়লেই হবে, ভিতরের মানে বুঝতে হবে।

সুতরাং আস্ত মেয়ের কথা যে ইনায়েত খানের প্রিনিসপ্যালের সাথে তিনি ইসলামের কোনো কনট্রাডিক্ট দেখতে পান, সেটি একেবারেই সত্য। সময় দিন, আমি কুরআন থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে সুফি ইনায়েতের টেন সুফি থটকে সমর্থন করছি।

৬| ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০০৬ সকাল ৮:০৪

অতিথি বলেছেন: কারেকশন:: "সাদামাটা অনুবাদ পড়লেই হবে না, ভিতরের মানে বুঝতে হবে।"

৭| ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০০৬ সকাল ৮:০৪

অতিথি বলেছেন: সুফি -ইজম নামটি বিভ্রান্তিমূলক। সুফি শব্দটি সুফ থেকে উদ্ভুত যার অর্থ পবিত্রতা। এটি কোনো ইজম নয়। ইসলামের শাখাও নয়। হৃদয়ের পবিত্রতা অজর্ন করা কুরআনের অন্যতম নির্দেশ এবং বলা হয়েছে তারাই সফলকাম হবে যারা হৃদয়কে বা আত্নাকে পরিশুদ্ধ করে বা পবিত্র করে। সুরা শামসে পড়ুন:

91.007
YUSUFALI: By the Soul, and the proportion and order given to it;
PICKTHAL: And a soul and Him Who perfected it
SHAKIR: And the soul and Him Who made it perfect,

091.008
YUSUFALI: And its enlightenment as to its wrong and its right;-
PICKTHAL: And inspired it (with conscience of) what is wrong for it and (what is) right for it.
SHAKIR: Then He inspired it to understand what is right and wrong for it;

091.009
YUSUFALI: Truly he succeeds that purifies it,
PICKTHAL: He is indeed successful who causeth it to grow,
SHAKIR: He will indeed be successful who purifies it,

091.010
YUSUFALI: And he fails that corrupts it!
PICKTHAL: And he is indeed a failure who stunteth it.
SHAKIR: And he will indeed fail who corrupts it.

৮| ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০০৬ সকাল ১০:০৪

অতিথি বলেছেন: আস্তমেয়ে: হাসালেন। ইনায়েত খানের বর্ণনায় আপনি ইসলামের কন্ট্রাডিক্টরি কিছু পাননি সে সুখের কথা। সুফিদেরকে মেরে দুনিয়াছাড়া করে দেয়ার ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন মেজরিটি মুসলিমরা যদি আপনার মতই এ কথা মনে করতো তবে পৃথিবীতে হয়তো আজ সুনি্নদের দেয়ে সুফি মুসলমানদের সংখ্যা বেশি হতো। ইনায়েত খানের সুফি থটস একধরনের নীতিকথার এ্যাবস্ট্রাকশন (বিমূর্তকরণ)। একেশ্বরবাদী যেকোনো ধর্মের লোকের কাছে মনে হবে এটি তার ধর্মের কথা। অনিবার্যভাবে তা শুধু ইসলামের কথা নয়। (তো আপনার কথার বিপরীত দিকে গিয়ে বলি) সাদিককে না ক্ষেপানোর জন্যই কি আপনি এই ইসলামের সাথে সুফিবাদের অনিবার্য বিরোধের বিতর্ক এড়িয়ে গেলেন?
(বিতর্ককে এত খারাপ কিছু হিসেবে দেখার কারণ নেই। আমি কোন যুক্তিতে এরকম ধারণা করছেন তা অন্যকে জানাতে অসুবিধা কোথায়। অপরপক্ষ যদি আপনার যুক্তির বিপরীত যুক্তি উপস্থাপন করে তখন আপনি আপনার পক্ষে আরো শক্তিশালী যুক্তি খুঁজবেন। এভাবে উভয় পক্ষই তাদের ভাবনাগুলোকে আরো শক্তিশালী প্ল্যাটফরমের উপর দাঁড় করাবে। এভাবেই তো এগিয়ে চলে মানবসমাজ। আর শক্তিশালী যুক্তির উপর দাঁড়ানো দুটি বিপরীত জিনিসকেও অনেক সময় একইসাথে গ্রহণযোগ্য বলে মনে হয়। মনে হয় না? যেমন আপনার মনে হচ্ছে ইসলাম ও সুফিবাদকে।)

৯| ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০০৬ সকাল ১০:০৪

অতিথি বলেছেন: আস্তমেয়ে, সুফিবাদ সম্পর্কে আমি কিছুই লিখিনি, একটি ছবি দিয়েছিলাম। এটি সম্পর্কে নিশ্চয়ই জানেন। তো বলেন, আপনার পরিচিত ইসলামে এই আধ্যাত্মিক নাচ কিভাবে সংশ্লিষ্ট?

১০| ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০০৬ সকাল ১০:০৪

অতিথি বলেছেন: সাদিক, আপনি যেহেতু আলাদা পোস্ট করবেন। সেখান থেকেই আলোচনা শুরু করা যাবে। তবে তাসাউফ থেকে সুফি কথাটা এসেছে এই জটিল কনস্ট্রাকশনে না গেলে হয় না? আরবী 'suf' শব্দের অর্থ উল। এবং উলের পোষাক পরিধান করতো বলেই এই মতবাদ ও জীবনধারার অনুসারীদের সাধারণভাবে সুফি বলে চিহ্নিত করে মানুষ। তাই নয় কি?

১১| ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০০৬ সকাল ১১:০৪

অতিথি বলেছেন: আস্তমেয়ে, সাদিক পরে এ বিষয়ে লিখবে বলে গেছে। সেই ফাঁকে আসুন আমরা আমাদের বেসিক হোমওয়ার্কগুলো করে নিই।
সুনি্ন মুসলমানরা সুফিবাদের এক অংশকে মানেন। অন্য অংশকে শত্রু চিহ্নিত করেন। তো নীচের এই ইসলামিক ফতোয়া পড়ে বলেন তো, সাদিকের সুফিবাদ কোন ভাগের মধ্যে পড়ে?

Outstanding Muslim scholars have divided Sufism into two broad categories in order to determine its compatibility or non-compatibility with the Shari`ah.

Firstly, genuine and authentic Sufism, which is undoubtedly in perfect agreement with the Book, the Sunnah, and the practices of Salaf As-Salih (early righteous Muslims). Tasawwuf of Sufi masters such as Junyad Al-Baghdadi, Abu Sulayman Al-Darani, etc. belong to this category of authentic and genuine Tasawwuf.

Secondly, pseudo-Sufism which includes those who uphold and advocate cultic practices or customs that are contrary to the Sunnah, as well as those who have mixed Sufism with speculative Mysticism/Neo-Platonism, and thus dabble in metaphysical theories about cosmos, emanations, etc. Both these groups are charlatans and impostors. While the former invent new forms of `Ibadah (acts of worship) that are not sanctioned by the Law-giver, the latter mix philosophy with religion and blur the essential distinction between the Creator and creation, which is the basis of Prophetic religion. There is no doubt that indulgence in such forms of Sufism takes humans away from their true purpose and mission in life which is to do God

১২| ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০০৬ সকাল ১১:০৪

অতিথি বলেছেন: আলোচনা ইন্টারেস্টিং দিকে যাচ্ছে। ভালো লাগছে।

এই মুহুর্তে রিসার্চ সুপারভাইজারের সাথে মিটিং এ ছুটছি। তাই কমেন্ট লেখাটা পিছাতে হচ্ছে। সবাই ভালো থাকবেন।

১৩| ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০০৬ সকাল ১১:০৪

অতিথি বলেছেন: আস্তমেয়ে, আমার ও আপনার এবং অন্য যারা আগ্রহী তাদের বেসিক কিছু উপাদান দেয়ার জন্য আরেকটি ফতোয়া তুলে দিচ্ছি। আমাদের বিতর্কএর পর থেকে শুরু করলেই হবে।

the eminent Muslim scholar, Sheikh Yusuf Al-Qaradawi, states:

১৪| ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০০৬ দুপুর ১২:০৪

অতিথি বলেছেন: যাই বলেন না কেন, ধর্ম আধুনিকীকরনের এসব মতবাদ ব্যাপক মানুষের ব্যবহারিক জীবনে তেমন কোন ভূমিকা রাখে না। যুগে যুগে আধুনিক সমাজের বিদ্যমান প্রচলিত জীবন যাপনের সাথে খাপ খাওয়ানোর এসব প্রচেষ্টায় ধর্মকে আপত দৃষ্টিতে সহজ আর সার্বজনীন মনে হলেও আসলে মূল ধর্মের বিচু্যতি ঘটে । ধর্মের কোন বাণীর নতুন প্রগতিশীল ব্যাখ্যা সমাজের বিদ্যমান 'জ্ঞানী মানুষের' নিজস্ব জ্ঞানলব্ধ উপলব্ধি।

১৫| ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০০৬ দুপুর ১২:০৪

অতিথি বলেছেন: সাজেদ আপনার কথাটা যদি আমি সাদিকের মুখ থেকে শুনতে পাই তাহলে বুঝবো আমার এই কষ্ট ও সময় ব্যয় বৃথা যায়নি।

১৬| ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০০৬ দুপুর ১:০৪

অতিথি বলেছেন: সিউডো সুফিজম নিয়ে আপনার প্রথম কমেন্টের শেষ অংশে আপত্তি আছে।
These pseudo-Sufis turn the goal of human life into contemplation of mysteries of the universe; it is contrary to the Qur

১৭| ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০০৬ দুপুর ১:০৪

অতিথি বলেছেন: আপত্তি আপত্তি আপত্তি:

আমি তরুন সুফি সাদিক নইরে ভাই। দাড়ান হেসে নেই! :)

আমি সাদিক। আমি সুফিবাদের ভক্তমাত্র, তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বে আগ্রহ এবং ব্যক্তিগত কিছু অভিজ্ঞতা থেকে সুফিবাদের দিকে আমার ঝোঁক কারন সুফিরা সব ধর্মের সত্যকে সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করে থাকে।

আমি নিজে সুফি হলেতো হইছিলোই! কাম সারছে, খোদা রহম করো। পাবলিকে দেখি টাইটেল দেওয়া শুরু করলো। দীক্ষক দা কারেকশন করেন।

পরের মন্তব্যগুলোর উত্তর আস্তে আস্তে দেই।

১৮| ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০০৬ দুপুর ১:০৪

অতিথি বলেছেন: আরেকটি বিষয়, আমি নিজেকে সুনি্ন বা শিয়া উভয় গোত্রে ফেলতে অরাজী। আমি শিয়া মতবাদের বিশাল ফ্যান। শিয়া সুনি্ন বিভেদকে আমি অস্বীকার করি এবং যতটা সম্ভব শিয়াদের কাছ থেকে শেখার চেষ্টা করি।

এই বেলা বলে রাখি মিশরের আল আজহার ইউনিভার্সিটিতে কিন্তু অনেক আগে থেকেই সুনি্ন চারটি স্কুল অফ থটের পাশাপাশি শিয়াদের স্কুল অফ থটকে স্বীকৃত মাজহাব বলে স্বীকার করা হয়। এ কারনে এনি থি শিয়া ইজ ব্যাড বলা ঠিক নয়।

১৯| ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০০৬ বিকাল ৪:০৪

অতিথি বলেছেন: ইমাম গাজ্জালী (তার প্রতি সালাম) এর প্রসঙ্গে বলছি। তাকে গ্রহন করা বা বর্জন করার প্রসঙ্গ কেন আসছে? তিনি গ্রহনযোগ্য না অগ্রহনযোগ্য তার যোগ্যতা বিচার আবার তৃতীয় আরেকজনকে দিয়ে করাও ঠিক নয় (যেমন আরেক জনের বক্তব্য তুলে দিলেন এখানে)। বিচার করতে হবে তার লেখা দিয়ে। লেখার সাথে কুরআনের বাণীর মিল দিয়েও তা হতে পারে। হাদীসের দূর্বলতা আছে, তাই কুরআনকে আমি বেশি প্রাধান্য দেই। কুরআনের সামগ্রিক থিমের সাথে যদি কিছু কনট্রাডিক্ট করে তবে তা গ্রহনযোগ্য হবে না, ইসলামিক হবে না।

ইসলামী মেটাফিজিক্স এবং দর্শন সম্পর্কে ইমাম গাজ্জালীর অনেক লেখাই ভালো। আবার নারীর ভুমিকা নিয়ে তার লেখা হয়তো একেবারেই গ্রহনযোগ ্য নয়। তিনি খুব বড় মাপের দার্শনিক ছিলেন এবং লিখেছেন প্রচুর। সুতরাং সবকিছুর সাথে মত নাও মিলতে পারে, তার সব লেখাই খুব ভালো নাও হতে পারে।

দীক্ষক দ্রাবিড়ের সব পোস্টের মান যেমন সমান উন্নত নয়। কিন্তু এই মানে না যে সাদিক দীক্ষককে বর্জন করছে বা তার সব কিছুকে গ্রহন করছে।

২০| ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০০৬ সন্ধ্যা ৬:০৪

অতিথি বলেছেন: তাহলে দীক্ষক দ্রাবিড়ের লেখা যেরকম কোনো লেখা গ্রহণ বা কোনো লেখা বর্জন করা যায় তেমনি ইমাম গাজ্জালির কোনো লেখা গ্রহণ ও কোনো লেখা বর্জন করা যায়। এটাই সাদিকের মত বলে বুঝতে পারলাম। তাহলে, গাজ্জালির মত দার্শনিক ও পন্ডিতের সব লেখা যদি গ্রহণযোগ্য না হয় তবে বাকী সব ইসলামী পন্ডিত, উলেমা কারো লেখার সম্পূর্ণ অংশ গ্রহণযোগ্য হওয়ার কোনো কারণ নেই। (সাদিক যুক্তি এই পর্যন্ত আসে)।
সুতরাং যত বড় ইসলামী দার্শনিক বা উলেমা হন না কেন (দীক্ষক দ্রাবিড়ের মতই) তার সব লেখা বিনাবাক্যে মানা যাবে না। (সাদিক, যুক্তি ঠিক আছে কি?)।
সুতরাং গাজ্জালি পর্যন্ত সব উলেমাদেরকে আমরা (সাদিকের যুক্তি ও আমি) সন্দেহের কাতারে দাঁড় করিয়ে দিয়েছি। ইসলাম বিচারের জন্য থাকলো বাকী হাদিস ও কোরা'ন।
এখন উপরের মন্তব্য পড়ুন। উপরে সাদিক লিখেছেন, 'হাদীসের দুর্বলতা আছে, তাই আমি কুরআনকে আমি প্রাধান্য দেই।'
এই পর্যায়ে হাদীসও গেলও (যেহেতু সাদিক বলেছে সেখানে দুর্বলতা আছে।)। সুতরাং হাদীস দিয়ে সব প্রমাণ করা যাবে না। থাকলো বাকী কোরা'ন।

তাই শেষে এসে সাদিক বলেছেন, 'কুরআনের সামগ্রিক থিমের সাথে যদি কিছু কন্ট্রাডিক্ট করে তবে তা গ্রহণযোগ্য হবে না, ইসলামিক হবে না।'
সাদিক সুফিবাদকে পাশ করানোর কথা মাথায় রেখেই এই বাক্যটি লিখেছেন। সেজন্য তিনি লেখেননি যে কোরা'নের আয়াতের সাথে কন্ট্রাডিক্ট করলে...বরং লিখেছেন 'কুরআনের সামগ্রিক থিমের সাথে'...। এই 'সামগ্রিক থিম' বিষয়টি অত্যন্ত vague সাদিক। আপনি এই সামগ্রিক থিম কথাটিকে সংজ্ঞায়িত করুন। তারপর আমরা দেখবো সুফিবাদ ইসলামিক কি ইসলামিক না।
ধন্যবাদ।

২১| ০৫ ই এপ্রিল, ২০০৬ রাত ১২:০৪

উৎস বলেছেন: আবার ধারালো যুক্তির দীক্ষক ফিরে এসেছে পুরোনো ফর্মে। চালিয়ে যান, দেখি শেষমেশ সিদ্ধান্ত কি হয়।

২২| ০৫ ই এপ্রিল, ২০০৬ রাত ২:০৪

অতিথি বলেছেন: এই সব তর্ক বিতর্ক ভাল্লাগছে না।
শুধু একটা কথা বলি...
মতভেদ ব্যপারটা ইসলামে খারাপ কিছু না।
নামাজ বিভিন্ন মাযহাবের মানুষ বিভিন্ন ভাবে পড়ে, শিয়ারা এক ভাবে পড়ে, আমার কোন অধিকার নেই আমি যেভাবে পড়ি তাছাড়া অন্য সব কিছু ভুল সেটা বলার। যার কাছে যেই আলেমের মতামত বেশি গ্রহনযোগ্য মনে হচ্ছে, সে সেটা গ্রহন করছে। ইমাম আবু হানিফা নিজে বলে গেছেন, তার মৃত্যুর পরে কেউ যদি তার চেয়েও বেশি নির্ভরযোগ্য হাদীস দিয়ে ভাল কিছু প্রমান করতে পারেন, তাহলে আবু হানিফার কথা ইনভ্যালিড হয়ে যাবে। আবু হানিফা এবং অন্যান্য ইমামরা একই সাথে কাজ করতেন, তাদের মধ্যে মতভেদ ছিল, কর্মপদ্ধতিতে পার্থক্য ছিল কিন্তু কেউ কাওকে ভুল বলতেন না।

ঠিক আছে?

এখন, আমার যেই আলেমের মতবাদ বেশি গ্রহনযোগ্য মনে হয় আমি তারটা গ্রহন করব। ব্যস।

আমার পোস্টে আমি বলেছি, আমি এয়ানত খানের বক্তব্যে ভুল কিছু পাই নি। দীক্ষক বলছেন, এটা যে কোন একেশ্বরবাদী ধর্মের কথা... আসলে আপনাকে আগে বুঝতে হবে, ইসলাম বিশ্বাস করে পৃথিবীতে সব একেশ্বরবাদী ধর্মের মূল এক। সবই ইসলাম। ঈসা (আ) এর উপর যা এসেছিল, সেটাও ইসলাম, মুসা (আ) এর উপরও ইসলাম এসেছে। খোঁজ নিয়ে দেখেন, খ্রীষ্ট ধর্মের নাম যীশুর অনেক পরে হয়েছে খ্রীষ্ট ধর্ম। এভাবে পরিবর্তিত হয়েছে, মূল ইসলাম হারিয়ে গেছে। সে যাক... দূরে সরে যাচ্ছি...
সাদিক যা বলল, এয়ানত খান তাওহীদ, অথর্্যাত স্রষ্টার বিশ্বাস ঠিক করার জন্য কথাগুলো বলেছিলেন।

এখন এয়ানত খানের প্রিনসিপালের সাথে আমি একমত। তবে অনেক মুসলিমের মধ্যে যেমন পীর ফকিরকে ধর্না দেয়ার মত অনৈসলামিক ব্যপার আছে, সূফীদের মধ্যেও থাকতে পারে। আমি সেটা নিয়ে আপনার সাথেতর্ক করতে আগ্রহী না। আপনি সূফীদের মুখপাত্র না, মুখপাত্র হলে আলোচনা করতাম। করি, কোন সূফীকে কাছে পেলে তাদের সাথে করি। আপনার আগের পোস্ট গুলো থেকে এটা খুব স্পষ্ট ইসলামের সুন্দর ব্যপারগুলো তে আপনার একটুও আগ্রহ নেই... খোচাতে ব্যস্ত আপনি... জানার জন্য যেদিন আসবেন... সেদিন না হয় বলব... কারন সেদিন সময় নষ্ট হবে না।

২৩| ০৫ ই এপ্রিল, ২০০৬ রাত ২:০৪

অতিথি বলেছেন: গাজ্জালীর ব্যপারে অনেক আলেমদের অভিযোগ: তিনি অনেক কিছু বলতেন হাদীসের দলিল উল্লেখ করা ছাড়া।
তিনি ছাড়াও এখন আলেমের আকাল পড়ে যায় নি যে তার কথা শুনে ইসলাম বুঝতে হবে আমাকে।

২৪| ০৫ ই এপ্রিল, ২০০৬ ভোর ৪:০৪

অতিথি বলেছেন: বিনা বাক্যে কোনো কিছুই মানার দরকার নেই। বাক্য ব্যবহার করুন। মাথার ভিতরে নি:শব্দ বাক্য, মানে চিন্তা অথবা বাইরের বাক্য, অন্যান্য লেখনীর যুক্তি ইত্যাদি। এটাই কুরআনেরই প্রিনিসপ্যাল যেখানে বারবার চিন্তাশীলদের কথা বলা হয়েছে এবং মানুষকে ইন জেনারেল উৎসাহিত করা হয়েছে চিন্তা করতে।

অর্থোডক্স ইসলামে যদি আসি, তবে আমি বলবো সেক্ষেত্রে কুরআনেই ফিরে যেতে হবে। নামে বড় উলামা (পৃথিবীতে কিসে নাম হয় তা সবারই জানা), আর তার লেখায় গলদ; তাহলে আমার ঐ নামী উলামার প্রয়োজন নেই। তাকেও কষ্টি পাথরে যাচাই করতে হবে। আপনি ঠিকই বলেছেন দীক্ষক, যুক্তি ঠিক আছে।

সামগ্রিক থিম কথাটি মোটেও ভেগ নয়। কুরআন অসীম পাতার কোনো গ্রন্থ নয়, সীমিত পাতার গ্রন্থ। পুরোটা পড়লে, উপলব্ধি করলে সামগ্রিক থিম সম্পর্কে খেই হারানোর কথা নয়। আমরা পুরোটা না পড়ে, অংশ পড়ে একটি বা দুটি আয়াতের মন গড়ানো ব্যাখ্যা খুঁজতে আগ্রহী।

যে সমস্যাটি বেশিরভাগ সময় হয় যে কুরআনের রেফারেনস টেনে এনে আউট অফ কনটেক্সট একটি বিষয় বলা হয়। যা থেকে বিগ পিকচার বাদ পড়ে যায়। আমি বলবো কুরআনের বিগ পিকচারটাই সামগ্রিক থিম। যেমন: অবিশ্বাসীদের সাথে যুদ্ধ ঘোষনা করার ব্যাপারটি নিয়ে প্রচুর বিতর্ক। অথচ কুরআনের বেসিক প্রিনিসপ্যাল হলো যদি আক্রান্ত হও, ডিফেন্ড করার জন্য যুদ্ধ করো। যদি তোমার প্রতি অবিচার করা হয় তবে ততখানি আগ্রাসী হতে পারবে যতখানি অবিচার তোমার সাথে কথা হয়েছে। কিন্তু এর সাথে সাথে আরো বলা হয়েছে যারা তোমার সাথে খারাপ আচরন করেছে তাদের যদি ক্ষমা প্রদর্শন করো এবং তাদের সাথে ধৈর্য্যশীল হও, তবে যেনে রাখো স্রষ্টাও ধৈয্যশীল সাথে থাকনে এবং তিনি ক্ষমাকারীদের নিশ্চিতভাবেই ভালোবাসেন কারন তিনি নিজে অসীম ক্ষমাকারী।

ছোট উদাহরন দিলাম। এই উদাহরন থেকেই সামগ্রিক থিম ব্যাপারটা পরিস্কার হবে আশা করি। অথর্াৎ অত্যাচারিত হলে সমান পরিমানে প্রতিশোধ নেওয়ার অনুমতি কোরআন দিলেও, তার সাথে সাথে প্রতিশোধেরও চাইতেও যে ক্ষমা উত্তম তার কথা বলে দেওয়া আছে। এবং শেষ নবী নিজেও মক্কা বিজয়ে সময়ে তার উদাহরন রেখেছেন।

২৫| ০৫ ই এপ্রিল, ২০০৬ সকাল ১১:০৪

অতিথি বলেছেন: আস্তমেয়ে: ইসলাম বিষয়ে আপনার কাছ থেকে আমি জানতে আসিনি এটা ঠিক। কিন্তু খোঁচাতেও আসিনি। আংশিক ইসলাম (কখনও কখনও আপনাদের মনগড়া ইসলাম) নিয়ে বসে থেকে পূর্ণ ইসলামকে যে আপনারা ধামাচাপা দিয়ে থাকেন তা আঙুল তুলে দেখাতে এসেছি। আপনার নিজের ফাঁদেই আপনি নিজে পা দিয়েছেন। মানবের উল্লেখ করা হাদিসগুলোকে আপনি অস্বীকার, ভুল ব্যাখ্যা, ভুল অনুবাদ, ভুল প্রয়োগ বলে এসেছেন কিন্তু এখানে এসে বলছেন সকল একেশ্বরবাদী ধর্মই আসল ইসলাম। (অর্থাৎ হাদিসের ও কোরানের চেয়ে তৌরাত বা বাইবেল আপনার কাছে অকস্মাৎ বেশি ইসলাম হয়ে গেলো)। আপনার এই হঠাৎ উদারতায় এই আমি যে নিজেকে উদার বলে ভাবতে ভালবাসি সেও বাকরুদ্ধ ও 'মুগ্ধ'! মোহাম্মদীয় ইসলামের মধ্যে বেছে বেছে আয়াত ও হাদিস নিয়ে নিজেদের মত ব্যাখ্যা দিয়ে নিজেদের ইসলাম তৈরি করেছেন (এসব ফেতনা তৈরির বিষয়ে যদিও নবী আগেই ভবিষ্যদ্্বাণী করে গেছেন) আর এখন কিনা সেই আপনি সুফিবাদের সাথে আপনার ইসলামের কোনো বিরোধ দেখতে পাচ্ছেন না? সে তুলনায় বদরূল আহমেদ অনেক সততার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সুফিবাদে যদি কোরান সুন্নাহ-য় নাই এমন কিছু আবিষ্কার করে ব্যবহার করা হয় যা শরীয়তের বিরোধী তবে তাকে পথভ্রস্ট বলতে হবে। তিনিও তাদেরকে কাফির বলতে রাজি হননি। সে এক শুভ কথা। কিন্তু চিন্তার কেনো তেলেসমাতি ডিগবাজিও দেননি।
নিজের পছন্দমত বিষয়কে ইসলামের ও অপছন্দের বিষয়কে ইসলাম বিরোধী হিসেবে লেবেল লাগিয়ে আরবি ভাষায় লেখা ধর্মের বইগুলোর ব্যাখ্যা করার সোল এজেনিস নিজেদের কাছে রেখে বাকী সবাইকে মূর্খ মুসলমান চিহ্নিত করার যে ধর্মীয় পান্ডামি আপনারা করে আসছেন তা আর কতদিন চালিয়ে যাবেন বলবেন?
ইসলাম সম্পর্কে যদি আপনার উদারতাই আপনার শেষ কথা হয় বা সত্যিকারভাবে শেষ উপলব্ধি হয় তবে আশা করবো আমার আগের কথায় মনে কিছু নেবেন না। সেক্ষেত্রে কথাটি আপনার জন্য প্রযোজ্যও নয়। বরং সেক্ষেত্রে আশা করবো মানবের লেখা 'ইসলামে কাম-কেলি' ও আমার লেখা 'ইসলাম ও নারী' সংক্রান্ত ধারাবাহিকটি পড়ে আমাদেরকে খোঁচানো মুসলমান, বা মূর্খ মুসলমান হিসেবে চিহ্নিত করার অপতৎপরতা না চালিয়ে যুক্তিসঙ্গতভাবে আপনার নিজস্ব মত দেবেন।
শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ।

২৬| ০৫ ই এপ্রিল, ২০০৬ দুপুর ১২:০৪

অতিথি বলেছেন: :)

২৭| ০৫ ই এপ্রিল, ২০০৬ দুপুর ১:০৪

অতিথি বলেছেন: দীক্ষক, আমি কি বলেছি পড়েছেন? সব একেশ্বরবাদী ধর্মের (ইসলাম, খ্রীষ্টান, ইহুদী) মূল এক (ইসলাম), পরে বদলিয়েছে ধর্ম মানুষ।
ইসলাম অর্থ জানেন? পরিপূর্ন আত্মসমর্পন।
খ্রীষ্টান ধর্মের নাম কোথাথেকে এসেছে জানেন? শত্রুরা ঈসা (আ) এর অনুসারীদের অবজ্ঞা করে খ্রীষ্টান ডাকত, ঠিক যেভাবে কিছু পশ্চিমা মুসলিমদের মোহামেডান ডাকে।
জুডাইজম এসেছে জুডাহ নামের একটা গোত্রের নাম থেকে। গোত্রটা এসেছে ইয়াকুব (আ) এর মৃত্যুর অনেক পরে। ঠিক আছে?
কোরআনে সব নবীদের নাম আছে, বলা আছে তাদের উপরে অহী নাজিল হয়েছিল, কিন্তু পরে মানুষ বদলে ফেলেছে।

আপনি প্রথম পোস্টে কি জিজ্ঞাসা করেছেন? এয়ানত খানের প্রিনসিপালের সাথে ইসলামের মিল আছে কিনা। আমি বলেছি আছে। কিন্তু শরীয়াহ বিরোধী কিছু করলে অবশ্যই সেটা হালাল না। কেন, বদরুল আহমেদ যেই উদাহরন দিলেন, পীরের দরবারে ধর্নার, এটা শরীয়ত বিরোধী কাজ, কিন্তু সুন্নীরা করে বলেই শুদ্ধ হয়ে গেল? নাকি কিছু সুন্নী করে বলে সব সুন্নীদেরই ইসলাম রিজেক্ট করে?
সাদিক যা বলেছে, কোরআন হাদীসের পুরা চিত্র টা দেখার চেষ্টা করেন। মানব সেটা করে নি। আপনিও করছেন না। এনিওয়ে, সালাম আপনাকে। আর বিতর্ক করব না।

২৮| ০৫ ই এপ্রিল, ২০০৬ দুপুর ২:০৪

অতিথি বলেছেন: আস্তমেয়ে, তেলেসমাতি ডিগবাজির এবার আপনি বৃহৎ উদাহরণ সৃষ্টি করলেন।
আগে আপনি গাজ্জালি প্রশ্নে শুধু সাদিকের সাথে একমত হয়েছিলেন। শেষ মন্তব্যে আপনি আরো বিশাল ডিগবাজি দিয়ে,
সাদিকের সুফি প্রিনিসপল কে মেনে নিলেন।
বদরুলের শরীয়াহ বিরোধী কাজ অশুদ্ধ তাও মেনে নিলেন। (যদিও এতে সাদিকের সুফিবাদ ও বদরুলের শরিয়াহ মুখোমুখি সংঘাতে দাঁড়িয়ে যায়।)।
তৃতীয়ত আমাকেও দলে টানলেন। অর্থাৎ আমি যে বলেছিলাম কোরান ও হাদিসের একেক অংশ নয় বরং পুরোটা মিলিয়েই ধর্ম, তাতেও কৌশলে সায় দিলেন।
চমৎকার তেলেসমাতি ডিগবাজি।

শেষে আপনি সাদিককে দলে টেনে আমার ও মানবের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললেন যে আমরা কোরান ও হাদিসের 'পুরা চিত্রটা' দেখার চেষ্টা করছি না।
কীভাবে? মানব ইসলামে কাম ও কেলি বিষয়ে যে লেখা দিয়েছে সেখানে ঐ বিষয়ে কোরানের কোনো আয়াত কি ইচ্ছাপূর্বক অনুল্লেখ করেছে? বিষয়ভিত্তিকভাবে আলোচনাকে নিশ্চয়ই আপনি অংশ চিত্র বলবেন না। তো যদি মানব ইসলামে কাম-কেলি সংক্রান্ত কোনো আয়াত ও হাদিস ভুল উল্লেখ করে থাকে বা বাদ দিয়ে থাকে। তবে সেটা বলুন। সেজন্যই তো এই লেখালেখি ও বিতর্ক। জানার পরিধি বাড়াতে।
বরং আমি যদি বলি আপনি পুরো চিত্রটা দেখার চেষ্টা করছেন না। অথবা অন্যদের দেখতে দিতে চাইছেন না। সেটা অধিক যুক্তিসঙ্গত হবে। আমার আগের মন্তব্যের শুরুতে দেখুন অভিযোগটি আমি আপনার বিষয়ে করেছিলাম যে, আপনারা আংশিক ইসলাম (আপনাদের মনগড়া ইসলাম)-কে দিয়ে পূর্ণ ইসলামকে ধামাচাপা দিতে চান।
ইসলাম যদি পরিপূর্ণ জীবন-বিধান হয় তবে এতে কাম ও কেলি থাকবেই। যেহেতু ইসলামে 9-10 বছরের মেয়েশিশুরা বিয়ে করতে পারে ও যৌনসম্পর্ক তৈরি করতে পারে সেহেতু এ বিষয়ে 'আস্তমেয়ে' হিসেবে আপনার আলোচনা মোটেই লজ্জার কিছু নয়। বরং ধর্ম আলোচনা হিসেবে সওয়াবের কাজ। এই যে কাম ও কেলি-কে বাদ দিয়ে একটি ধর্মকে দেখতে চাইছেন সেটিই আপনার আংশিক দেখা। (একেও দেখুন।)

একইভাবে আমি যখন নারী সম্পর্কে কোরান ও হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়েছি ও ভবিষ্যতে দেব তখন সেটি নারী বিষয়ক একটি লেখা। তাতে নারী সংক্রান্ত কথাগুলোই এসেছে। তো নারীর বিষয়ে ইসলামের ধারণাগুলো যে সময়ের তুলনায় রক্ষণশীল ও পিছিয়ে পড়া এই সত্যকে ধামাচাপা দেয়ার জন্য আপনি তাকেও অস্বীকার করতে চান। সুতরাং এটিও আপনার আংশিক দেখা ও আংশিক চোখ বুঁজে থাকার অপচেষ্টা।
ইসলাম সম্পর্কে পুরোটা জানার পরেই আপনি আপনার রায় দিতে পারেন। আপনারা যে একটা কুয়াশা তৈরি করে রাখেন (আমাদেরকে মুর্খ বলে, আরবি জানি না বলে, কেউ কেউ হুমকিও দেন ) সেটিই ইসলাম বা যেকোনো ধর্মকে সম্পূর্ণ জানার ক্ষেত্রে বাধা।

সবশেষে আপনি বলেছেন, 'এনিওয়ে, সালাম আপনাকে'। অর্থাৎ আমার মঙ্গলাকাঙ্খা করেছেন অথবা ইংরেজি কায়দায় বলেছেন 'হ্যাটস অফ'। আর শেষ বাক্যে যখন বলেছেন বিতর্ক করবেন না, তখন বুঝলাম আপনি আমার আগের মন্তব্যের শেষ প্যারাটিকে মেনে নিয়েছেন। অর্থাৎ আমাদের লেখাকে মুর্খ মুসলমানের লেখা বা খোঁচানো লেখা হিসেবে লেবেল লাগানোর তৎপরতা আর চালাবেন না। এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে মেনে নিয়ে ধর্ম সংক্রান্ত মুক্ত আলোচনাকেও স্বাগত: জানাবেন। অন্তত: অন্যের মুক্ত আলোচনার অধিকারে বাগড়া দেবেন না।

এই ব্লগে নাম লেখানোর সময়ই যদি এই বোধোদয় হতো তাহলে বেশ কিছুটা সময় আমাদেরকে নিষ্ফলা কাটাতে হতো না। তুব শেষমেষ আপনার বোধোদয় হলো বলে গ্রহণ করুন আমার অভিনন্দন।

বিতর্ক না করার সিদ্ধান্তটি যদিও আপনার ব্যক্তিগত তবুও বলে রাখি যুক্তি ও পালটা-যুক্তি প্রয়োগকে একজন মুক্তমনস্ক মানুষ কখনোই খারাপ কাজ হিসেবে দেখেন না। সুতরাং আপনার মতের সপক্ষে যুক্তি দেয়ার অধিকার আপনার অতি অবশ্যই আছে। (তেমনি বহাল রইলো আমার পালটা যুক্তি দেয়ারও অধিকার।)

ধন্যবাদ, আস্তমেয়ে।

২৯| ০৫ ই এপ্রিল, ২০০৬ দুপুর ২:০৪

অতিথি বলেছেন: আস্তমেয়ে নিজেই কোরআন আর হাদীসের পুরো চিত্র দেখেন না কখনও। তিনিই সব সময় পছন্দমত খন্ডিত চিত্র তুলে আনেন নিজের আলোচনায়।

৩০| ২৯ শে অক্টোবর, ২০০৭ বিকাল ৪:৪৬

আইকোনাস ক্লাস্টাস বলেছেন: মারফতি মতবাদ আর সুফি মরবাদের অনেক মিল আছে মনে হয়... সেই ক্ষেত্রে, মারফতিবাদিরা কি মুসলমান নন?

আমি যত দূর পড়েছি এবং বুঝেছি, শরিয়ত বাদ নিয়মতান্ত্রিক এবং ঠিক আধ্যাতিক নয়। অন্যদিকে, মারফতি বাদ, সুফিবাদ, এবং আরো অনেক ধর্মীয় মতবাদ যেমন বৌদ্ধ, সহজিয়া, বাহাই, এবং অন্য অনেক ধর্মের "আধ্যাতিক" অংশগুলি সাক্ষাত, মোক্ষলাভ, নির্বান, ইত্যাদি নামে আধ্যাতিকতার কথা বলে এবং নিজের "ইগোর" অবলুপ্তির মাধ্যমে সেটা পাওয়ার কথা বলে। ধর্মীয় সম্প্রিতীও এই দ্বিতীয় দলের সদস্যদের মধ্যেই পাওয়া যায় বেশী।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.