নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অর্বাচিন মানুষ

অর্বাচিন

অর্বাচিন মানুষ › বিস্তারিত পোস্টঃ

হায় আওয়ামী লীগ হায় সুশীল

১৭ ই জুলাই, ২০১৩ দুপুর ১২:০০

সরকার যখন ক্ষমতায় আসল সবাই তখন বলাবলি করছিল যে সরকার যুদ্ধাপরাধীর বিচার করবে না। বঙ্গবন্ধুর বিচার বন্ধ করে যখন মেজর জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের ছেড়ে দিয়েছিল তখন কোই ছিল আমাদের বামের নেতারা, কোই ছিল আমাদের সুশীল সমাজ? বর্তমান সরকার যখন বিচার শুরু করতে সময় নিচ্ছিল তখন সবাই জোর গলার গলাবাজি করছিল- সরকার যুদ্ধাপরাধীদের গ্রেফতার করার সাহস রাখে না, সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবে না। কিন্তু কেউ একটু ভাবেনি এই প্রসেসগুলো করতে সময় লাগবে। কেউ তো সহযোগীতা করতে এগিয়ে আসেনি বরং সবাই সরকার কে সমালোচনা করতেই বেশি উদ্দোগী ছিল।



অতঃপর সরকার যখন সুশীল ও বামদের মুখে ঝামা ঘষে দিয়ে সবাইকে গ্রেফতার করল তখন তারা সুর পাল্টিয়ে বলা শুরু করল সরকার গ্রেফতারই করল শুধু এদের বিচার করবে না। অনলাইনে ঝাড় উঠে, নীতি কথা উঠে, স্বাধীনভাবে নাস্তিকতা প্রচার চলে কিন্তু কেউ একবার ভাবে না আওয়ামী লীগ আছে বলেই এতো গলাবাজি সম্ভব হয়েছে। রাজাকারে দল ক্ষমতায় থাকলে মুখে এতো দিনে আন্ডারওয়ার গুজে দিত।



সরকার ট্রাইবুনালকে স্বাধীন করেছে। সরকারের কোন হস্তক্ষেপ নেই বিচার ব্যবস্থায়। অথচ ট্রাইব্রুনালের রায়ের জন্য সরকারকেই সমালোচিত হয় সবচেয়ে বেশি। অদ্ভুত এক দেশে আমাদের বসবাস। যে আওয়ামী লীগ যুদ্ধাপরাধীর বিচার করতে নামল তারাই কিনা এখন রাজাকার হয়ে যাচ্ছে। সরকার তার ভোটের রাজনীতি দেখবে। গত পাঁচটা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জনগণ হেফাজতি আর রাজাকারদের দলকেই ভোট দিয়েছে। সরকার সাধু তা বলছি না কিন্তু সরকারের বিরুদ্ধে গিয়ে জামাতের কোলে তো আর বসতে পারি না। কিন্তু দেখা যাচ্ছে আওয়ামী লীগ বিরোধীতা করতে গিয়ে জনগণ জামাতের কোলে গিয়েই ঠাই নিচ্ছে। গোলাম আযমের রায় নিয়েছে সরকার নাকি ট্রাইব্রুনাল? সরকার যদি জোর করে ফাঁসি দিত তাহলে তখন আবার সুশীলরা বলত- সরকার বিচার ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করছে। হায় সুশীল তোমরা কী শুধু আওয়ামী বিরোধীই থাকব সারা জীবন? সরকারের সমালোচনা করে সরকারকে ভুল শুধরাবার সুযোগ না দিয়ে উল্টো জামাতকে ভোট দিয়ে যাচ্ছ। হে সুশীলেরা তোমরা কী একবারও ভেবেছ সামনের নির্বাচনে জামাত-বিএনপি আসলে যে যুদ্ধাপরাধীরা সবাই ছাড়া পেয়ে যাবে। রাষ্ট্রিয় পতাকা উঠবে আবার রাজাকারের গাড়িতে। তোমরা কী একবার ভেবে দেখছ- গোলাম আজম, মুজাহিদ, নিজামীর মতন শক্তিশালী রাজাকারদের ধরা কতোটা হেডমের কাজ?



যুদ্ধাপরাধী বিচার শুরু হওয়ার পর থেকেই দেশে বিদেশী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করতে কতো কতো বেজন্মা দেশ সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করেছিল। কতো মিলিয়ন মিলিয়ন টাকা জামাত বিভিন্ন পত্রিকা ও সংস্থার পেছনে ঢেলেছ। এতো প্রতিকূলতার মধ্যেও কিন্তু সরকার তাদের বিচার করছে। সরকার যানে সামনে বিএনপি জামাত আসলে আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব থাকবে না তারপরও তারা এই বিচার করে যা্চছে। কতোটা সাহসী পদক্ষেপ এই বিচার তা কী তোমার ভুলে গেছ? গোলামের রায়ে কেউ সন্তুষ্ট হতে পারি নি কিন্তু জাতি তো একটা বিচার পেয়েছে এই সরকারের বদৌলতে তা কী ভুলে গেছ? এই গোলাম কালকেও যদি মারা যায় তারপরও আমরা বলতে পারব আমরা গোলামের বিচার করেছি। ফাসি দিতে না পারলেও ৯০ বছরের সাজা দিয়েছিলাম, সাইদির মতন নরপশুর বিচার করেছি। এতোটুকু কী আমাদের প্রাপ্তি না? আর এই প্রাপ্তি কী আওয়ামী লীগের কারণেই সম্ভব হয়নি?



হায় আওয়ামী লীগ তোমার বিচারে আজ তুমিই আসামী। হায় আওয়ামী লীগ হায় সুশীল।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.