নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

শিলালিপি

কঠাক্ষ

আমি একজন বা্সতব বাদী মানুষ।

কঠাক্ষ › বিস্তারিত পোস্টঃ

ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ করন প্রসঙ্গে................

২২ শে জানুয়ারি, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:৫৯

"ঠিক করেছিলাম, ছাত্রলীগ বা ছাত্ররাজনীতি নিয়ে আর কিছু লিখব না। প্রথমে এসব লিখে কিছুই হয় না, আর এ ব্যাপারে যাঁদের গুরুত্ব দেওয়ার কথা, তাঁরা গুরুত্ব দেওয়ার তেমন একটা প্রয়োজন মনে করেন না। কিছুদিন আগে দৈনিক প্রথম আলোয় ছাত্রলীগ নামধারীদের দুর্বৃত্তপনা নিয়ে লিখেছিলাম। যেদিন লেখাটি প্রকাশিত হলো, সেদিন প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফর শেষে দেশে ফিরেছেন। সকালবেলা ঘুম ভাঙল সরকারদলীয় এক নেতার টেলিফোনে। বেশ উষ্মা প্রকাশ করে বললেন, লেখাটি কি আজ প্রকাশ না করলে হতো না? তাঁর কাছে জানতে চাই, সমস্যা কী? জবাবে বলেন, ওই লেখা তো প্রধানমন্ত্রী পড়বেন। বলি, তিনি পড়বেন সেই আশাতেই তো লেখাটি আজ ছাপা হলো। কারণ, এখনো আমি বিশ্বাস করি, ছাত্রলীগ প্রসঙ্গে কেউ যদি কোনো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, তা প্রধানমন্ত্রীই নিতে পারেন। কিছু পরে সিলেট অঞ্চলের আরও একজন বড়মাপের নেতা ফোন করে আমাকে একহাত নিলেন। বললেন, কোন আক্কেলে আমি ওবায়দুল কাদের সম্পর্কে এত প্রশংসাসূচক মন্তব্য করলাম? তিনি ওবায়দুল কাদেরের চেয়ে কম কী? বলি, তিনি এখন রাজনীতি থেকে অনেকটা স্বেচ্ছানির্বাসিত। যদিও নতুন প্রজন্মের একজন ভালো রাজনৈতিক নেতা হওয়ার সব গুণাবলি তাঁর ছিল। দুর্ভাগ্যবশত তিনি সংস্কারবাদীদের দলে অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়েছেন। সেদিন দুপুর নাগাদ আমার পূর্ববর্তী কর্মক্ষেত্র থেকে সংবাদ পাই, ছাত্রলীগ নামধারীরা আমাকে ওই ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে। অথচ এই ক্যাম্পাসে তাদের পূর্বসূরিদের আমার মতো আমার অনেক সহকর্মী দীর্ঘ দুই দশক ধরে নিজেদের জীবন বাজি রেখে ক্যাম্পাস দখলে রাখা এক বড় অপশক্তি থেকে আগলে রেখেছিলেন। আমার বাড়িতে যখন এই অপশক্তি মধ্যরাতে বোমা নিক্ষেপ করল, আমাকে হত্যার হুমকি দিল, তখন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দু'বার ফোনে আমার আর আমার পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আমার নিজস্ব বাড়িতে প্রায় এক বছর সার্বক্ষণিক পুলিশ পাহারার ব্যবস্থা করেছিল। পরে অবশ্য ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা টেলিফোনে আমাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। অনেকটা বিবেকের তাড়নায় ছাত্রলীগ নিয়ে না লিখে পারলাম না। কারণ, তাদের সাম্প্রতিক দুর্বৃত্তপনা অনেকের মতো আমাকেও দারুণভাবে বিচলিত করেছে। তারা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে যে একটা মহাবিপর্যয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছে, তা অনুমান করার জন্য কোনো বড়মাপের গবেষক হওয়ার প্রয়োজন নেই। এই কর্মটি তারা বর্তমানে বেশ আনন্দের সঙ্গেই করেছে।" লেখাটি আবদুল মান্নান: সাবেক উপাচার্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। যা ২১শে জানুয়ারী দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় ছাপা হয়।

এ লেখাটি প্রসঙ্গে আজ আমার অবতারনা। দুই বছরের জন্য ছাত্রলীগের কার্যক্রম বন্ধ করা হলে ছাত্রলীগের নামধারী এই দানব গুলো কোথায় যাবে? তারা তো আওয়ামিলীগেই থাকবে। তাহলে কি দেশের কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং টেন্ডার নিয়ে মারামারি ও সন্ত্রাস বন্ধ হবে? আর আওয়ামিলীগে থাকলে শিশু রাব্বি, বিশ্বজিৎ, আর ও কত নাম জানা অজানা মায়ের কোল খালি হবে তার কোন হদিস থাকবে না। ছাত্রলীগের নামধারী এই ছাত্র গুলোর বিরুদ্ধে কেউ পত্রিকায় লিখলে তার কি হতে পারে তা সাবেক এ উপাচার্যের লেখায় প্রতিপলিত হয়েছে।

যুদ্ধের সময় যারা মানবতা বিরোধী কাজ করেছে তাদের বিচারের রায় ও শুরু হয়ে গেছে। এখন এই ছাত্রলীগের নামধারী দানবগুলোকে বিচারের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করে কয়েকটা রায় ঘোষণা করলে ছাত্রলীগের এই দানবগুলি গুটিয়ে যেতে বাধ্য হবে। তখন আর অপরাধ করতে সাহস পাবেনা।

আর সংস্কারবাদীদের দলে অন্তর্ভুক্ত হলেও ওবায়দুল কাদের বর্তমান মন্ত্রীসভা এবং সরকারের মুখ উজ্জল করে রেখেছেন। শুধু তার কর্মগুনে। আর শুধু উচিৎ কথা বল্‌লেই সংস্কারবাদী ,দূর্নীতিবাজ এবং যুদ্বাপরাধী হয়ে যায়। বর্তমান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মহি উদ্দিন খান আলমগীর বিরোধী দল কে দমন করার জন্য যে ভাবে ছাত্রলীগ কে প্রকাশ্যে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করে চলতেছেন তার রুপ বয়াবহ-ই হবে। ছাত্রলীগ দানব রুপেই আভির্ভূত হবে তাতে কোন সন্ধেহ নেই। ছাত্রলীগ কি পুলিশ? প্রধান মন্ত্রী আজ রাজারবাগ পুলিশ লাইনে রাখা বক্তব্যে বলেছেন অপরাধী যে-ই হোক বিচারের আওতায় আনা হবে। ছাত্রলীগ কি আইনের উর্দ্ধে? আমি কোন পেশাধার সাংবাধিক নয়, আবার আমার এই লেখা কোন জাতীয় পত্রিকায় ও ছাপা হবেনা। প্রধান মন্ত্রী কি এই জাতীয় একটা সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন? গত চার বছরে বর্তমান সরকারের যা অবদান আছে, তার সবটুকুই নস্যাৎ করে দিচ্ছে ছাত্রলীগ নামধারী এই সংগঠনটি। তাহলে কি এই ভাবেই দেশ চলবে? এই সন্ত্রাস বন্ধ করার জন্য জাতি কার দিকে তাকিয়ে থাকবো? আমাদের সবার শুভবুদ্ধির উদয় হোক-এই কামনায় আজ বিদায়। অন্য দিন অন্য বিষয় নিয়ে লিখার আশা রইল।

মন্তব্য ৩ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৩) মন্তব্য লিখুন

১| ২২ শে জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ৮:১২

পরিবেশ বন্ধু বলেছেন: না ফুটিয়ে মগজ
এরা ঝগড়া বুঝে সহজ

২| ২২ শে জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ৯:৩৬

টাইটান ১ বলেছেন: কে ছাত্রলীগ আর কে ছাত্রদল আর কে শিবির বিষয় মনে হয় সেখানে নয়। বিষয় হচ্ছে এই প্লাটফর্মে গিয়ে উপরে উঠার সুযোগ আছে। রাতারাতি বড়লোক হয়ে যেতে পারেন। ক্ষমতা আছে। রাস্তায় কাউকে কুর্তার মতো মেরে ফেললেও সমস্যা নেই। আদর্শ ধারণ করে কয়জনে ছাত্রসংগঠনগুলোতে যোগ দেয়? কিছুদিন আগে কথা উঠেছিল। তারা ছাত্রলীগ নয়, তারা শিবির। আসলে তারা কিছুই না। তারা স্রেফ শয়তান। শয়তানের আবার ধর্ম কী? সে যে পাত্রেই যাবে শয়তানি করবে।

৩| ২২ শে জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১০:০১

শার্লক বলেছেন: কিছু বলার রুচিও হয় না আর। ক্যান যে স্বাধীন হইলো দেশটা।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.