| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ফরীদ
আমি কক্সবাজারের সাধারণ নাগরিক। আমলাতান্ত্রিক গেড়াঁকলে পিষ্ঠ বাংলাদেশের কোটি কোটি জনতার একজন।
আমার প্রিয় কক্সবাজার। আমি কক্সবাজারের সাধারণ এক নাগরিক। আমি কক্সবাজার কে ভালবাসি। এ লেখার ভেতর দিয়ে আমি কক্সবাজারের ভালো-মন্দ, থাকা-নাথাকা, চাওয়া-পাওয়া তুলে ধরতে চাই সারা বিশ্বের বাংলাদেশী ভাইদের কাছে। আমার এ লেখায় ভুল-ত্রুটি হতে পারে, তবে তা' কখনো আমার স্বজ্ঞানে কৃত হবেনা। আমি কক্সবাজার নগরীর ইতিহাস ব্যক্ত করতে চাইনা। আমার উদ্দেশ্য শুধু অতীত ঐতিহ্য, বর্তমান বাস্তবতা ও ভবিষ্যত পরিনতির ধারণা ব্যক্ত করা। আমি লেখক নই, তাই আমার এ লেখার মধ্যে রস-কস না-ও থাকতে পারে। প্রিয় পাঠক, নিজগুণে আমার ত্রুটি-বিচ্যুতি গুলো ক্ষমা করে দেবেন- এই আশা নিয়ে পরম দয়ালু মহান দাতা আল্লাহর নামে শুরু করছি।
এক.
বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত কক্সবাজার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক বিস্ময়কর লীলা ভূমি। সাগরের দূগ্ধ ফেনণীভ উর্মি মালা পৃথিবীর পর্যটকদের অবিরত কাছে টানে। হাঙ্গর বিহীন জলরাশিতে নিশ্চিন্তে সাঁতার কাটা যায় ইচ্ছে মতো। নির্ম্মল বায়ু আর নির্দোষ বালুকা বেলায় কাটিয়ে দেয়া যায় সারা দিনমান। বিভিন্ন প্রজাতির মাছের হরেক রকম ডিশে রসনা তৃপ্ত করা যায় রেস্টুরেন্ট গুলোতে। পৃথিবী বিখ্যাত মিষ্টি পানের সুমধুর রসে মুখ গহ্বরকে টইটুম্বুর করে ঠোট লাল করা যায়। অন্য জেলার (যেখানে মিষ্টি পান নেই) পান প্রেমিকরা কক্সবাজারের এই মিষ্টি পান একবার খেয়েছে তো সেরেছে। নির্ঘাৎ নেশায় পেয়ে যাবে। এখান থেকে যাওয়ার সময় বস্তাভর্তি করে নিয়ে যেতে চাইবেন। রাজশাহীর পানের মত এই মিষ্ট পান আবার বেশী দিন রাখা যায়না। গাছ থেকে ছেঁড়ার ৮/১০ দিনের মাথায় এতে পঁচন ধরে যায়।
পানের কথা থাক, আবার ফিরে আসি মাছের কথায়। এককালে বঙ্গোপসাগরের মাছ ছিল কক্সবাজারের অধিকাংশ লোকের জীবিকার সামগ্রী। 'মাছের খনি' বলে পরিচিত বঙ্গোপসাগর আজ মাছ শুন্য বলা চলে। বাহার ছড়া, কলাতলী ও নতুন বাহার ছড়া বা নুনিয়াচড়া এলাকা গড়ে উঠেছিল এই বঙ্গোপসাগরের মাছ শিকারের উপর নির্ভর করে। এই বাহারছড়া, কলাতলী ও নতুন বাহারছড়া বা নুনিয়াচড়ার জনগনের প্রধান পেশা ছিল বঙ্গোপসাগরের মাছ আহরণ। শুধু তাই নয়, সাগরে মাছের প্রাচুর্যের কারণে এই পেশায় সদর উপজেলার খুরুশকুল, ভারুয়াখালী, চৌফলদন্ডী, পোকখালী, ঈদগাঁও, মাছুয়াখালী, পিএমখালী, খরুলিয়া, চকরিয়া উপজেলার খুঁটাখালী, দুলহাজারা সহ অনেক এলাকা, রামু উপজেলার বেশ কিছু ইউনিয়ন, উখিয়া উপজেলার জালিয়া পালং সহ অনেক ইউনিয়ন, টেকনাফ উপজেলার অধিকাংশ এলাকার বাসিন্দা এই মাছ শিকারের পেশায় নিয়োজিত ছিল। তৎকালে এই সব এলাকার ধনবান ব্যক্তি বলতে ফিশিং বোটের আধিক্য দিয়ে বিবেচনা করা হতো। যার যত বেশী ফিশিং বোট ছিল তিনি তত বেশী পরিচিত ছিলেন। তাদেরকে বলা হতো 'বহর্দ্দার'।
(চলবে)
©somewhere in net ltd.