নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মানুষ মরে গেলে পঁচে যায় আর বেঁচে থাকলে বদলায়

সৈয়দ কুতুব

নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!

সৈয়দ কুতুব › বিস্তারিত পোস্টঃ

সব মাছে গু খায় দোষ হয় ঘাউড়্যা মাছের

০৫ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৯


হাসনাত আবদুল্লাহ। বাংলাদেশের ক্যাপ্টেন। জেনারেশন জেড আর আলফার চোখে তিনি একজন সুপারহিরো। মার্ভেলের ছবিতে যেমন একজন সাধারণ মানুষ হঠাৎ পোশাক পরে আকাশে উড়তে থাকে, হাসনাতও যেন সেরকমই—ধুলোমাখা বাস্তবতার মাঝে এক ঝকঝকে আশার আলো। তরুণ প্রজন্ম তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখে, স্ট্যাটাস দেয়, রিলস বানায়। তিনি শুধু একজন রাজনীতিবিদ নন, তিনি একটা অনুভূতির নাম।

কুমিল্লার এক দোকানদার একবার বলেছিলেন, "ভাই, হাসনাত সংসদে গেছে, এইবার একটা বিরাট ফাডাফাডি হবে।" লোকটার চোখে-মুখে উত্তেজনা। বুঝলাম, মানুষ এখনো বিশ্বাস করে যে সংসদে একজন "সৎ মানুষ" গেলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। এই বিশ্বাসটা বাঁচিয়ে রাখাই হয়তো আমাদের জাতীয় বিনোদন। হাসনাত সংসদে গিয়ে ক্রিকেট বোর্ডের দলীয় নিয়োগ নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ করেছেন। এমপিদের জন্য বরাদ্দ থাকা খেজুরসহ নানা জিনিসের হিসাব পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশন বানিয়ে জাতির সামনে তুলে ধরেছেন। মানুষ তাকে ভালোবাসে, সততার প্রতীক মনে করে। কিন্তু ভালোবাসা মানুষকে কখনো কখনো অন্ধও করে দেয়।

যারা হাসনাতের বক্তব্যে মুগ্ধ হন, তারা অনেকেই জানেন না যে আসিফ নজরুলের সহায়তায় দেবীদ্বারের বিএনপি প্রার্থীকে মাইনাস করে তিনি কীভাবে এমপি হয়েছেন। তারা বুঝতে পারেন না যে একই বিচারপতিকে দশ দিনের মধ্যে দুইবার পদোন্নতি দেওয়া কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়। বিচারপতি ফারাহ মাহবুবকে ব্যবহার করে ঋণখেলাপি হিসেবে প্রতিপক্ষকে মাইনাস করা হয়েছে। কিন্তু এই গল্পটা বলার মানুষ কম, শোনার মানুষ আরও কম।

সৎ মানুষ হাসনাত আর কী করতে পারতেন? তাই তিনি অসৎ উপায়ই বেছে নিলেন। এতে এলাকার মানুষ নিজেদের প্রতারিত মনে করতে পারেন। কিন্তু বড় প্রেক্ষাপটে দেখলে আসলেই ক্ষতি হয়েছে কী? মুন্সির বদলে হাসনাত এমপি হয়েছে, সমস্যা কোথায়? বুড়োরা আর কতদিন এমপি হবে? তরুণরা সংসদে এখন না গেলে কবে যাবে? তাছাড়া মুন্সি কি নির্বাচনের আগে দেবীদ্বারের জন্য এক পয়সার উন্নয়ন বরাদ্দ আনতে পেরেছিলেন? পারেননি। হাসনাত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রভাব ব্যবহার করে উন্নয়ন বরাদ্দ এনেছেন। তাহলে হাসনাত এমপি হবে না, মুন্সি হবে?

গতকাল থেকে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। বসুন্ধরা থেকে টাকা নিয়ে ইফতার পার্টি করতে সুপারিশ করেছেন হাসনাত। ঘটনাটা গত বছরের রমজানের। বসুন্ধরা গ্রুপ বৈষম্যবিরোধী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সংগঠনের ইফতারে মাথাপিছু দুই-তিন হাজার টাকা খরচ করেছে। মজার ব্যাপার হলো, এনসিপির কোনো নেতা একটা কুকুরকে লাথি মারলেও কালের কণ্ঠ, কালবেলা, বাংলাদেশ প্রতিদিন সেটা নিয়ে নিউজ করে। এবার তারা চুপ। কারণটা নিশ্চয়ই কারও অজানা নয়। এই মিডিয়া হাউসগুলোর মালিক বসুন্ধরা।

হাসনাত আবদুল্লাহ কি আসলে কোনো ভুল কাজ করেছেন? বসুন্ধরার কাছে হাজার কোটি টাকা আছে। এক-দুই কোটি টাকা ইফতারির খরচ হিসেবে গেলে সমস্যা কী? ইসলামের দৃষ্টিতে ইফতার করানোর আলাদা সওয়াব আছে। বসুন্ধরার মালিক নিজেকে কেন এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত করবেন? হাসনাত তো লুটেরাদের টাকায় মানুষকে ইফতার করিয়েছেন। তাকে এত সমালোচনা কেন?

এনসিপি নতুন দল। তাদের দরকার জনবল, অর্থ। বসুন্ধরার কাছে অর্থ আছে। সেটাকে ব্যবহার করে হাসনাত তার জনবল ধরে রেখেছেন। এতে অন্যায় কোথায়? আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত সবাই বসুন্ধরার টাকা খেয়েছে। শুধু হাসনাত নিলে দোষ হবে কেন? একটা ছেলে, যার বাবা রাজমিস্ত্রি ছিলেন, সময়ের ব্যবধানে আজ এমপি হয়ে গেছে। সামনে মিল-কারখানা করবে, মাদ্রাসা করবে, এতিমখানা করবে, মসজিদ করবে। এগুলো করতে কোটি কোটি টাকা লাগে। বসুন্ধরার মতো বড় হাঙররা তার স্বপ্ন পূরণে সাহায্য করবে। বিনিময়ে হাসনাত দেবে নিরাপত্তা, দেবে সততার সার্টিফিকেট। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এমনটাই যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। হাসনাত কোনো নতুন ঘটনা নয়।

হান্নান মাসুদকে নিয়েও নতুন চক্রান্ত শুরু হয়েছে। হাতিয়ার এই এমপি নাকি আওয়ামী লীগের এক সাবেক এমপিকে তিন কোটি টাকার বিনিময়ে পালাতে সাহায্য করেছেন। কেন, এতে সমস্যা কোথায়? শুধু একজন সাবেক এমপিকে পালাতে সাহায্য করেছেন, বিনিময়ে তিন কোটি টাকা পেয়েছেন। আওয়ামী লীগের এমপিদের কাছে যে টাকা আছে, সেটাও তো জনগণের টাকা। হান্নান একজন অসহায় লোকের জীবন বাঁচিয়েছেন, বিনিময়ে তিন কোটি টাকা আয় করেছেন। তিনি জীবন থেকে খুব দ্রুত শিখেছেন।

ভাবুন তো, এই ছেলে যদি এমপি না হতো, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে একটা চাকরি করত শুধু। প্রাচুর্য আর বিলাসিতা কোনোদিন চোখে দেখত না। এরকম একটা ডিল যে হাতছাড়া করেনি, এটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের পরিচয়। এসব ডিলের খেলা সে বড়দের কাছ থেকেই শিখেছে। হান্নান দেখেছেন, ডিলের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ আমলে বিএনপি-জামায়াত ব্যবসা করেছে, মামলা থেকে মুক্তি পেয়েছে, শত শত জামায়াত-শিবিরের কর্মী ঘুষ দিয়ে আওয়ামী লীগে জায়গা পেয়েছে, চাকরি পেয়েছে। ছোট মানুষ বড়দের থেকেই শেখে। হান্নানও সেটাই করেছে।

হান্নান বা হাসনাতকে নিয়ে সমালোচনা হবে কেন, যেখানে প্রফেসর ইউনূসের মতো নোবেলজয়ী ব্যক্তি নিজের ক্ষমতা ব্যবহার করে গ্রামীণকে নতুন ব্যবসার অনুমোদন পাইয়ে দিয়েছেন? নোবেলজয়ী ইউনূসের চেয়ে অনুসরণীয় আদর্শ আর কে হতে পারে? আজ যখন বিভিন্ন দলের সমর্থকরা হান্নান কিংবা হাসনাতকে সমালোচনা করেন, তখন তারা ভুলে যান এরা শুধু তাদের প্রাণপ্রিয় নেতাদেরই প্রতিচ্ছবি।

একজন তরুণ যুবক, যার ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের মতো দেশে সবসময় অনিশ্চিত, সে অবশ্যই চাইবে নিজের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে। আর এমপি হওয়ার চেয়ে লাভজনক পেশা কী হতে পারে? জনগণের এই ক্ষোভ আসলে নৈতিকতার জন্য নয়। এই ক্ষোভের সারমর্ম একটাই: "ওরা পারল, আমরা কেন পারলাম না?"




ইফতারের জন্য বসুন্ধরা গ্রুপ থেকে ১ কোটি টাকা নিয়েছিল বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন: অপু -টিডিডি রিপোর্ট


মন্তব্য ২ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ০৫ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৫

রাজীব নুর বলেছেন: খুবই ফালতু একটা পোষ্ট দিয়েছেন।
যা মন চায় লিখেছেন। অন্যায়কারীদের পক্ষে লিখেছেন। আপনি অন্যায় করেছেন। আপনার অধপতন হয়েছে।

০৫ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ;)

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.