নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

চলে যাব- তবু যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ, প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল।

হাবিব স্যার

বিশ্বজোড়া পাঠশালা মোর, সবার আমি ছাত্র।

হাবিব স্যার › বিস্তারিত পোস্টঃ

সকালের নাস্তা যদি হয় পান্তাভাত আর কাঁচামরিচ তবে ব্লগারদের স্ট্যাটাস যেমন হতো

৩১ শে মার্চ, ২০১৯ রাত ৯:২৭



১) চাঁদগাজী: আজ সকালের নাস্তা পান্তাভাত আর কাঁচামরিচ দিয়েই সারলাম! কাঁচা মরিচের ঝালটা একটু বেশিই মনে হলো। আমাদের বৈষম্যের অর্থনীতির কবলে পড়ে আছি আমি। ক্ষমতাসীনরা কি চোখে কালো চশমা পড়ে আছে? দ্যাখেনা এইগুলা? আমার হাতে যদি ক্ষমতা থাকতো তাহলে "একজনে না খেতে পেরে ফেলে দিবে আরেকজনে না পেয়ে কাঁচামরিচের ঝালে মুখ পুড়বে" এমন নীতি অবশ্যই বাতিল করতাম। জানিনা কখনো সুযোগ হবে কি না!

২) নতুন নকিব: আলহামদুলিল্লাহ, পেট ভরে কাঁচামরিচ দিয়ে পান্তাভাত খেলাম। আল্লাহর শুকরিয়া আদায় না করে পারছি না। কতজনে রাস্তা-ঘাটে না খেয়ে আছে, কিন্তু পান্তাভাত হলেও যে খেতে পেড়েছি আমি। সন্তানদের মুখে দু'মুঠো অন্ন তোলে দিতে পেড়েছি। এটাই যে পরম তৃপ্তি!

৩) রাজীব নুর: আজ শুক্রবার ছুটির দিন ছিলো বলে বেলা করেই ঘুম থেকে উঠেছি। সকালে ফ্রেশ হয়েই দেখি সুরভী পান্তা ভাতের থালা হাতে হাজির। সাথে একটা কাঁচামরিচও দেখছি লুকোচুরি খেলছে। সুরভীর হাতের একগ্লাস পানির স্বাদও আমার কাছে লাচ্ছির চেয়ে বেশি স্বাদের মনে হয়। সুরভীর মুখের দিকে তাকিয়ে সব পান্তাভাতই খেয়ে ফেললাম। ভাবছি ঝাল একটা কাঁচামরিচ ছিলো থালায়, কিন্তু ঝাল কেন লাগছে না? ওমা........ খাওয়া শেষ করে দেখি কাঁচামরিচ প্লেটের এক কোনে বসে খিল খিল করে হাসছে!

৪) আরোগ্য: হালাল রুজীর মধ্যে আলাদা একটা তৃপ্তি আছে। সকালের নাস্তা করতে গিয়েই টের পেলাম। পান্তাভাত আর কাঁচামরিচের যে স্বাদ আমি পেয়েছি ঘুষের টাকায় কেনা গোস্তের মধ্যে কি সেই স্বাদ পেতাম? মোটেই না। দেখা যেত গোস্ত খেয়ে কোন রোগ বাঁধিয়ে বসতাম। আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ, তিনি যেন হালাল উপায়ে জীবনধারন করার তাওফিক দেন!

৫) নাঈম জাহাঙ্গীর নয়ন: নিজের হাতে চাষ করা ক্ষেত থেকে সকালবেলা কাঁচামরিচ তুলে এনেছি। বাড়িতে এসে মাকে বললাম কি আছে দাও, বাজারে যাব। মা এক প্লেট পান্তা ভাত সামনে আনলাম। টাটকা কাঁচামরিচ দিয়ে তাই খেলাম। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া, ফরমালিন দেয়া জিনিস থেকে বেঁচে আছি। কেন যে মানুষ খাদ্যের মধ্য বিষ দেয় আমার বুঝে আসেনা। অল্প লাভের জন্য বৃহৎ ক্ষতি কি করে করে ওরা?

৬) ভুয়া মফিজ: জীবনে হয়তো বড় কোন রেস্টুরেন্টে খেতে পারিনি তাতে আফসোস নেই। দু-চার টাকা এদিক-সেদিক করার ধান্ধা করিনি কখনো। অন্যায়ের কাছে মাথা নত করার শিক্ষা পাইনি জীবনে। আমাদের জীবনে হয়তো পান্তাভাত আর কাঁচামরিচের বেশি জোটেনা কিন্তু বুকে হাত রেখে বলতে পারি, আমাদের মনে এই কাঁচা মরিচের মতো তেজ আছে। আমাদেরকে হত্যা করা হলেও ঝালে জ্বলে মরতে হবে দূর্নীতিতিবাজদের।

৭) করুনাধারা: আজকে সকালবেলা নাস্তা করার মতো ঘরে তেমন কিছু ছিল না। অল্প একটু পান্তাভাত আর কাঁচা মরিচের উপর দিয়েই সকালের নাস্তা সারলাম। কি যে তৃপ্তি করে খেলাম! খেতে খেতে একটা গান খুব করে মনে পড়ছিলো আমার। কাজী নজরুল ইসলামের সেই গানটি...... " তৃষ্ণা পেলে দিও ঠান্ডা পানি, ক্ষুদা পেলে দিও লবনও ভাত, খোদা..... এই গরীবের শোন শোন মুনাজাত......."

৮) খায়রুল আহসান: জীবনে তৃপ্ত হতে বেশি কিছু লাগে না। অল্পে তুষ্টির মতো সুখ আর কিছুতে নেই। আজ সকালের নাস্তায় পান্তাভাত আর কাঁচা মরিচের বেশি জুটাতে পারিনি ঠিকই কিন্তু এতেই যে আমি সন্তুষ্ট! মনে মনে চিন্তা করলাম, একটা কাঁচামরিচ আমার প্লেটে উঠানোর জন্য একজন কৃষক কত খাটনিই না খেটেছেন! আর এই যে ধবধবে সাদা ভাত পানির নিচে পরম তৃপ্তিতে গোসল করছে ...... তা কি এমনিতেই এসেছে? মোটেই না। এর পেছনে শ্রম দিয়েছেন গাঁয়ের কৃষক। রোদে পুঁড়ে ফসলের ফরমান নিয়ে আসেন। আল্লাহ যেন সেই সমস্ত মানুষকে ভালো রাখেন সবসময়।

৯) পদাতিক চৌধুরী: কাঁচামরিচের সাথে পান্তাভাতের একটা সখ্যতা আছে যেন! দু'য়ে মিলে একটা মজাদার খাবার তৈরী হয়েছিলো আমার প্লেটে। ছোট বেলায় যখন পছন্দসই খাবার না হতো, বাবা-মার সাথে কত রাগ করতাম! আর এখন সংসার চালাতে গিয়ে টের পাচ্ছি। এই একমুঠো ভাত আমাদের মুখে তুলে দিতে বাবা-মা কতই না কষ্ট করেছেন। সৃষ্টিকর্তা যেন বাবাকে ওপারে শান্তিতেই রাখেন।

১০) নীল আকাশ: আজকে একটা মজাদার নাস্তার আয়োজন ছিলো আমাদের বাড়িতে। কাঁচামরিচের সাথে পান্তাভাতের মিশেলে দারুণ রেসেপি। এমন না যে আজকেই প্রথম খাচ্ছি। তবুও আজকে স্পেশাল কিছু মনে হচ্ছে। পহেলা বৈশাখের কথা মনে পড়ে গেল। কত মানুষ বছরে একবার বাঙালী সাজার অভিনয় করে পান্তা ভাত খায়। আর আমরা নিয়মিতই খাচ্ছি! তবুও নাকি যত দেশপ্রেম ঐ বড়লোকের অন্তরেই! আজব দেশ, আজব তার নিয়ম কানুন। কেউ বেঁচে থাকার জন্য পান্তাভাত খায় কেউ বাঙালী সাজার জন্য পান্তাভাত খায়!

১১) সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই: সকালবেলা পান্তাভাতের সাথে কাঁচামরিচের যে রসায়ন আমার প্লেটে জমে উঠেছিল তা কোনভাবেই অগ্রাহ্য করার মতো না। একথালা পান্তাভাতের এক কোনে একটি কাঁচামরিচ এমন ভাবে বসে ছিলো দেখে মনে হচ্ছিলো সে একা বলে অনেক লজ্জা পাচ্ছে। তার একাকীত্ব দূর করার জন্য শেষে পেঁয়াজকেও দাওয়াত করেছিলাম। পেঁয়াজ চক্ষুলজ্জা ভুলে গিয়ে কাপড় রেখেই পান্তা ভাতের জলে নেমেছিল........ তারপরের ঘটনা ইতিহাস!

১২) রাবেয়া রাহীম: সকালবেলা উঠতে দেরী হয়ে গেল। জলদি করে কাজে যেতে হবে। নাস্তা বানানোর সময় নেই। হাড়িতে কিছু ভাত ছিলো, তা দিই নাস্তাটা সেরে নিলাম। আর হ্যাঁ, সাথে একটা কাঁচামরিচও ছিলো। খেতে খেতে চিন্তা করলাম, এই নাস্তাই না প্রতিদিন কত আয়েশ করে খেয়েধেঁয়ে কাজে যায় খেটে খাওয়া মানুষ! কত সহজ তাদের জীবন!

১৩) জাহিদ অনিক:

" প্রিয়ার লাল টকটকে ঠোঁটের মতো
ভরা যৌবন নিয়ে একটা কাঁচামরিচ
বেহায়ার মতো আমার প্লেটে হাবুডুবু খাচ্ছিলো!
কি মধুর সে দৃশ্য.......
কত রুমান্টিক!!"

১৪) শায়মা: জীবনে কত চাইনিজ খেয়েছি, কিন্তি আজ সকালে যে খাবার খেলাম তার তুলনা হয়না! পান্তাভাতের ঠান্ডা জলের সাথে বগুড়ার কাঁচামরিচ! বগুড়ার দই যেমন মিষ্টি কাঁচামরিচ ঠিক তার বিপরিত আচরন করলো আমার সাথে। এটা কি প্রতারণা নয়! আমরা মেয়েরা কেন প্রতারণার শিকার হবো বারবার? তবুও মুখ বুজে তাই উপভোগ করার ভান করলাম। কি আর করার...... মেয়ে হয়ে জন্মেছি!

১৫) বিদ্রোহী ভৃগু:


"গরীব-দু:খী মানুষেরা
যাদের নুন আনতে ফুরিয়ে যায় পান্তার জল
যাদের ভাগ্যে একটু কাঁচামরিচও জুটে না
কেমন করে চলে তাদের সংসার?
চিন্তা করে দেখেছো কি, হে পথিক?
তাদের কষ্ট বুঝার সুযোগ আমারও যে হয়েছে!"

১৬) তারেক_মাহমুদ: বনানী কিংবা গুলশানে বড়লোকের সম্পত্তি পুড়ে ছাই হলো, তাতে তাদের সইবে! একজন ভিক্ষুক যখন রাস্তায় ভিক্ষা চাইতে আসে বড় তলার লোকেরা বলে, মাফ করো। কারো কারো তো গাড়ির জানালা পর্যন্ত খোলে না। তারা যে কাভাবে তিন বেলা নিজেদের পেট চালায় তা কি ভেবেছি আমরা কখনো? তাদের দু:খ বুঝার জন্য মাঝে মাঝে পান্তা ভাতও খেতে হয়।

১৭) মা.হাসান: জীবনটা কতই না বিচিত্র! কতজনে শখের বসে পান্তাভাত খায় কেউবা ঠেলায় পড়ে। কারো ভাগ্যে দু কলা জুটলেও কারো ভাগ্যে পান্তার পানি জোগাড় করা কেন এত কষ্টের? বিধাতা কেন এমন করে কষ্ট দেন মানুষকে? মানুষ হিসেবে আমরা কি পারিনা অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে?

১৮) ল:

" পান্তাভাতের পানি যদি জোটে সকালবেলা
তবুও তো মানুষ তারা করছো কেন হেলা?
আজকে যারা নিচু তলায় রেখো তাদের খোঁজ
পান্তা হলেও মুখে দিও, দিও একটু বুঝ!"

১৯) সোহানী:
জীবনের কঠিন মুহুর্তগুলো একাই পার করতে হয়। সঙ্গী-বন্ধু পাশে পাওয়া তখন কঠিন হয়ে পড়ে। আজকে হয়তো আমার স্বামী আমার মুখে পান্তাভাতের পানি ছাড়া বেশি কিছু দিতে পারছে না, তাই বলে কি আমি তাকে ছেড়ে যাবো? ভর্ৎসনা দেবো? কখনোই না। আমার মা আমাকে শিখিয়েছে, " স্বামীর অভাবের সময় চেনা যায় বউকে আর বউয়ের অসুখে চেনা যায় স্বামীকে।"

২০) কলাবাগান১: আজ সকালে পান্তাভাতের সাথে নতুন করে পরিচয় হলো। পান্তাভাত খাওয়ার সময় ভাবলাম গ্রামের কৃষকেরা সকালবেলা পান্তাভাত খেয়ে এই যে এতো পরিশ্রম করেন তবুও তারা কত সুস্থ! অবশেষে খুঁজে পেলাম পান্তাভাতের যাদুকরী সব গুণাগুণ।

গবেষণায় দেখা গেছে যে, আগের দিন রান্না করা রাতভর পানিতে ভিজিয়ে রাখা ভাতের মধ্যে রয়েছে ভিটামিন বি-৬ এবং ভিটামিন বি-১২। এ ভাতের মধ্যে রয়েছে অনেক উপকারি ব্যাকটেরিয়া যা খাদ্য হজম করতে সহায়তা করে এবং বহু রোগ প্রতিরোধ করে। এ ভাতে রয়েছে হাড় ও পেশি শক্তি বৃদ্ধির উপাদান এবং বার্ধক্য প্রতিরোধ ক্ষমতা।

আমেরিকান পুষ্টিবিদ পান্তা ভাতের আরো অনেক গুণাগুনের বিবরন দিয়েছেন যেমন: ১. পান্তা ভাত খেলে শরীর হালকা লাগে এবং কাজে বেশি শক্তি পাওয়া যায়। ২. মানব দেহের জন্য উপকারি বহু ব্যাকটেরিয়া পান্তা ভাতের মধ্যে বেড়ে উঠে। ৩. পেটের পীড়া ভাল হয় এবং শরীরে তাপের ভারসাম্য বজায় থাকে। ৪. কোষ্ঠবদ্ধতা দূর হয় এবং শরীরে সজিবতা বিরাজ করে। ৫. রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে। ৬. অঙ্গ প্রত্যঙ্গ সবল হয় এবং মেজাজ ভাল থাকে। ৭. এলার্জি জনিত সমস্যা প্রশমিত হয় এবং ত্বক ভাল থাকে। ৮. সব রকম আলসার দূরীভূত হয়। ৯. শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। ১০. মন মেজাজ ভাল থাকে।
এখনও যারা মাঠে কৃষি কাজ করেন, সকালে পান্তা ভাত খেয়ে মাঠে যান এবং ৮-১০ ঘন্টা কাজ করেন। তাদের রোগ বালাই কম হয়।

২১) মোঃ মাইদুল সরকার: হায়রে জীবন, কেউ খায় দুধকলা কেউ পান্তাভাত আর কাঁচা মরিচ!

২২) ব্লগার_প্রান্ত: বন্ধুদের সাথে যখন আড্ডা দেই তখন তারা বলে, কেউ খেয়েছে দুধভাত কেউবা পোলাও। আমি তো আজকে সকালে পান্তাভাত খেয়েছি। আমি কি বলবো তাহলে? লজ্জায় পড়ে যায় তখন। মুখ বাঁচাতে মিথ্যা বলা ছাড়া আর কোন উপায় থাকে না।

২৩) ওমেরা: জীবনের কোন ঘটনা আমি ছোট করে দেখিনা। হতেপারে সেটা পান্তাভাত আর কাঁচামরিচের গল্প। সব কিছুতেই আমি শিক্ষণীয় কিছু খুঁজে বেড়াই।

২৪) জুন: প্রবাস জীবনে স্বদেশের স্বাদ পেতে সেই ছোটবেলার পান্তাভাত খাওয়ার সময়টাতে আজ ফিরে গিয়েছিলাম। কতদিন পড়ে সেই অমৃত খেলাম!

২৫) ঢাবিয়ান: দেশের অর্থনৈনিক অবস্থা ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। কাগজে কলমে ঠিকই উন্নয় হ্চ্ছে কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। মানুষের অন্ন-বস্ত্রের সুযোগের মতো মৌলিক অধিকার আজ প্রশ্নের সম্মুখীন! এই যে আমি আজকে সকালে পান্তাভাত আর কাঁচামরিচ খেলাম এই কষ্ট কি এমপি-মন্ত্রীরা বুঝবে? কখনোই না! তারা তো ঠিকই ফাইভ স্টার হোটেলে বসে পেট পূজো করছে!

২৬) আহমেদ জী এস: একথালা ভাত চোখের সামনে দেখে মুখের কাছে নিতে নিতে একখানা থিসিস লেখার মতো চিন্তা করে ফেলি। এই যে খাচ্ছি, তিনবেলা নিয়ম করে, যাই জুটুক! তবুও তো খাচ্ছি। আজ যারা না খেয়ে দুমুঠো অন্নের জন্য ডাকাতি করে তাদের কোন খবর কি আমরা নেই? সবাই স্বার্থপর!

২৭) নীলপরি: আমার মতো করে সবাই যেন তিনবেলা খেতে পারে, অল্প হলেও। কেউ যেন না খেয়ে না থাকে। পান্তাভাত হলেও। তাতেই যে তৃপ্তি।

২৮) মাহমুদুর রহমান: আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানানোর ভাষা নেই! এই যে পান্তাভাতের দুমুঠো খাবার পাচ্ছি তাই বা কম কি!

২৯) মাহমুদুর রহমান সুজন: একদিন আমিও বড় হবো। সবার মুখে অন্ন তুলে দেবো। এই কষ্ট আর সহ্য হয় না।

৩০) আকতার আর হোসাইন: মায়ের হাতে খাবার খাওয়ার মজাই আলাদা। আজ সকালে মা নিজ হাতে পরম যত্ন করে খাওয়ালেন। কতই না অমৃত সেই অন্ন।

৩১) সুমন কর: পান্তাভাতের পানির মতো জীবনটা ঘোলাটে হয়ে যাচ্ছে। এর জন্যই কি জন্মেছিলাম?

৩২) সৈয়দ তাজুল ইসলাম: কাচামরিচের ঝালটা একটু কমই ছিলো। পান্তাভাতের পানিতে চুমুক দিতেই পাশে চেয়ে দেখি এক ভিক্ষুক খাবার চাচ্ছে দড়জায় দাঁড়িয়ে। পরক্ষনেই মনে হলো " নিজের খাবার বিলিয়ে দেবো অনাহারীর মুখে" লাইনটা। বাকি খাবারটুকু তুলে দিলাম তার মুখে। তার সে কি আনন্দ!

৩৩) সামু পাগলা০০৭: ধুর....... আর ভালো লাগে না.......... এতো কষ্ট করা যায়? রোজ রোজ পান্তাভাত আর খেতে ইচ্ছে করে না। পান্তাভাতের সাথে ইলিশ হলে কথা ছিলো। কাঁচামরিচ আর দুই চোক্ষের শত্রু!

৩৪) মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন: জীবনের অর্থ খুজে পেতে চান? গরীবের দু:খের ভাগ নিতে চান? খেয়ে দেখুন তো পান্তা ভাত আর কাঁচামরিচ। সেই সাথে টানা ৭ ঘন্টা খাটনি! বুঝে যাবেন কৃষকের ব্যাথা!

৩৫) কাওসার চৌধুরী: হঠাৎ করে ঠিক শখের বশেই আজকে পান্তাভাত খেলাম। মাকে বলেছিলাম একটা কাঁচামরিচ দিতে। সেকি মজা......... মনে হলো যেন অমৃত খাচ্ছি।

৩৬) আমি সাব্বির: কি আর বলবো বলুন....... পান্তাভাত খেলে কি মাথায় কিছু আসে?

৩৭) অপু দ্যা গ্রেট: আজকে সকালে পান্তাভাতের সাথে কাঁচামরিচের মিশেলে অপূর্ব নাস্তা। প্রতিদিন অফিসে যাবার পথে কত মানুষ দেখি রাস্তায় বসে আছে। কেউবা ফ্লাইওভারের নিচে। কতজনে তো খাবারই জুটাতে পারে না।

৩৮) স্বপ্নবাজ সৌরভ: আজ পান্তাভাত খেয়েছি তো কি হয়েছে, এমন একদিন আসবে আমিও হয়তো বড়লোকের মতো খেতে পারবো। দু'হাত ভরে বিলিয়ে দিতে পারবো।

৩৯) পবিত্র হোসাইন: মনের মধ্যে কোন অতৃপ্তি নেই। আল্লাহ যখন যা জুটায় তাতেই সন্তুষ্ট আমি। আলহামদুলিল্লাহ।

৪০) সম্রাট ইজ বেস্ট: পান্তাভাত থালায় তুলে দিতে দিতে বউটা হাতপাখার বাতাস করছিলো। আমিও আপন মনে গেয়ে উঠলাম, " তোমার হাত পাখার বাতাসে....... প্রাণ জুড়িয়ে আসে........."

৪১) নূর মোহাম্মদ নূরু: আজ সকালের নাস্তায় পান্তা ভাত আর কাঁচা মরিচের বেশি জোটেনি কপালে। কি হয়েছে তাতে? তবুও বেশ আছি। এই শুকরিয়া যে কারো কাছে হাত পাততে হয়নি। বড় বড় মনিষীরা অনেকেই তো খেতেই পেতো না তিন বেলা! আমাদের প্রিয় নবী বা তার পরিবারের কথায় ধরি। কত কষ্ট তারা করেছে? কাজী নজরুল ইসলাম কিংবা মাইকেল মধুসূদন দত্ত! কষ্ট ছিলো না কার জীবনে? দারিদ্রই তাদের মহান করেছে। কষ্টে না থাকলে তারা কি পারতো গরীব-দু:খীদের জন্য শব্দের স্রোত আনতে? তাইতো আনমনে গেয়ে উঠি বিদ্রোহীর কন্ঠে সুর মিলিয়ে.........

"হে দারিদ্র তুমি মোরে করেছ মহান
তুমি মোরে দানিয়াছ খ্রিস্ট্রের সম্মান
কন্টক-মুকুট শোভা।দিয়াছ তাপস,
অসঙ্কোচ প্রকাশের দুরন্ত সাহস;
উদ্ধত উলঙ্গ দৃষ্টি; বাণী ক্ষুরধার
বীণা মোর শাপে তব হল তরবার।
দুঃসহ দাহনে তব, হে দর্পী তাপস
অম্লান স্বর্গেরে মোর করিলে বিরস
অকালে শুকালে মোর রূপরস প্রাণ।........"

৪২) রিম সাবরিনা জাহান সরকার: নিজের হাতে কামাই করে খাই। একমুঠো ভাতের জন্য যে কারো মুুখের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়না এটাই বা কম কিসে? আগেকার দিনে মায়েদের উপর কত নির্যাতন করা হত। ভাতের ভয় দেখিয়ে, ভাতের খোটা দিয়ে গালাগালি করা হত। মায়েদেরকে তখন বাহিরে কাজের জন্য যেতে দেয়া হতো না। কান্তু আজ, অন্তত আমরা মেয়েরা কারো দিকে তাকিয়ে থাকবো না। নিজের হাতের কামাই। পান্তা-মরিচই আমার কাছে পোলাও সম!

৪৩) কাজী ফাতেমা ছবি:

"সকাল বেলা সূর্য্যি মামা আসলো যখন ঘরে
পান্তাভাতের দাওয়াত শুনে খেতে আসলো তেড়ে।
একটা কামড় যখন দিলো ঝাল মরিচের গায়
ঝালেই নাকি ভীষণ কাবু, দৌঁড়িয়ে পালায়!"

৪৪)কাল্পনিক_ভালোবাসা: বছরে একদিন পান্তাভাত নিয়ে বাঙালি সাজার লোকের অভাব নেই। আবার সকালবেলা পান্তাভাত খাওয়া কোন মানুষের উপর নাক ছিটকানো লোকের অভাব হয় না। যে কোন খাবার যে কারোর ভালো লাগতেই পারে কিন্তু তাকে অবহেলা করার সুযোগ নেই। আজ সকালে পান্তাভাত আর কাঁচামরিচের নাস্তা খেয়েই ভার্সিটিতে চলে গিয়েছিলাম। পান্তাভাত খেয়ে ভার্সিটিতে গিয়েছি শুনে অনেকেই হাসলো। এক মেয়ে তো নাক ছিটকে জিজ্ঞেসই করে বসলো, এ্যাই তুমি কি সত্যিই পান্তাভাত খেয়ে ক্লাসে এসেছো? মিষ্টি হেসে তাকে বললাম, আমার দাদা তার জীবদ্দশায় পান্তা খাওয়ার কোটা শেষ করতে পারেনি বলে আমরা এখনো মাঝে মাঝে পান্তা খাই। তোমারা ভাগ্যবান, পান্তা খাওয়ার কোটা তোমাদের দাদাই শেষ করে গেছেন। তোমাদের জন্য কিছু নেই!

কি অদ্ভুত মানুষের আচরন! যারা টিভি বা পত্রিকাতে বিজ্ঞাপন দিয়ে পান্তার আয়োজন করে বাঙালী সাজে তারাই পান্তা খাওয়ার কথা শুনলে না ছিটকায়! এই কি ওদের বাঙালিয়ানা?

৪৫) রাকু হাসান: আমার দু:খের দিন একদিন ঘুঁচবে। আজ হয়তো পান্তাভাতের পানি ছাড়া কপালে কিছু জুটেনি কিন্তু একদিন ঠিকই আমার সন্তানেরা সংসারের অভাব ঘুঁচাবে। সে আশায়ই তো সন্তানদের বড় আদর করে মানুষ করছি। আল্লাহর কাছে দোয়া করি, "আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে!"

৪৬) হাসান কালবৈশাখি: দেশ তীব্র গতিতে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। মানুষ আর ভাতের অভাবে ভিক্ষা করা পান্তা খায় না। ফাইভ স্টার হোটেলের রেস্টুরেন্টে বসে কাঁটা চামচ দিয়ে কাটারি ভোগ চালের পান্তা সুগন্ধি মরিচ সহ খায় আর আইফোন টেনে সেলফি তুলে ফাইভ জি স্পিডে শেয়ার করে। কে দিয়েছে এই পান্তা -আইফোন- ফাইভ জি.......! কে দিবে উত্তর?

৪৭) আখেনাটেন: পান্তাভাতের সাথে মরিচমাখা, আজকে যে একটা নাস্তা হয়ে গেল তা ইতিহাসের পাতায় স্মরণীয় হয়ে থাকবে।পান্তাভাত সম্পর্কে নতুন করে আর কি বলবো? আমি যে পান্তাভাত খাবার ওস্তাদ তা আপনার নিজের চোখেই দেখে নিন!

৪৮) সনেট কবি:

সকালের রবি যবে উঁকি দেয় ঘরে
খোদার রহম সব আমাদের তরে
উপছিয়ে পরে যেন ভাতের থালায়
কারণ থালাতে ছিলো পানতার জল!
ডাকলো আমাকে মোর সখি রাবেয়ায়
সাথে তার ছিলো কিছু মরিচের ফল
ভালোবাসা দেখে সেও লাজে মরে যায়
উপছিয়ে পরে প্রেম পানতা থালায়!

গরীবের ঘরে নেই দামী আসবাব
নেই সেথা গোশতের স্বাদের বাহার
তিনবেলা কারো ঘরে ফাঁকা থাকে হাড়ি!
কোনদিন জোটে যদি পানতার জল
সেখানেই যেন থাকে সুখের প্রভাব
আমাদের সংসার নমুনা তারই!

৪৯) আবু হেনা মো: আশরাফুল ইসলাম:

"মরিচ সের পাঁচ টেয়া ভাই
এক ছটাক লই কিনি
মরিচ পুড়ি পানি ভাত খাইতাম
তওফিকে কুলায় নি "

চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গানটি আজ খুব করে মনে পড়ছে। আমিও যে আজ একটি মহা ঘটনার সাক্ষী হয়ে রইলাম! সকালের নাস্তায় পান্তা-মরিচ যে এতোটা রুচি সম্মত তা আগে জানা ছিলো না। পানি ভাত বা পান্তা ভাত বাঙালির একটি জনপ্রিয় খাবার,বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে রাতের জন্য রান্না করা ভাত বেঁচে গেলে সংরক্ষণের জন্য পানিতে ভিজিয়ে রাখা হতো। পরদিন এই পানিতে রাখা ভাতের নাম হতো পান্তা ভাত। সাধারণত লবণ, কাঁচা মরিচ ও পেঁয়াজ মিশিয়ে পান্তা ভাত খাওয়া হয়। অনেকেই আবার এর সাথে আলুভর্তা,বেগুন ভর্তা,ডাল ভর্তা, শুটকি ভর্তা,সরিষার তেল ইত্যাদি মেখে খেয়ে থাকে। এখানে বাঙালির চিরন্তন অপচয় বিরোধী মনোভাব লক্ষ্য করা যায়, তাছাড়া সমাজে নীচের সারিতে যাদের বসবাস তাদের সংসারে অভাব তো নিত্যসঙ্গী! তাদের অপচয় করার উপায় থাকে না। চর্যাপদেও প্রমাণ পাওয়া যায়,‘হাড়িত ভাত নাহি নিতি আবেশী’।

৫০) ড: এম এ আলী:

আমার আজকে এক অন্য রকম অনুভূতি হচ্ছে। নিজেকে ইতিহাসের অংশ হিসেবে মেলে ধরতে পেড়েছি মনে হয়। বাংলার গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস-এর সাথে আমার নামও একদিন জপবে! কারন আমিও আজ পান্তাভাত দিয়েই নাস্তা সারলাম! সে ইতিহাস না হয় পরেই শুনাই, এই যে পান্তাভাত খেলাম তার পুষ্টিগুণই বা কম কিসে? এই ভাত পুরোটাই শর্করা, তাই তাতে পানি দিয়ে রাখলে বিভিন্ন গাজনকারি ব্যাক্টেরিয়া বা ঈস্ট শর্করা ভেঙ্গে ইথানল ও ল্যাকটিক এসিড তৈরি করে। এই ইথানলই পান্তাভাতের ভিন্ন রকম স্বাদের জন্য দায়ী। পান্তা ভাত মূলত ভাত সংরক্ষণের একটি পদ্ধতি,ভাত পানি দিয়ে রাখলে গাজনকারি ব্যাক্টেরিয়া সেখানে ল্যাকটিক এসিড তৈরি করে যার ফলে পান্তা ভাতের অম্লত্ব বেড়ে যায়। তখন পচনকারি ও অনান্য ক্ষতিকারক ব্যাক্টেরিয়া,ছত্রাক ভাত নষ্ট করতে পারে না।

এই পান্তাভাতের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলার গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস এর নাম। ঘটনাটা এরকম-

সে ১৭৫৬ সালের কথা।

সিরাজউদ্দৌলা কলকাতা আক্রমণ করলেন। কলকাতা আক্রমণের আগে তিনি কাশিমবাজার দখল করে নিয়েছিলেন মাঝপথেই। বন্দী ইংরেজ সাহেবদের নিয়ে যাওয়া হল মুর্শিদাবাদ জেলখানায়। সেই সাহেবদের মধ্যে বাংলার গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংসও ছিলেন। সেসময়ে কাশিমবাজারের ওলন্দাজ কুঠির দায়িত্বে ছিলেন ভিনেট। তিনি হেস্টিংসকে ছেড়ে দিতে নবাবের কাছে অনুরোধ করেন। কোম্পানির সামান্য একজন কর্মচারী বিধায় নবাব হেস্টিংসকে ছেড়ে দিলেন। হেস্টিংস তখন সোজা চলে এলেন কাশিমবাজারে। ওদিকে নবাব সিরাজের আক্রমণের ভয়ে কলকাতা কুঠির সবাই গা ঢাকা দিয়েছিল ফলতায়। হেস্টিংস কাশিমবাজারে থেকে নবাবী শাসনের গোপন খবর সংগ্রহ করে পাঠাতে লাগলেন ফলতায়। তার গোপনে খবর পাঠানোর সংবাদ জেনে সিরাজ সিদ্ধান্ত নিলেন হেস্টিংসকে আবার জেলে পুরবেন। এই খবর জানতে পেরে হেস্টিংস কাশিমবাজার ছেড়ে পালানোর সিদ্ধান্ত নিলেন কিন্তু পালিয়ে কোথায় যাবেন ! ভাবতে ভাবতে তার মনেপড়ে গেল কান্তবাবুর নাম। তিনি পালিয়ে হাজির হলেন কান্তবাবুর কাছে।

কান্তবাবুর ভালো নাম কৃষ্ণকান্ত নন্দী। বাবা রাধাকৃষ্ণ নন্দী। তাদের আদি বাড়ি ছিল বর্ধমানের সিজনা গ্রামে, সেখান থেকে কান্তবাবুরা চলে এসেছিলেন কাশিমবাজারে। কেননা দেশজুড়ে তখন কাশিমবাজারের দারুণ নামডাক। ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র হলো কাশিমবাজার। কাশিমবাজারে কান্তবাবুর সুপারি ও রেশমের ব্যবসা ছিল। দোকানটা আবার ইংরেজদের কুঠি আর রেসিডেন্টের সঙ্গে একেবারে লাগোয়া। এরফলে অচিরেই ইংরেজদের সঙ্গে বেশ একটা মাখামাখি হয়ে গেল কান্তবাবুর। একারণে তিনি নাকি প্রায় দু’হাজারের মতো ইংরেজি শব্দ শিখে ফেলেছিলেন। তার ব্যবসাপত্রের জ্ঞান আর ইংরেজি জানার কারণে কোম্পানিতে মুহুরির চাকুরীটা জুটে গেল। সেটা ছিল ১৭৫৩ সালের কথা, একইসময়ে সামান্য একটা চাকরি নিয়ে তখন হেস্টিংস সাহেবও কাশিমবাজারে এসে হাজির। সেই থেকে কান্তবাবুর সঙ্গে হেস্টিংসের চেনাজানা। যাহোক, কান্তবাবু সেদিন হেস্টিংসকে দেখে তো হতবাক হয়ে গেলেন। তিনি হেস্টিংসকে প্রথম কয়েকদিন লুকিয়ে রাখলেন তাদের মুদি দোকানে। তারপর গোপনে হেস্টিংসকে নিয়ে গিয়েছিলেন তার বাড়িতে। দোকানে হাতের কাছে তেমন কিছু না পেয়ে কান্তবাবু হেস্টিংসকে সেদিন আপ্যায়ন করেছিলেন পান্তাভাত আর চিংড়ি মাছ দিয়ে। ইতিমধ্যে হেস্টিংসের পালিয়ে যাবার খবরটা চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল।

সেই থেকে মানুষের মুখে মুখে জন্ম নিল এ ছড়া-

হেস্টিংস সিরাজভয়ে হয়ে মহাভীত
কাশিমবাজারে গিয়া হন উপনীত।
কোন স্থানে গিয়া আজ লইব আশ্রয়
হেস্টিংসের মনে এই নিদারুণ ভয়।
কান্তমুদি ছিল তার পূর্ব পরিচিত
তাহারি দোকানে গিয়া হন উপনীত।
মুস্কিলে পড়িয়া কান্ত করে হায় হায়
হেস্টিংসে কি খেতে দিয়া প্রাণ রাখা যায়?
ঘরে ছিল পান্তাভাত আর চিংড়ি মাছ
কাঁচা লঙ্কা, বড়ি পোড়া, কাছে কলাগাছ।
সূর্যোদয় হল আজি পশ্চিম গগনে
হেস্টিংস ডিনার খান কান্তের ভবনে।

হেস্টিংস যেদিন সামান্য কর্মচারী থেকে গভর্নর জেনারেল হলেন, সেদিন তিনি কিন্তু ভোলেননি তার দুঃসময়ের উপকারী বন্ধু কান্তবাবুর কথা। তিনি কান্তবাবুকে তার অনুচর করে কাছে নিয়ে যান।

৫১) গড়ল: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পান্তা খেতে পছন্দ করতেন, বিশেষ করে তার নতুন বউঠান কাদম্বরী দেবীর হাতের পান্তাভাত ও সঙ্গে চিংড়ি মাছের চচ্চড়ি। এ জন্যই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার জীবনস্মৃতি গ্রন্থে লিখেছেন-‘ইসকুল থেকে ফিরে এলেই রবির জন্য থাকে নতুন বউঠানের আপন হাতের প্রসাদ। আর যেদিন চিংড়ি মাছের চচ্চড়ির সঙ্গে নতুন বউঠান নিজে মেখে দেয় পান্তাভাত, অল্প একটু লঙ্কার আভাস দিয়ে সেদিন আর কথা থাকে না।’ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কিংবা আমাদের পল্লীকবি জসীমউদ্দীনকে ছাত্রাবস্থায় পান্তা খেতে হয়েছে অভাব-অনটনের কারণে। কবি জসীমউদ্দীন ফরিদপুর থেকে পালিয়ে কলকাতায় যেয়ে উঠেছিলেন এক দূরসম্পর্কের বোনের ওখানে, কিন্তু বোনটি নিজেই এত অভাব-অনটনের মধ্যে ছিলেন যে, কবিকে তিনি দু’বেলা ভালো করে খাওয়াতে পর্যন্ত পারতেন না। তাই প্রায়ই কবির ভাগ্যে জুটত শুধু পান্তাভাত আর কাঁচা মরিচ।

যাহোক এতো গেল ইতিহাসের কথা, এবার বলি অন্য এক ইতিহাস। শুরুতে রমনার বট মূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের সঙ্গে পান্তা-ইলিশের কোন সম্পর্ক ছিলনা। এমনকি ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের প্রাঙ্গণে ১৯৮৩ সালের দিকে পান্তা-ইলিশের সূচনা ঘটলেও এরসঙ্গে ছায়ানটের কোন সম্পর্ক নেই। সে সময়ে দৈনিক জনকন্ঠের সাংবাদিক বোরহান আহমেদ এর উদ্যোক্তা ছিলেন বলে জানা যায়। বোরহান আহমেদ রমনা বটমূলে পান্তা-ইলিশ চালুর প্রস্তাব দেন। এরপরে তার কয়েকজন সহযোগী মিলে ৫ টাকা করে চাদা তুলে পান্তা-ইলিশ আয়োজনের ব্যবস্থা করেন। তারা রাতে ভাত রেঁধে পান্তা তৈরি করে, কাঁচামরিচ-শুকনো মরিচ, পেঁয়াজ, ইলিশ ভাঁজা নিয়ে পরদিন ভোরে হাজির হলেন বটমূলের রমনা রেষ্টুরেন্টের সামনে। মুহুর্তের মধ্যে শেষ হলো পান্তা-ইলিশ। এভাবে নগর সভ্যতায় শুরু হলো পান্তা-ইলিশের যাত্রা।

গোলাম মুরশিদ-এর "হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতি" বই পড়তে পড়তে মুখের জল আর বাঁধ মানছিলো না! পান্তাভাত খাওয়ার লোভ সামলাতে না পেরে গরমভাতেই পানি ঢেলে দিলাম! রান্নাঘর থেকে কাঁচামরিচ আর আস্ত এক পেঁয়াজ সমেত খাওয়া শুরু করলাম! কিন্তু মজা লাগছেনা কেন! পরে চিন্তা করলাম আমি তো লবনই নেইনি........!

৫২) লক্ষণ ভান্ডারী: আজ সকালে একটি মহাঅন্ন আহার করলাম! মহাঅন্ন বলছি এই জন্য যে তার সাথে মা দুর্গার নাম জড়িত! যে মহাঅন্নর কথা বলছিলাম তা হলো পান্তাভাত! হ্যাঁ, আপনারা ঠিকই শুনছেন। পান্তাভাত খেয়েই আজকের দিন শুরু করলাম। বরিশালে এ ভাতকে বলে ‘পসুতি’ ভাত। পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলায় গরম ভাতে জল ঢেলে রাখলে তাকে বলা হয় ‘পোষ্টাই’ ভাত। এ ভাত খেলে নাকি পেট ঠাণ্ডা হয়। দুর্গাপূজার দশমীর দিন সকালে দেবী দুর্গাকে পান্তাভাত আর কচুর শাক নিবেদন করে বাঙালি হিন্দুরা তাদের প্রিয় দেবীকে বিদায় জানায়। গ্রামের পাঠশালায় গমনকারী ছাত্র বা কৃষিজীবী মানুষের পান্তা খেয়ে কাজ শুরু করার প্রথা কিছুদিন আগে পর্যন্ত ছিল, একটি শিশু ছড়া আছে এমন-

"পান্তা খেয়ে শান্ত হয়ে কাপড় দিয়ে গায়
গরু চড়াতে পাঁচন হাতে রাখাল ছেলে যায়।"

৫৩) নজসু: বউটা বাড়িতে আনার পর থেকে কেঁদেই চলছে......। কিছুতেই থামছে না। ছোট একটা মেয়েকে বিয়ে করে পরেছি বিপদে। এখন বায়না ধরেছে বাপের বাড়ি রেখে আসতে হবে। রাতেও ভাত খায়নি রাগ করে। ওকে তো আমি বিয়ের সময় জিজ্ঞেস করেছিলাম আমাকে পছন্দ করে কিনা। ও তো আমাকে হ্যাঁ বলেছিলো। এখন আবার কান্না করার কি এমন ঘটলো? বউটা খায়নি বলে আমিও ভাত না খেয়েই ঘুমিয়ে পড়ি। সকাল বেলাও দেখি বউয়ের মন খারাপ! ভাত রাঁধবে না। বললাম ভাতগুলো নষ্ট হয়ে গেছে, ফেলে দাও। সে ফেলেও দিলো না। মাটির হড়িতে পান্তা ভাত আর কাঁচামরিচ দেখে আমি অবাক! একি! আমার বাপের জন্মেও আমি কোনদিন পান্তা ভাত খায়নি। আমি খেতে পারবো না.......। আমার কথায় বউ কিছুটা শাষনের স্বরেই বললো, খান বলছি..... আমি এতগুলো ভাত ফেলে দিতে পারবো না। আমার পরিবার অপচয় করা শিখায় নি। বউয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে তাই বাধ্য ছেলের মতো পান্তা ভাত মুখে তুলে দিলাম। সত্যি বলছি.... এমন স্বাদের নাস্তা আমি কোনদিন খাইনি। বউয়ের কল্যানেই এমন নাস্তার ব্যবস্থা হলো। আমার বউটা সত্যিই অনেক লক্ষ্মী... আমাদের বন্ধন যেন থাকে আজীবন।

৫৪) ঠাকুর মাহমুদ: মসজিদের মোল্লারাও আজকাল পান্তাভাত খায় না। আমার কপালে জুটে পান্তাভাত। অনার্স পাশ করে ঘরে বসে আছি। বাবার ঘাড়ে বসে বসে খাচ্ছি। কিছু বলতেও পারছি না। এর চেয়ে একটা কারিগরি শিক্ষা নিলেও হাতের কাজ করে খেতে পারতাম। আমার এই সার্টিফিকেটই যেন এখন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। না পারছি দিন মজুর খাটতে, না পারছি পান্তাভাত খেতে। আজ আমার এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী কে? পরিক্ষাতো কম দিলাম না! তবুও চাকরি মিলে না। কোটার কাছে আজ মেধা অসহায়। কে নেবে এই সার্টিফিকেটের দায়িত্ব। এগুলো আজ আমার কাছে বোঝা.........

৫৫) স্রাঞ্জি সে: মাঠ ভর্তি ফসলের ক্ষেতে কাকতাড়ুয়া হলেও মনে হয় ভালো হতো! খেতে হতো না। নিত্যদিন এইসব পান্তা খেতে খেতে মুখের স্বাদই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতগুলো ভাই-বোনের সংসারে বাবা কি করেই বা অন্ন তুলে দিবে? তবুওতো আমাদেরকে উপোস রাখছেন না বাবা-মা। কি করে যে দিন চলবে, চিন্তায়ই আসে না।

সহজ স্বীকারোক্তি: সম্পূর্ণ পোস্টটি নিছক আনন্দের ছলে লেখা। কেউ সিরিয়াসলি নিবেন না। কারো নাম বাদ পরে থাকলে আপনার অনুভূতিও শেয়ার করতে পারেন। যাদেরটা লেখা হয়েছে পছন্দ না হলে আপনার নিজস্ব মতও মন্তব্যে জানাতে পারেন। ছবি নেয়া হয়েছে গুগল থেকে।

মন্তব্য ১০১ টি রেটিং +২৭/-০

মন্তব্য (১০১) মন্তব্য লিখুন

১| ৩১ শে মার্চ, ২০১৯ রাত ৯:৩৬

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন: অসাধারণ! আপনার লেখায় য‌থেষ্ট মু‌ন্সিয়ানা আ‌ছে। সাম‌নের দি‌নে আপনার লেখার মান বৃ‌দ্ধি পা‌বে প্রত্যাশা ক‌রি।

৩১ শে মার্চ, ২০১৯ রাত ৯:৩৮

হাবিব স্যার বলেছেন: সাজ্জাদ ভাই, মুন্সিয়ানা মানে কি? লেখার প্রশংসা আর প্রথম মন্তব্যের জন্য বড় করে শুভেচ্ছা.........

২| ৩১ শে মার্চ, ২০১৯ রাত ৯:৩৭

জুন বলেছেন: ব্লগার রাজীব নুরেরটা একেবারে পারফেক্ট =p~

৩১ শে মার্চ, ২০১৯ রাত ৯:৩৮

হাবিব স্যার বলেছেন: হা হা হা........ আপনার টা?

৩| ৩১ শে মার্চ, ২০১৯ রাত ৯:৩৯

ঢাবিয়ান বলেছেন: পোস্ট মজার হয়েছে। তবে পান্তাভাত জিনিষটা আমি একেবারেই খেতে পারি না। আমার পছন্দ ভাত, ডাল, ভর্তা ।

৩১ শে মার্চ, ২০১৯ রাত ৯:৪২

হাবিব স্যার বলেছেন: মজা করেই লেখার চেষ্টা করেছি। যাক, আপনার পছন্দের সাথে আমার স্ট্যাচাসের মিল আছে। এই ফাকে আপনার পছন্দের মেন্যু জেনে গেলাম। দাওয়াত করে খাওয়াবো একদিন

৪| ৩১ শে মার্চ, ২০১৯ রাত ৯:৫১

রাজীব নুর বলেছেন: চরম পোষ্ট দিয়েছেন ভাইসাহেব।
জটিল।

০১ লা এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ৭:০৪

হাবিব স্যার বলেছেন: হা হা হা...... অন্তত আপনার সম্পর্কে লিখতে আমাকে মোটেই বেগ পেতে হয়নি

৫| ৩১ শে মার্চ, ২০১৯ রাত ১০:০০

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:
এখনো দেশের কয়েক কোটি মানুষ পান্তা ভাত দিয়ে সকালের নাস্তা সারে। তবে সেটা আমাদের পহেলা বৈশাখের মতো ফরমায়েসী পান্তা নহে। আগের রাতে কোন রকমে বেঁচে যাওয়া ভাতে তারা পানি দিয়ে রেখে দেয়। সকালে সেটাই আরাম করে খায়।
গাও গেরামের মানুষ আমি। গরীবের খাবার দাবার আমি খুব কাছ থেকে দেখি। অনুভব করি।

০১ লা এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ৭:০৮

হাবিব স্যার বলেছেন: সাজ্জাদ ভাই, আমিও গ্রামের মানুষ। তাদের সুখ-দু:খ কাছ থেকে দেখেছি, দেখি। খেটে খাওয়া মানুষেরাই আজ অবহেলিত। গ্রামের কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত। মাঝখান থেকে লাভ করে পাইকাররা।

৬| ৩১ শে মার্চ, ২০১৯ রাত ১০:০৫

নতুন নকিব বলেছেন:



এই পড়ন্ত বেলায় এসে শেষপর্যন্ত পান্তা খাইয়ে ছাড়লেন চাঁদগাজী ভাইকেও!

সুন্দর রম্য পোস্টে +++

০১ লা এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ৭:০৯

হাবিব স্যার বলেছেন: পান্তা খেয়েও চাঁদগাজীদা কিন্তু মোটেই বেজাড় নন। আপনি খুশি তো?

৭| ৩১ শে মার্চ, ২০১৯ রাত ১০:১৬

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: প্রিয় হাবিব ভাই,

খুব ভালো একটি কাজ করেছেন। সামুর ক্রান্তিকালে আমরা যখন সকলে অত্যন্ত বিষাদে ডুবে আছি, তখন রম্য কারে পোস্টটি যে আমাদেরকে একটু প্রফুল্ল চিত্ত এনে দেবে সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত। পান্তা ভাত আমি এখনো খাই মাঝে মাঝে। সামনে গরম কল আসছে। গরমকালে সকালে পান্তা ভাতের ব্যবস্থা রাখি মাঝেমাঝে। আপনাকেও পান্তা ভাতের দাওয়াত থাকলো। অন্যদের ক্ষেত্রে বলতে পারব না। তবে আমার ক্ষেত্রে আপনি যেটা লিখলেন একেবারে 100 পার্সেন্ট আপনি আপনার মনের কথা লিখেছেন। অশেষ ধন্যবাদ আপনাকে।

শুভকামনা ও ভালোবাসা প্রিয় হাবিব ভাইয়ের গোটা পরিবারবর্গকে।

০১ লা এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ৭:১৪

হাবিব স্যার বলেছেন: পদাতিক ভাইয়া, আসলেই মনে হলো আমরা ঝিমিয়ে পড়েছি। সবাইকে একটু আনন্দ দিতেই এই পান্তাভাতের আয়োজন। যা হোক, আপনাদের মন্তব্য পেয়ে বুঝতে পারলাম পান্তাভাতের সাথে ইলিশ না হলেও বেশ স্বাদ পেয়েছেন। আপনার ব্যাপারে যা বলেছি তা এতোদিন আপনাকে স্টাডি করে যে ধারনা হয়েছিল তার উপরেই লেখা। তবে রম্যের ছলে বাস্তবতাকে আমি মোটেই ভুলে যাইনি।

পান্তাভাতের দাওয়াত সানন্দে গ্রহন করলাম। পরিবার সমেত কিন্তু যাবো।
প্রিয় পদাতিক দাদার জন্যও শুভকামনা ও ভালোবাসা। ভালো থাকুন পরিবার আর স্বজনদের সাথে।

৮| ৩১ শে মার্চ, ২০১৯ রাত ১০:২০

নীলপরি বলেছেন: অসাধারণ যাকে বলে । এতো সুন্দর ভেবেছেন আর লিখেছেন যে কিভাবে তারিফ করবো ভেবে পাচ্ছি না!
++++++

শুভকামনা

০১ লা এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ৭:১৭

হাবিব স্যার বলেছেন: পরি আপু, আপনি তো আমার লেখার প্রশংসায় একেবারে পঞ্চমুখ। মনে হয় পান্তাভাতের স্বাদ ভালোই হয়েছে। আমি কিন্তু বেশ উপভোগ করছি।

৯| ৩১ শে মার্চ, ২০১৯ রাত ১০:২৩

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: হা হা হা

দারুন রসবোধ ভায়া ;)

জীবনের গভির টানাপোড়েন
খুলে গেলে দৃষ্টি - পান্তার থালায়
মহিমাময় হয় বেঁচে থাকা -এইবা কম কিসে?

রম্যের ফাঁকে ফাঁকে জীবনের নিরেট কঠিন কিছু সত্য, কিছূ সতর্কতা, কিছু অন্যায়, কিছু সচেতনতা
সব মিলেমিলে দারুন পান্তা ককটেল :)

+++++++++++

০১ লা এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ৭:১৯

হাবিব স্যার বলেছেন: ভাইয়া, আসলে সামুর এমন অবস্থায় সকলের মনে রসবোধের জন্ম দিতেই এই পান্তা-মরিচের আয়োজন। তবে রম্যের মাঝে যে নিরেট বাস্তবতা তা যে আপনার মত বিচক্ষণের চোখ এড়াবেনা তা আমি জানতাম। আমার ধারনা, আপনার সম্পর্কে যা লিখেছি তা মোটেই বেশি লিখিনি। এত্তোগুলো প্লাসে অনেক আনন্দ পেলুম

১০| ৩১ শে মার্চ, ২০১৯ রাত ১০:২৮

আহমেদ জী এস বলেছেন: হাবিব স্যার,



হুমমমমমম সামনেই আসছে পান্তাভাত কালচার! তবে কাঁচা মরিচ নয় পদমার ইলিশশশশশশশশশশশশ সহ :P

তবে আমার প্রসঙ্গে একদম বেঠিক কিছু বলেননি। যা-ই খাইনে কেন, খেতে খেতেই মাথাটি খুলতে থাকে বেশ। মানুষ কে মানুষ মনে করেনা যারা তাদের কি কি ভাবে শাস্তি দেয়া যায়, এই রকম থিসিস ঘুরতে থাকে মাথায়। :||

আজকে এই রাত্রে যে পোস্টটি দিয়েছি তাও কিন্তু মাথায় এসেছিলে গতকাল রাতে খেতে বসে।


মজা পেয়েছি বেশ । B-)

০১ লা এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ৭:২২

হাবিব স্যার বলেছেন: আর কারো বেলায় খেতে বসে থিসিস কথাটি কেন যেন মাথায় আসলো না, শুধু আপনার সম্পর্কেই এলো। আর এটাই মিলে গেলো আপনার সাথে। বাস্তবতার নিরিখে লেখা পোস্টে আপনার এমন প্রশংসা আর মজা পেয়েছেন শুনে আনন্দ পেলাম খুব

১১| ৩১ শে মার্চ, ২০১৯ রাত ১০:৫৮

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: কোনো প্রশংসাই উত্তম প্রতিদান হবে না এ লেখার। আমি বিমোহিত। অল্প দু-একজন ছাড়া সবার লেখার সাথেই আমি বেশ পরিচিত। তাঁদের লেখার স্টাইলটাও বেশ ভালোভাবেই ফুটিয়ে তুলেছেন। উপভোগ্য।

আজ ৩১ মার্চ ২০৯১, বাংলার বিখ্যাত পান্তাবিলাসী, অমর মরিচশিল্পী, পেঁয়াজপ্রিয় নুর মোহাম্মদ নুরুর ১২৩ তম জন্মদিন। এই মহিমান্বিত দিনে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাই।

০১ লা এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ৭:২৬

হাবিব স্যার বলেছেন:



আর যা বলেছেন খলিল ভাই, এতো প্রশংসায় যে আমি ভেসে যাচ্ছি। অনেকের সাথে ব্লগে থেকে থেকে কিছুটা ধারনা হয়েছে। সেখান থেকেই লেখার সূত্রপাত। আশাকরি আপনার সম্পর্কেও ভুল কিছু বলিনি।

আমাদের ব্লগার নূর মোহাম্মদ নুরু ভায়ের কথা বলছেন? আপনি তো ২০১৯ কে ২০৯১ করে ফেলেছেন........হা হা হা

১২| ৩১ শে মার্চ, ২০১৯ রাত ১১:২১

নীল আকাশ বলেছেন: এই লেখা নিয়ে কিছু বলার সাহস নেই আমার।
আমাকে যা ইচ্ছে বলেন তবে করুণাধারা, শায়মা আর সোহানী আপু, বিশেষ করে সোহানী আপুরটা পড়ে আমি কাঁত।
আমি সোহানী আপু মন্তব্য পড়াতে আবার আসব

০১ লা এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ৭:৩০

হাবিব স্যার বলেছেন:



চমৎকার করে অল্প কথায় লেখার যে প্রশংসা করে গেলেন তাতেই মন ভরে গেলো।
দেখি শায়মা আপু, সোহানী আপু, করুনাধারা আপু কি বলেন।

আমিও তাদের মন্তব্যের অপেক্ষায়!

১৩| ০১ লা এপ্রিল, ২০১৯ রাত ১:০৩

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



হাবিব ভাই; লম্বা এই তালিকায় এই বান্দাকেও রেখেছেন দেখে খুব খুশি হলাম। জীবনে কখনো পান্থা ভাত খাইনি। যানি না এর স্বাদ কেমন? একদিন ঠিকই টেস্ট করে দেখবো।

০১ লা এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ৭:৩২

হাবিব স্যার বলেছেন: কাওসার ভাই, কি যে বলেন! আপনার নাম ভুললে চলবে কেমনে? আপনি যে আমার মতো অনেকের কাছেই প্রিয় একজন মানুষ। পান্তাভাত খাওয়া শেষে অনুভূতি জানাতে ভুলবেন না কিন্তু।

১৪| ০১ লা এপ্রিল, ২০১৯ রাত ১:০৬

রিম সাবরিনা জাহান সরকার বলেছেন: দারুন রসালো লাগলো। মনে হল যেন মোহন চাঁদের দুইটা কালো জাম খেয়ে ফেললাম। তিন নম্বরটা খেতে পারলে আরো ভাল হত। এরকম ইন্টারঅ্যাাক্টিভ লেখা ব্লগারদের আলসেমির ধূলোয় ফুঁ-এর কাজ করে। চলুক, চলুক। বেশ, বেশ!

০১ লা এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ৭:৩৫

হাবিব স্যার বলেছেন: মোহন চাঁদের কালোজামের চাইতে রাজীব ভায়ের পান্তা ভাতের স্বাদ কি কম? মোটেই না! একটু ফুঁ দিতেই এই আয়োজন। দূর হোক আলসেমী। আপনার সম্পর্কে যা লিখেছি তাতে একটু চোখ বুলিয়ে আসার অনুরোধ রইলো।

১৫| ০১ লা এপ্রিল, ২০১৯ ভোর ৫:৫৮

বলেছেন: হা হা -- অমৃত রম্য আর কাকে বলে -- একশ তে পুরাই এক শো


০১ লা এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ৭:৩৮

হাবিব স্যার বলেছেন: লতিফ ভাই, এসেছেন তাহলে? তা সকাল বেলা কি খেলেন? পান্তাভাত খেয়েছেন কি কোনদিন? লেখার এমন মার্কসসহ চমৎকার প্রশংসায় বিমোহিত আমি। মজা পেয়েছেন দেখে আমিও আনন্দ পেলাম।

১৬| ০১ লা এপ্রিল, ২০১৯ ভোর ৬:৪০

চাঁদগাজী বলেছেন:


আপনার ব্লগিং'এর ৬ মাস সময়ের মাঝে, অনেক সহ-ব্লগার সম্পর্কে আপনার বেশ পরিস্কার ধারণা গড়ে উঠেছে।

০১ লা এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ৭:০৩

হাবিব স্যার বলেছেন:




যতটুকু ধারনা হয়েছে সে আলোকেই পরিবেশ পরিস্থিতির আলোকে লেখার চেষ্টা করেছি।
এখন সহব্লগারবৃন্ধ মন্তব্যে আসলেই বাকিটা বুঝা সম্ভব হবে।

"নূর মোহাম্মদ নুরু" আর "রিম সাবরিনা জাহান সরকার" সম্পর্কে নতুন করে কিছু তথ্য যুক্ত করা হয়েছে।
চাইলে দেখে আসতে পারেন।

১৭| ০১ লা এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ৭:৫৯

নতুন নকিব বলেছেন:



ব্লগার কা_ভা ভাই কি পান্তা খান না? পান্তা খাইয়েদের সারিতে তাকে দেখছি না যে!

০১ লা এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ৯:৪৭

হাবিব স্যার বলেছেন: নকিব ভাই, কা_ভা ভাইয়ের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ। কা_ভা ভাইও পান্তা খান। দেখুন ৪৪ নম্বরে।

১৮| ০১ লা এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ৯:৫৬

জাহিদ অনিক বলেছেন:
দুর্দান্ত ! দুর্দান্ত !
ব্লগারদের উপর আপনার দারুণ দক্ষতা। বেশ কয়েকজনেরটা পড়েই ব্যপক মজা পাচ্ছিলাম। এরকম পোষ্ট ব্লগে আসা মানে ব্লগ মেতে থাকা।-- আপনাকে ধন্যবাদ এমন পোষ্টের জন্য।
নিজের হয়ে অন্যকে ভেবেছেন, খুবই সুন্দর হয়েছে।

পরিশেষে, খোদা কাচা মরিচে ঝাল আরেকটু বাড়িয়ে দিও।

০১ লা এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ১০:০২

হাবিব স্যার বলেছেন: জাহিদ ভাই, এলেন অবশেষে........ লেখার পঞ্চমুখ প্রশংসায় ভাসিয়ে দিয়ে গেলেন! কিন্তু শেষমেশ ঝাল বাড়িয়ে দেয়ার প্রার্থনা করলেন কেন??

১৯| ০১ লা এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ১০:১৪

জাহিদ অনিক বলেছেন: কিন্তু শেষমেশ ঝাল বাড়িয়ে দেয়ার প্রার্থনা করলেন কেন?? সেইটা তো বলাযাইব না ! ;) :-P

০১ লা এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৪:০৮

হাবিব স্যার বলেছেন: হা হা হা...... আচ্ছা বলতে হবে না। আরেকবার পোস্টে চোখ বুলাবেন আশা করি। আপডেট করা হয়েছে। ৪৬-৫২........

২০| ০১ লা এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ১০:৩৮

পবিত্র হোসাইন বলেছেন: অসাধারণ পোস্ট। স্যার, আসলেই অনেক দিন পান্তা খাই না।
নাহ! এইবার একটা ইলিশ মাছ কিনতে হবে। :#)

০১ লা এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৪:১০

হাবিব স্যার বলেছেন: আচ্ছা ভাইয়া, খেয়ে নিন তাহলে...... তারপর না হয় আপনার অনুভূতি শুনবো। পোস্টের প্রশংসায় অনেক অনেক ধন্যবাদ। ৪৬-৫২ আপডেট করা হয়েছে। দেখে নিয়েন সময় করে।

২১| ০১ লা এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ১০:৪৬

ভুয়া মফিজ বলেছেন: দারুন....ওয়াও.....অসাধারন!!

একটা সাধারন বিষয়কে কোথায় নিয়ে গেলেন! আসলেই একটা মজার পোষ্ট। কারো কারোটা তো এতো নিখুত হয়েছে যে মনে হলো আপনি না, সেই ব্লগারই নিজের কথা বলছে। নাহ্, আমাকে বলতেই হচ্ছে, কবিতা বাদ দিয়ে আপনি বরং গদ্যের দিকে একটু নজর দিন। ;)

ইয়ে.........আফ্রোদিতের ইয়ে'কে দেখছি না যে? উনি কি পান্তাভাত একেবারেই ডিজলাইক করেন? :P

০১ লা এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৪:১২

হাবিব স্যার বলেছেন: চমৎকার করে বলেছেন। এক্কেবারে হৃদয়ে লাগলো যেন প্রশংসাটা। আর গদ্যের ব্যাপারে আপনার মূল্যায়ন আমাকে লেখতে উৎসাহ দিবে সব সময়। পোস্ট আপডেটেড.......৪৬-৫২

২২| ০১ লা এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ১১:৫১

মোঃ মাইদুল সরকার বলেছেন:
দারুণ।

এক কথায় ব্লগীয় পহেলা বৈশাখ হয়ে গেল যেন।

+++++++++

০১ লা এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৪:১৩

হাবিব স্যার বলেছেন: পোস্টের প্রশংসার জন্য অন্তার থেকে ধন্যবাদ ভাইয়া। ৪৬-৫২ চোখ বুলাইয়েন সময় করে

২৩| ০১ লা এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ১১:৫৭

ভুয়া মফিজ বলেছেন: স্যরি, বিগ মিসটেক। 'আফ্রোদিতের ইয়ে' হবে না। হবে, 'নেফারতিতির ইয়ে'! B-)

এই অনাকাংখিত ভূলের জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত। :(

০১ লা এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৪:১৩

হাবিব স্যার বলেছেন: সমস্যা নাই ভাইয়া, ঠিক করে নিবো।

২৪| ০১ লা এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ১১:৫৮

গড়ল বলেছেন: চমৎকার, মজা পেলাম, খুবই ভালো হয়েছে।

০১ লা এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৪:১৫

হাবিব স্যার বলেছেন: আপনার সম্পর্কে আমার স্টাডি খুবই কম, নেই বললেই চলে। তবুও কিছু লিখেছি। ভুল হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন আশা করি। পোস্টের প্রশংসার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ

২৫| ০১ লা এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ১২:০৫

তারেক_মাহমুদ বলেছেন: হা হা হা দারুণ ব্লগারদের নিয়ে দারুণ পর্যবেক্ষণ, অনেক দেরিতে পোস্টটি দেখলাম। খুবই মজা পেলাম।

০১ লা এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৪:১৭

হাবিব স্যার বলেছেন: দেরিতে হলেও মন্তব্য করে গেলেন। ধন্যবাদ জানবেন। ৪৬-৫২ আপডেটেড, সময় করে পড়ে নিবেন আশা করি। পোস্টের প্রশংসার জন্য অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া

২৬| ০১ লা এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ১২:৩৫

মা.হাসান বলেছেন: কাল রাতে যখন দেখেছিলাম কমেন্ট করার ব্যক্তিগত অসুবিধা ছিল।

পোস্টটি অনেক সমৃদ্ধ হয়েছে। আরো হতে থাক।
আমার ব্যাপারে যা লিখেছেন আমি আসলে এত সুন্দর লিখতে পারি না।

নকিব ভাই, রাজীব নূর, কলাবাগান, কাল্পনিক ভালোবাসা , জাহিদ অনিক, ল ভাই সহ অনেকেরটাই বাস্তবের চেয়ে ভালো হয়েছে।

সনেট কবির স্মরণে ক'লাইন লিখবেন প্লিজ।

আমার প্রিয় ব্লগার ব্লগের 'আন্দালিব' হাসান কালবৈশাখি ভাইয়ের অনুভুতিঃ দেশ তীব্র গতিতে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। মানুষ আর ভাতের অভাবে ভিক্ষা করা পান্তা খায় না। ফাইভ স্টার হোটেলের রেস্টুরেন্টে বসে কাঁটা চামচ দিয়ে কাটারি ভোগ চালের পান্তা সুগন্ধি মরিচ সহ খায় আর আইফোন টেনে সেলফি তুলে ফাইভ জি স্পিডে শেয়ার করে। কে দিয়েছে এই পান্তা -আইফোন- ফাইভ জি...

ব্লগারদের কাছে আনতে পারে এমন একটি পোস্টকে স্টিকি করা যায় কি না তা বিবেচনা করার জন্য অ্যাডমিনদের অনুরোধ করছি।

০১ লা এপ্রিল, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:১২

হাবিব স্যার বলেছেন: আলহামদুলিল্লাহ, বেশ আন্তরিক মন্তব্য করে গেলেন। মন ছুঁয়ে গেলো। সনেট কবি আর কালবৈশাখী ভাইয়ের জন্য কিছু লাইন লিখে দিলাম। সময় করে বলবেন কেমন হলো। সামুর এমন ক্রান্তিকালে সকল ব্লগারদেরকে কাছে আনাই আমার পোস্টের উদ্দেশ্য ছিলো। যদিও সবার দেখা পাইনি, তবুও বলবো আমার পোস্ট স্বার্থক। কারণ অল্প পরিসরে হলেও আপনার/আপনাদের আনন্দের খোরাক জোগাতে পেরেছি।

২৭| ০১ লা এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ১:২৫

আরোগ্য বলেছেন: রাতে কমেন্ট লিখতে লিখতে আবারও ইলেকট্রিসিটি চলে যায়। নিঃসন্দেহে চমৎকার পোস্ট। প্রিয়তে কিন্তু সবার আগে আমি নিয়েছি।

আমার স্ট্যাটাস একেবারে খাসা হয়েছে। খুব প্রিয় একজন বাদ পড়েছে। আমিই লিখে দেই।

৪৬.হাবিব স্যারঃ আয়েশার হাতের পান্তাও যেন অমৃত। কাচামরিচটা তো মধুর চেয়ে মিষ্টি। এভাবে যদি প্রতিদিন ভাত খাই একমাসে ড্রামের মত ফুলে যাবো।

:P ;)

০১ লা এপ্রিল, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:১৭

হাবিব স্যার বলেছেন: আমার পোস্টের ব্যাপারে আপনার আন্তরিক মন্তব্য আমার মনকে আন্দোলিত করলো। পোস্টকে প্রিয়র তালিকায় রেখে কৃতজ্ঞতার বাঁধনে বাঁধলেন। আমার আর আয়েশা সম্পর্কে আপনার আর লতিফ ভাইয়ের মন্তব্য পেলাম। কি যে ভালো লাগছে....... আমি জানতাম আমার সম্পর্কে কেউ না কেউ লিখবে....... আপনিও ছিলেন আমার সেই তালিকায়। সব শেষে এমন ব্লগীয় রসায়ন চলুক অবিরত, বেঁচে থাক সামু।

২৮| ০১ লা এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ২:২৩

আখেনাটেন বলেছেন: স্যার, আসসালামু আলাইকুম। পান্তা নিয়ে বেশ রসাত্মক একটি লেখা লিখেছেন। ব্লগের দুর্দিনে চলুক হাসি-আনন্দের পসরা। ফিরে আসুক দূরে থাকে ব্লগ সাথিরা।

ভুয়া মফিজ বলেছেন: ইয়ে.........আফ্রোদিতের (নেফারতিতি) ইয়ে'কে দেখছি না যে? উনি কি পান্তাভাত একেবারেই ডিজলাইক করেন? --------- :P :P

এখানে দেখুন তো ভুয়া মশাই। পান্তার সাথে কোলাকুলিজম আমার নিত্য সঙ্গী ছিল একসময়। :-P

০১ লা এপ্রিল, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:২২

হাবিব স্যার বলেছেন: ওয়ালাইকুমুসসালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। ভাইয়া, মন্তব্য এসে সালাম দিয়ে গেলেন। খুব ভালো লাগলো। কেউ এমন করে না সহজে। আপনার আন্তরিক মন্তব্য আর লেখার প্রশংসায় চমৎকার কিছু কথায় হৃদয় ছুঁয়ে গেলেন। আপনার পোস্টটিও মজার ছিলো দেখে এলাম আর আপনার নামটাও যুক্ত করে নিলাম পান্তা ভাত খাইয়েদের তালিকায়। ভালো থাকুন ভালো রাখুন।

২৯| ০১ লা এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৪:১৭

বলেছেন: হাবিব ভাই আবারো মন্তব্যগুলি পড়তে আসলাম অনেকের নাম সংযুক্ত করেছেন -
আমার গুরু ঠাকুর মাহমুদ ও ছোট ভাই নজসু এই দুজনে কথা পান্তার ভোজে কেউ নাহি খোঁজে!!!



হাবিব স্যার -- আলহামদুলিল্লাহ!! সকাল বেলা ঘুম থেকে ওঠে দেখি আয়েশা কি সুন্দর করে সযত্নে পান্তা ভাতের থালাটা সামনে ধরলো।ছুটির দিনে একটু আয়েশ করে পেটপুরে খেয়েদেয়ে আয়েশাকে খুশি করারা জন্য বললাম চলো চিড়িয়াখানা গিয়ে ঘুরে আসি। হঠাৎ মনে পড়লো ঘরে তো ইলিশ মাছ ছিলো না সে বাজারেও গেলো না তো মাছ আসলো কোথা থেকে! তাকে কি করে জিজ্ঞেস করবো এটাই বাসে বসে বসে ভাবছি ----

০১ লা এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৪:৩৯

হাবিব স্যার বলেছেন: হা হা হা....... লতিফ ভাই, আমি কিন্তু নজসু আর ঠাকুর মাহমুদের উক্তি সংযুক্ত করেছি। কিন্তু আমারটা এখনই দেবো না। একদম শেষে।। দেখে বলুন তো আপনার গুরু আর ছোট ভাই সুজনেরটা কেমন হলো.......

৩০| ০১ লা এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৪:২৮

গড়ল বলেছেন: হাহাহহাহাহহাহা ব্যাপক মজা পাইলাম, কবে সেই পান্তা ইলিশ নিয়ে লিখেছিলাম সেটা আপনার নজরে পড়েছে। চমৎকার হয়েছে তবে আমি এতটা কাব্যিক না।

০১ লা এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৪:৪০

হাবিব স্যার বলেছেন: যাক ভাইয়া, আপনি তাও মজা পেয়েছেন। আসলে এখানে প্রথমে তাদের সম্পর্কেই লিখেছিলাম যারা বিভিন্ন সময়ে আমার পোস্টে মন্তব্য করেছেন। অনেকের সাথেই পরিচিত হতে পারিনি। আপনার সাথে আজ পরিচয় হলো। আা করি আপনাকে আর ভুলবোনা। ভালো থাকবেন সব সময়।

৩১| ০১ লা এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৫:১৭

আরোগ্য বলেছেন: নজসু ভাইয়ের জন্য আরেকটা যদি লাইক দিতে পারতাম? দারূণ মজার স্ট্যাটাস হয়েছে।

আমিও কোনদিন পান্তা খাইনি। মনে হয় শীঘ্রই খেয়ে দেখতে হবে।

০১ লা এপ্রিল, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৩৪

হাবিব স্যার বলেছেন:




হা হা হা....... সুজন ভাই যদি দেখতেন কতই না মজা হতো,........!
খান খান, খেয়ে তারাতারি বইলেন কেমন লাগে পান্তা খেতে।

আপনার পান্তা প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রইলাম

৩২| ০১ লা এপ্রিল, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:০০

করুণাধারা বলেছেন: দারুন আমোদিত হলাম হাবিব স্যার। আমার ভাবনাটা একেবারে ঠিক ভেবেছেন।

০১ লা এপ্রিল, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৩৯

হাবিব স্যার বলেছেন: আন্তরিক মন্তব্য আর সৌহার্দ্যপূর্ণ মূল্যায়ন দুই-ই মন ছুঁয়ে গেলো। আপনার সম্পর্কে যা লিখেছি তা যে আপনার মনকে আমোদিত করেছে এতেই প্রশান্তি। ভালো থাকবেন সবসময়।

৩৩| ০১ লা এপ্রিল, ২০১৯ রাত ৮:০৬

ওমেরা বলেছেন: যেখানে দেখিবে ছাই উড়াইয়া দেখ তাই, পাইলেও পাইতে পার মানিক রতন।
আমি যখন ছোট ছিলাম আমাদের বাসায় একদিন এক ভিক্ষুক মহিলা এসে বলছে, তোমার আম্মুকে বল আমাকে একটু পান্তা দিবে নাকি ? আমিই তখন বলেছি আমাদের তো পান্তা ভাত রান্না করে নাই আপনি একটু গরম ভাত খাবেন ? মহিহা খুব খুশী হ্যা, হ্যা খাব।
কেউ পান্তা ভাত খেতে চায় ক্ষুধার জন্য আবার পহেলা বৈশাখে শখ করে খায় ।

ধন্যবাদ হাবীব স্যার।

০২ রা এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ৯:২৫

হাবিব স্যার বলেছেন: যারা দুবেলা খেতে পায় না তাদের কাছে পান্তাভাতই পোলাওসম। সুন্দর মন্তব্যের জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ আপু

৩৪| ০১ লা এপ্রিল, ২০১৯ রাত ৮:৩৬

নজসু বলেছেন:



প্রিয় ভাই আমার।
দূদার্ন্ত পোষ্ট। মজার পোষ্ট।
দোয়া রাখবেন ভাই, ৫৩ নম্বর প্যারার মতো লক্ষী কেউ একজন যেন আসেন। :``>>

কাকতাল হলেও সত্যি গতকাল আমি পান্তা ভাত খেয়েছি।
৩১ মার্চ ছিলো আমাদের উপজেলা নির্বাচন। সাধারন ছুটি।
পরিকল্পনা মাফিক কাঁচা মরিচ, কঠিন ঝাল আলু ভর্তা দিয়ে পান্তা ভাত খেয়ে ভোট কেন্দ্রে যাই।
ফিরে এসে দুপুর পর্যন্ত ঘুম। পান্তা ভাত খেলে ঘুম পায় বেশি। তাই ইচ্ছে থাকলেও খাওয়া হয়না।

সব ঠিক আছে। সব ঠিক। বউটা কাঁদছে কেন? :(

০২ রা এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ৯:২৮

হাবিব স্যার বলেছেন: প্রিয় ভাই সুজন, অনেকদিন পর আপনার দেখা পেলাম। একেবারে তো আমাবস্যার চাঁদ হয়ে গেছেন যেন। আপনি পান্তা ভাত খেয়ে ঘুম দিয়েছেন আর এদিকে আমি পান্তভাতের পোস্ট দিয়েছি। দোয়া করি লক্ষ্মী একটা বউ যেন কপালে জুটে। আসলে মেয়েটা ষোড়শী তো তাই আর কি। যখন আঠারো হবে তখন বিয়ে কইরেন, তাই কাঁদবে না।

৩৫| ০১ লা এপ্রিল, ২০১৯ রাত ৮:৪১

নজসু বলেছেন:




প্রিয় লতিফ ভাই।
এমনি করে আজীবন হৃদয়ে যেন পাই ঠাঁই।

প্রিয় আরোগ্য ভাই,
পান্তা ভাত খেয়ে দেখতে পারেন একবার।
আমার বিশ্বাস ভালো লাগবে।
পান্তার সাথে কাঁচা মরিচ, আলু ভর্তা, (চাইলে পেঁয়াজ) রাখবেন।

প্রিয় হাবিব ভাইয়ের স্ট্যাটাস কেমন হতো ব্লগবাসী জানতে চায়। :-B

০২ রা এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ৯:২৯

হাবিব স্যার বলেছেন: এমন বন্ধন টিকে থাক আজীবন। ব্লগবাসীর স্ট্যাটাস আমি দিলাম, আমারটা না হয় ব্লগবাসী দিয়ে দিক.........

৩৬| ০১ লা এপ্রিল, ২০১৯ রাত ৯:৪৫

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:
প্রতিদিন ভোরে বাংলাদেশের সকল মানুষের এক থালা পান্তা ও কাঁচা মরিচ বরাদ্দ থাকতো
তা হলে সুখী দেশের তালিকার উপরের ক্রমিক নম্বরে থাকতো বাংলাদেশের নাম।
আমার সন্তানেরা দুধে ভাতে না থাকলেও অন্তত পান্তা কাঁচা মরিচের থালা যেন থাকে প্রতি প্রাতে!

হাবিব স্যার আপনাকে ধন্যবাদ পহেলা এপ্রিলের প্রতারণার কথা না লিখে অন্তত পান্তা ভাতের
আশ্বাস দেবার জন্য । ভালো থাকবেন। সবার জন্য শুভকামনা।

০২ রা এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ৯:৩০

হাবিব স্যার বলেছেন: নূরু ভাই, পান্তাভাতের সাথেই যে মিশে আছে আমাদের গ্রাম্য জীবন। সুন্দর করে মন্তব্য করে যাওয়ার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ

৩৭| ০১ লা এপ্রিল, ২০১৯ রাত ১০:৪৯

রাবেয়া রাহীম বলেছেন: হা হা হা হা

হি হি হি হি হি
হাসতেই আছি দারুন কৃয়িটিভ লেখা।

জাহিদ অনিক শায়মা আর কাজী ফাতেমা ছবির কথা অনেক বেশী ভালো লেগেছে

নিরন্তর শুভেচছা আপনার জন্য

০২ রা এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ৯:৩৩

হাবিব স্যার বলেছেন: বউমার শ্বাশুড়িতো অনেক খুশী হয়েছেন দেখছি.... আপনার হাসি দেখে আমিও হাসলুম। হা হা হা........

ফাতেমা আপুর দেখাইতো পেলাম না........

৩৮| ০১ লা এপ্রিল, ২০১৯ রাত ১১:৩৪

সুমন কর বলেছেন: হাহাহা..........ব্যাপক মজা। কিন্তু আমি যে পান্তাভাত খাই না....(মাঝে মাঝে পহেলা বৈশাখে বাসার সবাই খেলেও, আমি খাই না)

০২ রা এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ৯:৩৬

হাবিব স্যার বলেছেন: সুমন ভাই, আপনি মজা পেয়ে আমাকেও আনন্দ দিয়ে গেলেন। মন চাইলে পান্তাভাত খেয়ে দেখবেন. ... মজা পাবেন আশাকরি।

৩৯| ০২ রা এপ্রিল, ২০১৯ রাত ১:৪৮

রিম সাবরিনা জাহান সরকার বলেছেন: তুখোড় লাগলো! কিন্তু আমারটায় বাস্তবটার কিছু ঘাটতি আছে। নিজের কামাই খাওয়ার সৌভাগ্য কমই হয়। কারন প্রায়ই আমার চাকরি থাকে না। তাই এ ব্যাপারটায় ঘরের কর্তার ওপরই নির্ভরশীল। আর নারীবাদী যে ছবিটা, সেটা কিন্তু আমার না। বরং চেহারাটা পুরো একশো আশি ডিগ্রি উল্টো। উনিশ শতকের শরৎবাবুর নায়িকার কাছাকাছি। একারনে নিকট ভবিষ্যতে জাতীয় নারীবাদ সমিতির হাতে চপ্পল ছোড়া খাবার আশংকাও আছে। তবে, আপনার এই লেখাটা আমাদের ব্লগারদের অ-নে-কদিন মনে থাকবে। এই ভালবাসার তুলনা নেই।

০২ রা এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ৯:৩৮

হাবিব স্যার বলেছেন: আপু, এমন করে প্রশংসা করে গেলেন যে মনদা আমোদিত হয়ে গেল। আপনার মন্তব্যটা আমার খুব করে পছন্দ হলো। ব্লগারদের সবাইকে ভালোবাসার বন্ধনে বাঁধতেই এমন আয়োজন করা। আশাকরি আমার আয়োজন বিফলে যায়নি।

৪০| ০২ রা এপ্রিল, ২০১৯ রাত ৩:৫১

বলেছেন: ওরেব্বাস -- মোল্লারাও আজকাল পান্তা ভাত মুখে নেয় না আমার কি কপাল জুটেছে পান্তাভাত --- গুরু কিন্তু এভাবেই বলতো!!!

সুজনে জন্য শুভকামনা --

আপনার লেখাটা কিন্তু "বাঙালির পান্তা ভোজন নিয়ে মজার রম্য" হিসাবে সেরাদের আসনে বসানো যায়।

০২ রা এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ১২:১৬

হাবিব স্যার বলেছেন:




সুজন ভাইরে তো বিয়েটা দিয়ে দিতেই হবে। উতলা হয়ে আছে বেচারা.......

তাহলে পুরষ্কার হিসেবে কি পাচ্ছি বড় ভাই?

৪১| ০২ রা এপ্রিল, ২০১৯ ভোর ৬:০০

স্রাঞ্জি সে বলেছেন:
বাহ বেশ___! আপনার সেন্স অফ হিউমার ভালই ___ সবার ভিতরে না গেলে, এইসব অমূল্য নলেজ বের হতো না। কিংবা মজাদার পোস্ট থেকে আমরা বঞ্চিত হতাম। যেভাবে আমরা আজকাল পান্তাকে চায়নিজ ভেবে বছরে একবার খাই। যদিও বাঙালী পরায়ণ প্রতিদিন সকালেই দুমুঠো পান্তা মুখে দেয়।

পান্তার সাথে যে কাচা মরিচ যায়। এই ঝালের কারণে।সসবাই কি খেতে পারে। তা না। আপনি অনেক বস্তির এলাকায় কিংবা গ্রাম্যেলাকায় গিয়ে দেখবেন শুকনো চনাবুট দিয়ে খাচ্ছে। আর দিব্যি হাসিখুশিতেই খেয়ে যায়।

০২ রা এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ১২:১৯

হাবিব স্যার বলেছেন:




হা হা হা.... যা বলেছো ভাইয়া, আসলেই কি তাই? নিজের ভাবনাগুলে সবার মধ্যে ভাগ করে দিলাম এই যা। লেখার পঞ্চমুখ প্রশংসায় কাঁচামরিচের খাবারও মিষ্টি করে ফেললে যে.....

গ্রামের মানুষগুলোই খাঁটি, বাঙালি। কোন ভতিনা নেই ভিতরে। সুন্দর মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। তোমার অংশে চোখ বুলিয়ো কিন্তু!

৪২| ০২ রা এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ১০:৩৬

জুন বলেছেন: ভুয়ার আফ্রোদিতি বলায় আমিও একটু কনফিউজড হয়ে পরেছিলাম হাবিব স্যার। তবে মন বলছিলো উনি আখেনাটেন কথা বোঝাতে চাইছেন। ফ্রাকশন অফ সেকেন্ডের মধ্যে এত কিছু ভেবে নিয়ে নামতেই দেখি উনি স্বীকোরক্তি করে গেছেন :-B

টেবিলের উপরে একপ্লেট পান্তাভাত রলো
ঘুরে দেখি প্রশ্নফাস জেনারেশনের
এক মগজহীন ডোডো পাখির পেটে তা
চালান হয়ে গেলো X((

ভাইয়ুউউউ আমি সকাল বেলায়ই পান্তা আপুনিকে কাচামরিচ দিয়ে সাজিয়ে রেখেছি এই দেখো আমার টেবিলে। এখন আমি দাত্তি সাজুগুজু করতে বাই বাই :`>

এদুটো কার মন্তব্য বলেন দেখি হাবিব স্যার, স্যারের ও পরীক্ষা নিচ্ছি :`>

যে দুজন প্রিয় ব্লগারকে নিয়ে লিখেছি আশাকরি তারা উদার মনে একে গ্রহন করবে বলেই আমি আশারাখি /:)


০২ রা এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ১২:২৪

হাবিব স্যার বলেছেন:




প্রথমে আমিও দ্বিধায় ছিলাম। পরক্ষণেই যখন শুধরে গেলো তখন দ্বিধা ভাঙলো।

এই রে..... সারাদিন পড়ালেখা না করতে করতে মাথায় তো কিছুই নেই। কেমনে যে পরিক্ষায় পাশ করি? আচ্ছা উত্তরটা কি আগে থেকে বলে দেয়া যায় না? আমি তো আর প্রশ্ন ফাঁসের কথা বলছি না......... :-B

এতো দেরিতে মন্তব্য করলেন যে তাদের চোখে হয়তো পড়বেই না....... :|

৪৩| ০২ রা এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ১:৫২

কাজী ফাতেমা ছবি বলেছেন: আমি তেতাল্লিশ নম্বরে আছি হাহাহাহা

পান্তা ভাত ছোটবেলা খাইতাম এখন আর খাই না
গ্যাস বেড়ে যায় ।
শুটকি ভেজে খেতাম আহা কী স্বাদের খাওয়া ছিলো

০২ রা এপ্রিল, ২০১৯ রাত ৯:০০

হাবিব স্যার বলেছেন: আচ্ছা, এতক্ষণে বুঝলাম আপনার মন্তব্য দেরির কারন। তাহলে আপনি অপেক্ষায় ছিলেন কতক্ষণে ৪৩ হয়!!!! আমাকে দাওয়াত দিলে পান্তা ভাতের সাথে শুটকি দিয়েন।

৪৪| ০২ রা এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৫:১৩

ব্লগার_প্রান্ত বলেছেন: ভাই আমার সত্যি সত্যি পান্তা ভাত খেতে ইচ্ছে করতেছে :(
আর ভাই, আমার পার্টটা পড়ে, আকাশ থেকে পড়লাম, খুব মজা পেলাম :)

০২ রা এপ্রিল, ২০১৯ রাত ৯:০১

হাবিব স্যার বলেছেন: হা হা হা...... তাই নাকি? তাহলে খেয়ে ফেলুন এখুনি। আপনি মজা পেয়েছেন দেখে আমারও আনন্দ লাগছে। ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্যের জন্য

৪৫| ০২ রা এপ্রিল, ২০১৯ রাত ১১:০৪

অপু দ্যা গ্রেট বলেছেন:



আহা কি স্বাধ । খুব টেস ।

লেখাটা পড়তে পড়তে আমার ক্ষুধা লেগে গিয়েছে ।

০৩ রা এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৩:০০

হাবিব স্যার বলেছেন: আপনি আসতে আসতে তো আমার পান্তাভাতও বাসি হয়ে গেলো ভাই.........

৪৬| ০৩ রা এপ্রিল, ২০১৯ ভোর ৪:৫৪

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: দারুন হয়েছে পোষ্টেরে রম্য রচনা সাথে থাকা ছড়াটি বেশ সুখপাঠ্য।
হেস্টিংস সিরাজভয়ে হয়ে মহাভীত/কাশিমবাজারে গিয়া হন উপনীত।/কোন স্থানে গিয়া আজ লইব আশ্রয়/হেস্টিংসের মনে এই নিদারুণ ভয়।/কান্তমুদী ছিল তাঁর পূর্ব পরিচিত/ তাহারি দোকানে গিয়া হন উপনীত।/ মুস্কিলে পড়িয়া কান্ত করে হায় হায়/হেস্টিংসে কি খেতে দিয়া প্রাণ রাখা যায়?/ ঘরে ছিল পান্তাভাত আর চিংড়ি মাছ/ কাঁচা লঙ্কা, বড়ি পোড়া, কাছে কলাগাছ।/সূর্যোদয় হল আজি পশ্চিম গগনে/হেস্টিংস ডিনার খান কান্তের ভবনে।[/sb

সেই পান্তাভাত আর চিংড়ি মাছ খাবার পর অনেকদিন পার হয়ে গেছে। কথা হল ওয়ারেন হেস্টিংস না হয় বিপদে পড়ে পান্তা খেয়েছিলেন কিন্তু ভিন্ন ভিন্নভাবে পান্তা ও ইলিশ খাওয়ার ইতিহাস আমাদের সংস্কৃতিতে অতি প্রাচীন। রামায়ণে যদিও দেখা যায় যে, সীতা পোলাও রান্না করে রামকে খাওয়াচ্ছেন। তাহলেও সেই যুগের ঋষি-মুনিরা শুধু পোলাও কিংবা অষ্ট ব্যঞ্জন দিয়েই আহার করতেন না, পান্তাও খেতেন। তবে দুই, আড়াই হাজার বছর আগে যেহেতু কাঁচা লঙ্কাই ছিল না, সেহেতু পান্তা খাওয়া হতো চিংড়ি চচ্চড়ি, মৌরলা মাছের ঝোল অথবা বেগুন পোড়া দিয়ে। বলা যায় যে প্রাচীন যুগে মরিচের প্রচলন বলতে গেল ছিলই না কেননা আমাদের দেশে কাঁচা মরিচের আগমন ঘটে ১৫০০ সালের দিকে পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো-দা-গামার হাত ধরে। আর সম্রাট শাহজাহানের আমলে মরিচের প্রচলন ভারতের চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে। এর আগ পর্যন্ত ব্যঞ্জন গুলোতে ঝালের পরিপূরক হিসেবে ব্যবহৃত হতো গোলমরিচ, পিপলু আর আদা। তবে এখানে উল্লেখ্যে যে মরিচের আদি নিবাস দক্ষিণ আমেরিকার বলিভিয়ায়। সে দেশের আদিবাসীরা মরিচ খেয়ে আসছে আনুমানিক চার হাজার বছর ধরে। স্পেনীয়, পর্তুগিজ ও ইতালিয়ান নাবিকদের কল্যাণে এই মরিচ দক্ষিণ আমেরিকা থেকে প্রথমে আসে ইউরোপে এবং পরবর্তীতে ভাস্কো-দা-গামার বদৌলতে চলে আসে আমাদের এই ভারতবর্ষে। ( সুত্র : Click This Link ) । তাই দেখা যায় পান্তা ভাতের সাথে কতই না চমকপ্রদ ইতিহাস প্রসঙ্গক্রমে চলে আসে আর সে সকল কথা ভাবতেই অবাক লাগে । যাহোক, সাধারণ এই পান্তার আসাধারণ সব গুণ, সাথে হেস্টিং সাহেবের যুগসুত্র টেনে এনে পোষ্টটিকে পান্তাভাতের চেয়েও মঝাদার করে উপস্থাপনের জন্য রইল অনেক অনেক ধন্যবাদ ।
নিরন্তর শুভকামনা রইল ।

০৩ রা এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৩:০৪

হাবিব স্যার বলেছেন: ড: ভাই, আপনার ভালো লেগেছে এটা শুনে খুশি হলাম। হেস্টিং সাহেবের ঘটনা পড়েছিলাম অনলাইনে। পান্তাভাত নিয়ে লিখতে গিয়ে তাই মনের মধ্যে উদয় হলো। কিন্তু কার নামের পাশে এমন ঘটনা লেখা যায় ভাবতে ভাবতে আপনার নাম ছাড়া আর কাউকেই পেলাম না। সুন্দর করে পোস্টের প্রশংসা করার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে ভাইয়া। ভালো থাকবেন সবসময়।

৪৭| ০৩ রা এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ৮:৩৭

সোহানী বলেছেন: এক্কেবারেই হইলো না হাবীব সাহেব। বরং উল্টা B-)

এক, জীবনে কঠিন মূহুর্তে এতোবেশী বন্ধু-বান্ধব এসে জুটেছে যে নিজেরে ভিঅইপি না ভাবার কোনই উপাই নাই। আমার বন্ধু-বান্ধব ভাগ্য ঈর্ষনীয়।

দুই, আর স্বামী বেচারা আমারে পান্তা দেয় না উল্টা আমিই তারে পান্তা দেই। এর কারন (হাড়ির খবর গোপনে বলি) ক্যালরি মেপে খাবার খাই তাই রিচ ফুড মোটামুটি এভায়েড করি। কিন্তু আমার স্বামী বেচারা খুবই বিরানী পছন্দ করে। তাই প্রায় দিনই আকাশে মেঘ দেখলে, বরফ দেখলে, রোদ দেখলে বিরানী নিয়া হাজির হয়। তখন আমার রান্না করা ভাত আর কেউই খায় না। তাই পরের দিন সকলরে ঘাড় ধরে সে বাসি (যদিও পানি ছাড়া) ভাত দেই। যদিও আমার পোলাপান দুনিয়ার চালাক, ওরা এই ভাত দেখলে ফ্রিজ খুলে নিজেরাই স্যান্ডউইচ বানায়ে খায়। কিন্তু স্বামী বেচারা এইসব চালাকি না জানার কারনে বাধ্য হয়ে ওই পান্তা নিরস বদনে খায়.....হাহাহাহা।

আর বউ এর অসুখে সত্যিই চেনা যায় স্বামীরে........ এইটা ঠিক বলসো।

যাহোক, তোমার রম্য ভালোলেগেছে নি:সন্দেহে। সবার সাথে অনেকাংশেই মিলেগেছে। তবে তুমি আমার লিখা কম পড়ছো এইটা বলতেই হয়.........হাহাহাহাহাহাহা

০৩ রা এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৩:০৮

হাবিব স্যার বলেছেন: আপু, আপনার ওনাকে মাঝে মাঝে নাস্তানুবুদ করে মোটেও কিন্তু ভালো করেন না। হাজার হোক আমি স্বামীকুলের অন্তরভুক্ত হওয়ায় তার সাথে সহমর্মিতা প্রকাশ করছি।

আপনার সম্পর্কে আসলেই লেখাপড়া কম হয়ে গেছে। এই যাত্রায় এ পর্যন্তই থাক। আর হাসা লাগবে না। দাঁতগুলো এবার মুখের ভেতর নিন আপু......... :P

৪৮| ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ১২:০৮

নাসির ইয়ামান বলেছেন: এককথায় সত্যিই অসাধারন!আপনি ব্যাপক কল্পনাবিলাসী!
চালিয়ে যান,আমরা সাথে আছি।

০৪ ঠা এপ্রিল, ২০১৯ রাত ৯:৪৬

হাবিব স্যার বলেছেন: অল্প কথায় মন ছোঁয়া মন্তব্য করে গেলেন। সাথে থাকবেন জেনে আশ্বস্ত হলাম। শুভরাত্রি ভাইয়া।

৪৯| ২৬ শে মে, ২০১৯ রাত ৯:৫৮

আর্কিওপটেরিক্স বলেছেন: সেই একখান পোস্ট :D

১৭ ই জুন, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:২১

হাবিব স্যার বলেছেন: হা হা হা ..........

৫০| ১০ ই আগস্ট, ২০১৯ রাত ৮:১৯

খায়রুল আহসান বলেছেন: বড়ই মজাদার পোস্ট। এ পোস্ট কি করে আমার নজর এড়িয়ে গিয়েছিল, কে জানে। যাক, দেরীতে পড়েও অনেক মজা পেলাম এবং এ কারণে অনেকের মন্তব্যও পড়তে পারলাম।
৮ নং ক্রমিকে আমার সম্বন্ধে লিখতে গিয়ে জলে ডোবা ঐ সাদা ভাতের মতই শুভ্র ভাবনার পরিচয় দিয়েছেন। আমি যে এমন ভাবতে পারি, সেকথা আপনি ভেবেছেন, এটা ভেবেই মুগ্ধ হচ্ছি।
পোস্টে প্লাস দিয়ে আপাততঃ বিদায় নিচ্ছি, তবে আবার আসবো এ পোস্টে।

৫১| ২২ শে আগস্ট, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৩৫

খায়রুল আহসান বলেছেন: ২০, ৪১, ৪৪, ৪৮ থেকে ৫১, এসব ক্রমিকে বর্ণিত ব্লগারদের স্ট্যাটাসগুলো দারুণ হয়েছে! বিশেষ করে সনেট কবি এর নামের বিপরীতে যে সনেটটি লিখেছেন, তা অনেকটা অবিকল তার সনেটের মতই, কিংবা তারটার চেয়েও ভাল হয়েছে। এসব স্ট্যাটাস পড়ে বোঝা যায়, আপনি এসব ব্লগারদের পোস্ট এবং মন্তব্য/প্রতিমন্তব্য কতটা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। আমার কাছে আপনার এ পর্যবেক্ষণগুলোকে অনেকাংশে সঠিক মনে হয়েছে। অভিনন্দন, এমন একটি দীর্ঘ কিন্তু প্রায় ত্রুটিহীন পর্যবেক্ষণমূলক পোস্টের জন্য। ++

৫২| ২২ শে আগস্ট, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:২০

খায়রুল আহসান বলেছেন: ৪২ নম্বর মন্তব্যে জুন এর বর্ণনাটাও দারুণ হয়েছে। যে দু'জন জনপ্রিয় ব্লগার নিয়ে তিনি এ কথাগুলো বলেছেন, আশাকরি তারাও এটা উপভোগ করবেন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.