নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মানুষ মরে গেলে পঁচে যায় আর বেঁচে থাকলে বদলায়

সৈয়দ কুতুব

নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!

সৈয়দ কুতুব › বিস্তারিত পোস্টঃ

র-প্রধানের ঢাকা সফর: খবর শুনেই হাসপাতালে ভর্তি পাকিস্তানের হাইকমিশনার !

১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:১৭


রসিকতা বাদ দিয়ে বলি, দুটি ঘটনাই সত্যি। বাংলাদেশে RAW এর প্রধান পরাগ জৈন এসেছেন এবং পাকিস্তানের হাইকমিশনার এখন হাসপাতালে আছেন। দুটি ঘটনা আসলে পরস্পরবিচ্ছিন্ন, একটার সঙ্গে আরেকটার কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু বাঙালির কল্পনাশক্তির কাছে যুক্তি মাঝে মাঝে বড় অসহায়।

গতকাল RAW প্রধান পরাগ জৈন বাংলাদেশে এসেছেন, ব্যস, শুরু হয়ে গেল হইচই। সবার ফেসবুক ওয়ালে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব। পরাগ জৈন রাতের আঁধারে গোপনে এসেছেন। পরে দেখা গেল, RAW এর কর্মকর্তারা প্রতিবছরই এ ধরনের সফরে বাংলাদেশে আসেন। বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থার লোকজনও নিয়মিত ভারত সফর করেন, বছরে দুবার করে সফর হয়। আজকে প্রধানমন্ত্রীর সবচেয়ে মেধাবী উপদেষ্টা জাহেদুর রহমানও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কিন্তু বাঙালির কীবোর্ডের স্বাধীনতা আর কল্পনাশক্তিকে আটকাবে কে? পরিস্থিতি এমন গরম হয়ে উঠেছে , যে দোকান থেকে মুদিখানার জিনিসপত্র কিনি, সেই দোকানদারও বলল, "ভাই, RAW কী জন্য আসছে?" আমি বললাম, কখন আসছে?" সে বলল, "রাতের আঁধারে।" আমি বললাম, "ভাই, এসব খবর দেখা বাদ দেন, নিজের কাজ করেন।"

এ ধরনের পরিস্থিতি অবশ্য আগেও দেখেছি। একবার বাসে বিশাল দাড়িওয়ালা জুব্বা পরা এক চাচাকে বলতে শুনেছিলাম, RAW বাংলাদেশে হাজার হাজার ঘাঁটি বানিয়ে ফেলেছে এবং দেশের সব সরকারি দপ্তরেই RAW এর লোক চাকরি করে। হিসাব করলে দাঁড়ায়, বাংলাদেশের ২৬ লাখ ভারতীয়ই সম্ভবত RAW এর চর। আমি চাচাকে বলেছিলাম, "আচ্ছা চাচা, জুলাই ২০২৪ এর পর থেকে পাকিস্তানের কতজন মন্ত্রী, উপমন্ত্রী, সামরিক কর্মকর্তা আর গোয়েন্দা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বাংলাদেশে এসেছেন, সে খবর কি রাখেন?" দেখলাম চাচা জানেন না। আসলে পাকিস্তানের ক্ষেত্রে এত মুখরোচক গল্প তৈরি করা যায় না। ভারতীয় কেউ বাংলাদেশে এলেই সেখানে RAW, CIA, Mossad, MI6 সব একসঙ্গে ঢুকে যায়। কিন্তু পাকিস্তান থেকে কেউ এলে সেটাকে বলা হয় ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের সৌজন্য সফর।

জুলাই ২০২৪ এর পর পাকিস্তানের বিভিন্ন পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা বাংলাদেশে এসেছেন। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, যার ISI এর সঙ্গে যোগাযোগ থাকার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা আছে, তিনিও একাধিকবার বাংলাদেশে এসেছেন। পাকিস্তানের সঙ্গে মাদকদ্রব্য দমনের আড়ালেও গোয়েন্দা তথ্য আদান প্রদানের চুক্তি হয়েছে বলে খবর আছে। অথচ বাংলাদেশের সাথে কোনো স্থল সীমান্তই নেই ।পাকিস্তানের সামরিক কর্মকর্তারাও বাংলাদেশে এসেছেন। চাচা সম্ভবত তখন ঘুমাচ্ছিলেন।

RAW আসুক, ISI আসুক, তুরস্কের MIT আসুক কিংবা অন্য কোনো দেশের গোয়েন্দা সংস্থার লোক আসুক, তাদের মূল কাজ হলো রাজনৈতিক ও ক্ষমতার কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং নিজেদের দেশের স্বার্থ নিয়ে আলোচনা করা। এ ধরনের লোকজন দেশে এলেই বিনিয়োগ হয় না, দেশের ভাবমূর্তিও উজ্জ্বল হয় না। তারা আসে রাজনৈতিক ও কৌশলগত কারণে। তাই কোনো দেশের গোয়েন্দা কর্মকর্তা বাংলাদেশে এলেই তাকে নিয়ে ফেসবুকে উপন্যাস লেখা শুরু করার আগে আসলে কী হচ্ছে সেটা বোঝার চেষ্টা করাই ভালো।

এবার আসা যাক পাকিস্তানের হাইকমিশনারের ঘটনায়। ঘটনাটা বেশ আকর্ষণীয়। শেখ হাসিনা ভারত থেকে যেদিন ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন, সেদিন রাতে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের বাসভবনে শট সার্কিট থেকে আগুন লাগে। ধোঁয়ার কারণে শ্বাসকষ্ট হয় এবং তাকে হাসপাতালে নিতে হয়। এই ঘটনা শুনেই আমার মাথাতেও একটা ষড়যন্ত্র তত্ত্বের চিত্রনাট্য তৈরি হয়ে গেল। হাজার হোক, বাঙালিদের সঙ্গে থাকি, চলাফেরা করি।

প্রথমেই মাথায় এলো, সিনেমায় যেমন দেখা যায়; গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পুড়িয়ে ফেলা হয় , ব্যাপারটা কি সেরকম কিছু? তারপর মাথায় আরেকটা চিন্তা এলো, দেশ থেকে পালানোর পরিকল্পনা করছেন নাকি? এর আগে একজন পাকিস্তানি হাইকমিশনার মেয়ে নিয়ে ধরা খেয়ে বাংলাদেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। বর্তমান হাইকমিশনারও কি সেই পথেই হাঁটছেন?

পরে দেখলাম, বাজারে আমার চেয়েও বড় ষড়যন্ত্র তত্ত্ববিদ চলে এসেছে। কেউ বলছে, ছারপোকার আক্রমণ থেকে নাকি বৈদ্যুতিক ত্রুটি হয়ে আগুন লেগেছে। কীটনাশক দলের লোকজন হাইকমিশনারের বাসায় গিয়েছিল। এমনকি কেউ কেউ এমনভাবে গল্প করছে যেন রাশিয়ার গোয়েন্দাদের মতো রহস্যময় কোনো স্প্রে সেখানে ব্যবহার করা হয়েছে। আচ্ছা, পাকিস্তানের হাইকমিশনারের বাসায় ছারপোকা এলো কোথা থেকে? এত অভিজাত বাসা, সেখানে আবার কেউ ছারপোকা বসিয়ে রাখেনি তো? এই প্রশ্নের উত্তর অবশ্য আমার জানা নেই।



ফটোকার্ড ক্রেডিট : ইয়ার্কি এবং এখন টিভি

মন্তব্য ৪ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৫৭

অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য বলেছেন: হাদির বোনের পোস্ট পড়েছেন? তিনি বলেছেন, মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি! শহীদ “ওসমান হাদি হত্যার সাথে সরাসরি জড়িত ভারতের র”-এর প্রধান এখন ঢাকায় অবস্থান করছেন। অতি দ্রুত একে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। শহীদ “ওসমান হাদীর” খুনি
ফয়সাল, আলমগীর এরা কোথায় আছে, ভারতের কারাগারে নাকি অন্য কোথাও আছে, তা বের করতে হবে। জাহাঙ্গীর, ফয়সাল এবং আলমগীরকে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরত দিলেই র-এর প্রধানকে ভারত ফেরত পাবে।

১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:০৫

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: দশকোটি ইউজার ফেইসবুক ইউজ করেন। এতজনের লেখা পড়া পসিবল না । :)

২| ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:১৫

আলামিন১০৪ বলেছেন: আপনার কি ধারনা র’ প্রধান খোশালাপ করতে বাংলাদেশে এসেছিল? একটা কিছু তো এসাইনমেন্ট ছিলই তাতে কোন সন্দেহ নেই। সাইকোলজিক্যাল গেমও হতে পারে যাতে পাক চিন্তায় পরে যায়...
আমাদের মতো ভারতের সরকারি লোকজন প্লেজার ট্রিপ মারে না- বিশেষ করে তা যখন গোয়েন্দা প্রধান-

১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:২১

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: তারেক রহমানের ভারত সফরের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দিতে এবং শেখ হাসিনা কে দেশে ফেরানো নিয়ে । ভারত আর রাখতে চাইছে না ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.