| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রাজীব নুর
আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি। কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা।
ফারাজা তাবাসসুম খান-
আজ বুধবার, ৮ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ। ইংরেজি ২৩শে সেপ্টেম্বর ২০২৬। বহু আগে একটা বই পড়েছিলাম- 'আদর্শ হিন্দু হোটেল'। প্রধান চরিত্রের নাম- হাজারি ঠাকুর। সে বাস্তববাদী, সহজ সরল, মানবিক এবং সৎ প্রকৃতির মানুষ। বয়স তার ৪৫ হবে। তার স্ত্রী এবং পুত্র কন্যা গ্রামে থাকে। রাঁধুনি হিসেবে হাজারি ঠাকুরের খ্যাতি শুধু রানাঘাট'ই নয়, ছড়িয়ে পড়ে বোম্বে পর্যন্ত। আসলে প্রতিভা লুকিয়ে রাখা যায় না। ঠিক তেমনি মানুষ তার মন্দ দিক গুলোও লুকিয়ে রাখতে পারে না। উপন্যাসে একটা ডায়লগ আছে এরকমঃ মেয়ে মানুষ যখন ভালো হয় তখন তারা সবথেকে ভালো হয়, যখন খারাপ হয় তখন একদম নিকৃষ্ট হয়। কথাটা সঠিক। মেয়েরা ভালোবাসলে উজাড় করেই ভালোবাসে। আর ঘৃণা করলে সবটুকু দিয়েই করে। অবশ্য ভালোবাসা আদর সেবা যত্ন পাওয়ার জন্য যোগ্য হতে হয়। উপন্যাসে উল্লেখযোগ্য একটা চরিত্র হলো- গ্রামের সহজ সরল বিধবা মেয়ে কুসুম। কুসুম হাজারীকে পিতার মতো সম্মান করতো। কুসুম আর অতসী নামে দুইজন মেয়ে হাজারিকে টাকা দেয় হোটেল খোলার জন্য।
ফাজ্জা তুমি বড় হয়ে এই বইটা পড়বে।
বইটা লিখেছেন, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বইটা যে লিখেছেন, তার সম্পর্কে জানা জরুরী। শিক্ষকতার মাধ্যমে পেশাগত জীবনে প্রবেশ করেন বিভূতিভূষণ। তার লেখা 'চাঁদের পাহাড়' একটি অনবদ্য এ্যাডভেঞ্চার কাহিনী, যার পটভূমি আফ্রিকা। 'চাঁদের পাহাড়' অদ্ভুত একটা উপন্যাস। একবার পড়তে শুরু করলে সমস্ত চিন্তা ভাবনা হারিয়ে যায়। প্রতিটা বাঙ্গালীই এই বইটা পড়েছেন আশা করি। প্রতিটা লেখকেরই হয়তো কিছুটা দুর্বলতা থাকে। বিভূতিভূষনেরও ছিলো। তার লেখাতে গ্রামের নিখুঁত বর্ণনা থাকতো। বৃষ্টি থাকতো, দারিদ্রতা থাকতো, কাশফুল থাকতো, পাওয়া না পাওয়া থাকতো, থাকতো মানুষের মনের গোপন ইচ্ছা গুলো। ফারাজা- ভালো ভালো বই গুলো তুমি পড়বে। প্রতিটা বই দুইবার করে পড়বে। ফালতু বই পড়ে সময় অপচয় করিবে না। তুমি যে বই গুলো পড়বে, সেসব বইয়ের তালিকা আমি করে রেখেছি। বাংলা সাহিত্যতের মোট একশ'টি বই।
ফারাজা তোমাকে আরেকটা বইয়ের কথা বলি-
এই বইটাও আমার পছন্দের। ''তেইশ নম্বর তৈলচিত্র''। ১৯৬০ সালে বইটি প্রকাশিত হয়। উপন্যাসটির মূল চরিত্র জাহেদ। সে একজন মানবিক মানুষ। করাচি শহরে অনুষ্ঠিত একটি শিল্প প্রদর্শনীতে তার আঁকা ছবির প্রথম পুরস্কার জেতার মধ্য দিয়ে উপন্যাসের শুরু। সেখানে সব ছবির মাঝে প্রথম স্থান পেয়েছে ২৩ নম্বর চিত্রকর্মটি। বইটিতে প্রেম এবং শিল্প মিলেমিশে একাকার। রঙ কিনতে গিয়ে জামিলের সাথে পরিচয় হয় জাহেদের। জামিল জাহেদকে নিয়ে আসে তার বাসার স্টুডিওতে। জামিলের ছোট বোন ছবির সাথেও পরিচয় হয় জাহেদের, সেই পরিচয় ধাবিত হয় পরিণয়ের দিকে। সমাজ এবং ধর্ম চায়- নারীর সাথে পুরুষের সম্পর্ক হবে বৈবাহিক সম্পর্কের পর থেকে। উপন্যাসের নায়ক নায়িকাকে কাছে পেতে চায় বিয়ের আগেই। কিন্তু নায়িকা সামাজিক মূল্যবোধ দ্বারা পরিচালিত হওয়ায় নায়কের আশা পূরণ হয় না। ফাজ্জা, কিছু কিছু ভুল আছে, একবার করে ফেললে সারা জীবন পস্তাতে হয়। তাই খুব সাবধান থাকা জরুরী। আমি মন্দ ও অন্যায় কাজ করিব না, এই ইচ্ছাটা তীব্র ভাবে থাকলেই মানুষ সুন্দর ও সহজ সরল জীবনযাপন করতে পারে।
''তেইশ নম্বর তৈলচিত্র'' লেখক আলাউদ্দিন আল আজাদ-
১৯৭০ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেন। ফাজ্জা, আমার পিএইচডি করার ইচ্ছা ছিলো। কিন্তু হলো না। পোড়া কপাল আমার। যাইহোক, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে লেখক অংশগ্রহণ করেন। জগন্নাথ কলেজের চাকরি ছেড়ে ১৯৬২ সালে আলাউদ্দিন আল আজাদ যোগ দেন সিলেট এমসি কলেজে। নগর ও গ্রামের নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের দৈনন্দিন সুখ-দুঃখ, অভাব-অনটন এবং টিকে থাকার লড়াই তার গল্পের অন্যতম বিষয়। ফাজ্জা, এই লেখকের 'ঠান্ডা ভাত' নামে একটা গল্প আছে। চমৎকার গল্প। আরেকটি গল্প আছে- 'আমাকে একটি ফুল দাও'। একজন মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে লেখা। মুক্তিযোদ্ধা ওমর ফারুক। সে যুদ্ধ করতে গিয়েছে। যুদ্ধ শেষে অনেকেই ফিরে এসেছেন কিন্তু ওমর ফারুক ফিরে আসেন নাই। সবাই ধরেই নিয়েছেন- ওমর ফারুক মরেই গেছেন। কিন্তু সে দুই বছর বাইশ দিন পর ফিরে আসে। কেউ তাকে চিনে না। অথবা চিনতে চায় না। তার প্রেমিকা স্বপ্না, সে এখন তার'ই ছোট ভাইয়ের স্ত্রী। মানুষই মানুষের জন্য জগৎকে সাজিয়েছে, ভরিয়ে তুলেছে সৌন্দর্যে অথচ তারপরও কোথাও একটা অপূর্ণতা রয়ে গেছে, এই না-পাওয়ার বেদনা নিয়ে দিনরাত যাচ্ছে, সময় যাচ্ছে এবং এর ভেতর দিয়ে একটু-একটু করে মানুষ পৃথিবীটাকে চিনতে শিখছে।
যাইহোক ফাজ্জা, বইয়ের গল্প এখন বাদ।
অন্য প্রসঙ্গে যাই। বেশ কয়েকদিন ধরে তোমার জ্বর। অবশ্য এখন সবার ঘরে কারো না কারো জ্বর। গ্রামের অঞ্চলের খবর জানি না। কিন্তু ঢাকায় প্রতিটা ঘরেই বিশেষ করে বাচ্চাদের জ্বর। এমন জ্বর যে ওষুধ খেলেও কমে না। সাপোজিটরি লাগে। জ্বর হলে ভয় লাগে যে, ডেংগু না তো! সারারাত তোমার মা জেগে থাকে। কপালে রুমাল ভিজিয়ে দিয়ে রাখে। কখনও মাথায় পানি দেয়। তোমার সেবা করতে করতে তোমার মা অসুস্থ হয়ে গেছে। তার অনেক জ্বর। এদিকে বুয়া আসে না পাঁচ দিন ধরে। আমি সারাদিন থাকি আমার কাজ নিয়ে ব্যস্ত। তোমার জ্বর, এজন্য আমার মন মেজাজ খারাপ। বেশি করে চিনি দিয়ে চা খাচ্ছি। অথচ আমার চিনি খাওয়া নিষেধ। রেস্টুরেন্টে গিয়ে গরুর চাপ আর পোলাউ খাচ্ছি। বার্গার খাচ্ছি। কোক খাচ্ছি। রাতে ঘুম কম হচ্ছে, কারন ভোরে কাজে বেড়িয়ে যাচ্ছি। খুবই অগোছালো জীবনযাপন হচ্ছে। তোমার জ্ব্বর কমে গেলেই আবার গোছানো জীবনযাপন শুরু করিব।
প্রিয় কন্যা আমার-
ফাজ্জা, মানুষের জীবন একটাই। তাই খুব হিসাব করে জীবন খরচ করা উচিৎ। পৃথিবীর সব মানুষ একটা সময় নিজের কাছে প্রশ্ন করে- জীবনের উদ্দ্যেশ কি? ফাজ্জা উত্তরটা আমার কাছে খুব সহজ। আমি মনে করি- জীবনটা উপভোগ করে যাওয়া উচিৎ। ছোট্র একটা জীবন আমাদের। কত কাজ, লেখাপড়া, চাকরি, বিয়ে, ঘরসংসার, বাচ্চা উৎপাদন- সব কিছু সামাল দিতে গিয়ে জীবনটা আর উপভোগ করা হয় না। এজন্য চেষ্টা করা উচিৎ, যতটুকু পারা যায় পৃথিবীর রুপ, রস, গন্ধ উপভোগ করে নেওয়া। একদিন মৃত্যু এসে সব থামিয়ে দেবে। তার আগেই যতটুকু পারা যায় জীবনটা উপভোগ করে নেওয়াই শ্রেয়। তবে মিথ্যা এবং মন্দ কাজ মানুষকে ধ্বংস করে দেয়। তাই জীবনে অন্যায়, মিথ্যা এবং পাপ করা থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন। তবেই জীবনটা উপভোগ করা সহজ হবে। যারা অন্যায় করে, মিথ্যা বলে, মন্দ কাজ করে তারা জীবনটা উপভোগ করতে পারে না। মানব জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন হচ্ছে লেখাপড়া। ভালো রেজাল্ট করা। তাহলে ভালো চাকরি পাওয়া সহজ হবে। অনেক টাকা ইনকাম করা যাবে। টাকা ছাড়া তো কোনো কিছু মিলে না। টাকা না থাকলে জীবনটা উপভোগ করা যাবে না। জীবনটা আনন্দময় করার জন্য দুষ্টলোক, বদলোক এদেরকে জীবন থেকে মাইনাস করে দিতে হবে। হোক সে কাছের আত্মীয়।

২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৭
রাজীব নুর বলেছেন: ধন্যবাদ। ভালো থাকুন।
২|
২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:১৫
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: মানুষের জীবন একটাই। তাই খুব হিসাব করে জীবন খরচ করা উচিৎ
.....................................................................................................
জীবনকে অর্থপূর্ণ করার উপায় সঠিক অগ্রাধিকার নির্ধারণ:
আপনার জীবনের প্রধান লক্ষ্য ও প্রিয় কাজগুলো আগে ঠিক করুন।
অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে শক্তি অপচয় করবেন না।
সময়ের সদ্ব্যবহার: প্রতিটি দিনকে গুরুত্ব দিন।
তেমনি সময় ও আবেগের সঠিক ব্যবহারও একটি বড় দক্ষতা।
মানসিক শান্তি বজায় রাখা: কে কী ভাবল, সেই হিসাব করতে গিয়ে নিজের অমূল্য সময় নষ্ট করবেন না।
বর্তমানকে উপভোগ করুন: শুধু ভবিষ্যৎ নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা না করে বর্তমান মুহূর্তগুলোতে বাঁচতে শিখুন।
২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৮
রাজীব নুর বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে। ভালো মন্তব্য করেছেন।
৩|
২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১০
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: জীবন উপভোগ করার সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হলো কোনো একটা লক্ষ্য খুঁজে বের করা । আপনার মেয়েকে জীবনের লক্ষ্য বুঝতে সহায়তা করুন । আপনার পরিবারের জন্য শুভকামনা ।
©somewhere in net ltd.
১|
২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০০
নূর আলম হিরণ বলেছেন: ফাজ্জা'র জন্য শুভকামনা ও সুস্থতা কামনা করছি।