নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

???????????????????

হাসান নাভিদ

হাসান নাভিদ › বিস্তারিত পোস্টঃ

চোখে আলো নেই।তাতে কী?

১৬ ই অক্টোবর, ২০১৫ রাত ১:০০

পত্রিকার প্রথম পাতায় তাদের বড় একটি ছবি ছাপা হয়েছে।ক্যাপশনে লেখা হয়েছে"চোখে আলো নেই।তাতে কী।"কতিপয় বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া সাংগাঠনিকভাবে তাদের সহযোগিতা করছে।তাদের চোখই এসব প্রতিবন্ধিদের চোখ।হ্যাঁ,আমরা যদি একটু মানবিক হই তবেই এই উক্তিটি সার্থক।বাস্তবিক কোলাহলে অনেক বেশি রোবটিক আমরা।কেউ কারো জন্য এগিয়ে আসতে চাই না।যখন কাউকে দেখি একজন অন্ধকে রাস্তা পার করে দিচ্ছে তখন বেশ সুখ অনুভব করি।সেবার কলেজের সামনে দাড়িয়েছিলাম।লোকটি বললো,ভাই,আমাকে একটু নর্থ হলে দিয়ে আসেন।প্লিজ!তাকে দেখে কোন ভাবেই অন্ধ মনে হয়নি।চোখের পাপড়ি,রং সবই স্বাভাবিক।শুধু আলোটাই নেই। সেদিন অনার্স পড়ুয়া স্মার্ট লোকটিকে সাহায্য করতে পেরে বেশ ভালো লেগেছিল।অবশ্য এর আগে জানতামই না যে,ঢাকা কলেজে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিদের অধ্যয়নের সুযোগ রয়েছে।
সাধারণত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিরা অদ্ভূত রকমের মেধাবী হয়।সে রকম একজনকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছিল কৈশোরে।সে সবকিছু নিজেই করতো।অন্যের সহযোগিতা খুব একটা গ্রহণ করতো না।কোন কিছু একবার শুনলে আজীবন মেয়াদে তা সংরক্ষন করতে পারতো।আমার বিশ্বাস হতো না যে,সে একজন অন্ধ।তার অজান্তেই সিওর হওয়ার জন্য বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট চালাতাম।একবার তাকে পুকুরে ফেলার প্লান করলাম।কাছে আসতেই সে বলল,কোথায় নিচ্ছিস? সামনে তো পুকুর!আমি অবাক হলাম।বললাম,কীভাবে বুঝলে?পুকুর পর্যন্ত আমার দুরত্ব মাপা আছে।পায়ের সাহায্যে সেটা মেপে চলি।সে উত্তর দিলো।তার এই কৌশলকে বাস্তবে প্রয়োগ করতে চাইলাম।চোখ বন্ধ করে সেই একই দুরত্ব যেতে চেয়েছি।কিন্তু বারবার ব্যর্থ হয়েছি।তার মতো নিঁখুতভাবে একবারও পারিনি।তার সম্পর্কে অনেক বেশি কৌতুহলী ছিলাম।
প্রতিটি ঘটনার একটি প্রেক্ষাপট থাকে।তেমনি তারও একটি গল্প আছে।সুখকর নয়,বেদনাদায়ক।সে জন্মগত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধি নয়।একবার টাইফয়েড হয়েছিল তাঁর।প্রত্যন্ত এলাকায় চিকিৎসা ব্যবস্থা অপ্রতুল।গ্রাম্য ডাক্তারই সেখানে মহান বিশেষজ্ঞ।তাই কোরামিন ইনজেকশনটা শরীরে পুশ না করে খাইয়ে দিয়েছেন।ফলে একজন মানুষ পৃথিবী দেখার শক্তি হারিয়ে ফেলেছে।এতে ডাক্তারের কী!পুরোটাই নাকি নিয়তি।ও,মানুষই তাহলে নিয়তির পরিচালক।তবে আসুন,এদের নিয়তিকে পরিবর্তন করে দেই।এদের পাশে দাড়াই।তাহলে এদের মধ্য থেকেই হয়তো একদিন জন্মাবে হোমার,কেলার,মিল্টন,রুদাকী কিংবা তাহা হোসাইন।মানুষের সমাজে রচিত হবে গান-
"গাও গাও জীবনের গান
জীর্ণতার আজ হোক অবসান
স্বপ্নের পথ ধরে চলো হেটে যাই
মহাজীবনের করি সন্ধান"

মন্তব্য ২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ১৬ ই অক্টোবর, ২০১৫ রাত ১:০৪

অমিত অমি বলেছেন: আলো আসবেই।

২| ১৬ ই অক্টোবর, ২০১৫ রাত ১:৩২

হাসান নাভিদ বলেছেন: হ্যাঁ,আমরা যদি না জাগি তবে কেমনে সকাল হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.