নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মানুষ মরে গেলে পঁচে যায় আর বেঁচে থাকলে বদলায়

সৈয়দ কুতুব

নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!

সৈয়দ কুতুব › বিস্তারিত পোস্টঃ

শুধু দ্বিতীয় রিফাইনারি (ERL-2) টা করে দেখান , সবার মুখ বন্ধ হয়ে যাবে !

৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১২:৫০


গতকাল নাটকীয়তায় ভরা একটা দিন আমরা পার করলাম । রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উদ্বোধনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেন ঝড় বয়ে গেল। পুরো সোশ্যাল মিডিয়া যেন দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে ; একদিকে আওয়ামী লীগের আসল আর বট সাপোর্টারদের সে কী আনন্দ আর জয়ধ্বনি, যেন মরা গাঙে জোয়ার এসেছে। সোশাল মিডিয়া খুললেই শুধু শেখ হাসিনার বন্দনা; আমরা নাকি পারমাণবিক যুগে প্রবেশ করেছি এই নিয়ে মহাউল্লাস । এদিকে তাদের এমন উচ্ছ্বাসে বিএনপি জামায়াতের মন তুষের আগুনের মতো জ্বলছিল। তারা তাদের আসল আর বট ফোর্স নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল কাউন্টার দিতে। একে একে তারা হাজির করল পুরোনো পত্রিকার কাটিং।

পরমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র হবার সময় খবরের কাগজে বের হওয়া দুর্নীতির খবর। তবে এদের মধ্যে সবচেয়ে বড় দুর্নীতির খবর ছিল অন্তর্বর্তী আমলের। শেখ হাসিনা ১২ বিলিয়ন ডলারের প্রজেক্ট থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার নাকি টিউলিপ সিদ্দিকীকে দিয়ে সরিয়ে ফেলেছেন। যদিও রোসাটম সাথে সাথেই প্রতিবাদ জানিয়েছে কিন্তু কে শোনে কার কথা। জুতসই একটা লড়াই জমে উঠেছিল সারাদিন। একদল বলছে যদি চেরনোবিলের মতো কিছু ঘটে যায় তখন কী হবে আর অন্যদল বলছে ফ্যাসিজম দিয়েও যদি এমন উন্নয়ন হয় তবে তাই ভালো।

বিএনপি -জামায়াত ও দমবার পাত্র নয় ; খুঁজে খুঁজে তারা বের করেছে আওয়ামী লীগ সরকার কী কী দুর্নীতি করেছে এই প্রজেক্ট করার সময়। কিছু কিছু আমিও জানতাম যেমন রূপপুরের বালিশ কাণ্ড। একেকটা বালিশের দাম দিয়ে নাকি পুরো খাট বানিয়ে ফেলা যেত। এরপর তারা বলা শুরু করল শেখ হাসিনা লোন নিয়ে এই কাজ করেছে। রাশিয়া দিয়েছে এগারো বিলিয়ন আর এক বিলিয়ন বাংলাদেশ দিয়েছে ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে। শেখ হাসিনা তার পকেটের টাকা খরচ করে নিশ্চয়ই পরমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বানায়নি। তা ছাড়া এখন এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সুদাসল সব বিএনপিকে টানতে হবে। তাহলে শেখ হাসিনার ক্রেডিট কোথায় ?

আমার মতো আমজনতা বসে বসে তাদের দুই পক্ষের লজিকগুলো পড়লাম। আওয়ামী লীগ তো তাদের কথা বলবেই কিন্তু বিএনপি জামায়াতের এত জেলাস হবার কিছুই নেই। ইরান যুদ্ধের এমন ক্রাইসিসে ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কিছুটা হলেও ফ্যামিলি কার্ডের মতো মানুষের সমস্যা সমাধান করতে পারবে। আর এসব প্রজেক্ট কেউ তার পকেটের টাকা খরচ করে বানায় না। সবকিছু পাবলিক প্রপার্টি। বিএনপি সরকার এসে কার্ড সিস্টেম চালু করেছে মানুষের কষ্ট লাঘবের জন্য। এটা কি তাদের পকেটের টাকা? না অবশ্যই। এগুলো সব জনগণের ভ্যাট ট্যাক্সের টাকা। কিন্তু পরিকল্পনা করেছে বিএনপি যার ক্রেডিট তাদের দিতেই হবে ।

আওয়ামী লীগ আগে পরিকল্পনা করেছিল দেখেই আজ পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাস্তবে রূপ পেয়েছে, দিনশেষে পরিকল্পনা ছাড়া বড় কিছু হয় না। আর দুর্নীতি তো বাংলাদেশের খুব পুরনো আর কমন একটা সমস্যা। বিএনপি সরকার যদি আসলেই চায়, তবে তারা তদন্ত করে বের করুক এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র করার সময় কোথায় কী লুটপাট হয়েছে এবং সেটা জনগণের সামনে প্রকাশ করুক। স্বচ্ছভাবে সত্যটা সামনে আনলে বিএনপি এমনিতেই মানুষের বাহবা পাবে। এখন পারমাণবিক কেন্দ্রের বিকল্প কী হতে পারতো তা নিয়ে অহেতুক ভেবে লাভ নেই, কারণ হরমুজ প্রণালীর বর্তমান সংকট আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে এনার্জি ক্রাইসিস হলে আমাদের মতো দেশের অবস্থা কতটা ভয়াবহ হতে পারে।

ভিয়েতনামের দিকে তাকালে দেখা যায় তারা এখন চরম বিপদে পড়ে দক্ষিণ কোরিয়াকে আবার ডাকছে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র করে দেওয়ার জন্য। এ থেকে বোঝা যায় ,এটি একেবারে লস প্রজেক্ট নয়। ভিয়েতনাম যা আজ ভাবছে, বাংলাদেশ সেই পরিকল্পনা আরও ছয় সাত বছর আগেই করে ফেলেছে। যদিও তখন হরমুজ প্রণালীর এই সংকটের কথা কারো মাথায় থাকার কথা না, কারণ আমেরিকা বা ইসরায়েল ছাড়া এমন পরিস্থিতির কথা খুব কম দেশই ভেবেছিল।

আসলে বিএনপির এখানে মন খারাপ করার তেমন কিছুই নেই। রাজনীতিতে তর্কের চেয়ে কাজ দিয়ে জবাব দেওয়াটা বেশি জুতসই। তারা যদি আওয়ামী লীগের চেয়েও ভালো কিছু করে দেখাতে চায়, তবে তাদের সামনে এখন বড় সুযোগ। বিএনপি পরিকল্পনা করেছে যে তারা ১০ হাজার মেগাওয়াট সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে, তো সেটা তারা করে দেখাক। আর যদি সেটা কঠিন মনে হয়, তবে অন্তত ইস্টার্ন রিফাইনারি ইউনিট ২ বা ইআরএল ২ প্রজেক্টটা তারা দ্রুত কমপ্লিট করে ফেলুক। যেহেতু তাদের ইচ্ছা আছে টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার, তাই এই সময়ের মধ্যে প্রজেক্টটা শেষ করা মোটেও অসম্ভব কিছু না।

ইআরএল ২ যদি চালু হয়, তবে আমাদের তেল শোধনের ক্ষমতা ১৫ লাখ মেট্রিক টন থেকে এক লাফে ৫০ লাখ মেট্রিক টনে গিয়ে ঠেকবে। ক্রুড অয়েলের দাম অনেক কম, তাই সরাসরি এই তেল এনে দেশে শোধন করতে পারলে আমাদের ডলার বেঁচে যাবে। এই একটা প্রজেক্ট যদি বিএনপি শেষ করতে পারে, তবে তাদের জনপ্রিয়তা আকাশ ছুঁবে। কারণ তখন আর ভারত থেকে এক লাখ আশি হাজার মেট্রিক টন পরিশোধিত ডিজেল আমাদের কিনতে হবে না। তখনই তারেক রহমানের সেই বিখ্যাত স্লোগান: "দিল্লি নয় পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ" একদম অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবে রূপ নেবে।

তাছাড়া ভবিষ্যতে যদি রাশিয়ার ওপর থেকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়, তবে আমরা সরাসরি সেখান থেকে কম দামে ক্রুড অয়েল আমদানি করতে পারব। তবে শর্ত একটাই, এই নতুন রিফাইনারিকে হেভি ক্রুড অয়েল শোধন করার মতো শক্তিশালী সক্ষমতা সম্পন্ন হতে হবে। আর যদি কোনো কারণে সেটা নাও হয়, তাহলেও সমস্যা নেই; আমরা আরবের লাইট ক্রুড অয়েল বেশি করে এনে দেশেই শোধন করতে পারব। দিনশেষে হিসাবটা খুব সহজ, যেভাবেই হোক লাভটা হবে বাংলাদেশের আর সাশ্রয় হবে আমাদের কষ্টার্জিত ডলার। এই একটা কাজ যদি বিএনপি করে দেখাতে পারে, তবে যারা দিনরাত তাদের সমালোচনা করে বেড়ায়, তাদের মুখ চিরদিনের মতো বন্ধ হয়ে যাবে।


ভিয়েতনামকে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে সহায়তা করবে দক্ষিণ কোরিয়া। ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে দুই দেশের প্রেসিডেন্টের মধ্যে বৈঠকে এই বিষয়ে বোঝাপড়া হয়। #ajkerpatrika

মন্তব্য ২ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:৩৯

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: রাজনীতিতে সততা ও সহনশীলতা আসতে হবে,
নাহলে দেশের উন্নয়ন মুখ থুবড়ে পরবে,

..............................................................
কবে আমরা জনগণের জন্য ,
সৎ ও আন্তরিক রাজনীতিবিদ হবো ???

৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:৪৫

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: সৎ ও আন্তরিক রাজনীতিবিদ হওয়া নট এনাফ । দক্ষতা লাগবে ; তৃণমুল থেকে উঠে আসতে হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.