| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ইন্টারে থাকতে শহরের এক নামকরা কলেজে পড়তাম। আমাদের কলেজে আকর্ষণীয় অনেক কিছুই ছিল। যেমন :দিগন্ত জোড়া মাঠ,পরিপাটি ক্লাসরুম,ফুলের বাগান কিংবা কলেজ কমন রুম। কিন্তু আরো একটা আকর্ষণীয় জিনিস ছিল আমাদের কলেজে যার খ্যাতি এই সব কিছুকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল। সে হতে পারে সুখ্যাতি বা কুখ্যাতি! সবই আপেক্ষিক। আর সে খ্যাতিমান জিনিসটি ছিল আমাদের কলেজের ছাত্র আবুল।
পড়ালেখায় সে সবার সেরা। সে নিজে চল নীতিতে বিশ্বাসী ছিল,কিছুটা হিংসুটেও বটে! যা সাধারণত ছেলেদের মধ্যে দেখা যায় না। সারাদিন রাত সে বই নিয়ে থাকতো। পরীক্ষায় এমন কোন প্রশ্ন নেই যা তাকে আটকাতে পারতো। কিন্তু সে অঙ্কে একটু কাচা ছিল। তার ইচ্ছা ছিল ডাক্তার হবে। অঙ্ক দিয়ে কি দরকার! তাও অনেকের থেকেই সে অঙ্ক ভালো পারতো।
আমাদের এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হলো। প্রথম থেকেই আবুল বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে। সব পরীক্ষাই ভালো হচ্ছে। সবাই পরীক্ষার হল থেকে বেরিয়ে বলে এ+ থাকলেই খুশি কিন্তু আবুল বেরিয়ে বলে ৯০ চাই।
কিন্তু এত কিছুর পরও আবুলের মন ভালো ছিল না। কারন অনেকগুলা পরীক্ষার প্রশ্নই ফাস হয়ে যাচ্ছে। সবাই হাসি মুখে বেরোচ্ছে পরীক্ষার হল থেকে। তা হতে পারে না! অন্য কেউ পরীক্ষায় ভালো করলে আবুলের ভালো লাগে না। পরীক্ষায় ভালো করার অধিকার আবুলের একার। তার উপর আবার প্রশ্ন হাতে পেয়ে নকল করা! আবুল তা কিছুতেই হতে দেবে না।
আবুল শিক্ষামন্ত্রনালয়ে ইমেইল করে। সে ইমেইল পাঠাতে পারে না তাই টাকা দিয়ে অন্যের মাধ্যমে পাঠায়। বড় বড় দৈনিক গুলোতে গিয়ে অভিযোগ করে। সারা দেশে এই নিয়ে আলোচনা হয়। যে করেই হোক প্রশ্ন হাতে পেয়ে পরীক্ষায় ভালো করা আবুল বন্ধ করবেই!
এমন সময়ে আবুলের গনিত পরীক্ষা #চলে আসে। আবুল ভাবে প্রশ্ন তো এইটারো ফাস হইছে। সে অঙ্কে একটু কাচা। মুখস্ত বিদ্যায় খুব পারদর্শী! তাহলে কি প্রশ্নটা যোগাড় করবে?
তার কোন ফেসবুক আইডি নাই। তাকে কেউ প্রশ্ন দিতেও চায় না। অবশেষে একজন দিতে রাজি হয়। রাতের বেলায় আবুল তার বাড়িতে যায় প্রশ্ন আনতে। খাতায় প্রশ্ন তুলে হাসি মুখে বাড়ি ফিরছিল আবুল। ইতোমধ্যে প্রশ্ন ফাস হওয়ার বিপক্ষে #ব্যাপক নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে। নমুনা দেখলেই আটক। আবুল সে সব জানে না। সে পেপার পড়ে না টিভিও দেখে না।
হঠাৎ তার পথ আটকে দাড়ায় পুলিশ। হাতে কি জানতে চায়! আবুল শুকনো মুখে দাড়িয়ে থাকে। পুলিশ খাতা চেক করে। হুমম প্রশ্নের নমুনা পাওয়া গেছে। পরদিন পরীক্ষার হল থেকে আবুল আটক হয়। তার কাছে পাওয়া প্রশ্ন আর সেই প্রশ্ন একই ছিল। আবুলকে জেলে পাঠানো হয়। তার আর পরীক্ষা দেওয়া হয় নাই।
এই ভাবেই সমাপ্তি ঘটল এক পড়ুয়া,মেধাবী কিন্তু হিংসুটে,ঈর্ষাপরায়ন ছাত্রজীবনের।
©somewhere in net ltd.