| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
একটা রাত।
নিঃসাড়, নিঃঝুম একটা রাত।
মাথার ওপর একটা বিশাল কালো শামিয়ানা। তবে তার কালো রংটি নিখাদ গাঢ়ত্ব ধারণ করতে পারেনি, কারণ তার গায়ে শাশ্বত দক্ষতায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে অসংখ্য, অজস্র তারা- যদিও মিটমিটে তারারা মাঝে মাঝেই চাপা পড়ে যাচ্ছে হালকা লালচে মেঘের তলায়, আবার খানিক বাদেই জানান দিচ্ছে নিজেদের।
একটি কৃষ্ণপক্ষের রাত।
সেই অনন্ত বিশাল শামিয়ানার আশ্রয়ে আধো জাগ্রত,আধো ঘুমন্ত অবস্থায় বিশ্রাম করছে পৃথিবী। তার স্থলভাগে বসত গড়েছে মানুষ, স্বর্গ স্খলিত আদম-ইভের বংশধরেরা। পূর্বজন্মের স্মরণে আজও তারা ইডেন বাগানের খোঁজ করে ফেরে, গন্ধম ফলের কামের চেয়েও মহত্তর এক ফালি হৃদস্পর্শী উষ্ণতার সন্ধানে হন্যে হয়ে ঘোরে।
কিন্তু, শয়তানের প্ররোচনায় নিষিদ্ধ ফল ভক্ষণের পর ঈশ্বর আদম-ইভের অনুতাপকে স্বীকৃতি দিলেও তাদের বংশধরদের পূর্ণ নিষ্কৃতি দেননি। তাই মানুষেরা এখনো শুধু সেই স্বর্গীয় চিরবাসন্তী বাগানের খোঁজ করেই মরে। সেই অনুসন্ধানে কত-শত সুতো দিয়ে তিলোত্তমার মতো করে স্বপ্ন তৈরি হয়, হৃদয় জোড়া হয়। আবার সেই আদি পাপের শাস্তি স্বরূপ সেসব বন্ধন হঠাৎ ই পলকা হয়ে যায়, অস্ফুট শব্দে সুতো ছিঁড়ে যায়, উপহার দিয়ে যায় নরকের আর্তনাদ।
এমন অসংখ্য কৃষ্ণপক্ষের রাতেরা সেসব আর্তনাদের সাক্ষী।কৃষ্ণপক্ষের রাতেদের মিটমিটে তারাজ্বলা আকাশ জানে মানুষের সেই পূর্ব স্মৃতির অনুসন্ধান এখনো শেষ হয়নি; আন্দ্রিয়া দেল সার্তোরা এখনো লুক্রেজিয়াদের একটু উষ্ণতার জন্য, সেই উষ্ণতায় নিজের প্রেম মিশিয়ে 'প্যারাডাইজ' গড়ার জন্য একপেশে প্রেম বুকে চেপে মাথা কুটে মরে।
কিন্তু, লুক্রেজিয়া দের সেই উষ্ণতা তোলা থাকে অন্য কারো জন্য।তা আন্দ্রিয়া দের জন্য হতে নেই, হতে পারে না!
এমন কৃষ্ণপক্ষের রাতে আদম-ইভের কোনো এক বংশধর যখন অবাক চোখ দুটি তুলে মেঘ-তারা খচিত বিশাল শামিয়ানা টা দেখতে থাকে, হালকা বাতাসের দোলায় এলোমেলো হয় তার পাট করা চুল, তার কানে গোঁজা ইয়ারফোনে যখন বাজতে থাকে "তুমি রবে নীরবে" তখন সেই মানুষের ভেতর থেকে কে যেন অকস্মাৎ বলে ওঠে,
"ভালো থাকার অসীম ক্ষমতা নিয়ে তোমার জন্ম,
তুমি আর কীসের পেছনে ছুটবে?
(সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত:@ ঋদভিকা পাল)
©somewhere in net ltd.