| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ঘড়িটা টিকটিক করছে, দুটো বাজলো।
রাত বাড়ছে, বেওয়ারিশ কুকুরের দল হল্লা করছে।
আর ঘড়িটা টিকটিক করছে।
আজ অনেকদিন পর আবার তুমি মনে এলে, জানো শুভঙ্কর।
প্রায় দু'বছর পর।
মোৎসার্টের আনন্দগীতির মত এসে চলে গিয়েছিলে তাণ্ডবের তানে, আমার গোলাপের বাগানে ঝড় তুলে।
সেসব আজ অনেকদিনের কথা।
শুভঙ্কর, তুমি শুধু জানতে পাঁচটি টাকা ফেলে দিলে রাস্তায় ঘাটে গোলাপ মেলে।
শুধু জানতে গোলাপ বইতে না পারলে তাকে পায়ের তলায় পিষে ফেলা যায়, তাতে বড় কোনো লাভ-লোকসানের হিসেব কষতে হয় না।
কেবল জানতে না, গোলাপের লালে আফ্রোদিতির রক্তের রং মিশে আছে।
বোঝোনি যে গোলাপের কাঁটা আর গ্রীক দেবীর কবিতানির্মিত হৃদয় আসলে অভিন্ন।
প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে দুটোই বিক্ষত হয়ে চলছে, চলবে সৃষ্টির শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত।
প্রিয়, ঠিক তোমার মত করেই পৃথিবীর লোকেরা নির্বোধ সাজে।
তারা ঠিক তোমার মত করেই 'সহজলভ্য' গোলাপের পাপড়িদের বিমথিত করে।
তারা দেবতার পায়ে নিজেদেরই বলি চড়ায়,
কবিতার বদলে লোহার ঠাণ্ডা নলে পরম যত্নে হাত বুলায়,
জীবাণু-অস্ত্রের তীব্র বাস্তব ঘৃণায় সংগীতের স্বপ্নালু ভালোবাসা ভস্মীভূত করে।
প্রিয়তম,
ঠিক তোমার মত করেই স্নেহের রক্তাক্ত মৃতদেহ মাড়িয়ে তারা নির্মাণ করে একলার রাজত্ব,
পিতৃস্নেহে মেশায় পুরুষের ব্যর্থ হাহাকার;
ঠিক যেমনি করে প্রেয়সীর প্রতিশ্রুতিময় স্নেহে তুমি মেশাও গোলাপের অপমান।
ঘড়িটা টিকটিকিয়ে যাচ্ছে, তিনটে বাজলো।
শহরের আঁধারে তুমি হারিয়ে যাচ্ছ শুভঙ্কর, কালে কালে ফিরে আসবে বলে।
(১০/০৫/২০২০,
ফার্মগেট)
(কবিতাটির প্রসঙ্গে বলে রাখি, ভারতের বিহারে মিস্ত্রীশ্রেণীর এক বাবা সন্তানদের খাবার দিতে না পারার কারণে আত্মহত্যা করেন। যদিও মৃত্যুর আগে তিনি মোবাইল বিক্রি করে খাবারের জোগাড় করে যান, কিন্তু চলমান লকডাউনে পরিবারকে নিয়মিত খাবারের নিশ্চয়তা দিতে না পারার ব্যর্থতাতেই সম্ভবত তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।
আর শুভঙ্কর নামটি গণিতের 'শুভঙ্করের ফাঁকি' ধারণাটি থেকে নেয়া)
ছবি: "Flower of love" by Michael Godard
(সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত: @ঋদভিকা পাল)
©somewhere in net ltd.