| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
একটি পুণ্যস্নান হচ্ছে; আজ, অনেকদিন পর।
শহরের কালো পিচ ধুয়ে যাচ্ছে সোডিয়ামের হলুদে
মুছে যাচ্ছে সমস্ত প্রত্যাখ্যান, অবমাননা, বঞ্চনা আর কান্নার প্রাগৈতিহাসিক গল্পেরা।
পিচের কালো জুড়ে আজ শুধু হলুদের পুণ্য চুম্বন।
কালো পিচ আনন্দে কাঁদছে; আজ, অনেকদিন পর।
তোমার মুখখানায় হলুদ এসে পড়লো, তোমার সৌম্য নিঃসংশয় মুখখানায়।
পরনের আকাশবরণ পাঞ্জাবিটাও শেষমেশ সোডিয়ামের বন্যায় আত্মনিবেদন করলো,
আর আমার ফাগুনরঙা হলুদ শাড়ি তো সেই কবেই মিলেমিশে একাকার হয়ে বসে আছে।
ফাল্গুনী ফুলার রোড আমাদের বরণ করেছে; আজ, অনেকদিন পর।
স্ট্রিট লাইটের আলো পেরিয়ে আমরা আঁধারে এলাম,
বাসন্তী অমাবস্যার আঁধার।
কিন্তু, কী আশ্চর্য, সে আঁধার আজ আমাদের গ্রাস করলো না!
বোধ করি, সাহসই পেলো না।
তোমার মুখখানি দেখতে পাচ্ছি না,আঁধার ঢেকে দিয়েছে;
কিন্তু, বেশ টের পাচ্ছি, তোমার হাতের আঙ্গুলগুলো আশ্চর্যসুন্দর দৃঢ়তায় আমায় ধরে আছে।
আমার আঙ্গুলগুলোও তোমায় সপ্রাণে জড়িয়ে আছে।
আমাদের অস্তিত্বে মধ্যরাত্রির তারারা চুঁইয়ে পড়ছে; আজ, অনেকদিন পর।
আমার জরায়ুতে আজ প্রাণসঞ্চার হচ্ছে।
ফাল্গুনী অমাবস্যার পুণ্যলগ্নে মধ্যরাত্রির তারারা সঞ্জীবনী মন্ত্রোচ্চারণ করছে,
চিরপ্রেমিকা বসন্ত নবসজ্জিতা হয়ে পাঁচ মাস বয়সী ভ্রূণে প্রাণদান করবে; আজ, অনেকদিন পর।
পৃথিবী জানে, তুমি আর আমি জানি,
এই বসন্ত মরে গেছিল।
সেই যেবার রাষ্ট্রের নামে,মন্দির-মসজিদের নামে মানুষের বলিদান হয়েছিল,
'চোখের বদলে চোখ চাই' বলে মানুষ দানব হয়েছিল,
বারুদের ছাইয়ের তলে চাপা পড়েছিল কৃষ্ণচূড়ার লাল,
এই বসন্ত সেদিনই ছটফটিয়ে মারা গেছিল।
তারপর, সেই বসন্তেই কোথা থেকে এক মানুষ এলো।
'মানুষ' এর সংবিধান ছুঁড়ে ফেলে যখন সে মানুষ বাঁচাতে গেল,
বরণ করলো ঘৃণার রাক্ষুসে থাবা,
জানো তো, সেদিনই এই বসন্তের পুনর্জন্ম হলো।
তারও পর, সেই বসন্তে যেদিন তুমি এলে
বসন্ত সেদিন পরিপূর্ণ বেঁচে উঠলো।
তারার রাজ্যে আজ আমাদের অনাগতের জন্য প্রার্থনা-
কৃষ্ণচূড়ার লালবিহীন বসন্ত না আসুক পৃথিবীতে,
মানুষের শবে-রক্তে না কলঙ্কিত হোক ফাল্গুনী শুক্লপক্ষ।
আমাদের চোখের মণিতে মধ্যরাত্রির তারারা চুঁইয়ে পড়ছে; আজ, অনেকদিনের পর।
(সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত: ঋদভিকা পাল)
©somewhere in net ltd.