| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
প্রিয় প্রকৃতি,
শুভেচ্ছা জেনো। জানি তুমি ভালো নেই, তাই আর কুশলপ্রশ্নাদি করে নিজেকে বিব্রত করবো না।
তোমার রূপমুগ্ধ কবিদের কবিতায় পড়েছি, তুমি এক কালে পরীদেরও জননী ছিলে। তখন পৃথিবীর নদ-নদী-খালে-বিলে-মাঠে মানুষের অন্ধ ভোগবাদিতার সাক্ষীস্বরূপ চিপসের মোড়ক, পলিথিন ব্যাগ, সিগারেটের ফিল্টার ইত্যাদি পড়ে থাকতো না। কিন্তু আজকাল পরীরা পালিয়েছে, তাদের আর সেই সাথে তোমার মোহময় জাদুর জায়গা নিয়েছে এইসব কীটদের দূষণ। আধুনিক মানুষের লাগামছাড়া উচ্চাকাঙ্ক্ষার ইন্ধন জুগিয়ে বিষাক্ত বর্জ্য তোমায় বারবার দূষিত করছে। এই পাশবিক চিহ্নগুলো আমি দেখি, আমরা দেখি; কিন্তু দেখেও না দেখার ভান করি প্রতিনিয়ত।
আচ্ছা, বলতে পারো, আধুনিকতার ভোগবাদী বিষকে শায়েস্তা করবার জন্যই কী ঈশ্বরের করোনা-মহাযজ্ঞ? গীতায় শ্রীকৃষ্ণ যেমন বলেছেন, সুগভীর কলুষ থেকে ধর্মকে রক্ষা করবার জন্যই যুগে যুগে ঈশ্বরের আবির্ভাব, ঠিক তেমনি করে সর্বংসহা তোমায় ক্রমবর্ধমান গ্লানি থেকে বাঁচাতেই কী তাঁর এ মহাপরিকল্পনা? কে জানে!
তবে বলছি, মানুষের অমিতাচারে অতিষ্ঠ হয়ে তুমি যদি রুদ্রাণী মূর্তি ধারণ করো, আম্ফানের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড করো শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কালো ধোঁয়াকে দেবতা মানা মানুষদের, তাতে আমি আমারই দোষ খুঁজে পাই, আমার স্বজাতিরই অমানবিকতা দেখি। সহ্যের সীমা অতিক্রান্ত হলে যে শ্রীকৃষ্ণের শিশুপাল বধও ঘটে, তা আমি জানি।
পালনকর্ত্রী, আমি লজ্জিত। আমায়, আমাদের ক্ষমা কোরো।
ইতি,
তোমারই মানবসন্তান
(সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত: ঋদভিকা পাল)
©somewhere in net ltd.
১|
১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১২:৪৩
মা.হাসান বলেছেন: সহমত