নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

টুকটাকঝিজিবিজি লেখি

ইমরান

ইমরানসিড

আমি ইমরান

ইমরানসিড › বিস্তারিত পোস্টঃ

গল্পঃ পরকীয়া

২০ শে জুন, ২০১৪ বিকাল ৪:১৬

মাগরিবের নামাজ পড়ে বের হয়ে একলাফে ছোট কাঁদার স্তুপ পার হয় মাহাতাব। কিন্তু বিধি বাম বাপ পা টা কাঁদায় আটকে গেছে, জোড়ে টান দিতে গিয়ে স্যান্ডেলের ফিতা খুলে যায়।

ধুর শালা, বলে হাত দিয়েই স্যান্ডেল তুলে নেয়। মনুর দোকানের সামনে জমে থাকা পানি তে স্যান্ডেল এর তলা ধুয়ে নেয়। হাত দিয়ে ফিতা ঠিক করে স্বশব্দে মাটিতে ফেলে পায়ে পড়ে মাহাতাব।

সকাল থেকে ঝিরঝির বৃষ্টি হচ্ছে, মাঝে মাঝে একটু হাওয়া আসছে, মনু চায়ের দোকানের পোয়ালের ( ধান গাছ) চালা ( ঘর) দিয়ে চুইয়ে চুইয়ে পানি পড়ে।

মাহাতাব বেঞ্চের উপর বসে কুপির উপর তাকায় থাকে, একটা বড় শলতের দলা জমা হয়েছে কুঁপির মাথা।

বড় মিঞা গাঁয়ের খবর জানো বলে মাহাতাবের দিকে হাঁক দেয় ছাত্তার।

---না গঞ্জে গেছিলাম বিয়ান ( সকাল) বেলা, হইটা কি?

--- ওরে আল্লাহ গাঁয়ে এত্ত বড় দহরম মহরম হইলো, আর তোমরা কিছু জানেন না।

--- হইছে টা কি কইবা তো?

--- তোমরা মাইজ্ঝা বাড়ির বউ রে দেকছেন?

-- হ, জমিলা না? উদুনংকা ( পরশু) দেখছি, ঘাটে পানি আনতে গেছিলো, তা কি হইছে??

-- হ হ জমিলাই। আইজকা হাত মুখ ধুইতে নদীত গেছে,পিন্দের কাপর খুইলা থুইছে আর মেম্বার বাড়ির মাষ্টর জমিলার পিন্দের কাপর

লইয়া পালাইছে।

--- ধুর মিঞা কি কও?

--- বড়মিঞা কাইল জুমার পর শালিস আছে। মেম্বার বাড়িত, আইসো।

বলে পলিথিন মাথায় জড়ায় শিষ দিতে দিতে চলে যায় ছাত্তার। খবর টা আগেই পেয়েছে বড়মিঞা মাহাতাব। তারপরেও চেপে রাখে...

-------

হুউ হুহ, ভরা মজলিশে একটু কেঁশে উঠে এক কোনায় দাড়িয়ে থাকা মাস্টারের দিকে তাকায় সে মসজিদের ইমাম। গুন গুনানি কমে আসে। কয়েকটা বাচ্চা তার পিছে ঘুরছে আর মাঝে মাঝ্র ফ্যাল ফ্যলা করে তাকাচ্ছে। দুরে জমিলা ঘোমটা দিয়ে দাড়িয়ে আছে। কয়েকটা বউ তাকে ঘিড়ে দাড়িয়ে আছে। শাড়ির আচল টেনে দাঁতে চেপে রেখেছে।

মেম্বার সাব কি করবেন কন?

মেম্বারঃ হ, বিপুল মাইজ্ঝা রে ডাকো।

বিপুলঃ হ চাচা কন কি কইবেন?

-- তোমার বেটিমানুষের লগে মাস্টর কি করছে?

(হাউমাউ করে উঠে বিপুল) চাচা লজ্জা-সরমের কথা কোনা মুখ দিয়া বাহির হয় না। বেবাকে ( সবাই) জানে ওই খবিশের বাচ্চা মাস্টর কি করছে আমি এর বিচার চাই

-- আহা কান্না থামাও, আমি তো বিচারের জন্য বেবাক রে বুলাইছি ( ডেকেছি) । আচ্ছা কে দেকছে মাস্টর এই কাম করছে??

--- কিছুটা উঁচু স্বরে কেঁদে উঠে বিপুল। জাহানারা ভাবী দেখছে।

--আচ্ছা জাহানারে ডাকো?

--- জ্বে মেম্বার সাব মুই দেখছি ।

-- কি দেখছো?

--- কাইল বিয়ান বেলা পানি আনবার জনতে ঘাটে যাবার লাগছিনু, পথত দেখং মাস্টর সাব বড় আম গাছ টার পিছত কি করতাছে। মুইও পিছে পিছে গিয়া দেখং কোন বা বেটি মানুষের কাপর লুকি থুইছে।

কনু এটে কি করেন? আর এইটা কার কাপর?

কয়, " আমি জানি না, কে যেন রেখেছে"।

পরে শুননু এইটা জমিলার কাপর।

--- (কিছু টা খেঁকিয়ে উঠে মাস্টার) মেম্বার সাহেব সব মিথ্যে কথা,আমি বার বার বলেছি আমি আম গাছের নিচে কাপর গুলো পেয়েছি।

--- হুম। তা সবার কি মনে হয় এইটা মাস্টরের কাম।বড়মিঞা তুমি কি কও?

-- আমি আর কি কইতাম মেম্বার চাচা, যা দিন কাল আইছে, তার মধ্যে গ্রামে আপনি এক জোয়ান পোলারে আইনা থুইছেন। জাহানারা ভাবী তো নিজ চক্ষে দেখছেন তাইলে আর তো কিছু কওনের নাই।একটা সুরাহা করেন।

--- ইমাম সাহেব আপনি কিছু কইবেন?

--- মেম্বার সাব আপনি গ্রামের মাথা, আপনার কথা কেউ ফেলবে না।

--- আচ্ছা তাইলে হইলো মাস্টর জমিলার কাপর নিয়ে লুকাইছিল,এর জন্য মাস্টারের সাজা হইবে। আইজ সাঁঝের ( সন্ধ্যার) আগেই মাস্টর এই গ্রাম ছাড়িয়া চলিয়া যাইবে।

এরপর কোনদিন যদি মাস্টর রে এই গ্রামে দেখা যায় তাইলে তার মুন্ডুপাত ( ন্যারা) করা হইবে।

-------------------

কুঁপির বাতি নিভিয়ে বিপুলের পাশে শুয়ে পড়ে জমিলা।বিপুলের হাত এসে জমিলার বুকে পড়ে। আজকাল এই ছোঁয়াতে শিহরিত হয় না জমিলা, বরং বিরক্ত লাগে।

রাত বিরাতে তলপেটের আদর টাকে বড্ড যন্ত্রনা মনে হয়। ঘামে ভেজা শরীরের উপর এক প্রকার অত্যাচার মনে হয়।

কুহু একটা ডাক আসে জমিলার কানে। খেয়াল করে। আবার ডাক আসে, একটু জোরে।

এটা তো মাহাতাবের আওয়াজ।

স্বামীর পাশ থেকে সন্তপর্নে উঠে আসে জমিলা। দরজা খুলতে গিয়ে ক্যাচ করে একটা আওয়াজ আসে।

পিছনে ঘুরে তাকায়, নাহ বিপুল ঘুমাচ্ছে, বের হয়ে আসে জমিলা।

হ্যাচকা একটা টান দেয় জমিলার হাতে।

---বড়মিঞা কি করো, লাগে তো।

---হুসসসসস আস্তে, তোমার লগে কথা আছে।

--- আর কি কথা, নিরপরাধ মাস্টর রে গ্রাম ছাড়া কইরা স্বাধ মেটেনাই, আর জাহানারা আপাও এত্ত বড় ডাহা মিছা কইলো কেমনে?

--- মুই তো সব তোমার লয়াইগা করছি।

-- হ হ আর মিছা কইয়ো না, আল্লাহ মুখে বড়বেরাম ( কুষ্ট রোগ) দিবে। মোর লাইগা করলে মোরে নিকাহ্ করলা না কেন?

তাইলে কি এই রাইতপোহাতে এত কষ্ট করা লাগে।

--- সবি কপালের দোষ

--- অহন কি কইবা কও, মাইজ্ঝা জাগনা পাইয়া মোক না পাইলে কেলেংকারী হয়া যাইবে। তখন মোক দড়ি গলাত দেওন ছাড়া উপায় নাই।

--- ঘাটে যাইবা??

-- এতো রাইতে ডর করে। পুরুষ মিনশে বিশ্বাস নাই।

--- আরে আহো তো ( বলে জমিলার হাত শক্ত করে টেনে নিয়ে যায় মাহাতাব) ।

সন্ধ্যা থেকে আবার ঝিরঝির বৃষ্টি হচ্ছে। ফোটা ফোটা বৃষ্টি জমিলার মুখে পরছে। ঘাটের বাধানো সিঁড়ির উপর শুয়ে সে, দু চোখ বন্ধ করে। মাহাতাব তার উপরে এক সুখ সাগরে ভেসে যাচ্ছে....

সিঁড়ির ভাঙ্গা অংশ জমিলার পিঠে লেগে কেটে যায়। রক্ত গড়িয়ে পড়ে, ককিয়ে উঠে জমিলা...

পিঠের যন্ত্রনায় না, একটা সুখে ককিয়ে উঠে।

মাহতাব রা এ সমাজে বড়মিঞা হয়ে বেঁচে থাকে, মাস্টরেরা হয় কলঙ্কীত, ঠিক চাঁদের মত।

আজ আকাশ টা বেশ অন্ধকার, গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে, দুটি মানুষের আদিম খেলা গড়িয়ে যাচ্ছে........

মন্তব্য ৪ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ২২ শে জুন, ২০১৪ রাত ৮:১৩

আহসানের ব্লগ বলেছেন: সামহোয়ার ইন ব্লগে আপনাকে স্বাগতম ।
ব্লগিং করুন ,
পড়ুন ।
অন্যের পোস্টে মন্তব্য করে উত্‍সাহিত করুন ।
আর ভাল থাকুন । :)
লেখাটি পড়লাম :)

২| ২৩ শে জুন, ২০১৪ রাত ১২:১৭

ইমরানসিড বলেছেন: লেখা টি কেমন লেগেছে ???

৩| ৩০ শে জুন, ২০১৪ ভোর ৪:০০

ইফতেখার ভূইয়া বলেছেন: আপনার লিখার হাত বেশ ভালো। সামাজিক কোষ্ঠকাঠিণ্যের বিষয়গুলোর একটি হলো আপনার গল্পের প্রতিপাদ্য, তাই ভালো লেগেছে। হাত খুলে লিখে যান। শুভ কামনা রইল।

৪| ০১ লা জুলাই, ২০১৪ রাত ৩:৩০

ইমরানসিড বলেছেন: ধন্যবাদ ভাইয়া

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.