নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

টুকটাকঝিজিবিজি লেখি

ইমরান

ইমরানসিড

আমি ইমরান

ইমরানসিড › বিস্তারিত পোস্টঃ

আমার সেরা লেখার একটি লেখা এটি

০২ রা জুলাই, ২০১৪ রাত ২:৩০

ড্রেনের পাশে বসে ড্রেনের ভিতর পা ঝুলিয়ে বসে আছে সমির। দুই পায়ের গোড়ালি দিয়ে একের পর এক আঘাতের খেলা খেলছে ড্রেনের সাথে। একটা পিঁপড়া কোন আনমনে চলতে গিয়ে পিষ্ট হয়ে গেছে সেটার টেরই পায় নি সমির।



ভ্যান এর ক্রিং ক্রিং একটা শব্দ আসে, কেউ একজন বলছে তরমুজ নিবেন তরমুজ। ড্রেনের উপর দাড়া হয় সমির। বাম হাত দিয়ে প্যান্টের পিছন টা ঝাড়া দেয়।প্যান্টের নিচের ছোট ছেঁড়া অংশ টা হালকা দেখা যায়।

এটা ছেঁড়া না, এটা দারিদ্র দেখার বায়োস্কোপ। ভোঁ একটা দৌড় দেয় সমির।



জমির চা আইজের তরমুজ খাসা দেখোন যায়।

-- অয় টাটকা জমিনের মাল।

ওই সমির তোর মারে কতো আগের ট্যাহা দিতই নি?



--আইজকা দিত না। চাচা আইজ একটা দেও খাই।

-- হ খাওনেয়ালার বেটা আইছে । তা আইজকার পাইশা কি তোর বাপে দিব??



--আব্বায় দিত কেমনে? হেয় তো ভাগছে।

-- অহন তুই ও ভাগ। ব্যাবসার অবস্থা ভালা না, কাইয়ো তরমুজ খাবার চায় না।



-------

মাটির শক্ত অংশটায় কিছু একটা করে সমির। রোজ করে। হয়তো হিসাব করে। কিসের হিসাব সেটা সমির বুঝে না,মাথায় আসে না। হয়তো জীবনের হিসাব। হো হো জীবন?

জীবনের মানে বুঝলে তো হিসাব টা রোজ রোজ করতে হয় না।



কিরে সমির কামে যাইতি না?

-- নারে রাজু আজ যাইতাম না।



-- ক্যান, যাইতি না ক্যান?

-- আম্মার বেড়াম।



-- কি হইছে?

-- পেটত বিষ ( ব্যাথা) ।



কামে না গেলে খাইতি কি? খাইছিস কিছু?

--না, ভোক ( ক্ষিদা) নাই। তুই যা গা।



------



পেটে হাত দিয়ে কুকরে যাওয়া মুখ নিয়ে বসে আছে সমির। ভর দুপুর, খালি পেটের ভিতর থেকে গুড় গুড় আওয়াজ আসে। সমির কান পেতে শুনে। সেটা আওয়াজ না বেঁচে থাকার কান্না। প্রচন্ড ক্ষুদা চেপে বসেছে সমিরের পেটে ।

ভদ্র পল্লীর পেটে ক্ষুদারা যায়গা পায় না তাই বস্তি পল্লীর পেটে এদের বাস। ক্ষিদার চোটে রাস্তার ওপাশে ডাষ্টবিন টায় নজর যায় সমিরের।



ডাষ্টবিনের পলিথিনের ব্যাগ গুলো নাড়াচাড়া করে সে।পাশে একটা ও কুই কুই করে কিছু খুজছে। খাবার ছাড়া অন্য কিছু না,এটা সমির বুঝে। নাহ উপরতলার বেঁচে যাওয়া খাবার এর ব্যাগ এখনো জমা হয় নি।



ফিরে আসে সে। রাস্তার এপাশে বসে থাকে। কিছুক্ষন পর কুকুর টাও সমিরের পাশে বসে। সমির যে তার মতই অবহেলিত এটা কুকুরের মাথায় আসে। ঠিক সমিরের গাঁ ঘেসে বসে কুকুর টা । সমির নরম নরম শরীর পেয়ে হেলান দিয়ে বসে।



হঠাৎ একটা সাদা পলিথিনের ব্যাগ স্বশব্দে

ডাষ্টবিনের মাঝে পড়ে। মূহর্তেই ৩/৪ কাক কা কা শব্দে ডেকে উঠে ডাষ্টবিনের পাশে উড়ে আসে। কুকুর টাও দৌড় দেয়। এক দৌড়ে পলিথিন ব্যাগ মুখে তুলে নেয়।

রাস্তা পাড় হয়ে সমিরের দিকে ছুটে আসে। সমির হাসি দেয়...



২ টা মুখ খাচ্ছে। পাশাপাশি, একটা কুকুর আরেকটা মানুষের বাচ্চা। একই খাবার, একই স্বাদ, একই ব্যাগে।



ওরা খাক, আমি দেখি। মানবতা দেখি। কুকুরের মানবতা। ভাগ করে খাবার খেয়ে নেওয়ার দাম্ভিকতা।

আমি কুকুর না, কুকুরের থেকেও অধম। আমি নিজের খাবার কারো সাথে শেয়ার করি না।

মন্তব্য ৭ টি রেটিং +৪/-০

মন্তব্য (৭) মন্তব্য লিখুন

১| ০২ রা জুলাই, ২০১৪ ভোর ৪:২৪

পে পোঁ কইরেন না, যান। বলেছেন: valo likhechen

২| ০২ রা জুলাই, ২০১৪ সকাল ১০:৪৬

অতৃপ্ত অনুভূতি ! বলেছেন: সত্যিই..............!

৩| ০২ রা জুলাই, ২০১৪ বিকাল ৪:৩৯

ইমরানসিড বলেছেন: :)

৪| ০২ রা জুলাই, ২০১৪ বিকাল ৪:৩৯

ইমরানসিড বলেছেন: :)

৫| ০২ রা জুলাই, ২০১৪ বিকাল ৪:৩৯

ইমরানসিড বলেছেন: :)

৬| ০২ রা জুলাই, ২০১৪ রাত ১১:৪৭

এম. এ. হায়দার বলেছেন: চোখে জল এসে গেল পড়ে... প্রিয়-তে নিচ্ছি।

আর আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা....

৭| ০৩ রা জুলাই, ২০১৪ রাত ২:১৫

ইমরানসিড বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ ভাই

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.