নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ইয়ান্তোজোন্স

জীবনে ভোগবিলাসের শান্তি ক্ষণস্থায়ী, মানুষের ভালোবাসা অর্জনের শান্তি চিরস্থায়ী।

ইয়ান্তোজোন্স › বিস্তারিত পোস্টঃ

ক্যারিয়ারঃ পর্ব ২

০৯ ই অক্টোবর, ২০১৩ রাত ১০:১৭

আজ শুক্রবার, স্কুল ছুটি। আকাশদের থানায় ওদের বাড়ির কাছাকাছি মাঠ বলতে দক্ষিনপাড়ার ঐ মাঠটাই আছে, স্কুলের মাঠ যা আছে তাতো তিন মাইল দূরে। সকালে আকাশ কয়েক লোকমা ভাত খেয়ে ফুটবল নিয়ে আদনানের সাথে বের হয়ে পড়ল। দক্ষিন পাড়ায় বর্ষার মৌসুমের আগে পড়ে সবসময়ই ফুটবল চলে, যদিও শীতে ব্যাডমিন্টন একটু বেশীই খেলা হয়। কিন্তু আকাশের ফুটবল ছাড়া আর অন্য খেলা ভালো লাগেনা। সঞ্জিতবাবুর দোকানের সামনে দিয়ে যাবার সময় চোখাচোখি হলে বাবু জিজ্ঞেস করল, "ও আকাশ যাস কনে ?" একটা উজ্জ্বল অকৃতিম হাসি দিয়ে আকাশ বলল, “দক্ষিনপাড়ায় কাকাবাবু।" পাশ থেকে আদনান জিজ্ঞেস করল, “তুমি কেমন আছো, কাকাবাবু ?” “অনেক ভালো আছি বাপ!” বলে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে সঞ্জিত দাস। আবার পালটা প্রশ্ন করে “শুনছিস আদনান, আজকে যে সিকদার সাবের বড় পোলা আইতাসে ?” “মানে ? কেডা ?” আদনানের প্রশ্ন। “রুবেল শিকদার, থাকে ইতালীতে, কাম করে। “ কি কও !”, আদনান অবাক হয়। “হ, এই লইগাই কই, ওরে ধর। তুইও বিদেশ যা।” মাথা নাড়াতে নাড়াতে হাটতে থাকে দুই ভাই। সঞ্জিনবাবু আবার চিৎকার করে বলে, “দিদিকেও কথাটা কইস” এই সঞ্জিতবাবু ও তার স্ত্রী আকাশের বাবা মারা যাবার পর ওদের পরিবারের পাশে থেকেছে এখনো আছে, বিপদে আপদে সবসময়ই সাহায্য করে, তার এক ছেলে আর এক মেয়ে বিয়ে করে ঢাকায় থাকে, খোজ নেয়না তাদের, একমাত্র বউকে নিয়ে তার জীবনের শেষার্ধ চলে। সঞ্জিতবাবুর বড়ভাই আর আকাশের বাবা বাল্যকালের বন্ধু, নদীতে যখন ওদের বাড়ি চলে যায় তখন এই সঞ্জিতবাবুর বাবাকেই নিজের দুই একর জায়গা দিয়ে চাষবাস করতে দিয়েছিলেন আকাশের দাদা। একারনেই সঞ্জিতবাবুর এই দুই ভাইয়ের প্রতি তার ভালবাসাটা তীব্র। দক্ষিনপাড়ায় যেতে খেলার সাথীদের কয়েকজনকে পেল আকাশ। মিঠুন নামের এক ছেলে আকাশকে লক্ষ করে “কিরে পিচ্চি ! তোর দলবল কই ?” “কেন ? দলবল দিয়া কি হইব ? আমি আইসি তাতে চলেনা ?” এমন ক্ষ্যাপা মিশ্রিত উত্তরে ওরা বেশ মজা পেল। “পোলাপাইন তো আজকে গেছে নদীর পাড়ে মাছ ধরতে, খেলব কে ?” বিকাশের প্রশ্ন। পাশ থেকে আরেকজন বলে “গেছে তো কি হইসে ? আমরা যারা আছি তারাই খেলুম। ঐ বাট কর।” চৈত্র মাসের কাঠফাটা গরমে তারা খেলতে থাকল। আকাশ, সাদ্দামের কাছে ওয়ান টু ওয়ানে পাস দিয়ে বিপক্ষের দুইজনের মাঝ দিয়ে সামনে এগিয়ে নিয়ে গেল। একজন ডিফেন্ডার কাছে এসে স্লাইড করে বল নেবার চেষ্টা করছে বুঝেই নিজেই নিজেকে থ্রু দিল। শেষবারের মত বাঁধা হল গোলকিপার সেলিম। সেলিম খুব আত্মবিশ্বাসের সাথে দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়াল। এবার আকাশ সুযোগ বুঝে জোরে কিক করল সেলিমের দুই পায়ের মাঝ বরারব। বল মাটি কামরে গোল পোস্টের ভিতর ঢুকে গেল। গোওওওওওল !!! ঐ মাঠের পাশের পথ দিয়েই বাজার করতে শিকদার বাড়ির বড় ছেলে রুবেল যাচ্ছিল জনা পাচেক লোকের সাথে, কথা বলছিল ইতালীর জীবন নিয়ে। হঠাত আকাশের দিকে চোখ পরতেই পাশে থাকা একজনকে জিজ্ঞেস করে এই ছেলেটা কে ? পাশের জন বলে, “কাশেম মিয়ার ছোট ছেলে ?” “কোন কাশেম মিয়া ? আদনানের বাপ?” জিজ্ঞেস করে রুবেল, “হ ! ভাই। ওর নাম আকাশ” কথা বলতে বলতে তারা বাজারের দিকে হাটতে থাকে, খেলা চলতে থাকে ............

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.