| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ঈদ অথবা দুর্গা পূজা সার্বজনীন কিনা এই বিতর্কের অবতারণা করা এই যুগে হাস্যকর ছাড়া আর কিছুই মনে করি না।
ঈদ, আমার ধর্মের একটি উৎসব। ঈদের উৎসবে আমাদের দেশে আয়োজন করা হয় নানা আচার অনুষ্ঠানের। বিভিন্ন বাসা বাড়িতে রান্না করা হয় চমৎকার সব খাবার। এখন প্রশ্ন হলো এই যে এত আয়োজন অনুষ্ঠান করা হচ্ছে এসবই কি মুসলমানদের জন্য? হিন্দুরা কি এর বাইরে থাকেন?
আমি দু'টো ঈদ এমন কাটিয়েছি যে, আমি যে মসজীদে ঈদের নামাজ পড়ি, তার ঠিক বাইরে আমার একজন বন্ধু সান্তুনু দাস পায়জামা পাঞ্জাবী পড়ে দাঁড়িয়ে থাকত। আমার নামাজ শেষ হলে, আমি তার সাথে গিয়ে কোলাকুলি করতাম। তারপর আমার বাসায় নিয়ে যেতাম। তাকে খিচুড়ি ভোগ করাতাম। ঠিক তেমনি, তার পূজোর সময় আমি একই ভাবে তার বাড়িতেও গিয়েছি। সেখানে নানারকম মুখরোচক খাবার খেয়েছি, পূজা মন্ডপে সে দেবীকে প্রণাম করেছে আর আমি পাশে দাঁড়িয়ে দেবীদের সাজ পোষাক দেখেছি, পুরোহিতের মন্ত্র পড়া দেখেছি, আর ঢাকের শব্দ শুনেছি।
প্রত্যেকটা ধর্মীয় উৎসবে দুইটা জিনিস থাকে। একটা হলো প্রার্থনা পর্ব। আরেকটি হলো উৎসব। এই উৎসবটা সার্বজনীন হতে দোষ কোথায়? আমি জানি না। আমি তো পূজা করছি না, তা বলে কি, মন্ডপে গেলে আমার ধর্ম নষ্ট হয়ে গেল? এটা কোন যুক্তিই হতে পারে কি?
হিন্দু কোন বন্ধুকে দেখিনি, আমি তার সাথে কোলাকুলি করতে গেলে সে বিচলিত হচ্ছে। তার মনে তো এই প্রশ্ন জাগে না, যে এটা মুসলিম রীতি, আমি কেন এটা করছি। এটা উদারতা বৈ আর কিছু নয়। পক্ষান্তরে এসব নিয়ে মুসলমানদের মধ্যে একটা বিশালাকার হীনমন্যতা কাজ করে। কেন পূজা দেখতে যাব? কেন কোন হিন্দুকে আমি শারদীয়া শুভেচ্ছা জানাবো?
আমি মিশনারি স্কুলে পড়াশোনা করেছি। সেখানে এক ক্লাসে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান সবাই একসাথে ক্লাস করতাম। কখনও রোজার সময় দেখতাম না কোন হিন্দু, অথবা বৌদ্ধ আমাদের সামনে পানি খাচ্ছে। তার মনে তো এই জিনিসের উদ্ভব হয়নি, যে ও রোজা রাখছে তো আমার কি? আমি পানি খাই, খাবার খাই। মুসলমানদের মধ্যে কি এই সহানুভূতিটি কাজ করত?
আমরা ইফতার পার্টি করতাম। সেখানে সব ধর্মের লোকের সমাগম হতো। এবং ইফতারের খাবার সামনে নিয়ে যে অপেক্ষা করতে হয় তা হিন্দু, খ্রিষ্টানরাও করত। আযানের সাথে সাথে তারাও রোজা ভাঙ্গার মত একটি খেজুর খেয়ে খাওয়া শুরু করত। কোনদিন বিধর্মী একজনকেও দেখলাম না, যে ইফতার পার্টিতে আসে নাই। তাদের মনে একটি বারের জন্যও কি উদ্ভব হয়না, যে আযানের সাথে সাথে আমি খাচ্ছি, আমার তো ধর্ম চলে গেল।
ইফতার পার্টিও একটি ছোট্ট উৎসবের মতই নয় কি? এর পরে বসত আড্ডা। সেই আড্ডায় আমরা হারিয়ে যেতাম কথার জঙ্গলে। তারপরে একসাথে ডিনার সেড়ে চলে যেতাম যে যার বাসায়।
ঈদকে যদি আপনারা সার্বজনীন বলতে না চান, তাহলে এমন ব্যবস্থা করুন না, যে ঈদ উৎসবের যত আয়োজন হয়, সবকিছু থেকে অন্য ধর্মাবলম্বীদের বাদ দেওয়া। সেটা কি সম্ভব? ঈদের আগেরদিন একটি গান বাজে, "রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ", এইগানটা দেশের মানুষের কাছে এত জনপ্রিয় যে আমার পরিচিত একজন বিধর্মি ছেলে আমার কাছ থেকে এই গানটি চেয়ে নিয়ে গিয়েছিল। পারবেন, এই গান থেকে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের বিরত রাখতে?
ঈদের অন্যান্য যে সকল আয়োজন হয়, যেমন কনসার্ট, গান, হাসির অনুষ্ঠান, নাটক...কেউ কি গুণে বলতে পারবে, ক'টা হিন্দু এসব দেখলো বা ক'টা মুসলমানই বা দেখলো? তা কি সম্ভব?
দুর্গোৎসবে যোগ দেওয়া মানে পূজা করা নয়, দেবীর আরাধনা করা নয়। এর অর্থ হলো, এই উৎসবের সমস্ত অনুষ্ঠানকে উপভোগ করা, অন্তর দিয়ে এর মাহাত্ব উপলব্ধি করা । কোনভাবেই কোন গণ্ডি দিয়ে একে কিছু মানুষের জন্য আলাদা করে দেওয়া যাবে না।
আবারও বলছি, ধর্মীয় উৎসবের দুইটি দিক থাকে। একটা ধর্মীয় আচার পালন, যেটা নির্দিষ্ট ধর্মের লোকেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু আনুসাঙ্গিক উৎসবের সমস্তই সার্বজনীন। এইজন্য একে বলে সার্বজনীন দুর্গোৎসব।
এবার আসি ভারতের কথায়। ভারতে আমাদের থেকে বেশি মুসলমান আছে। অথচ সেই দেশের চ্যানেলগুলো নাকি ঈদ নিয়ে মাতামাতি করে না। তাহলে কি এই ব্যপারে আমাদের ভারতীয়দের অনুসরণ করতে হবে? এমনিতে ভারতকে আমরা দেখতে পারি না, কিন্তু উদাহরণ টানতে তো আমাদের ভারতের কাছেই যেতে হয়।
ভারতে মুসলমানদের অবস্থা কি সেটা জাকির নায়েকের সম্মেলন দেখলেই বুঝা যায়। এমন একটা সম্মেলন কি আমরা হিন্দু ধর্মাবম্বীদের করত দিতাম? সে প্রশ্নটা একবার নিজেকে করে দেখুন। মমতা ব্যানার্জির দল তৃণমূল কংগ্রেসে কতজন মুসলমান এমপি আছে একবার দেখে নিন Click This Link । এটা শুধু পশ্চিম বাংলার চিত্র। পুরো ইন্ডিয়ার কথা বাদই দিলাম। এবার বলেন, আমাদের দেশে কয়জন হিন্দু, খ্রীষ্টান বা বৌদ্ধ এমপি আছেন? ভারতকে অনুসরণ করাটা মনে হয় অত সহজ নয়, কি বলেন?
সনি, স্টারপ্লাস, স্টার জলসা, জি-বাংলা এইসব চ্যানেল পূজা উপলক্ষে কোন লোগো বসায় না। তবে তারা তাদের সিরিয়ালগুলোর মধ্যে এই উৎসব পালনের চিত্রগুলো দেখায়। আর আমাদের দেশের অনুষ্ঠান চিত্র একেবারেই ভিন্ন। আমাদের সব চ্যানেলে উৎসবে লোগো দেওয়া হয়। এটা আমাদের রীতি। আর আমাদের যেহেতু সোপ অপেরা নাই, মানে ডেইলি ব্যসিসের সিরিয়াল, তাই আমরা নানারকম অনুষ্ঠান দিয়ে উৎসবগুলোকে ফুটিয়ে তুলি। আমাদের দেশের চ্যানেলগুলো কে কি এখন ভারতকে ফলো করতে হবে? প্রশ্নটির উত্তর জানবার অপেক্ষায় থাকলাম।
ভারতীয় সিরিয়ালগুলো হিন্দু ফ্যামিলি ব্যসিসে তৈরি করা। সুতরাং সেখানে ঈদের কোন কিছু দেখানোর মানে হয় না। তবে মুসলমান চরিত্র নিয়ে যদি কোন সিরিয়াল হয়, থাকে, তাহলে ওরা ঈদকে হাইলাইট করবে। "কেয়া পাতার নৌকা", নামক একটি সিরিয়াল চলে জি-বাংলায় যেটাতে আমি মুসলমান ধর্মীয় কার্যালাপ দেখেছি।
২|
০৭ ই অক্টোবর, ২০১১ বিকাল ৩:২০
মহান পংকজ বলেছেন: অনেক ভালো লাগলো আপনার পোষ্ট টি। আমি আপনার সাথে সম্পূর্ণ একমত প্রকাশ করছি। আমার নিজের ব্যাক্তিগত জীবন ও এমন। আমি হিন্দু কিন্তু কখনও আমার মুসলমান বন্ধুদের সাথে চললে আলাদা কোন ভাব থাকেনা। গত পরশু ও ঠাকুর দেখতে আমরা ৯ জন ঘুরতে গেছি তার মাঝে ৫ জন ই মুসলমান। তাই কি তাদের জাত চলে গেছে??
ঈদের মাঝে আমি আমার এলাকাতেই একসময় পাঞ্জাবি পরে টুপি পরে রাস্তায় সব বন্ধুদের সাথে ঘুরেছি।
এক বন্ধুকে ফোন করে রোজার নিয়তের সুরা শুনে - বলেছি, তারপরদিন রোজা করেছি, শুধু এটা জানার জন্য এর মাহাত্ব্য কি। তাই কি আমার জাত চলে গেছে। যদি কেউ বলে চলে যায় তবে বলবো ঐরকম জাত আমার লাগবেনা।
০৭ ই অক্টোবর, ২০১১ বিকাল ৩:২৩
হমপগ্র বলেছেন: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। তবে দেখবেন, একটু পরেই, বেশির ভাগ লোক বে-পয়েন্টে খেচর খেচর শুরু করবে।
৩|
০৭ ই অক্টোবর, ২০১১ বিকাল ৩:৩০
ইমন কুমার দে বলেছেন: অনেক ভালো লাগলো। সবার মানসিকতা একরকম নয়। আমারই অনেক মুসলিম বন্ধু আছে যারা ৫ বেলা নামাজ পড়ে। নিজ ধর্ম সম্পর্কে যথেস্ট সচেতন। আবার আমাদের কোনো অনুস্ঠানে নিজে থেকেই আসে। অনেক সময় নিমন্ত্রন না করলেও চলে আসে। তখন আসলেই ভালো লাগে। আবার অনেকেই আছে যাদের মুখে ভদ্রতার ভেক। কিন্তু মনের ভেতর ঘোর সাম্প্রদায়িকতা, গোড়ামির আখড়া।
০৭ ই অক্টোবর, ২০১১ বিকাল ৩:৩৩
হমপগ্র বলেছেন: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। এইসকল উৎসব সব সময় সবার হয়ে সবাইকে একাত্ব করে দিক!
৪|
০৭ ই অক্টোবর, ২০১১ বিকাল ৪:২৮
রাজীব দে সরকার বলেছেন: একদম সহমত
ভালো পোস্ট, আশা করি কিছু মানুষের চোখ খুলবে
ভাই ধর্ম যার যার, উতসব সবার
০৭ ই অক্টোবর, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:৩৪
হমপগ্র বলেছেন: আপনাকে ধন্যবাদ পোস্টটি পড়ার জন্য। ভালো থাকবেন!
৫|
০৭ ই অক্টোবর, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:২৪
কাল্পনিক চরিত্র বলেছেন: ++++
৬|
০৭ ই অক্টোবর, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:৩২
গিনিপিগ বলেছেন: আমি যতটুকু জানি জাত যাওয়ার বিষয়টা মুসলমানদের মধ্যে কখনোই ছিল না। কেননা ইসলাম ধর্ম সকলের জন্য উন্মুক্ত। তাই তারা স্বাভাবিকভাবেই অন্য যে কারো সাথে মিশতে পারে। কিন্তু শরৎ, বঙ্কিম, মাইকেল, রবি ঠাকুর, কাজী নজরুল কিংবা সমকালীন লেখকদের লেখা পড়ে যা জানি তাতে তো দেখি জাত-পাতের বিষয়টি হিন্দু ধর্মের পুরোহিতদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
আর আপনি শেষ অংশে লিখেছেন, 'তবে মুসলমান চরিত্র নিয়ে যদি কোন সিরিয়াল হয়, থাকে, তাহলে ওরা ঈদকে হাইলাইট করবে। "কেয়া পাতার নৌকা", নামক একটি সিরিয়াল চলে জি-বাংলায় যেটাতে আমি মুসলমান ধর্মীয় কার্যালাপ দেখেছি।'
আপনি এখানে মুসলমানদের কার্যকলাপ দেখেছেন, এটা ঠিকই আছে। তবে এই সিরিয়ালে কিন্তু মুসলমানদের হেয় করেই নানা ঘটনা প্রবাহ দেখানো হচ্ছে। আর এই সিরিয়ালটা যখন শুরু করা হয় তখন বলা হয়েছিল বাংলাদেশের বিক্রমপুরের একটি সত্য ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এই সিরিয়ালের কাহিনীটি রচিত। এখন কিন্তু আর সেটা বলা হয় না। বলা হয় এটি একটি কাল্পনিক কাহিনীকে অবলম্বন করে রচিত। আমি কারো উদ্দেশ্য নিয়ে কথা বলতে চাই না। তবুও বলি ব্যাপারটিতে ভাবনার খোরাক আছে।
০৭ ই অক্টোবর, ২০১১ রাত ১০:২৩
হমপগ্র বলেছেন: কেয়া পাতার নৌকাতে একজন কাটমোল্লার অন্ধ বিশ্বাসকে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে মাত্র। ওটা কি এমন খোরাক জাগানো কিছু?
রোজা দেখেছেন? অথবা মাই নেম ইজ খান? এসব ছবিতে মুসলমানদের কোন উচ্চতায় দেখানো হয়েছে?
৭|
০৭ ই অক্টোবর, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:৩৭
গিনিপিগ বলেছেন: এখানে একটা সুন্দর উদাহরণ আছে। ইচ্ছে করলে দেখে আসতে পারেন
Click This Link
৮|
০৭ ই অক্টোবর, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:৫৮
নভোচারী বলেছেন: বুঝতে পারছি আপনি সৎ উদ্দেশ্য নিয়েই লেখাটা লিখেছেন। তবে আমি কিছু বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করছি।
ইসলামের মূল হল একত্ববাদ। এখানে প্রতিমার কোনো স্থান নেই। তাই প্রতিমাকেন্দ্রিক অনুষ্ঠান হোক তা পূজা বা উৎসব তাতে যাওয়া একজন মুসলিমের জন্য বৈধ নয়। এর মানে এই না যে আমরা অসহনশীল। সূরা বাকারায় যেমন বলা আছে, "ধর্ম নিয়ে কোনো জবরদস্তি নেই।" তেমনিভাবে ভিন্ন ধর্মের উপর কোনো আঘাত এমনকি কটু বাক্য বলা নিষিদ্ধ। আবার সূরা কাফিরূনের শেষ আয়াতে বলা হচ্ছে, "তোমাদের ধর্ম তোমাদের, আমাদের ধর্ম আমাদের।" এ থেকে বোঝা যায়, দুইয়ের ভেতর পার্থক্য আছে।
আপনি আরেকটি বিষয় নিয়ে বললেন। আপনার অমুসলিম বন্ধুরাও ঈদের দিন আপনার সাথে কোলাকুলি করেন। এতে তাদের ধর্ম যায় না। এই কথাটাকে আমি ভুল হিসেবে ব্যাখ্যা করছি। "অমুক এমন করেছে, আমি করলে দোষ কী?" এই ধরনের কথা যুক্তিপূর্ণ না। কারণ অমুকের কাজ ঠিক নাও হতে পারেন। এমনও হতে পারে তার ধর্মে অন্য ধর্মের কাজে যেতে বাধা নেই। কিন্তু আমি তো সেটা পালন করতে পারি না। ইব্রাহিম(আ) এর ঘটনাটি নিশ্চয় পড়েছেন। তাকে যখন তার এক বন্ধু তাদের এক উৎসবে যেতে বলে তিনি তখন যেতে অস্বীকার করেন।
"দুর্গোৎসবে যোগ দেওয়া মানে পূজা করা নয়, দেবীর আরাধনা করা নয়। " আপনার এই কথাটা ঠিক। কিন্তু উৎসবটা হচ্ছে কাকে কেন্দ্র করে? দেবী দুর্গাকে কেন্দ্র করে। এখানেই সমস্যা। প্রতিমা যেহেতু ইসলাম সমর্থন করে না তাই এই সংক্রান্ত কিছুতে যাওয়াও সমর্থনযোগ্য না। আশা করি, আমি কথাটা বোঝাতে পেরেছি।
০৭ ই অক্টোবর, ২০১১ রাত ৮:০৪
হমপগ্র বলেছেন: তাহলে বুঝতে হবে, যে যত ধর্মীয় উৎসব আছে, সেখানে মোটামুটি একটা রেস্ট্রিকশন করে দিতে হবে, যে যারা মুসলমান তারা পূজার কোন অনুষ্ঠান দেখবে না, যারা হিন্দু তারা ঈদের দিন মুসলমানদের বাসায় খাবে না, ঈদের নাটক দেখবে না...তাই তো?
৯|
০৭ ই অক্টোবর, ২০১১ রাত ৯:১৪
মেঘনা পাড়ের ছেলে বলেছেন: মোবাইলে থাকার কারনে বাংরেজীতে কমেন্ট করেছিলাম। এই পোষ্টটির বহুল প্রচার কামনা করছি।
০৭ ই অক্টোবর, ২০১১ রাত ১০:০৬
হমপগ্র বলেছেন: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আবার কষ্ট করে আসার জন্য। খুব ভালো লাগলো আপনার মন্তব্য পড়ে। সামুর কি যে হইছে, কোন মতেই ওপেন হতে চায় না!
০৭ ই অক্টোবর, ২০১১ রাত ১০:০৭
হমপগ্র বলেছেন: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আবার কষ্ট করে আসার জন্য। খুব ভালো লাগলো আপনার মন্তব্য পড়ে। সামুর কি যে হইছে, কোন মতেই ওপেন হতে চায় না!
১০|
০৮ ই অক্টোবর, ২০১১ রাত ১২:৫৯
নভোচারী বলেছেন: আমি পুরো ব্যাপারটাকে ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করেছি। অন্য ধর্মের যদি এমন নিয়ম থাকে যে তারা আসলে সমস্যা নেই তাহলে আমি বাধা দিচ্ছি না। আমি আপনাকে ইবরাহিম(আ) এর উদাহরণটা দিলাম। এ থেকে বোঝা যায় মুসলিমদের ভিন্ন ধর্মের উৎসবে যাওয়া উচিত না।
আমি যেভাবে ব্যাখ্যা করলাম সেইরূপে আমি পূজা দেখতে যাই না। কিন্তু হিন্দুদের বিয়েতে গিয়েছি বহুবার। সেখানে খাওয়াদাওয়াও করেছি। এই ব্যাপারটাকে অর্থাৎ তাদের বিয়েতে যাওয়াকে খারাপ হিসেবে দেখি না কারণ বিয়ে একটা সামাজিক প্রথা। আপনি হয়ত বলতে পারেন পূজায় না গেলে বিয়েতে কেন যাব? কারণ বিয়ের ধারণা ইসলাম বিরোধী না। তাই যাই। প্রতিমা কিন্তু ইসলাম বিরোধী। তাই যাওয়া উচিত না। বিয়েতে খাওয়ার কারণ হল খাদ্য হালাল হওয়ার যে শর্তগুলো আছে তা ওখানে বিদ্যমান। যে মাংস পরিবেশন করা হয় তা মুসলিম কসাইদের মাধ্যমে জবাই করা পশুপাখি। তাই তা খেতে সমস্যা নেই। আমাদের অঞ্চলে রান্নাও মুসলিমরাই করে, তবে হিন্দুরা রান্না করলেও সমস্যা নেই। কারণ রান্না কে করল তার উপর খাদ্য হালাল নাকি হারাম তা নির্ভর করে না। আর ভাত, মাছ, সবজি জাতীয় খাবার সবসময় হালাল তাই তা নিয়ে সমস্যা হয় না।
০৮ ই অক্টোবর, ২০১১ সকাল ১০:২৫
হমপগ্র বলেছেন: আপনি আমার বক্তব্যটা বুঝার চেষ্টা করুন।
আমি বলতে চাইছি, যে উৎসব সার্বজনীন। তার মানে এই, যে ঈদ বা পূজার যে আনুষাঙ্গিক আয়োজন, সেটা কোন নির্দিষ্ট ধর্মের জন্য নয়। সেটা সার্বজনীন। ইসলামে তো অনেক কিছুই হারাম। সুদ হারাম। তাই বলে কি মুসলমানরা ব্যাংকে চাকরি করছে না? বিয়ের আগে প্রেম করা অনুচিত, তাই বলে কি মুসলমানরা প্রেম করছে না? এরকম অনেক প্রথাই কুর-আনে আছে যেগুলো আমরা মানছি না। কেন মানছি না, কারণ যুগের হাওয়ায় সেগুলো মানা সম্ভব হচ্ছে না। এখন, কুর-আনকে যদি অনেক জায়গাতেই না মানি, এই জায়গাতে মানাটা এত বেশি জরুরী হয়ে পড়ে কেন? যে প্রতিমা হারাম। তাই আমি যাবো না।
যদি হিন্দু কোন লোকের সাথে আমার সৌহার্দ বাড়ে, সেখানে গেলে, সে যদি খুশি হয়, তাহলে তাকে খুশি করাটা তো অপরাধের মধ্যে পড়ে না।
ইসলামে মূর্তিপূজা হারাম, ইসলামে আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে শরিক করা হারাম। আমি তো সেটা করছি না। তাহলে সেখানে ক্ষতিটা কিসের?
ইসলাম পূর্ব যুগে যারা মূর্তিপূজারি ছিল, তারা কি করত? মানুষ বলি দিত, মেয়েদের উলঙ্গ করে নাচাত। এখানে তো সেটা হচ্ছে না। এটা সম্পূর্ণ একটি সভ্য আয়োজন ছাড়া আর কিছুই নয়। এই ব্যাপারটা কেন আপনারা বুঝেও বুঝেন না।
১১|
০১ লা নভেম্বর, ২০১১ রাত ১২:৩০
নভোচারী বলেছেন: সুদ হারাম। এরপরও মুসলিমরা ব্যাংকে চাকরি করে। কারণ তারা হয় অসচেতন কিংবা হারামের বিষয়টা জানে কিন্তু অন্য উপায় না থাকায় এই চাকরি করতে বাধ্য হচ্ছে।
বিয়ের আগে প্রেম করা নিষিদ্ধ। কিন্তু এরপরও অনেক মুসলিমই এমনটা করে। তার মানে এই না যে এভাবে প্রেম করা বৈধ হয়ে গেল। সুদের ব্যাংকে চাকরি করায় হয়তো অন্য উপায় ছিল না। কিন্তু বিয়ের আগে প্রেম করায় তো কেউ বাধ্য না। এমন তো না যে প্রেম না করলে ক্ষতি হবে। তার মানে হল যারা এমন করে তারা নিয়ম কানুন সম্বন্ধে অসচেতন।
এসব কাজ মুসলিমরা করে যুগের প্রয়োজনে না। বরং অসচেতনতার কারণে অথবা বাধ্য হয়ে। এখানে 'যুগের হাওয়া' শব্দটা বেমানান। সুদের ব্যাংকের কথা নাহয় ধরা যায় কারণ এটা দূর করতে সময় লাগবে। কিন্তু বিয়ের আগে প্রেম না করে থাকা অসম্ভব না।
অনেক কিছু মানছি না তাহলে এই একটা কেন মানব? এটা হল আপনার প্রশ্ন। অনেক কিছু মানতে পারছি না তাই এটাও মানব না এই ধারণা কিভাবে মাথায় আসে তা আমার বোধগম্য না।
পুরো বিষয়টি ভালভাবে ভেবে দেখুন। ইসলামের মূল হল তাওহীদ বা একত্ববাদ। এখানে প্রতিমার ধারণা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আপনি মূল বিষয়টির প্রতি খেয়াল রাখুন। এবার পূজার দিকে লক্ষ্য করুন। পূজা হচ্ছে প্রতিমাকে কেন্দ্র করে। অর্থাৎ তাওহীদের সম্পূর্ণ বিপরীত। তাহলে একজন মুসলিমের সেখানে যাওয়াটা কিভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
হিন্দু তথা অমুসলিমদের সাথে সৌহার্দ্য বাড়ানোর অনেক উপায় আছে। সেগুলো ব্যবহার করুন। তাদের সাথে সদাচরণ করুন। ইসলামের নিয়মগুলো যথাযথভাবে পালন করুন। দেখবেন আপনার দেখায় তারাও ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে।
আপনি আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করছে না ঠিক। কিন্তু যে শরীক করছে তার সেই শরীক অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন। তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দিচ্ছেন কিনা জানি না তবে পোস্ট হিসেবে যা মনে হল দিচ্ছেন না। এটাও গ্রহণযোগ্য না।
আগের যুগে মানুষ বলি দেয়া হত, নারীরা উলঙ্গ হয়ে নাচত। এখন হয় না ঠিক। কিন্তু শিরকের মূল বিষয়টি এখনো রয়ে গেছে।
©somewhere in net ltd.
১|
০৭ ই অক্টোবর, ২০১১ দুপুর ২:৪৯
মেঘনা পাড়ের ছেলে বলেছেন: jothesto valo post. sobai purota pora ucit.