নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নাস্তিক ও রাজাকার মুক্ত ব্লগ

পেতে চাই সত্যের আলো, হতে চাই বিশ্বাসীদের একজন

আমি তুমি আমরা

লেখার সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।আমার অনুমতি ছাড়া এই ব্লগের লেখা কোথাও প্রকাশ করা যাবে না।

আমি তুমি আমরা › বিস্তারিত পোস্টঃ

পরমাণু গল্পসমগ্র-৮ঃ পতাকা

২২ শে এপ্রিল, ২০১৯ রাত ৯:৪৬



দুপুরবেলা। স্কুল থেকে বাসায় ফিরছিলাম।
রাস্তায় একটা টিউবওয়েল দেখে দাঁড়িয়ে পড়লাম।
উপায় নেই। বাসায় পৌছানোর আগেই কাপড় চোপড় পরিস্কার করে নিতে হবে।নাহয় গতবারের মত আম্মা আবার সেই মার মারবে।
গতবার হয়ত আমার কিছুটা দোষ ছিল। কিন্তু এবার আমার কোন দোষই ছিল না।
শুরুটা করেছিল ওই সাঈদীই।
টিফিন খাচ্ছিলাম। হঠাত কানের কাছে ঘ্যান ঘ্যান শুরু করল, তোদের একটা জীবন ভাই। চাল, ডাল সবকিছুতেই রেশন। বাপ যতদিন আছে ততদিন ওই রেশনের চালেই জীবন পার করবি। বাপটা মরে গেলে আবার পোষ্য কোটায় সিপাহী হয়ে ঢুকে পরবি। তারপর আবার রেশন। কি মজা। আমরা শালার ট্যাক্স দিব আর আজীবন রেশন পাবি তোরা।
এসব কথা শোনার পর মেজাজ ঠিক থাকে না। হাতটা নিজ দায়িত্বে মুঠি হয়ে সাঈদীর গালে বসে পরল। সাঈদীও পাল্টা ঘুষি মারতে এগিয়ে এল।
আফটার ম্যাথ হিসেবে কাপড়ে ধুলা আর বালি লেগে গেল। আমার কোন দোষ ছিল না।
ওহ শিট। পকেটটা আবার ছিড়ল কখন?
এখন এটার কি?
আজকে কপালে নিশ্চিত মার। আম্মা আজকে একটা হাড্ডিও আস্ত রাখবে না।
ভাবতে ভাবতে কখন বাসার সামনে চলে এসেছি-বুঝতেই পারিনি।
একি?
বাসার সামনে এতগুলা গাড়ি কেন? বেশ কিছু লোকও আসছে দেখি।
ঘটনা কি?
ঘটনা যা-ই হোক, আমার জন্য ভালই হল।বাসায় মেহমান থাকলে আম্মা আর আমার শার্ট নিয়ে মাথা ঘামাবে না।
দোয়া পড়তে পড়তে দরজা ঠেলে বাসায় ঢুকলাম।
একি? আম্মা সোফায় বসে আছেন, হাতে জড়িয়ে ধরেছেন একটা পতাকা। উর্দি পড়া একটা লোক, মনে হয়ে আব্বাদের বড় স্যার ট্যার হবে, আম্মাকে সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করছে।
-সাজিদ। আমাকে দেখেই আম্মা কেদে উঠল।
-কি হয়েছে আম্মা?আপনি কাঁদেন কেন?
-সব শেষ হয়ে গেল রে বাবা।
-মানে?
আম্মা কোন জবাব দেন না, অঝোর ধারায় কাঁদতে থাকেন।
এবার এগিয়ে আসেন সেই উর্দি পড়া বড় স্যার। -দেখ সাজিদ, মনটা শক্ত কর। ভেংগে পড়লে চলবে না। তোমাকে এখন মায়ের শক্তি হতে হবে।
-কি বলছেন এসব? আমিতো কিছুই বুঝতে পারছি না।
-গতকাল রাত সিয়েরা লিওনে, যেখানে তোমার আব্বার পোস্টিং, সেখানে ভয়াবহ গাড়ি বোমা হামলা হয়েছে। তোমার আব্বা...
আমি আর কিছু শুনতে পাইনা। শুধু দেখতে পাই আম্মা একটা পতাকা জড়িয়ে ধরে কাঁদছে।
আব্বা শান্তি রক্ষার জন্য গিয়েছিলেন, শুধুমাত্র একটা পতাকা ফেরত এসেছিল ...

গল্পঃ পতাকা
২২.০৪.২০১৯


-এই শালা মুক্তি, শেষবারের মত প্রশ্ন করছি, বল তোর সাথিরা কোথায়? গর্জে ওঠে মেজর সরফরাজ।
জাহাংগীর একবার চারপাশে তাকায়। মাথার ওপর ঝকঝক করছে শরতের নীল আকাশ, এমন দিনে বন্ধুদের নিয়ে মাঠঘাট দাপিয়ে বেড়ানোর কথা ছিল, কথা ছিল ঘুড়ি ওড়ানোর।
জাহাংগীর মাঠে আছে ঠিকই, কিন্তু দৌড়ানোর কোন সুযোগ ওর নেই। কিংবা হয়তে আছে, কিন্তু পালানোর মত কাপুরুষ ও নয়।
-না। দৃঢ় কন্ঠে জবাব দেয় সে।
-বলবি না? ভেবে দেখ, তোর ওই দুই সাথীর মতই পরিণতি হবে।
জাহাংগীর বামে তাকায়। নূর আর আমিন মাটিতে পড়ে আছে, একটু আগেই ওদের মাথায় গলি করেছে সরফরাজ।
জাহাংগীর জবাব দেয়ার কোন প্রয়োজনবোধ করে না, ওর ঠোটের কোনে উপহাসের হাসি ফুটে ওঠে।
অবাক হয় সরফরাজ। কি দিয়ে তৈরী এই কিশোর? পাশেই দুই সহযোদ্ধার লাশ, কপালে তাক করে রাখা বন্দুক-তবুও ছেলেটা হাসছে?
-শেষবারের মত বলছি...
কথাটা শেষ করতে পারে না সরফরাজ, একদলা থুথু ওর মুখে এসে পরে।
আর দেরী হয় না, সরফরাজ ট্রিগারে চাপ দেয়।লুটিয়ে পড়ে জাহাংগীর।
ক্যাম্পে ফিরে যাওয়ার আগে কি মনে করে পেছনে তাকায় সরফরাজ। সবুজ মাঠে ছড়িয়ে পড়েছে লাল, তিন কিশোরের লাল রক্ত...

গল্পঃ সবুজ মাঠে লাল রক্ত
২২.০৪.২০১৯


দোকানের সামনে একটা বাইক এসে থামে। কালাম সাহেব লক্ষ্য করেন তিন যুবক তার দিকেই এগিয়ে আসছে।
-কোন ওষুধ লাগবে, বাবাজিরা? কালাম সাহেব হাসি মুখে জানতে চান।
- কোন ওষুধ-টষুধ লাগব না। বিকালের মধ্যে চান্দা রেডি রাখবেন।মাঝেরজন বলে।
-চাদা? কিসের চাদা? কালাম সাহেব জানতে চান।
-কাইল ২৬ শে মার্চের প্রোগ্রাম। লিডার আসবে, বড় প্রোগ্রাম হবে। মার্কেটের সবাই চান্দা দিছে, আপনিও বিকালের মধ্যে রেডি রাখবেন।
-ঠিক আছে, যদি আমার একটা প্রশ্নের জবাব দিতে পার, তাহলে চাদা দেব।
-কি প্রশ্ন?
-বলত, ২৬শে মার্চ কি আমাদের বিজয় দিবস? নাকি স্বাধীনতা দিবস?
হঠাত মাঝেরজনের হাত নেমে আসে কালাম সাহেবের গাল বরাবর, দোকানের ফ্লোরে লুটিয়ে পড়েন তিনি।
-এই শুয়োরের বাচ্চা, হয় বিকালের মধ্যে চান্দা রেডি রাখবি, নাহয় কাইল থেইকা তোর দোকান বন্ধ।
ফ্লোর থেকেই কালাম সাহেব বাইক স্টার্ট হওয়ার শব্দ শুনতে পান। কোনক্রমে উঠে দাড়ান তিনি। মাথায় শুধু একটা প্রশ্নই ঘুরতে থাকে, ১৯৭১ সালে যে বীরবিক্রমে বিদেশী শত্রুদের সাথে লড়েছিলেন, আজ ২০১৯ সালে নিজের ঘরের এইসব কুলাংগারের সাথে লড়ার জন্য সেই সাহসের সামান্যতম অংশও জড়ো করতে পারছেন না কেন?


গল্পঃ প্রশ্ন
২২.০৪.২০১৯



===============================================================
সিরিজের আগের পর্বসমূহঃ

পরমাণু গল্পসমগ্র-১
পরমাণু গল্পসমগ্র-২
পরমাণু গল্পসমগ্র-৩
পরমাণু গল্পসমগ্র-৪
পরমাণু গল্পসমগ্র-৫
পরমাণু গল্পসমগ্র-৬
পরমাণু গল্পসমগ্র-৭

মন্তব্য ২৭ টি রেটিং +৯/-০

মন্তব্য (২৭) মন্তব্য লিখুন

১| ২২ শে এপ্রিল, ২০১৯ রাত ১০:২৬

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:
খুবই চমৎকার একটি পোস্ট দিয়েছেন।
পাঠ করে বিমোহিত হলাম।
আমার ধন্যবাদ গ্রহণ করুন।

২২ শে এপ্রিল, ২০১৯ রাত ১০:৩৬

আমি তুমি আমরা বলেছেন: পোস্ট পাঠে আপনি বিমোহিত হয়েছেন জেনে সম্মানিতবোধ করছি প্রিয় ব্লগার। সুন্দর একটি মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ :)

২| ২২ শে এপ্রিল, ২০১৯ রাত ১০:৩৯

আর্কিওপটেরিক্স বলেছেন: চমৎকার ছোট গল্প :)

২২ শে এপ্রিল, ২০১৯ রাত ১০:৪৬

আমি তুমি আমরা বলেছেন: ধন্যবাদ ভ্রাতঃ :)

৩| ২৩ শে এপ্রিল, ২০১৯ রাত ১২:০৪

দীপংকর চক্রবর্ত্তী বলেছেন: এখন যে আগের গল্পগুলাও পড়তে হবে!!
শুভেচ্ছে রইলো।

২৩ শে এপ্রিল, ২০১৯ রাত ১২:১১

আমি তুমি আমরা বলেছেন: আশা করছি বাকি পোস্টগুলোতেও আপনার প্রতিক্রিয়া জানতে পারব।

ভাল থাকুন। শুভকামনা।

৪| ২৩ শে এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ৯:৫৯

রাজীব নুর বলেছেন: খুব সুন্দর গল্প।

২৩ শে এপ্রিল, ২০১৯ রাত ১০:১২

আমি তুমি আমরা বলেছেন: মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ :)

৫| ২৩ শে এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ১০:০০

মোঃ মাইদুল সরকার বলেছেন: গল্পগুলো প্রাসঙ্গিক।
+++++++++++

২৩ শে এপ্রিল, ২০১৯ রাত ১০:১৩

আমি তুমি আমরা বলেছেন: গল্পগুলো আপনার প্রাসংগিক মনে হয়েছে জেনে খুশি হলাম

ভাল থাকুন। শুভকামনা :)

৬| ২৩ শে এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ১:১৪

সেজুতি_শিপু বলেছেন: অসাধারন ।

২৩ শে এপ্রিল, ২০১৯ রাত ১০:১৫

আমি তুমি আমরা বলেছেন: ধন্যবাদ সেজুতি।

অঃ টঃ যতদূর জানি "সেজুতি" বানানে চন্দ্রবিন্দু হয়। সেঁজুতি। আপনি কি চন্দ্রবিন্দু ব্যবহার করেন না?

৭| ২৩ শে এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৫:৩০

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: সুন্দর লিখেছেন।

২৩ শে এপ্রিল, ২০১৯ রাত ১০:১৫

আমি তুমি আমরা বলেছেন: ধন্যবাদ প্রিয় ব্লগার :)

৮| ২৩ শে এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৫:৪৬

তারেক_মাহমুদ বলেছেন: চমৎকার অনেক অনেক ভাললাগা।

২৩ শে এপ্রিল, ২০১৯ রাত ১০:১৬

আমি তুমি আমরা বলেছেন: ধন্যবাদ তারেক মাহমুদ :)

৯| ২৩ শে এপ্রিল, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:১৩

ভুয়া মফিজ বলেছেন: গতকালকেই পড়েছি, মন্তব্য করতে একটু দেরী হলো।

সবগুলোই সুন্দর (মন খারাপ করা) হয়েছে, তবে তৃতীয়টা পড়ে বেশী খারাপ লাগলো। দেশ স্বাধীন হয়েছে আজ এতো বছর। এখনও মুক্তিযোদ্ধারা এদেশে নিগৃহীত হয়। এটা আসলেই মেনে নেয়া যায় না.......তাও কাদের হাতে? মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের (??) দলের লোকদের হাতে!!!! :(

আপনার এই গল্পগুলোকে অণু নাকি পরমাণু গল্প বলা যায়? পরমাণু গল্প তো আমার জানামতে ৩/৪ লাইনের বেশী হয় না। জাস্ট জানার জন্য জিজ্ঞেস করলাম। :)

২৩ শে এপ্রিল, ২০১৯ রাত ১০:২০

আমি তুমি আমরা বলেছেন: আমারও এটাই খারাপ লাগে। স্বাধীনতার এত বছর পরেও রনাঙ্গনের যোদ্ধারা কিছু পেলেন না, সব পেয়ে গেলেন ঐ সার্টিফিকেটধারী যোদ্ধারা। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের খবর কেউ নেয়নি, তারা সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত হয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের(!) দলের লোকদের হাতেই :(

২৩ শে এপ্রিল, ২০১৯ রাত ১০:২৩

আমি তুমি আমরা বলেছেন: আসলে সিরিজটা যখন শুরু করেছিলাম তখন গল্পগুলো সাইজে পরমাণুই ছিল। এরপর পরমাণুর সাত্থে পরমাণু যুক্ত হয়ে অণুর আকার ধারণ করেছে। ধীরে ধীরে আবার কখন 'সাইলো'র আকার ধারণ করেন, ভয়েই থাকি ;)

১০| ২৩ শে এপ্রিল, ২০১৯ রাত ৯:২০

বলেছেন: ১নাং গল্পটিতে ইউনিফর্মধারী মনুষের এক আজানা অচেনা কষ্টের কথা সুন্দর করে তুলে ধরেছেন।


অসাধারণ লেখায় মুগ্ধ।

২৩ শে এপ্রিল, ২০১৯ রাত ১০:২৫

আমি তুমি আমরা বলেছেন: আমরা আসলে উর্দিধারী লোকজনের সুযোগ সুবিধাগুলোই দেখতে পাই খালি চোখে, তাদের কষ্ট কিংবা জীবনের চ্যালেঞ্জগুলো সেভাবে সাধারণ লোকের সামনে উঠে আসে না। তাই এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা।

ভাল থাকুন। শুভকামনা সবসময়। :)

১১| ২৩ শে এপ্রিল, ২০১৯ রাত ১০:২৪

আহমেদ জী এস বলেছেন: আমি তুমি আমরা,



রক্তিম সূর্য্যের মতো দগদগে অনুভবের গল্প, আমার -তোমার- আমাদের।

তবে এগুলো পরমাণু নয়, অনু বা ছোট গল্প হবে।

২৩ শে এপ্রিল, ২০১৯ রাত ১০:২৯

আমি তুমি আমরা বলেছেন: আমি সবসময়ই বলি, আপনার মন্তব্যের খুব বড় ভক্ত আমি। একটা মাত্র বাক্যে তিনটি গল্পের সামারি তুলে ধরেছেন। হ্যাটস অফ।

মনে হচ্ছে অনুগল্পই হবে এগুলো। পরমাণুর চেয়ে সাইজে বড় হয়ে যাচ্ছে।

১২| ২৫ শে এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৩:৪৪

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: ৩ নম্বর গল্পটা পড়তে পড়তে আমিও ফুঁসে উঠছিলাম এই কুলাঙ্গারদের কীর্তিকলাপের বিরুদ্ধে।

২ নম্বর গল্পটা যদিও গতানুগতিক, তবে ১ নম্বর গল্পে একটা ভালো দিক উঠে এসেছে।

শুভেচ্ছা রইল।

০২ রা মে, ২০১৯ রাত ১১:৩৬

আমি তুমি আমরা বলেছেন: মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ প্রিয় ব্লগার। অনেকদিন পর আমার ব্লগে দেখা পেলাম আপনার।আশা করি ভাল আছেন।

১৩| ২৯ শে এপ্রিল, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৪৭

অজ্ঞ বালক বলেছেন: গল্পগুলার মধ্যে একটা সিঙ্গেল থিম খুব সুন্দরভাবে আসছে। সেইটা দারুন লাগলো। তবে প্রথম গল্পটা অনেকটাই ভিন্ন। ভালো লাগলো।

০২ রা মে, ২০১৯ রাত ১১:৩৯

আমি তুমি আমরা বলেছেন: আমি চেষ্টা করি সিরিজের প্রতিটা পর্বে একটা সিংগেল থীম বজায় রাখার জন্য। যেমন এই পর্বে পতাকা, সপ্তম পর্বের থীম ছিল থ্রিলার, আবার ষষ্ঠ পর্বের থীম ছিল ট্রাফিক জ্যাম।

প্রথম গল্পটা ভিন্ন লেগেছে জেনে খুশি হলাম।
ভাল থাকুন। শুভকামনা।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.