নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী জসিম উদ্দিন জয় তিনি ঢাকা জেলায় খুব সাধারণ মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন । পিতা আব্দুল ছাত্তার খান ও মাতা আমেনা বেগম, পৈত্তিকভিটা কুমিল্লা জেলায়। প্রযুক্তিবিদ, সাংবাদিক, সাহিত্যিক এবং একজন দক্ষ সংগঠক হিসাবে বেশ পরিচিত তিনি | 19

জসিম উদ্দিন জয়

সাহিত্যিক, সংগঠক, প্রযুক্তিবিদ

জসিম উদ্দিন জয় › বিস্তারিত পোস্টঃ

১০১ টি ভালোবাসার পদ্ম

১০ ই জানুয়ারি, ২০১৫ বিকাল ৪:৫৫



১০১ টি ভালোবাসার পদ্ম



-------------------------- জসিম উদ্দিন জয়





যে মেয়েদের চোখের পাপড় মিটমিট করে করে জ্বলে রাতের তারার মতো। বাঁকা ঠোটে দুষ্টু হাসি । পিংক কালারের গাড় লিপিষ্টিক পরে। এরা সুন্দর করে কথা বলে । কিন্তু কথাগুলোর মাঝে ৯৯.৯৯পারসেন্ট মিথ্যে কথা বলে । কথাগুলো কখনও বিশ্বাস করবি না ।

তখন পরন্ত বিকেল, পিস ঢালাইয়ের একটি নতুন রাস্তার একপাশে বসে নাদের আলী কে কথাগুলো বলছিলো রাজ। রাজ এর ঠোটে তখন জ¦লন্ত সিগারেট জলছিলো । সিগারেটের শেষ সুখটান দিয়ে আকাশপানে একরাশ ধোয়া ছেরে বললো “ এই পৃথিবীতে মেয়েদের ভালো না বেসে, একটি কুকুরকে ভালোবাসা উচিত।” “ সে তোর সাথে মিথ্যা কথা বলবে না ” ওহ ভালো কথা তুই জানিস মেয়েরা সবচেয়ে বেশী মিথ্যে অভিনয় করতে পারে।”

রাজের কথা শুনে নাদের আলী হেঃ হোঃ করে হেসে উঠে বলে ‘‘তুই কিভাবে জানিস ?’’

রাজ ঃ কেন, জি-বাংলা, ষ্টার জলসা , জি-সিনেমা ইত্যাদি দেখিস না । মেয়েরা কত জটিল প্রকৃতির হয় । তারা যখন কথা বলে তুই বুঝবি না কেনটা সঠিক কোনটি বেঠিক। নাদের আল ী রাজের কথা শুনে এবার কিছুটা বিচলিত । রাজকে প্রশ্ন করে ‘‘তুই এত কিছু থাকতে হঠাৎ মেয়েদের বদলাম করছিস কেন ? ..... ছ্যাকা খেয়েছিস নাকি ...?

রাজ ইজিলি বলে “ছ্যাকা না দোস্ত, আস্ত একটা ধোকা খেয়েছি ?“

ঃ কিভাবে ?

ঃ রাজ একটা দীর্ঘনিশ^াস ফেলে । হাতের ল্যাপটপটি ওপেন করে । রাস্তার ধারে ফুটপাতে বসে পরে । তখন পরন্ত বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যে। রাস্তায় ল্যাম্বপোষ্ট এর হলুদ বাতিগুলো এক এক করে জ¦লে উঠে...। রাস্তার পাশে রাজ ও নাদের আলীর মতো আরো অনেকেই বসে আছে। আশেপাশে ছেলে ও মেয়েদের গল্পও জমে উঠেছে বেশ । রাজের আজ কি যেনো হয়েছে । কোন মেয়েদেরই সহ্য করতে পারছে না। যাকে দেখছে তাকেই নিয়ে আবোল-তাবাল বকছে। তবে খুব আড়ালে ও সাবাধানে।

নাদের আলী আবারও উৎকন্ঠা নিয়ে বলে ‘‘কি রে বলছিস না কেন ?’’

ঃ রাজ আবারও বিটখুটে দৃষ্টিতে ল্যাপটপতার দিকে তাকালো। ফেইসবুক ওপেন করে। একটি ছবি দেখালো । নাদের আলী ছবিটি দেখে অবাক ‘‘বাহ্ কি সুন্দর’’ । রাজের দিকে তাকিয়ে অত্যন্ত আবেক কন্ঠে বললো ‘‘নিষ্পাপ মেয়েটি কে ?”

রাজ ঃ কচু এটা নিষ্পাপ মেয়ে না। ডায়নী , পাপী । অপেক্ষা কর, ওর ভিডিও ফাইলটি দেখাচ্ছি ? ভিডিও ফাইলটি দেখছিলো নাদের আলী । রাজ তখন ভিডিও ক্লিপসি দিকে টপ আঙ্গুল দেখিয়ে বলে “দেখছিস না ওই মেয়েটি কি সুন্দর করে কবিতা আবৃত্তি করে। কি সুন্দর করে কথা বলে । জানিস ও যখন কবিতা আবৃত্তি করে কথা বলে আমি কেমন যেনো হয়ে যাই । ওই মেয়েটি আমার আত্তার সাথে মিশে যায় । আমি মেয়েটি আজানা একটি স্পর্শ, ঘ্রান, সবই পাই। সত্যিই মেয়েটি নিষ্পাপ। বলতে বলতে রাজ এর চোখের গড়িয়ে জল পড়তে থাকে। তাৎক্ষনিক চোখের পানি মুছে ফেলে রাজ। মুহুুর্তে চেহারাটা পাল্টে ফেলে রাজ। অগ্নি কন্ঠে বলতে থাকে, দেখছিস ওর চোখ দুটি কিভাবে রাতের তারার মতো মিট মিট করে । ও খুৃব মিথ্যে বলে । মিথ্যেবাদি । দেখছিস না ওর বাকাঁ ঠোঁটে দুষ্টিমি কিভাবে খেলা করে। ”

রাজের কথাগুলো নাদের আলী মনোযোগ সহকারে শুনছে আর ভাবছে “রাজ কি পাগল হয়ে গেলো ” নাকি মারাত্মক ছ্যাকা খেয়েছে । এখন কিভাবে সামলাবো তাকে । তাছাড়া রাজ একটি প্রতিভাবান ও চমৎকার ছেলে। তার কিছু হয়ে গেলে মহা বিপদ। আমাদের সংগঠনের বারোটা বাজবে । নাদের আলী রাজকে শান্তু করার জন্য বললো “তুই এই মেয়ের ছবিযুক্ত ফেইসবুক আইডি কোথায় পাইলি । ” এই ফেইসবুক আইডিটা তো ফ্যাক আইডিও হতে পারে । তুই জানিস না আজাকাল মেয়েদের ছবি ব্যবহার করে ফ্যাক আইডি বানানো হয় । এবং ছেলেরা এই ফ্যাক আইডি ব্যবহার করে প্রতারনার ফাঁেদ পরে।

নাদের আলীর কথাগুলো রাজ বিন্দুমাত্র কর্নপাত করলো না । সে সোজা কথা জানিয়ে দিলো । ‘‘দুনিয়ে মিথ্যে হতে পারে তার এই আইডি মিথ্যে না । মেয়েটিই তার জীবনের সব।’’ সাফ কথা বলে দিলো , যদি এই আইডি মিথ্যে প্রমানিত হয় তবে সে এক্ষুনিই গাড়ীর নিচে ঝাপ দিবে। সে এই দুনিয়া থেকে চলে যাবে। আর কোনদিনও, এই মিথ্যে দুনিয়াতে ফিরে আসবে না।”

নদের আলী রাজের এই উদ্ভুট আচরনে অবাক হচ্ছে। রাজ সত্যি সত্যি পাগল হয়ে গেলো কি না । নাদের আলী ভাবছে এখন যদি সে গাড়ীর নিচে ঝাপ দেয় তাহলে মহা বিপদ । সবাই ভাববে আমি তাকে গাড়ী নিচে ধাক্কা মেয়ে ফেলেদিয়েছি। নাদের আলী মনে মনে ভয় পেতে লাগলো । সে রাজের বা হাতটি জোরে চেপে ধরলো । রাজ নাদের আলীর হাতটিকে এক ঝাকি দিয়ে ফেলে দিয়ে বলতে থাকে ।

“ তুই কি ভাবছিস আমি সত্যি সত্যি গাড়ীর নিচে ঝাপ দিবো । কোনদিনও না । কখনও না । আমি ঐ মেয়েটি মানে আমার শতরুপাকে না দেখে কেনদিনও গাড়ীর নিচে ঝাপ দিবো না । আমি আগে বাস্তবে ঐ মেয়েটি মানে আমার শতরুপাকে দেখবে । দু-নয়ন ভরে । যতক্ষন না আমার মনের তৃষ্ণা মিটবে, ততক্ষন আমি তাকে দেখবো ” বলেই হো ঃ হো ঃ করে হেসে উঠে ।

অদ্ভুত রাজের হাসি। যে মেয়েটির জন্য সে সমস্ত মেয়েদের আবোল-তাবল বকাঝকা করছে । সে মেয়েটিকে আবার অন্ধের মতো ভালোবাসার কথা বলছে। ব্যপারটি সত্যি সত্যি মনে হয় পাগলামি । নাদের আলী ১০০% সিউর, ” রাজ পাগল হয়ে গেছে।“ নাদের আলী রাজকে শান্তু করার জন্য এবং পরিস্থিতি অন্য দিকে মোড় ঘুরানোর জন্য বললো “ দেখি দেখি তোর ফেইসবুক একাউন্ডে কতজন বন্ধু আছে । ফ্রেন্ড লিস্টে কতজন আছে। জানিস আমার প্রায় সারে চার হাজার ফ্রেন্ড আছে। বুক ফুলিয়ে গর্ব করে কথাগুলো বলছিলে নাদের আলী। তখন রাজ চুপচাপ কি যেনো ভাবছে । তার অহংকার করার মতো এতো ফ্রেন্ড নেই। নাদের আলী খুবই কৌতুহল নিয়ে রাজকে বার বার প্রশ্ন করছে আর বলছে ” কই দেখা তোর ফ্রেন্ড লিস্ট কতজন আছে ... । রাজ আবার কিছুক্ষন চুপ করে থেকে বলে । একজন । আমার একজন বন্ধু আছে । নাদের আলী অহংকার এবার আরো বেড়ে গেলে । নাদির আলী বলে ফেলে নিশ্চয়ই আমি । আমিই তোর একজন ভালো বন্ধু । তাই না তুই আমাকে এ কথাটা বলছিস। রাজ আবার নাদের আলীর কথয় হেসে উঠে বলে ...“. না ” । আমি বলেছি আমার একজন ফ্রেন্ড লিষ্টে মাত্র একজন ফ্রেন্ড আছে। তুই দেখ বলেই রাজ ল্যাপটপে দেখালো ” সত্যিই তো মাত্র একজন তার ফ্রেন্ড লিষ্টে আর সে আইডিটি হলো তার ফ্রেন্ড শতরুপা। নাদের আলী অবাক হলো । মাত্র একজন তার ফ্রেন্ড লিষ্টে । আ র সেটা ঐ মেয়েটি । নাদের আলী ব্যাপারটা নিয়ে ভাবছে আর মাথা চুলকাচ্ছে। কি ঘটতে যচ্ছে কিছুই বুঝতে পারছে না।

রাজ তার ল্যাবটপটা দেখালো নাদের আলীকে। তার সম্পূর্ন ফেইসবুক দেয়াল জুরে বিভিন্ন পদ্মফুলে ছবি। মনে হয় পৃথিবীর সেরা সেরা পদ্ম। এত পদ্মফুলের কালেকশন সে কখনো দেখেনি। কিন্তু প্রত্যেকটি পদ্মে ইতিহাস তারিখ দেওয়া আছে। তার একপাশে একটি করে ছোট ভালোবাসার গল্প লেখা আছে। অবাক, সংগ্রহ করা সেই ভালোবাসার গল্প। রাজ নাদের আলীকে যে কোন একটি গল্প পরতে বললো। নাদের আলী তার শেষ গল্পটি পড়ছিলো ।...

নাদের আলী যে গল্পটি পরছিলো গভীর মনোযোগ সহকারে । .

( .... রাজ কিছুক্ষন পর পর আকাশপানে তাকিয়ে একটা দীর্ঘ নিশ^াস ফেলছে আর বক বক করে বলছে...... কথা ছিলো ‘‘ শতরুপা আমার আকাশ হবে আর আমি মাটি হবো। আমরা দুইজন মিলে একটি দিগন্ত রচনা করবো। সব মিথ্যে, সব মিথ্যে, মেয়েদের সবকিছুই অভিনয় । ওরা প্রতারক)



নাদের আলী গল্পটি পরার আগে , ব্লগ পেজটি ভালো করে দেখে নিলো । চমৎকার । গল্পটি একপাশে একটি নীল পদ্ম । তাদের লেখা এটাই তার জীবনের শেষ সংগ্রহ করা পদ্ম । ১০০ নম্বর পদ্ম। পূর্বে আরো ৯৯টি পদ্ম পাঠিয়েছিলো এবং সাথে একটি করে ভালোবাসার গল্প । মানে ৯৯ টি ভালোবাসার গল্প । এই্ গল্পটি ও তার শেষ গল্প।

গল্পটিতে যা লিখা ছিলো .............

রাজ তোমার জন্য আমার এই শেষ গল্পটি । জানিনা গল্পটি পরে তুমি কিছু বুঝতে পারবে কি না । তবে গল্পটি শেষের অংশ হয়ত আমাদের জীবনের সাথে মিলে যেতে পারে। গল্পের নায়ক ছেলেটি একজন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার। কাজ করে ডেভেলোপমেন্ট একটি কোম্পানীতে। অফিসে তার অনেক বন্ধু ছিল কিন্তু বিশেষ বলতে তেমন কেউ ছিলনা। তবে একজন নারী সহকর্মীর সাথে তার ভাল বন্ধুত্ব ছিল। তারা একত্রে কাজ করতো। একে অন্যের বোঝাপড়াও ছিল চমতকার। মেয়েটি খুবই ভাল, দায়িত্বশীল এবং সহজেই ছেলেটিকে বুঝতে পারতো। কিন্তু কেউ কখনো নিজেদের মধ্যে একে অন্যের প্রতি প্রেম অনুভব করেনি।

একসময় কোন কারনে ছেলেটির মনে শূন্যতা ভর করে। মেয়েটিও তাকে সেই একাকিত্বকে অনুভব করে। মেয়েটি তার প্রতি আরো যতœশীল হয়ে উঠে। ছেলেটি একসময় অনুভব করলো সে সম্ভবত মেয়েটিকে ভালবাসে। কিন্তু মেয়েটির সরলতা আর স্নিগ্ধতা কাছে সে প্রেমের কথা বলতে পারলোনা। কারন সে দেখেছে দুজনের এই আন্তরিক সম্পর্ক যেন প্রেমের চাইতেও বেশী।

এভাবেই চলে যাচ্ছিল দিন। কিন্তু ছেলেটির মনে সংশয় দেখা দিতে লাগল। যদি তাকে প্রেমের কথা বলা না হয়। আর যদি সে কোনদিন হারিয়ে যায় তাহলে সে তার একজনি প্রিয় মানুষকে হারাবে। আবারো মনকে বুঝানোর চেস্টা করে। সে তো এমনিতেই তার অনেক ভাল বন্ধু। এর চেয়ে ভাল কিছুই হয়না। কিন্তু প্রেম চাইতে গেলেতো সবচেয়ে ভাল বন্ধুকে হারাতে হবে। অনেক ভেবে চিন্তে সে নিজের সাথে পেরে উঠলো না। অবশেষে সিদ্ধান্ত নিল যে করেই হোক মেয়েটিকে জানাতে হবে। প্রেম শুধু কাছে কাছে থাকার বাহানা মাত্র। সে ভেবেই নিল এই বন্ধুত্বই চিরকাল থাকবে।

পরদিন সে মেয়েটিকে লং ড্রাইভে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলো। মেয়েটিও রাজী হয়ে যায়। যাওয়ার আগে সে মেয়েটির উদ্দেশ্যে একটি চিঠি লিখলো এবং একটি গোলাপ কিনে নিল। চিঠি এবং গোলাপটি সে তার জেকেটের পকেটে রেখে দিল। গাড়ি তখন শহর ছাড়িয়ে শহরতলির দিকে ছুটছে। গাড়িটি যখন দ্রুত গতিতে ছুটছে সে তখন মেয়েটিকে বলল ,"আমার জ্যকেটের পকেটে হাত দাও। যা আছে সে গুলো তোমার।" মেয়েটি পকেটে একটি লাল গোলাপ এবং একটি চিরকুট খুজে পেল। গোলাপ দেখে মেয়েটি ঠোটের কোনে স্নিগ্ধ হাসি ফুটে উঠলো।

মেয়েটি চিঠি খুলতে শুরু করলো, ঠিক তখন একটি বিকট শব্দ শুনতে পেল এবং এরপর কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই সে অজ্ঞান হয়ে গেল। জ্ঞান ফেরার পর সে জানতে পারলো একটি লরি তাদের গাড়িটিকে পাশ থেকে ধাক্কা দিয়েছে। এবং ছেলেটি ঘটনাস্থলেই মারা গেছে। সে এত কষ্ট পেল, যে পুনরায় অজ্ঞান হয়ে গেল। মেয়েটি আবিস্কার করলো সেই চিরকুটটি এখনো তারা হাতের মুঠোয় আছে। কম্পিত হস্তে চিঠি খুলে পড়তে শুরু করলো। সেখানে লেখা রয়েছে,"আমি তোমাকে অনেক ভালবাসি প্রিয়। যদি তুমি আমাকে ভাল না বাসো এইপথেই যেন আমার মৃত্যু হয়। আমি এখানেই মরে যাবো।" মেয়েটি চোখের গাল বেয়ে জল নেমে গেল। তার মনে সে পৃথিবীতে সম্পুর্ন একা হয়ে গেছে।

মেয়েটি নিজেকে অপরাধী ভাবতে শুরু করলো। সে ধরেই নিল যদি সে ছেলেটিকে ভালবাসতো তাহলে হয়ত ছেলেটি বেঁচে যেত। মেয়েটির জীবনে এত বড় অপরাধ বোধ তৈরী হবে সে নিজেও ভাবতে পারেনি। সে মনের অজান্তেই বলে উঠল," আমিও তোমাকে অনেক ভালবাসি প্রিয়। তুমি কেন আগে বলোনি তাহলেতো আমিও তোমাকে হারাতামনা আর আমাকেও এত কষ্ট পেতে হতোনা"

এখনো মেয়েটি রাতে ঠিক মত ঘুমাতে পারেনা। প্রতিরাতেই ঘুমের ঘোরে ছেলেটি এসে হাজির হয়। আর বলে," প্রিয়, আমি এখনো তোমাকে অনেক ভালবাসি। তুমি ভালবাস আর নাই বাস তাতে আমার কিছুই যায় আসেনা। তুমি আমাকে গ্রহন করো আর নাই করো তাতেও আমার কোন অভিযোগ নেই। আমি জানি আমি শুধু তোমাকেই ভালবাসি। বিদেশী গল্পের বাংলা ভাবানুবাদ এই গল্পটি রাজ তোমার জন্য। এই অনুবাদ গল্পটির মতোই আমার ভালোবাসা তোমার জন্য । পাঠালামা এটাই আমার শেষ গল্প। আর আমার হাতে রয়েছে ১টি পদ্ম । যারা নম্বর ১০১। আর এই ১টি জীবন্ত পদ্ম নিয়ে তোমার সাথে দেখা করবো । তুমি বলেছিলে তোমার পছন্দের রং নীল । আমি সেই নীল শাড়ী পরবো । রাজ মনে রেখ বেদনার রং কিন্তু নীল । সেটা জেনেও আমি নীল শাড়ী পরবো। আমি যেখানে আছি সেখানে অর্থ প্রাযুয্য চাকচিক্যে ভরপুর । নেই শুধু ভালোবাসা । চারদেয়ালে মৌলবাদ এর শিকল আমাকে আটকে রেখেছে। জানিনা তোমার কাছে পৌঁছাতে পারবো কিনা। তবে আমার আত্মা তোমার কাছে পৌঁছে যাবে ।

নাদের আলী গল্পটি পড়ছে গভীর মনোযোগ সহকারে । ল্যাবটবে স্কীন আর নাদের আলী চোখ একাকিত্ব হয়ে গেছে। নাদের আলী গল্পটি পরছে। নাদের আলীর চোখ বেয়ে আঝরে পানি পারছে। কি ঘটতে যাচ্ছে নাদের আলী কিছুই বুঝতে পারছে না। শুধু বুঝতে পারলো কিছু একটা হৃদয় বিদায়ক ঘঁটনা ঘটতে যাচ্ছে।

রাজ তখন তার সিগারেট এর প্যাকেট থেকে আরেকটি সিগারে ধরালো। সম্ভবত এটাই প্যাকেটের শেষ সিগারেট। একটানে সিগারেট এর অর্ধেকটা শেষ করে অনেকগুলো ধেওয়া ছেড়ে নাদের আলী কে বললো । ....... আজ সারাদিন আমি কিছুই খায় নাই। খেতে পারছি না । বুকের ভেতরে শুধু ধবধব করে আগুন জ¦লছে। এই আগুনে শুধু আমি একাই পুরছি । কাউকে পুরে মারতে পারছি না। ইচ্ছে করছে ঐ শতরুপাকে আগুনে পুরে মারি । আবার বলে উঠে আমি এখন কি করবে বলে দে নাদের আলী ‘ও একটা প্রতারক ঠকবাজ”



নাদের আলী তখনও গল্পটির উপর আরেকবার চোখ বুলিয়ে নিচ্ছে । সে রাজের কোন কথাই কর্নপাত না করে বললো

মেয়েটি এখন কোথায় ?

মানে তোর শতরুপা কোথায় ?

তোর সাথে দেখা করে নাই ? মেয়েটি বাসায় কোথায় ? পুরো কথাটা আমাকে বল ?

রাজ অন্য দিকে তাকিয়ে একটি দীর্ঘনিশ^াস ফেলে বলে “ বলে আর কি হবে সে একটা ঠশবাজ, একজন পাকা খেলোয়ার মানুষের হুদয় নিয়ে ছিনিমিনি খেলার ওস্তাদ । উত্তরায় থাকে, মেয়েটির অল্প বয়েসে বিয়ে হয়ে যায়। মেয়েটি স্বামী অনেক বয়স্ক ও অনেক টাকার মালিক, কিন্তু ফতোয়াবাজ। ইসলামের বিভিন্ন ফাতেয়্ াদিয়ে মেয়েটিকে ঘরে বন্দি করে রাখে । কোত্তাও বের হতে দেয় না । লোকটার অনেক শিশ্য আছে । তারা সবসময় তাকে নজর বন্দি করে রাখে। এমনকি ঘরে ডিস টেলিভিশনও দেখতে দেয় না। মেয়েটি হাতে স্মার্ট ফোন এর মাধ্যমে যোগাযোগ করতে হয়।

নাদের আলী বললো মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে বললো “ তোর সাথে পরিচয় কিভাবে ”

সে আমাদের সংগঠনের সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের জন্য টাকা পাঠিয়েছিলো, বিকাশের মাধ্যমে। সে টাকা দিয়ে আমরা চক সিলেট আদর্শলিপি বই ইত্যাদি কিনেছিলাম। সেই মেয়েটি । নাদের আলী তার আদর্শের কথা শুনেছিলো আগে । কিন্তু এটাই সেই মেয়ে সে বুঝ উঠতে পারে নাই। নাদের আলী মমত্ববোধ আরো বেড়ে গেলো ।

রাজ ঃ পট পট করে বলতে থাকে । কথা ছিলো ” ও আসবে , খুব ভেরে .... সবুজশ্যমল পার্কে ... আমরা একসাথে ভোর বেলায় দেখা হবে । আমরা শিশির ভেজা দুর্বা ঘাসের উপর খালি পায়ে হাটবো। খুব মজা হবে। ওর হাতে থাকবে একটি জীবন্ত নীল পদ্ম । পরনে থাকবে নীল শাড়ী ....।

রাজ মনটা ভীষন রকম কালো করে বললো : ও আসে নাই ।, আমি সরারাত একটুও ঘুমাইনাই। বাসায়ও ফিরি নাই রাতে। সারা রাত বাহিরে ছিলাম। বিশ^াস কর ।

নাদের বললো : সারা রাত কি করেছিস ?

রাজ : ঐ পার্কে বসে ছিলাম। মাশার কামড় খেয়েছি । কিন্তু ঘুমাই নাই । ও যদি এসে আমাকে না পেয়ে ফিরে যায়।

নাদের আলী হোঃ হোঃ করে হেসে উঠে । মনে মনে ঘঁটনাটাকে সে স্বাভাবিক ভাবে মেনে নিতে পারছে না। একটা সুন্দর সলিউশন খোজাঁর চেষ্টা করছে। তখন প্রায় রাত্রী ১০ টা । নাদের আলী রাজকে বললো “ রাজ তুই বাসায় ফিরে যা, আমি সম্পুর্ন ঘঁটনাটি দেখছি। কথা দিচ্ছি তোর শতরুপাকে তোর সাথে ফিরিয়ে দিবো । তারজন্য যা াযা করা লাগে আমি তাই করবে। তবে আমি এতটুকু বুঝতে পারছি সে একটা মিথ্যেবাদি ভন্ড প্রতারকদের জালে আটকিয়ে আছে। সেখান থেকে সে বেরুতে পারছে না। আমি প্রয়োজনে আমার যতটুকু শক্তি সামর্থ্য আছে তাই দিয়ে তোর শতরুপাকে বের করে নিয়ে আসবো।”

রাজ মুগ্ধ বিস্ময়ে একটা আশা নিয়ে নাদের আলী কথাগুলো শুনছিলো । সে নাদের আলী কথায় অনেকটা শান্তনা পাচ্ছে । কিন্তু হৃদয়ের মাঝে একটা অপ্রাপ্তি তাকে ছুটে বেরাচ্ছে। হৃদয়ে আগুন লাগলে, সেই আগুন কেউ দেখে না । রাজ তবু নাদের আলীর কথা বিশ^াস করলো। এবং শতরুপা সাথে তার দেখা হবে। নাদের আলীকে বললো । নাদের আলী আমি ওর জন্য ১০০ টি গোলাপ কিনেছিলাম। সবগুলো গোলাপ পানিতে ফেলে দিয়েছি। যাই এক্ষুনিই আবার গোলাপগুলো কিনে নিয়ে আসি। জলদি যাই নইলে দোকান বন্ধ হয়ে যাবে। শতরুপা আসবে। শতরুপা আসলে আমি তাকে ফুল দিতে পারবো না। রাজের ল্যাপটপটি নাদের আলীর কাছে দিয়ে বললো । তোর কাছে ল্যাপটপটি রাখ। এই ল্যাপটপে শতরুপার ঠিকানা হতে শুরু করে সব কিছুই আছে। তুই আমাকে কথা দিয়েছিস শতরুপাকে আমার কাছে নিয়ে আসবি। নাদের আলী ল্যাবটপ রাজের ল্যাপটপটি বুঝে নিলো। ‘‘জলদি যাই নইলে দোকান বন্ধ হয়ে যাবে, বলেই রাজ শো... শো বেগে একটি রিকসা নিয়ে চলে গেলো । নাদেরআলী ও একটি রিকশা করে বাসায় ফিরে, তখন রাত্রী ১১ টা । নাদের আলী টিভি চ্যালেনে সংবাদ দেখছে আর ভাবছে রাজের কথাগুলো । শতরুপাকে কিভাবে রাজের কাছে নিয়ে আসা যায়। রাজকে সে কথা দিয়েছে। একঝাক হতাশা ভর করছে নাদের আলী মাঝে। হতাশা নিয়ে টিভির রিমোট চেপে সংবাদ দেখছে হঠাৎ একটি চ্যানেলে একটি সংবাদ দেখে চমকে উঠে নাদের আলী । এক্সক্লুসিভ নিউজ ...। বুকের ভেতরটা ভুমিকম্পের মতো নাড়া দিয়ে উঠে । সংবাদটি আরো ভালো করে দেখার জন্য অন্য চ্যানেলে যায় । একটি চ্যানেল অনেক্ষধরে বিস্তারিত দেখাচ্ছে। একটি মেয়ের অত্যহত্যা । শতরুপা নামের একটি মেয়ে আত্মহত্যা করেছে । উত্তরার এক বাড়ী ৪র্থ তলা থেকে লাফিয়ে পরে আত্মহত্যা করেছে। নাদের আলী ভালো করে তাকিয়ে দেখে মেয়েটি পরনে নীল শাড়ী তষনও মেয়েটির হাতে শক্ত করে ধরে রেখেছিলো ১ জীবন্ত পদ্ম। সাংবাদিকরা এটাকে ভালো করে হাইলাইট করছে। অনেকে ধারনা মেয়েটি চারতলা লুকিয়ে পালিয়ে যাবার উদ্দেশ্যে দড়ি বেয়ে নামার সময় উপর থেকে পরে যায়। এবং তাৎক্ষনিক ভাবে মাথা ফেটে মেয়েটি মারা যায়। নাদের আলী ভালোকরে বুঝবার আগেই হাউমাউ করে কাদঁতে থাকে। আর বলতে থাকে আমি কথা দিয়েছিলাম শতরুপাকে ফিরিয়ে দিবো । আমি রাজকে কথা দিয়েছিলাম তার কাছে শতরুপাকে নিয়ে আসবো । ঘরের সকলে ছুটে আসে নাদের আলীর কাছে। নাদের আলী কাউকে কিছুই বোঝাতে পারছে না শুধু বুক ভরা আত্মনাত। তখন মাঝরাত ............. ............................. ( চলবে )



এই ভালোবাসার গল্পটি চলবে ....................



মন্তব্য ০ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.