| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
নির্বাচনের মাঠে এখন সবচেয়ে বড় সংকট কোনো স্লোগানের অভাব নয়; সংকট বাস্তব কথার অভাব। মানুষ আর জান্নাতের টিকিট কিংবা জাহান্নামের ভয় শুনে সিদ্ধান্ত নিতে চায় না। তারা চায়—কাজ, আয়, সম্মান আর ভবিষ্যৎ। আল্লাহর নাম ব্যবহার করে ভোটের মস্করা বন্ধ করা জরুরি, কারণ বাস্তবতা এতটাই কঠিন যে ধর্মীয় আবেগ দিয়ে তা আর ঢেকে রাখা যাচ্ছে না। জীবনযাত্রার চাপ, দ্রব্যমূল্য, চাকরির অনিশ্চয়তা—এসব মানুষকে মাটিতে নামিয়ে এনেছে।
আজ দেশের লাখো তরুণ-যুবা কর্মহীন। ডিগ্রি পাশ করা একজন ছেলের গড় বেতন ১৫ হাজার টাকা—যা দিয়ে বর্তমান বাজারে পরিবার চালানো তো দূরের কথা, একা টিকে থাকাই কষ্টকর। অথচ একই সময়ে একজন রিকশাওয়ালা বা দিনমজুর প্রায় সমান কিংবা অনেক ক্ষেত্রে তার চেয়েও বেশি আয় করে। নবীন একজন প্রকৌশলী ২২ হাজার টাকায় চাকরি শুরু করে, অথচ একজন সিএনজি চালক প্রতিদিনের আয়ে তাকে ছাড়িয়ে যায়। এখানে কোনো পেশাকে ছোট করা হচ্ছে না; প্রশ্নটা আরও গভীর—শিক্ষা, দক্ষতা ও পরিশ্রমের ন্যায্য মূল্য আমরা কোথায় হারালাম?
আমি নিজে পোশাক শিল্পের সঙ্গে যুক্ত থেকে বিষয়টা খুব কাছ থেকে দেখেছি। গার্মেন্টস সেক্টরে একজন দক্ষ নারী শ্রমিক আজ অনায়াসেই ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা আয় করতে পারেন। ওভারটাইম, দক্ষতা আর ধারাবাহিক কাজের কারণে তাদের আয়ের একটি নির্দিষ্ট গতি আছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক দিক—নারী কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন। কিন্তু একই সঙ্গে একটি প্রশ্ন তীব্রভাবে সামনে আসে: শিক্ষিত তরুণদের জন্য এমন কোনো স্থিতিশীল সেক্টর কোথায়? যেখানে তারা ডিগ্রি নিয়ে ঢুকে পরিশ্রম করলে ধাপে ধাপে সম্মানজনক আয় ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারে?
লাখো শিক্ষিত বেকার আজ হাতে কাজ নেই। লাখো দক্ষ শ্রমিক কাজ পাচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয় পাশ করা তরুণদের সামনে কোনো সুস্পষ্ট গন্তব্য নেই। এই বাস্তবতার সরাসরি সামাজিক প্রভাব পড়ছে—ছেলেদের চাকরি নেই, তাই মেয়েদের বিয়ে হচ্ছে না। পরিবারে হতাশা জমছে, সমাজে অস্থিরতা বাড়ছে, তরুণদের ভেতরে জন্ম নিচ্ছে ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা। এটা শুধু অর্থনৈতিক সংকট নয়; এটা সামাজিক বিস্ফোরণের উপাদান।
এই দেশ সাম্প্রতিক সময়েই দেখেছে—চাকরির বৈষম্য নিয়ে ঠাট্টা-তামাশা করতে করতে একটি সরকার জনগণের ওপর চেপে বসেছিল। শেষ পর্যন্ত মন্ত্রী, এমপি ও দলবল নিয়ে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে। সেই দৃশ্য মনে রাখা জরুরি। কারণ এই জাতি আজব হলেও বোকা নয়। তারা ফাউ বক্তৃতায় হাসতে পারে, কিন্তু দীর্ঘদিন সহ্য করে না।
রাজনীতির মাঠে এখন ধর্মীয় ভয় নয়, কর্মসংস্থানের রূপরেখা চাই। টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল সেক্টরে বড় আকারের বিনিয়োগ দরকার। আইটি, মেকাট্রনিক্স, অটোমেশন, ইলেকট্রিক্যাল মেইনটেন্যান্স, আধুনিক কৃষি ও অ্যাগ্রো-প্রসেসিং—এসব খাতে বাস্তব প্রশিক্ষণ ও শিল্পের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরি করতে হবে। শুধু ঘোষণা নয়, স্পষ্ট পরিকল্পনা, টাইমলাইন ও দায়বদ্ধতা দরকার।
মানুষ আজ এসবই শুনতে চায়। সমস্যার জায়গায় ফোকাস করুন। বাস্তবতা স্বীকার করুন। নইলে ইতিহাস আবারও নির্মমভাবে কথা বলবে—আর সে ইতিহাসের দায় কেউ এড়াতে পারবে না।
২২ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:০৫
জুয়েল তাজিম বলেছেন: আপনার কথার ভেতরের হতাশা অস্বীকার করার কিছু নেই—পরিবার, সমাজ, তরুণদের মনস্তত্ত্ব সবই চাপের মধ্যে আছে। কিন্তু এখানেই থেমে গেলে চলবে না। “সোনার বাংলা” স্লোগান দিয়ে নয়, বাস্তব কাজ দিয়েই দেশ দাঁড়ায়। জিডিপি কমেছে, আন্তর্জাতিক আস্থা নড়বড়ে হয়েছে—এটা সত্য। ভিসা কড়াকড়িও সেই আস্থাহীনতারই প্রতিফলন। তবে পুরো জাতিকে “মব কালচার” দিয়ে বিচার করা অন্যায়। সমাধান আছে—আইনের শাসন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও দায়িত্বশীল রাজনীতি। আমরা যদি ভেতরটা ঠিক করতে পারি, বাইরের দরজাও আবার খুলবে। আশা ছাড়াই সবচেয়ে বড় পরাজয়।
©somewhere in net ltd.
১|
২২ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:২৩
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: পরিবারে হতাশা জমছে, সমাজে অস্থিরতা বাড়ছে,
তরুণদের ভেতরে জন্ম নিচ্ছে ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা।
....................................................................................
অথচ রাজনীতির মাঠে আসুন
সবাই দেশকে সোনার বাংলা করে ফেলবে
যেটুকু জি.ডি.পি উঠেছিলো সব তো শেষ হয়ে গেল ।
আমাদের করুন অবস্হা দেখে উন্নত দেশ গুলো দ্রুত ভিসা প্রদান কঠিন
করে দিলো । কি জানি বাংলার তৌহিদী জনতা কোন দেশে গিয়ে
আবার মব কালচার শুরু করে ।