| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
গুলশান–১, ১৪০ নম্বর রোড।
একটি গাছের পাশেই ফুটপাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন আশফাক চৌধুরী পিপলু। সাধারণ মানুষের মতোই তিনি একজনের সঙ্গে কথা বলছিলেন। হঠাৎ উপর থেকে ছিটকে পড়া একটি লোহার রড সোজা ঢুকে যায় তাঁর মাথায়। মুহূর্তেই সব শেষ। কোনো সতর্কতা, কোনো সুযোগ, কোনো বাঁচার পথ—কিছুই ছিল না।
যে জায়গাটিতে তিনি লুটিয়ে পড়েছিলেন, সেটি লাল প্লাস্টিকের পার্কিং কোন দিয়ে আংশিক ঘেরা ছিল। পাশেই চলছিল ৪৯ বছরের বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কনকর্ড রিয়েল এস্টেটের একটি সুউচ্চ ভবনের নির্মাণকাজ। প্রশ্ন একটাই—এত অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে একটি ভারী লোহার রড জনসমাগমপূর্ণ ফুটপাতে পড়ে একজন মানুষকে হত্যা করে?
সুউচ্চ ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে যথাযথ সেফটি নেট, ওভারহেড প্রোটেকশন, নিরাপত্তা বেষ্টনী ও দায়বদ্ধ তদারকি থাকা বাধ্যতামূলক। সেগুলো ছিল কি না—তার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া জরুরি। কিন্তু বিস্ময়ের বিষয়, সংবাদমাধ্যমে কোম্পানির নামটি পর্যন্ত উচ্চারণ করা হচ্ছে না। যদি অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের নামই আড়াল করা হয়, তাহলে বিচার হবে কীভাবে? নাকি প্রভাবশালীদের জন্য আইন আলাদা?
এই মৃত্যু কোনো দুর্ঘটনা নয়।
এটি কর্পোরেট অবহেলা, প্রশাসনিক নীরবতা ও রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার সম্মিলিত ফল—একটি হত্যাকাণ্ড।
বরণ্য শিক্ষাবিদ, সর্বজন শ্রদ্ধেয় সাবেক প্রধান শিক্ষক নাদেরুজ্জামান স্যারের প্রিয় তৃতীয় সন্তান মোঃ আশফাকুজ্জামান চৌধুরী পিপলু আজ আর নেই। ছয় শ্রেণিতে পড়ুয়া একমাত্র কন্যাটি জানত না, বাবার হাত ধরা সেদিনই শেষ। স্ত্রী জানতেন না, প্রতিদিনের মতো বিদায়টাই হবে শেষ দেখা। আর নাদের স্যার—গ্রামের নিভৃত জীবনে অবসর কাটাতে কাটাতে কল্পনাও করতে পারেননি, ঢাকা শহর থেকে এমন এক সংবাদ তাঁর জীবনের সব আলো নিভিয়ে দেবে।
পিপলুর শ্বশুর বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলা দায়ের করেছেন। আমরা এই আইনি লড়াইকে পূর্ণ সমর্থন জানাই। এটি কোনো ব্যক্তিগত শোকের মামলা নয়—এটি জননিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের প্রশ্ন।
আজ যদি পিপলুর বিচার না হয়, কাল আরেকজন পথচারী মারা যাবে।
আজ যদি দায়ীদের শাস্তি না হয়, ভবিষ্যতে এই অবহেলা নিয়মে পরিণত হবে।
আমাদের বাসাউবিয়ান সহযোদ্ধা ও সমাজের বিবেকবান মানুষদের প্রতি আহ্বান—নীরব থাকবেন না। প্রভাব, পরিচয় বা কর্পোরেট শক্তির ঊর্ধ্বে উঠে সত্যের পাশে দাঁড়ান।
আমরা পিপলুকে ফিরিয়ে আনতে পারব না।
কিন্তু আমরা চাই—এই হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার হোক, অবহেলাকারীরা আইনের আওতায় আসুক এবং পিপলুর পরিবার ন্যায্য ক্ষতিপূরণ পাক।
এটাই আমাদের মানবিক দাবি।
এটাই আমাদের ন্যায়বিচারের লড়াই।
২|
২৫ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:১৫
কিরকুট বলেছেন: আইনা মানার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সকল মানুষের অবস্থান শূন্যের কোঠায় ।
৩|
২৫ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:২৪
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: বিচার চাহি্য়া লজজা দিবেন না ।
৪|
২৫ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:২৯
খায়রুল আহসান বলেছেন: মরহুম আশফাক চৌধুরী পিপলু'র মাগফিরাত কামনা করছি। তার মাতা-পিতা, স্ত্রী-কন্যাসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরকে আল্লাহ রাব্বুল 'আ-লামীন সবর দান করুন, এই দুঃসহ পরিস্থিতিতে সুরক্ষা করুন এবং দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যান দান করুন!
স্বনামধন্য এই নির্মাণ প্রতিষ্ঠানটির অমার্জনীয় অবহেলার বিচার হোক, পিপলু'র পরিবারকে আদালয়ের রায় অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ প্রদানে বাধ্য করা হোক এবং অবহেলার জন্য দায়ী ব্যক্তিদেরকে যথাযোগ্য শাস্তি প্রদান করা হোক!
আপনার এ মানবিক দাবী এবং ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই এর প্রতি সমর্থন জানাচ্ছি।
৫|
২৫ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯
নাহল তরকারি বলেছেন: বাংলাদেশ এর মানুষ বলে কথা।
৬|
২৫ শে জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:১১
আমি ব্লগার হইছি! বলেছেন: আমরা এখন এক অভিশপ্ত দেশে বাস করছি।
৭|
২৬ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৫৫
রাজীব নুর বলেছেন: নরক। নরকে বাস করি আমরা।
©somewhere in net ltd.
১|
২৫ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:১৫
কাজী ফাতেমা ছবি বলেছেন: ন্যায় বিচারের দাবী জানাই