| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
তারেক রহমান কি বর্তমানে রাষ্ট্রীয় কোনো পদে অধিষ্ঠিত? তিনি কি সরকারের কোনো সাংবিধানিক দায়িত্বে রয়েছেন? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর যখন স্পষ্টতই ‘না’, তখন তার আগমন উপলক্ষে চট্টগ্রাম নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে সিটি কর্পোরেশনের অর্থ ব্যয়ে ভিআইপি আলোকসজ্জা ও বিশেষ আয়োজন কোন যুক্তিতে করা হচ্ছে—সে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বাজেট কোনো রাজনৈতিক দলের বা তার শীর্ষ নেতার ব্যক্তিগত কিংবা দলীয় সফরকে জাঁকজমকপূর্ণ করার জন্য নয়। এই বাজেট আসে নগরবাসীর করের টাকায়—যার উদ্দেশ্য নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা, অবকাঠামো উন্নয়ন, পানি-নিষ্কাশন, সড়ক সংস্কার, পরিচ্ছন্নতা ও জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় করা। সেখানে একটি রাজনৈতিক দলের নেতার আগমনকে কেন্দ্র করে সরকারি সম্পদ ব্যবহার করা শুধু অযৌক্তিকই নয়, বরং এটি প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
আরও উদ্বেগজনক হলো—দিনভর টক-শো ও রাজনৈতিক বক্তব্যে বিএনপির নেতারা এনসিপিকে ‘কিংস পার্টি’ আখ্যা দিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তোলেন। কিন্তু বাস্তব চিত্রে যদি দেখা যায়, সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও পৌর সম্পদ দলীয় স্বার্থে ব্যবহৃত হচ্ছে, তাহলে সেই সমালোচনার নৈতিক ভিত্তি কোথায় দাঁড়ায়? কথার রাজনীতি আর কাজের রাজনীতির মধ্যে যদি পার্থক্য না থাকে, তবে জনগণ কোনটিকে বিশ্বাস করবে?
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান মেয়র বিএনপির দলীয় পরিচয়ের হওয়ায় এই প্রশ্ন আরও গভীরভাবে সামনে আসে। আসন্ন জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করার কথা যখন বারবার বলা হচ্ছে, তখন প্রশাসনিক ক্ষমতা ও সরকারি সম্পদের এমন ব্যবহার নির্বাচনী ন্যায্যতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। একটি নির্বাচনে প্রতিযোগিতা তখনই ন্যায্য হয়, যখন সব রাজনৈতিক পক্ষ সমান সুযোগ পায় এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয় প্রভাবের ঊর্ধ্বে থাকে।
গণতন্ত্রের মূল শক্তি হলো প্রতিষ্ঠানগত নিরপেক্ষতা। কোনো রাজনৈতিক নেতা যত বড়ই হোন না কেন, তিনি যদি রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে না থাকেন, তবে তার জন্য রাষ্ট্রীয় আয়োজন গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আজ যদি একটি দলের নেতার জন্য সিটি কর্পোরেশনের আলো জ্বলে, কাল অন্য দল ক্ষমতায় এলে একই সংস্কৃতি চলবে—এভাবেই ক্ষমতার অপব্যবহারের দুষ্টচক্র ঘুরতে থাকবে।
এই পরিস্থিতিতে প্রয়োজন স্পষ্ট জবাবদিহি। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অর্থ কোন খাতে, কোন অনুমোদনে, কোন যুক্তিতে ব্যয় করা হচ্ছে—তা নগরবাসীর জানার অধিকার আছে। রাজনৈতিক আনুগত্য নয়, জনস্বার্থই হতে হবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের একমাত্র নির্দেশক। নইলে গণতন্ত্র কেবল স্লোগানে সীমাবদ্ধ থাকবে, বাস্তবে নয়।
২|
২৫ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:২৫
এ পথের পথিক বলেছেন: ভাবনাঃ দেশের অনেক মানুষজন আর পুলিশ প্রশাসন ধরে নিয়েছে বি দল ক্ষমতায় আসছে তাই এমন তৈমর্দন আরকি । বাঙ্গাল আজিবন কাঙ্গাল ই থেকে গেল ।
©somewhere in net ltd.
১|
২৫ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:২৯
অপলক বলেছেন: তারেক রহমান পরবর্তী সরকার প্রধান ধরে নিয়েই হয়ত, চট্রগ্রামবাসী আগে ভাগে চামচাগিরি শুরু করে দিয়েছে। হাজার হলেও হাসিনা বুবুর অসমাপ্ত কাজ শেষ করার দায়িত্ব পেয়েছেন দাদাদের কাছ থেকে। ব্যাপারটা বুঝতে হবে...