| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
জুলাই ’২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের মানুষ পুনরায় তাদের ভোটাধিকার ফিরে পেয়ে ভবিষ্যৎ নির্ধারণের এক ঐতিহাসিক সুযোগের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। নির্বাচন এখানে কেবল একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়; বরং রাষ্ট্রের ন্যায়ভিত্তিক পথচলা, সুশাসন ও জনগণের আস্থার কেন্দ্রীয় নির্ধারক। তাই এই সময় সচেতনতা, সংযম ও জাতীয় ঐক্যের চর্চা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। গুজব, উসকানি ও বিভাজন থেকে দূরে থেকে পারস্পরিক সম্মান, সহাবস্থান ও শান্তি রক্ষা করা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব।
আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে দেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তনের মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি সাধারণ ভোটাভুটি নয়; বরং গণভোটের মাধ্যমে রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও সরকার ব্যবস্থার মৌলিক কাঠামো পুনর্গঠনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণের এই সময়ে ‘হ্যাঁ’ ভোট কেবল একটি রাজনৈতিক পছন্দের প্রতিফলন নয়—এটি ন্যায়বিচার, স্বচ্ছ প্রশাসন, জবাবদিহিতা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশার প্রতীক।
দেশের অতীত রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, ক্ষমতার অপব্যবহার, সম্পদ দখল, ঋণখেলাফি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজির মতো অনিয়ম বহুবার সাধারণ মানুষের অধিকারকে ক্ষুণ্ন করেছে। ফলে ন্যায়বিচার ব্যাহত হয়েছে এবং জনআস্থা দুর্বল হয়েছে। এবারের গণভোট সেই অবস্থা থেকে উত্তরণের একটি সম্ভাব্য পথ উন্মুক্ত করেছে—যেখানে জনগণের রায় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেবে যে ক্ষমতা কেবল জনকল্যাণ ও সেবার জন্যই ব্যবহৃত হবে।
এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নৈতিকতার প্রশ্নও সামনে আসে। আল্লাহভীতি, আখেরাতের জবাবদিহিতার বোধ এবং মানুষের প্রতি দয়া ও ন্যায়ের চেতনা—এসব মূল্যবোধ নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। যে নেতৃত্ব জনগণের সম্পদ রক্ষা করবে, ন্যায় প্রতিষ্ঠা করবে এবং বৈষম্যহীন উন্নয়নের পথ সুগম করবে, তার হাতেই দেশের দায়িত্ব অর্পণ করা প্রত্যাশিত।
নির্বাচনের ফল মেনে নিয়ে সম্মিলিত সহযোগিতার মাধ্যমে রাষ্ট্রকে এগিয়ে নেওয়াই হতে পারে জাতীয় অগ্রগতির মূল চাবিকাঠি। সংকীর্ণতা পরিহার করে সত্য, ন্যায়, ইনসাফ ও সমৃদ্ধির পথে একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকারই হোক এই ঐতিহাসিক সময়ের প্রধান বার্তা।
©somewhere in net ltd.