| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রাজ্যের নাম ছিলো অরুণাভা—মানচিত্রে খুব বড় নয়, কিন্তু গল্পে বিশাল।
সেখানে এক রাজা ছিলেন, যিনি সত্যের চেয়ে প্রশংসা বেশি ভালোবাসতেন।
তার দরবারে সত্য বলার লোক কম, তোষামোদ করার লোক বেশি ছিলো।
প্রতিদিন সকালবেলা রাজা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের মুখ দেখতেন না;
দাঁড়িয়ে থাকতেন চাটুকারদের কথার সামনে—
“আপনি সূর্যের থেকেও উজ্জ্বল”,
“আপনার জ্ঞান সমুদ্রের থেকেও গভীর”,
“আপনার শাসন চিরস্থায়ী।”
রাজা বিশ্বাস করতে শুরু করলেন—
তিনি সত্যিই আলাদা, সাধারণ মানুষের মতো নন।
একদিন রাজা ঘোষণা দিলেন—
তিনি এমন এক পোশাক পরবেন,
যা কেবল জ্ঞানীরা দেখতে পাবে, মূর্খরা নয়।
দরবার আনন্দে কেঁপে উঠলো।
কারণ তারা জানতো—
এবার সত্য লুকানোর নতুন সুযোগ এসেছে।
কিছু লোক অদৃশ্য সুতোয় কাপড় বুনার ভান করলো,
কিছু লোক বাতাস কেটে মাপ নিলো,
আর কিছু লোক মাথা নেড়ে বললো—
“অসাধারণ! এমন কাপড় পৃথিবীতে নেই।”
রাজা কিছুই দেখলেন না।
কিন্তু না দেখার সাহসও পেলেন না।
কারণ না দেখলে তিনি নিজেই মূর্খ প্রমাণিত হবেন।
তাই তিনি বললেন—
“অতুলনীয়!”
নির্দিষ্ট দিনে রাজা সেই অদৃশ্য পোশাক পরে বের হলেন।
শহরজুড়ে ঢাকঢোল, ফুল, করতালি।
মানুষ দেখছে—
কিন্তু কেউ কিছু বলছে না।
কারণ সবাই ভয় পায়—
সত্য বললে একা হয়ে যাবে।
শুধু এক ছোট ছেলে মায়ের হাত ছাড়িয়ে সামনে এসে বললো—
“রাজা কিছুই পরেননি।”
শব্দটা ছিলো ছোট,
কিন্তু নীরবতার দেয়ালে বজ্রপাতের মতো লাগলো।
দরবার স্তব্ধ।
চাটুকাররা কাঁপছে।
রাজা থমকে দাঁড়ালেন।
প্রথমবার তিনি নিজের শরীর নয়—
নিজের শূন্যতা অনুভব করলেন।
সেই দিন রাজা দু’টি জিনিস বুঝলেন—
প্রথমত,
যে প্রশংসা সত্য নয়,
তা পোশাক নয়—
মায়া।
দ্বিতীয়ত,
সত্য বলার জন্য বড় শক্তি লাগে না,
লাগে নির্ভীক হৃদয়—
যা থাকে শুধু সরল মানুষের কাছে।
রাজা সেদিন সিংহাসনে ফিরলেন ঠিকই,
কিন্তু আগের মানুষ হয়ে নয়।
তিনি দরবার থেকে কিছু লোককে বিদায় দিলেন,
আর শহরের পথে পথে সত্য খুঁজতে শুরু করলেন।
কারণ তিনি বুঝেছিলেন—
চাটুকার রাজাকে মহান বানায় না,
অন্ধ বানায়।
আর রাজ্যের সবচেয়ে ভয়ংকর সময়
রাজা খারাপ হলে নয়—
রাজা যখন ভুল বুঝেও শুনতে না চায়,
সেই মাঝখানের সময়।
গল্প শেষ নয়।
কারণ প্রতিটি রাজ্যে, প্রতিটি যুগে—
এই মাঝখানের সময় আবার ফিরে আসে।
©somewhere in net ltd.
১|
১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৫২
রাসেল বলেছেন: আক্কলের ইশারা আর বেক্কলের ধাক্কা