| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
বাংলাদেশের রাজনীতি আবারও এক নতুন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। দীর্ঘ অনিশ্চয়তা, আন্দোলন ও প্রত্যাশার পর নতুন সরকারের সূচনা ঘিরে জনমনে যেমন আশার আলো, তেমনি সংশয়ের ছায়াও স্পষ্ট। বিশেষ করে তারেক রহমান–এর নেতৃত্বে যাত্রা শুরু হওয়ায় বড় প্রশ্ন উঠে এসেছে—তিনি কি তাঁর মা খালেদা জিয়া–র আপোষহীন রাজনৈতিক উত্তরাধিকার অক্ষুণ্ণ রাখবেন, নাকি গড়ে তুলবেন নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচয়ের নতুন পরিসর?
সমর্থকদের কাছে তাঁর প্রত্যাবর্তন যেন প্রতিকূলতা ভেঙে ওঠা এক ফিনিক্সের গল্প—দীর্ঘ সংগ্রামের পর সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত। অন্যদিকে সমালোচকদের দৃষ্টিতে এটি কেবল ক্ষমতার পুনরাবৃত্ত চক্র, যেখানে নাম বদলায়, কিন্তু বাস্তবতা খুব বেশি বদলায় না। বিশেষত ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর জনগণের মধ্যে যে সংস্কারমুখী প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা পূরণ করা নতুন নেতৃত্বের জন্য এক কঠিন পরীক্ষাই হয়ে উঠেছে।
এই প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের সামনে স্পষ্ট দুটি পথ—একটি অতীতের রাজনৈতিক আদর্শের কঠোর ধারাবাহিকতা, অন্যটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সংস্কারমুখী রাষ্ট্রচিন্তা। তবে সময় হয়তো তাঁকে তৃতীয় এক পরিচয়ে দাঁড় করাতে পারে—নীতি ও বাস্তবতার সমন্বয়ে এক “আপোষহীন সংস্কারক” হিসেবে।
কিন্তু রাজনৈতিক প্রতীক ও প্রত্যাশার বাইরেও নতুন সরকারের সামনে রয়েছে কঠিন অর্থনৈতিক বাস্তবতা। অন্তর্বর্তী সময় শেষে দায়িত্ব গ্রহণের মুহূর্তেই তাদের কাঁধে জমা হয়েছে ২৩ লাখ কোটি টাকারও বেশি ঋণের ভার। বাংলাদেশ ব্যাংক–এর তথ্য অনুযায়ী, সরকারের ব্যাংকনির্ভর ঋণ বৃদ্ধি, উচ্চ সুদহার ও মূল্যস্ফীতির চাপ বেসরকারি বিনিয়োগকে সংকুচিত করেছে—যা অর্থনীতিতে ‘ক্রাউডিং আউট’ প্রভাব হিসেবে পরিচিত। ফলে শিল্প সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান ও উৎপাদন—সবখানেই স্থবিরতার ছাপ স্পষ্ট।
নতুন সরকারের জন্য তাই চ্যালেঞ্জ দ্বিমুখী—ঋণনির্ভর ব্যয় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বেসরকারি খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনা। সুদহার নীতি, রাজস্ব সংস্কার, ব্যবসা সহজীকরণ ও আর্থিক শৃঙ্খলায় দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে এই অধ্যায়ের সাফল্য। শেষ পর্যন্ত ইতিহাস বদলাবে কি না, তা নির্ভর করবে প্রতিশ্রুতির চেয়ে বাস্তব প্রয়োগের ওপর—আর সেই উত্তর লুকিয়ে আছে সময়ের হাতেই।
©somewhere in net ltd.
১|
১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:১৩
রাজীব নুর বলেছেন: রিজার্ভ বেশ ভালোই আছে। কাজেই ভয়ের কিছু নাই।