| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
দেশ এখন এমন এক মহিমান্বিত পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে পাড়ার বিড়াল গাছে উঠলেও প্রথমে ফোন যায় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে। থানায় নয়, হটলাইনে নয়—সরাসরি “স্যার, বিড়ালটা নামিয়ে দিন!”
কারণ আমরা জানি, প্রশাসনের চাকা ঘোরে না—ঘোরাতে হয়। আর সেটাও ঘোরে তখনই, যখন প্রধানমন্ত্রীর আশীর্বাদের স্পর্শ পড়ে কারও কাঁধে।
শুনলাম, এক স্কুলছাত্র অপহরণ হয়েছে। মুক্তিপণ চাওয়া হয়েছে মাত্র ৫০ হাজার টাকা। আহা! অপহরণকারীরাও বুঝি এখন মুদ্রাস্ফীতির চাপে কৃচ্ছ্রসাধন করছে। তারা হয়তো ভাবলো—“দেশ কঠিন সময়ে আছে, বেশি চাইলে বদনাম হবে!”
বাবা ছুটলেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে। প্রধানমন্ত্রী ফোন করলেন ডিসিকে। ডিসি গেলেন, দেখলেন, জয় করলেন। গল্পের বইয়ের নায়ক যেমন এক হাতে বন্দুক আর আরেক হাতে ন্যায়বিচার নিয়ে হাজির হয়, তেমনই নাকি উদ্ধার হলো ছেলে। তবে অপরাধীরা? তারা বুঝি লিফট ব্যবহার না করে বাতাসে মিলিয়ে গেল! লোকেশন ট্র্যাক হলো, বিল্ডিং চিহ্নিত হলো, কিন্তু অপরাধী রইলো অদৃশ্য শিল্পকর্ম।
ছেলেটিকে দেখে মনে হলো অপহরণ নয়, যেন ফটোশুট শেষে বেরিয়েছে। হাতে সানগ্লাস, পরনে ক্যাজুয়াল পোশাক। স্কুল বন্ধ ছিলো কি না, ড্রেসকোড কোথায়—এসব প্রশ্ন করা মানেই বুঝি জাতির মনোবল ভাঙা!
আর বাবার মুখে আতঙ্কের ছাপ নেই কেন—এ প্রশ্নও করা যাবে না। হয়তো উনি ভেবেছেন, “প্রধানমন্ত্রী আছেন, ভয় কী!”
এখন প্রশ্ন উঠেছে—ডিসির বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ ছিল, তা কি হঠাৎ করেই উধাও? সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদমও বুঝি প্রধানমন্ত্রীর ফোনের অপেক্ষায় থাকে। এক ইস্যু দিয়ে আরেক ইস্যু গায়েব—এ যেন ডিজিটাল জাদুবিদ্যা।
সবচেয়ে বড় শিক্ষা কী?
রাষ্ট্রযন্ত্র নিজের নিয়মে কাজ করবে—এ ধারণা এখন সেকেলে। এখানে প্রতিটি নাটকীয় উদ্ধার, প্রতিটি তাৎক্ষণিক সমাধান আমাদের মনে করিয়ে দেয়—প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ছাড়া কিছুই চলে না।
হয়তো আগামীতে থানায় জিডি করতে গেলেও লিখতে হবে:
“উপর মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হোক, নচেৎ ফাইল নড়িবে না।”
তাই আমরা নাগরিকেরা এখন শান্ত। কারণ জানি, দেশে আইন আছে, পুলিশ আছে—কিন্তু তারও ওপরে আছে এক মহাশক্তি: একটি ফোনকল।
©somewhere in net ltd.