নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

রাজীব নুর

আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি। কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা।

রাজীব নুর › বিস্তারিত পোস্টঃ

যুগে যুগে সারদা দেবী

০৪ ঠা জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৯



নদীর নাম রুপসা।
জীবনানন্দ দাশ তার কবিতায়ও রূপসা নদীর কথা বলেছেন। এই নদীতে স্নান করেছেন- রবীন্দ্রনাথের মা এবং স্ত্রী। বর্ষাকালে রুপসা নদী যেন যৌবনে ফিরে যায়। কি তেজ! কি জলের ধারা! রবীন্দ্রনাথ নদী খুব পছন্দ করতেন। আমি নিজেও নদী খুব পছন্দ করি। আমিও রবীন্দ্রনাথের মতো একটা বোট কিনবো। নদীতে বোট চলবে। আমি নদী ও নদীর পাড়ের দৃশ্য উপভোগ করবো। গাড়ি কিনলে নানান ঝক্কি ঝামেলা। বোটে কোনো ঝামেলা নেই। বিআরটিসি থেকে কাগজ করাতে হবে না। ইন্সুরেন্স করাতে হবে না। পুলিশ এসে বোটের জন্য মামলা করে দিবে না। যাইহোক, নদীর পাড়ের নির্মল বাতাসে মাথায় নতুন নতুন লেখা আসবে! আমি বোটে বসেই লিখবো। আহ কি শান্তি! রবীন্দ্রনাথ জীবন উপভোগ করতে জানতেন!

আমাদের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মায়ের নাম- সারদা সুন্দরী দেবী।
বাংলাদেশের যশোর জেলার দক্ষিণডিহি গ্রামে তার জন্ম। (রবীন্দ্রনাথের স্ত্রী মৃণালিনী দেবীও দক্ষিণডিহিরই মেয়ে)। ২৮ বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথের স্ত্রী মারা যান। এরপর রবীন্দ্রনাথ আর বিয়ের ঝামেলায় যাননি। লেখালেখিতে মন দিয়েছিলেন দ্বিগুন। যাইহোক, রবীন্দ্রনাথের মায়ের কাছে যাই। সারদা সুন্দরী দেবীর মোট ১৫ জন সন্তান ছিল। রবীন্দ্রনাথ ছিলেন তাঁদের ১৪তম সন্তান। ১৫ নম্বর সন্তান জন্মের দেড় বছর পর মারা যায়। কাজেই বলা যেতে পারে রবীন্দ্রনাথ সবচেয়ে ছোট সন্তান। ঠাকুর বাড়িতে কাজের লোকের অভাব ছিলো না। কাজের লোক রবীন্দ্রনাথের আদর যত্নের ত্রুটি করতো না।

রবীন্দ্রনাথের জন্মের সময় সারদা দেবীর বয়স ছিল ৩৪।
রবীন্দ্রনাথের যখন ১৩ বছর বয়স তখন তার মা মারা যান। মায়ের অভাব পূরন করে দেয়- গ্রেট কাদম্বরী দেবী। মৃত্যুর সময় সারদা দেবীর বয়স ছিলো ৪৯ বছর। মাত্র ১৭ বছর বয়সী দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে সারদা দেবীর বিয়ে হয়। দেবেন্দ্রনাথ ছিলেন মূর্তিপূজার বিরোধী কিন্তু সারদা খুবই ধর্মপ্রান মহিলা ছিলেন। সারদা দেবীর শ্বশুর দ্বারকানাথ ছিলেন কলকাতার প্রথম সারির ধনীদের মধ্যে একজন। রবীন্দ্রনাথ আক্ষেপ করে লিখেছেন- ''মা যে কী জিনিস তা জানলুম কই আর। তাইতো তিনি আমার সাহিত্যে স্থান পেলেন না''। রবীন্দ্রনাথের মা লেখাপড়া জানতেন। বাংলা পড়তে ও লিখতে পারতেন। রবীন্দ্রনাথের মতো সারদা দেবীও নৌকায় করে ঘুরে বেড়াতেন। টানা এক সপ্তাহ হয়ে যেতো, বাড়ি ফিরতেন না। সারদা দেবী বিয়ের পর আর যশোর যাননি।

রামকৃষ্ণ পরমহংসের স্ত্রীর নামও সারদা দেবী।
জয়রামবাটী গ্রামে সারদা দেবীর জন্ম। ছয় বছর বয়সে রামকৃষ্ণের সাথে তার বিবাহ হয়। বাঙালি মেয়েদের মতো সারদা দেবীর জীবনও ছিল অত্যন্ত সরল ও সাদাসিধে। বিবাহিত জীবনে শ্রীরামকৃষ্ণ কখনই স্ত্রীকে 'তুই' সম্বোধন করেননি। ভক্তরা সারদা দেবীকে পরম শ্রদ্ধায় 'শ্রীশ্রীমা' বা 'পবিত্র মা' বলে ডাকেন। শ্রী রামকৃষ্ণের প্রয়াণের পর তিনি রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের প্রধান স্তম্ভ হয়ে ওঠেন। তিনি সব মানুষকে নিজের সন্তান মনে করতেন এবং জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে স্নেহ করতেন। তিনি বলতেন, "যদি শান্তি চাও, তবে কারও দোষ দেখো না, নিজের দোষ দেখো। রামকৃষ্ণ পরমহংসকে আমার খুবই পছন্দ।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.