নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

রাজীব নুর

আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি। কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা।

রাজীব নুর › বিস্তারিত পোস্টঃ

বৃষ্টি দিনের গল্প!

০৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৫



টিভি বা পত্রপত্রিকায় আবহাওয়া'র খবর নিয়ে নিউজ হয়-
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। একই সঙ্গে কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্ত। উন্নত বিশ্বের মানুষজন আবহাওয়ার নিউজ শুনে ঘর থেকে ছাতা নিয়ে বের হয়। এবং সত্যি সত্যি যথাসময়ে বৃষ্টি হয়। আমাদের দেশের লোকজন আবহাওয়ার নিউজ নিয়ে মাথা ঘামায় না। ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জেনেও লোকজন কক্সবাজার বেড়াতে যায়। সমুদ্রে নামা নিষেধ হলেও লোকজন সমুদ্র নামে। ছবি তুলে। যাইহোক, আষাঢ় মাস শেষ। শ্রাবন মাসও শেষের দিকে। তাই আজ বৃষ্টির দিনের গল্প বলব। বৃষ্টি সবাই উপভোগ করতে পারে না। বৃষ্টি উপভোগ করেছিলেন, আমাদের রবীন্দ্রনাথ। কিছুটা আমরা তার লেখায় পেয়েছি।

১। একদিন টিভিতে দেখি- ফুটবল খেলা হচ্ছে।
আবহানি মোহামেডানের খেলা। খেলা খুব'ই জমে গেছে। হাজার হাজার দর্শক। আমি সাদা কালো টিভিতে খেলা দেখছি! ফুটবল আমার প্রিয় খেলা। আমি নিজেও ফুটবল ভালো খেলি। আমার পায়ে একবার বল এলে, আর রক্ষা নাই। সবাইকে পাশ কাটিয়ে ছুটতাম বারপোষ্টের দিকে। দৌড়ে আমার সাথে কেউ পারতো না। আবার গোলকিপার হিসেবে আমি দারুন ভালো। জীবন দিয়ে হলেও গোল রক্ষা করতাম। যাইহোক, টিভিতে মন দিয়ে খেলা দেখছি। আমি আবহানীর সাপোর্টার। খেলা বিরতির পর আবার শুরু হলো। সেই সাথে শুরু হলো বৃষ্টি! তুমুল বৃষ্টি! হঠাত আমার মনে হলো- আমি এত ফুটবল খেলি কিন্তু কখনও ঝুম বৃষ্টির মধ্যে ফুটবল খেলিনি। আল্লাহপাক আমার সেই ইচ্ছা পূরন করলেন। মনের স্বাদ মিটিয়ে বৃষ্টিতে খেলেছি।

একদিন বিকেলে মাঠে ফুটবল খেলতে গিয়েছি।
হঠাত আকাশ কালো হতে শুরু করলো। সেই সাথে তুফানের মতো বাতাস। এমন বাতাস যেন আমাদের উড়িয়ে নিয়ে যাবে। কেউ কেউ খেলা ছেড়ে বাসায় চলে গেলো। শুরু হলো বৃষ্টি! কি তুমুল বৃষ্টি! বৃষ্টির মধ্যে মন ভরে ফুটবল খেললাম। মাঠে আছাড় খেলাম। যতবার আছাড় খাই, আনন্দ তত বাড়ে। মাঠের কোণায় একটা ডোবা নালা ছিলো। সেখানে লাফালাফি করলাম। আহ কত আনন্দ! সন্ধ্যার পর কাকভেজা হয়ে বাসায় ফিরি। মা বলল, জ্বর এলে আমি সেবা যত্ন করতে পারিব না। রাত জেগে মাথায় পট্রি দিতে পারিব না। আমি বললাম, ঘ্যান ঘ্যান বাদ দাও। একটু নুডুলস রান্না করে দাও। নুডুলস খেয়ে পড়িতে বসিব।

২। তখন আমার অল্প বয়স। স্কুলে পড়ি।
হাফ প্যান্ট পড়ি। হাফ প্যান্ট পড়লেও প্রেম ভালোবাসা কিছুটা বুঝি। বিকেলে ঘুম ভেঙ্গেছে। ঘুম থেকে উঠে দেখি আকাশে মেঘ জমেছে। আষাঢ় শ্রাবন মাস নয়, তবু আকাশ ভরা মেঘ! অসময়ে বৃষ্টি! মা বাসায় নেই। সেদিন খুব সুন্দর একটা বিকাল ছিলো। পাশের ঘরে চানু আন্টি। চানু আন্টির ভালো নাম আমার মনে নেই। চানু আন্টি দেখতে ভীষন সুন্দর। দেবী স্বরসতীত চেয়েও বেশি সুন্দর। চানু আন্টি তার স্বামীর সাথে রাগ করে খুলনা থেকে আমাদের বাসায় চলে আসছেন। ঝুম বৃষ্টি শুরু হয়েছে। বৃষ্টির মধ্যে চানু আন্টির স্বামী খুলনা থেকে ঢাকায় এসেছেন। জানালা খোলা। জানালা দিয়ে তাকালের পাশের বাসার ডালিম গাছ দেখা যায়। লোহার শিখ ধরে আমি বৃষ্টি দেখছি। কি সুন্দর বৃষ্টি। ইচ্ছে করছে বৃষ্টিতে ভিজি। চানু আন্টি বললেন, দূর বোকা বিকেলের বৃষ্টিতে কেউ ভিজে! আমি আপন মনে বৃষ্টি দেখছি। কাগজ দিয়ে নৌকা বানাতে চেষ্টা করছি।

চানু আন্টি মন খারাপ করে বসে আছেন।
তার স্বামী রাগ ভাঙ্গাতে চেষ্টা করছেন। আমি ব্যস্ত কাগজের নৌকা বানাতে। বাইরে তুমুল বৃষ্টি! মাঝে মাঝে বাজ পড়ছে। মা বাসায় নেই, বাইরে যাওয়ার সুযোগ ছিলো। বৃষ্টির জন্য যেতে পারছি না। হঠাত তাকিয়ে দেখি চানু আন্টি আর তার স্বামী প্রেম ভালোবাসা শুরু করেছেন। দুজন দুজনকে জড়িয়ে ধরে আছেন। যাক তাদের মিলমিশ হলো। আমি যে ঘরে আছি, সেদিকে তাদের নজর নেই। তারা ধীরে ধীরে ভীষন ব্যস্ত হয়ে যাচ্ছেন। বৃষ্টির মধ্যে আমি কই যাই! আমার নৌকা বানানো শেষ। অনেক গুলো কাগজের নৌকা বানিয়েছি। যাই নৌকা গুলো বৃষ্টির পানিতে ভাসিয়ে দেই। ভেসে যাক। ভেসে ভেসে দূরে যাক। এই বৃষ্টির দিনে চানু আন্টিও অপার্থিব আনন্দের জগতে সময় কাটাক। প্রশান্তি নেমে আসুক প্রতিটা হৃদয়ে।

৩। একদিন বিকেলে আরাম করে ঘুমাচ্ছিলাম।
সুন্দর আবহাওয়া ছিলো। অতি মনোরম শীতল বাতাস। আকাশ ভরা মেঘ! হঠাত সুরভি আমাকে ধাক্কা দিয়ে ঘুম থেকে ডেকে তুললো। বললাম, কি হয়েছে? সুরভি বলল, বৃষ্টি হচ্ছে। চলো ছাদে যাই, ভিজি। আমার প্রচন্ড রাগ লাগলো। কি সুন্দর আরাম করে ঘুমাচ্ছিলাম। আমার মা হলে জীবনেও আমাকে ঘুম থেকে ডাক দিতো না। দুপুরে খেয়ে ঘুম দিলে, মা কোনোদিন ডাক দিতো না। আস্তে করে গায়ে চাদর দিয়ে দিতো। টিভির ভলিউম কমিয়ে দিতো। সুন্দর ঘুম দিতে পারতাম। এখনও যদি এক-আধদিন মার ঘরে ঘুমিয়ে যাই। মা ডাকে না। গায়ে চাঁদর দিয়ে দেয়। টিভি বন্ধ করে দেয়। যাইহোক, সুরভিকে বললাম- আমি ভিজবো না। তুমি ভিজো। সুরভি বলল- তাহলে ছাদে চলো। আমি বৃষ্টিতে ভিজবো, তুমি আমার ছবি তুলে দিবে। হ্যা সেদিন অনেক ছবি তুলে দিয়েছি। ছবি গুলো ভালো হয়েছিলো।

সুরভি এখন বদলে গেছে।
ছবি তোলে না। হিজাব বোরখা পড়ে। কথায় কথায় আল-হামদুলিল্লাহ, মাশাল্লাহ বলে। পুরো দমে ধার্মিক হয়ে গেছে। বৃষ্টিতে ভিজে না। গান গায় না। গান শোনে না। কবিতা আবৃত্তি করে না। নিজেকে একটা গন্ডির মধ্যে আবদ্ধ করে রেখেছে। আমি বুঝি না- একটা মাস্টার্স পাশ করা মেয়ে এরকম হবে কেন? আল্লাহ হেদায়েত দিলে কি মানুষ বদলে যায়? বিয়ের আগে সুরভি এত ধার্মিক ছিলো না। মানুষ বদলে যায়। কয়েকদিন আগের কথা- একদিন ভোরবেলা। তখনও আকাশ ফর্সা হয়নি। ঘর প্রায় অন্ধকার। আমি গভীর ঘুমে ছিলাম। হঠাত দুঃস্বপ্ন দেখে ঘুম ভেঙ্গেছে। দেখি ঘরে একটা ভূত। অন্ধকারে মুখটা স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে না। কালো রঙের পোশাক পরা। চিৎকার দিবো, তখন দেখি এটা ভূত নয়, সুরভি। আলখাল্লা টাইপ জামা আর হিজাব পরে ফযরের নামাজ পড়ছে। সুরভি বদলে গেছে। এখন আমি একা বৃষ্টিতে ভিজি। চায়ের কাপ হাতে নিয়ে বেলকনিতে বসে থাকি।

মন্তব্য ২ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ০৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০২

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: লেখা ভালো ছিলো.।

২| ০৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৬

বিষাদ সময় বলেছেন: গত দু দশক ধরে ক্রমাগত ধর্মের প্রতি মানুষের আগ্রহ বৃদ্ধি গভীর গবেষণার দাবী রাখে।
যা হোক রিয়েলিটি মাইনাা নেন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.