নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

জুয়েল তাজিম

জুয়েল তাজিম

অলস হবেন, তো হতাশা পাবেন। শুরু করুন,শেষ হবেই। সামনে এগোতে থাকুন, পথ কমবেই।

জুয়েল তাজিম › বিস্তারিত পোস্টঃ

আজ মাগফিরাত এর পঞ্চম দিন এবং ১৫ তম তারাবীহ

০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৫৮

রমজানের মাগফিরাতের পঞ্চম দিন ও ১৫তম তারাবীহতে তিলাওয়াত হয় ১৮ নম্বর পারা, যেখানে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে সূরা মুমিনুন, সূরা নূর এবং সূরা ফুরকান-এর অংশবিশেষ। এই পারা আমাদের সামনে তুলে ধরে ঈমান, চরিত্র, সামাজিক শুদ্ধতা ও আখিরাতকেন্দ্রিক জীবনের এক সমন্বিত রূপরেখা।

সূরা মুমিনুনে হযরত নূহ (আ.)-এর ঘটনা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি স্বজাতিকে তাওহীদের দাওয়াত দিলে তারা বাপ-দাদার অন্ধ অনুসরণে অটল থাকে এবং পুনরুত্থান অস্বীকার করে। আল্লাহর নির্দেশে নৌকা নির্মাণ ও মহাপ্লাবনের ঘটনা আমাদের শেখায়—অবাধ্যতার পরিণতি ধ্বংস, আর ঈমানদারদের জন্য রয়েছে নাজাত। পরবর্তী প্রজন্মও যখন একই ভ্রান্তিতে লিপ্ত হয়, তখন তাদের ওপর নেমে আসে কঠোর শাস্তি। এ ধারাবাহিকতা প্রমাণ করে, ইতিহাসে নবী-রাসূলদের প্রতি অস্বীকৃতি নতুন কিছু নয়; তবে শেষ পরিণতি সর্বদা সত্যের পক্ষেই গেছে।



সূরা নূরে মদিনার সমাজে সংঘটিত এক সংবেদনশীল ঘটনার প্রেক্ষাপটে নাযিল হওয়া আয়াতসমূহ বিশেষ শিক্ষা দেয়। উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.)-এর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ রটানো হলে আল্লাহ নিজেই তার নিষ্কলুষতার সাক্ষ্য দেন। এই ঘটনার মাধ্যমে মুনাফিকদের মুখোশ উন্মোচিত হয় এবং অপবাদ, গুজব ও চরিত্রহননের ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়। একই সঙ্গে ক্ষমা, উদারতা ও সামাজিক সংহতির দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়—যেমন আবু বকর (রা.)-কে ক্ষমা ও দান অব্যাহত রাখার নির্দেশ।

এই পারায় ঈমান-আকীদার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ‘বারযাখ’-এর উল্লেখ রয়েছে—মৃত্যুর পর কিয়ামত পর্যন্ত মধ্যবর্তী জীবন। পাশাপাশি দুনিয়ার জীবন যে চূড়ান্ত গন্তব্য নয়, বরং পরীক্ষাক্ষেত্র—সে বোধ জাগ্রত করা হয়েছে। “তোমরা কি মনে করেছ আমি তোমাদেরকে অহেতুক সৃষ্টি করেছি?”—এই প্রশ্ন মানুষকে আত্মসমালোচনায় আহ্বান জানায়।

নৈতিকতা ও সামাজিক শিষ্টাচারে সূরা নূর অনন্য। দৃষ্টি সংযত রাখা, চরিত্র হেফাজত, অনুমতি ছাড়া কারো ঘরে প্রবেশ না করা, অপবাদে লিপ্ত না হওয়া, অবিবাহিতদের বিবাহে সহায়তা করা—এসব নির্দেশ একটি পবিত্র সমাজ নির্মাণের ভিত্তি। একই সঙ্গে যিনা ও অপবাদের শাস্তি নির্ধারণের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার বিধান দেওয়া হয়েছে।

১৮ নম্বর পারা সফল মুমিনের ছয় বৈশিষ্ট্যও তুলে ধরে—সালাতে খুশু, অনর্থক কথা পরিহার, যাকাত আদায়, চরিত্র সংযম, আমানত রক্ষা ও সালাতে যত্নশীলতা। আল্লাহর নূরের উপমা এবং মরীচিকার দৃষ্টান্ত ঈমান ও কুফরের পার্থক্যকে জীবন্তভাবে উপস্থাপন করে।

সবশেষে শিক্ষা একটাই—মিথ্যা, অপবাদ ও অন্ধকার যত গভীরই হোক, ঈমান ও হেদায়েতের নূর তা ভেদ করে আলোকিত পথ দেখায়। ধৈর্য, তাকওয়া ও ক্ষমাশীলতাই মুমিনের প্রকৃত শক্তি।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.