নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

জুয়েল তাজিম

জুয়েল তাজিম

অলস হবেন, তো হতাশা পাবেন। শুরু করুন,শেষ হবেই। সামনে এগোতে থাকুন, পথ কমবেই।

জুয়েল তাজিম › বিস্তারিত পোস্টঃ

অলীক স্বপ্নের মাশুল: উত্তাল সাগরে হারিয়ে যাওয়া জীবনগুলোর গল্প

২৯ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৩

ইউরোপের উন্নত জীবনের স্বপ্ন—এটি নতুন কিছু নয়। কিন্তু সেই স্বপ্ন যখন বাস্তবতার সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে, তখন তার পরিণতি হয়ে ওঠে ভয়াবহ, নির্মম এবং হৃদয়বিদারক। সাম্প্রতিক এক ঘটনার বর্ণনা আমাদের আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, অবৈধ সমুদ্রপথে অভিবাসন কেবল একটি ঝুঁকি নয়—এটি অনেক ক্ষেত্রে নিশ্চিত মৃত্যুর পথ।

একদল বাংলাদেশি যুবক, স্বপ্ন বুকে নিয়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন ইউরোপের পথে। দালালের প্রলোভনে, নিরাপদ যাত্রার আশ্বাসে তারা লিবিয়া থেকে রওনা দেন গ্রীসের উদ্দেশ্যে। বলা হয়েছিল বড় নৌকায় যাত্রা হবে, কিন্তু বাস্তবে তাদের তুলে দেওয়া হয় একটি ছোট, ঝুঁকিপূর্ণ প্লাস্টিকের নৌকায়। শুরু হয় অনিশ্চয়তার যাত্রা।

দুই দিনের পরিকল্পিত ভ্রমণ দিকভ্রান্ত হয়ে গড়ায় অজানা সময়ের দিকে। খাদ্য ও পানির মজুত শেষ হয়ে গেলে শুরু হয় মৃত্যুর মিছিল। ক্ষুধা, তৃষ্ণা আর অসহায়তার মধ্যে একে একে ঝরে পড়ে জীবন। কেউ বন্ধুর কোলে, কেউ অচেনা নীরবতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। মৃত্যুর সংখ্যাটা ১৮ বা ২২—সংখ্যা যাই হোক, প্রতিটি প্রাণই একেকটি স্বপ্ন, একেকটি পরিবার, একেকটি পৃথিবী।
সবচেয়ে মর্মান্তিক দৃশ্য—মৃতদের মরদেহ আগলে রাখা, দাফনের আশায় অপেক্ষা, আর পরে সেই দেহগুলোই সাগরে ভাসিয়ে দিতে বাধ্য হওয়া। এটি শুধু একটি ঘটনা নয়, এটি মানুষের স্বপ্নভঙ্গের চূড়ান্ত প্রতীক।

প্রশ্ন জাগে—কেন এই ঝুঁকি? যারা এই পথে পা বাড়ান, তারা কি একেবারেই নিঃস্ব? বাস্তবতা হলো, অনেকেই দালালদের বিপুল পরিমাণ অর্থ দেন। সেই অর্থ দিয়েই দেশে একটি ছোট ব্যবসা, কর্মসংস্থান কিংবা সম্মানজনক জীবিকা গড়ে তোলা সম্ভব ছিল। কিন্তু আমরা অনেকেই ছোট শুরুতে সন্তুষ্ট নই। আমরা দ্রুত সাফল্য, বড় অর্জন, আর বাহ্যিক চাকচিক্যের মোহে নিজেদের ঠেলে দিচ্ছি অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে।


এই প্রবণতা শুধু অর্থনৈতিক নয়, মানসিকও। ভোগবাদী সংস্কৃতি আমাদের এমন এক উচ্চাভিলাষে ঠেলে দিচ্ছে, যেখানে বাস্তবতা হারিয়ে যায়, আর স্বপ্ন হয়ে ওঠে বিপজ্জনক। অথচ জীবনের মূল শিক্ষা হলো—টিকে থাকা, নিরাপদ থাকা, এবং সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকা।

ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। নিজের জীবনকে নিশ্চিত ঝুঁকির মধ্যে ফেলা ইসলামে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। পবিত্র কুরআনে সতর্ক করা হয়েছে—নিজেদের ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিও না। অর্থাৎ, এমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত নয়, যা নিজের জীবনকে অনিশ্চিত ও বিপদের মুখে ফেলে দেয়।

এই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটছে, বারবার আমাদের সামনে সতর্কবার্তা হয়ে আসছে। কিন্তু আমরা কি সত্যিই শিক্ষা নিচ্ছি? নাকি উচ্চাভিলাষের ঝলমলে পর্দা আমাদের চোখকে অন্ধ করে রেখেছে?

যারা এখনো এই বিপজ্জনক পথে যাওয়ার কথা ভাবছেন, তাদের জন্য একটাই অনুরোধ—আরও একবার ভাবুন। ইউরোপের কথিত রঙিন জীবনের চেয়ে নিজের দেশের মাটিতে, পরিবার-পরিজনের সান্নিধ্যে, সৎ উপার্জনে বেঁচে থাকা অনেক বেশি নিরাপদ, অনেক বেশি শান্তির।

স্বপ্ন দেখুন, কিন্তু সেই স্বপ্ন যেন আপনাকে জীবনের সীমানা পেরিয়ে না নিয়ে যায়। কারণ, জীবন থাকলেই সবকিছু সম্ভব—আর জীবন হারালে, সব স্বপ্নই শেষ।

মন্তব্য ৫ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৫) মন্তব্য লিখুন

১| ৩০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১:৫৩

আহমেদ জী এস বলেছেন: জুয়েল তাজিম,




আপনার এই পোস্টের আগেই খবরটি জেনে এদের জন্যে দুঃখ যতটা না হয়েছিলো তার চেয়ে বেশি হয়েছিলো রাগ....................

তাই আপনার পোষ্টের শিরোনাম দেখে মন্তব্যে কি লিখবো ঠিক করে পোস্টে ঢুকতেই দেখি তা বিশদ করে আপনিও লিখে রেখেছেন অথচ নরম সুরে ----
এই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটছে, বারবার আমাদের সামনে সতর্কবার্তা হয়ে আসছে। কিন্তু আমরা কি সত্যিই শিক্ষা নিচ্ছি? নাকি উচ্চাভিলাষের ঝলমলে পর্দা আমাদের চোখকে অন্ধ করে রেখেছে?
যারা এখনো এই বিপজ্জনক পথে যাওয়ার কথা ভাবছেন, তাদের জন্য একটাই অনুরোধ—আরও একবার ভাবুন। ইউরোপের কথিত রঙিন জীবনের চেয়ে নিজের দেশের মাটিতে, পরিবার-পরিজনের সান্নিধ্যে, সৎ উপার্জনে বেঁচে থাকা অনেক বেশি নিরাপদ, অনেক বেশি শান্তির।
স্বপ্ন দেখুন, কিন্তু সেই স্বপ্ন যেন আপনাকে জীবনের সীমানা পেরিয়ে না নিয়ে যায়। কারণ, জীবন থাকলেই সবকিছু সম্ভব—আর জীবন হারালে, সব স্বপ্নই শেষ।

লেখা উচিৎ ছিলো ------
এই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটার পরেও স্বপ্ন দেখা (?) তরুনদের আক্কেল হচ্ছেনা কেন? তাদের আশেপাশের লোকজন বিশেষ করে তাদের বাপ-মা, আত্মীয়-স্বজনও কি তাদের বুদ্ধিশুদ্ধি গুলিয়ে খেয়ে ফেলেছেন ?
উচ্চাভিলাষের ঝলমলে পর্দা হঠকারী তরুনদের চোখকে অন্ধ করে রাখেনি বরং নিত্য ঘটনার বাস্তবতা স্বত্বেও তাদের হিসাব-কিতাব ,জ্ঞান-বুদ্ধির অন্ধত্ব তাদের জীবনের এমন কঠিন পরিনতি ডেকে এনেছে।

একটি প্রবাদ আছে - ন্যাড়া একবার বেলতলায় যায়।
অথচ আমাদের এই বেআক্কেল ন্যাড়ারা বারবার বেলতলাতেই যেতে চাচ্ছে!!!!!!!!

৩০ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৯:৩৪

জুয়েল তাজিম বলেছেন: সবই সত্য। কিন্তু এই অসহায় মানুষগুলো নিজেদের জীবন ও পরিবারের ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে ফেলতে বাধ্য হচ্ছে, কারণ দেশ তাদের ভালো চাকরি, ব্যবসার সুযোগ বা একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

হ্যাঁ, আমরা সবসময় বলতে পারি—দেশেই থেকে লড়াই করতে হবে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে, নিজের মতো করে কিছু করতে হবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এটি সবার জন্য সহজ নয়, আর সবার সেই সাহস বা সামর্থ্যও থাকে না।

আশা করি, একদিন আমরা এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা ও অর্থনীতি গড়ে তুলতে পারব, যা এই মানুষগুলোর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবে না; বরং তাদের বেঁচে থাকা ও এগিয়ে যাওয়ার জন্য প্রকৃত সুযোগ তৈরি করবে।

আল্লাহ যেন এসব পরিবারের মানুষদের ধৈর্য ও সাহস দান করেন।

২| ৩০ শে মার্চ, ২০২৬ ভোর ৬:৩২

আলামিন১০৪ বলেছেন: বাংলাদেশে সবাই রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হওয়ার স্বপ্ন দেখে। দেখবে নাই বা কেন? চেখের সামনে সরকারী চাকর- ক্ষমতাসীন পাতি নেতা-চামচারা অল্প সময়ে শত কোটি টাকার মালিক বনে যাচ্ছে। একটু রিস্ক নিয়ে যদি ইটালী পর্যন্ত পৌছানো যায়, মন্দ কী?

৩০ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৯:৩৮

জুয়েল তাজিম বলেছেন: সমুদ্রপথে অভিবাসনের মর্মান্তিক ঘটনাগুলো আমাদের সামনে রাষ্ট্রের দায়কে স্পষ্ট করে তোলে। যখন নাগরিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনিশ্চিত পথে পাড়ি জমায়, তখন তা কেবল ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়—বরং একটি ব্যর্থ ব্যবস্থার প্রতিফলন। পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান, দক্ষতা অনুযায়ী আয়ের সুযোগ এবং সহজ শর্তে ব্যবসা শুরু করার পরিবেশ নিশ্চিত করতে না পারলে মানুষ বিকল্প ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়।

রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব হলো এমন একটি অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলা, যেখানে তরুণরা নিজেদের দেশে থেকেই সম্মানজনক জীবনযাপন করতে পারে। একই সঙ্গে দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ এবং সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি, যাতে কেউ প্রতারণার শিকার না হয়।

শুধু নীতিমালা নয়, কার্যকর বাস্তবায়নই এখানে মূল বিষয়। নিরাপদ অভিবাসনের বৈধ পথ সম্প্রসারণও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্র কখনোই তার নাগরিকদের অনিশ্চিত মৃত্যুপুরীর দিকে ঠেলে দিতে পারে না; বরং তাদের জন্য নিরাপদ, টেকসই এবং আশাব্যঞ্জক ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের প্রকৃত কর্তব্য।

৩| ৩০ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:১৯

রাজীব নুর বলেছেন: যুগ যুগ ধরে মানুষ অবৈধ্য ভাবে বিদেশ যাচ্ছে। বিদেশ যেতে কি করুন মৃত্যু হচ্ছে। তবুও মানুষ অবৈধ্য ভাবে যাচ্ছেই।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.