| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
চারপাশে এত শব্দ, এত ব্যস্ততা, এত অবিরাম দৌড়—মাঝে মাঝে মনে হয় পৃথিবীটা যেন নিঃশ্বাস নিতে ভুলে গেছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মানুষ ছুটছে। কেউ ক্যারিয়ারের পেছনে, কেউ স্বীকৃতির পেছনে, কেউ সম্পর্কের পেছনে, আবার কেউ শুধুই টিকে থাকার লড়াইয়ে। অথচ এই অসংখ্য দৌড়ের মাঝেও মানুষের ভেতরে জমে উঠছে এক অদ্ভুত শূন্যতা।
আজকের পৃথিবীতে সবকিছুই খুব দ্রুত ঘটে যায়। এক ক্লিকে সম্পর্ক তৈরি হয়, এক মেসেজে ভেঙেও যায়। মানুষ এখন অনুভূতির আগেই “রিপ্লাই” খোঁজে, অপেক্ষার আগেই “রেজাল্ট” চায়। অথচ একসময় অপেক্ষা ছিল ভালবাসারই অংশ। কারও চিঠির জন্য অপেক্ষা, বিকেলের দেখা হওয়ার অপেক্ষা, কিংবা হঠাৎ ফোন বেজে ওঠার অপেক্ষা—এসবের ভেতরেই ছিল অনুভূতির গভীরতা। তখন সময় ধীরে চলত, আর মানুষও হয়তো একটু বেশি অনুভব করতে পারত।
৯০ দশকের সেই সময়গুলোর কথা ভাবলে মনে হয়, পৃথিবীটা তখন অনেক কোমল ছিল। মানুষের জীবনে গতি কম ছিল, কিন্তু শান্তি বেশি ছিল। সবকিছু এত দৃশ্যমান ছিল না। কার ঘরে কী হচ্ছে, কে কোথায় গেল, কে কী খেল—এসব জানার জন্য মানুষের অস্থিরতা ছিল না। ব্যক্তিগত জীবন মানে সত্যিই ব্যক্তিগত ছিল। অনুভূতিরও একটা গোপন সৌন্দর্য ছিল।
এখন পৃথিবী বদলে গেছে। আমাদের চারপাশে অসংখ্য অপশন, অসংখ্য মানুষ, অসংখ্য সংযোগ—তবুও মানুষ আগের চেয়ে বেশি একা। কারণ সম্পর্ক আছে, কিন্তু গভীরতা কমে যাচ্ছে। প্রকাশ আছে, কিন্তু অনুভূতির স্থায়িত্ব নেই। হাসি আছে, কিন্তু প্রশান্তি নেই। মানুষ যেন ধীরে ধীরে মেশিনের মতো হয়ে যাচ্ছে—কার্যকর, দ্রুত, ব্যস্ত; কিন্তু ভেতরে কোথাও ভীষণ ক্লান্ত।
সবচেয়ে অদ্ভুত বিষয় হলো, এই ক্লান্তির বড় একটা অংশ তৈরি হচ্ছে স্ক্রিনের ভেতরে। আমরা সারাদিন অন্যের জীবন দেখি, তুলনা করি, প্রতিক্রিয়া দিই, অথচ নিজের ভেতরের মানুষটার সাথে কথা বলার সময় পাই না। দিন শেষে হাজার মানুষের ভিড়েও নিজের নিঃসঙ্গতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
তাই হয়তো এখন অনেক মানুষ আবার নীরবতার দিকে ফিরছে। কেউ পাহাড়ে যাচ্ছে, কেউ নদীর ধারে বসছে, কেউ গাছের ছায়ায় বই পড়ছে, কেউ ফোন বন্ধ রেখে নিজের সাথে সময় কাটাতে চাইছে। কারণ প্রকৃতির কাছে গেলে এখনও মনে হয়—জীবন আসলে এত জটিল নয়।
সূর্য এখনও ধীরে অস্ত যায়। ফুল এখনও সময় নিয়ে ফোটে। নদী এখনও ধীরে বয়ে চলে। পাখিরা এখনও ভোরে গান গায়। প্রকৃতি আজও তাড়াহুড়ো শেখেনি। অস্থিরতা শুধু মানুষের তৈরি।
হয়তো এ কারণেই মানুষ আবার ধীর জীবনের খোঁজ করছে। এমন একটা জীবনের, যেখানে কিছুটা নীরবতা থাকবে, কিছুটা অপেক্ষা থাকবে, কিছুটা নিজের ভেতরে ফিরে যাওয়ার সময় থাকবে।
কারণ মানুষ শেষ পর্যন্ত কোলাহলে নয়, শান্তিতেই বাঁচতে চায়।
©somewhere in net ltd.
১|
১০ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৮
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: অনুভূতিরও একটা গোপন সৌন্দর্য ছিল।
.................................................................
অনুভূতির মাঝে পলুশন হয়েছে
কোথায় পাবেন সৎ মানুষ আর নির্মল আনন্দের
কোমল পরশ ???