| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
একজন চিকিৎসক। একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। একজন সরকারি কর্মকর্তা। একজন বোন। একজন কন্যা। এতগুলো পরিচয়ের মানুষটির জীবন থেমে গেল নীরবে, নিজের ফ্ল্যাটের ভেতরে। তিন দিন পর তার মরদেহ উদ্ধার হলো।
ডা. ফারা ফেরদৌস ২০১৭ সালে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন। এরপর ৩৯তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী সার্জন হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। সহকর্মী ও পরিচিতদের কাছে তিনি ছিলেন একজন মেধাবী, সম্ভাবনাময় ও নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসক।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তার মরদেহ আংশিক গলিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কয়েক দিন আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্ত ও তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ঘটনার সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিক হলো, একই ভবনের কাছাকাছি আরেকটি ফ্ল্যাটে থাকতেন তারই বোন, যিনি নিউরোসার্জারিতে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, শেষবার তিন দিন আগে দুই বোনের মধ্যে কথা হয়েছিল। এরপর আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। এই স্বল্প সময়ের ব্যবধানেই একটি জীবন নিভে গেল।
এই ঘটনা শুধু একটি মৃত্যুর সংবাদ নয়; এটি আমাদের সময়ের এক নির্মম বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি।
আজ আমরা এমন এক সমাজে বাস করছি, যেখানে মানুষ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি সংযুক্ত, অথচ অনেক ক্ষেত্রেই আগের চেয়ে বেশি একা। স্মার্টফোনে শত শত নম্বর, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাজারো বন্ধু, প্রতিদিন অসংখ্য বার্তা—কিন্তু নিজের সবচেয়ে কাছের মানুষটির সঙ্গে মন খুলে কথা বলার সময় যেন ক্রমেই কমে যাচ্ছে।
কর্মজীবন, উচ্চশিক্ষা, প্রতিযোগিতা, লক্ষ্য অর্জনের নিরন্তর দৌড়—এসবের মাঝখানে আমরা অনেক সময় ধরে নিই, "ও তো ভালোই আছে।" এই ধরে নেওয়ার মধ্যেই কখনো কখনো তৈরি হয় দীর্ঘ নীরবতা।
একটি ফোনকল, একটি খুদে বার্তা, দরজায় একটি কড়া নাড়া কিংবা শুধু একটি প্রশ্ন—"কেমন আছো?"—অনেক সময় এর মূল্য আমরা বুঝতে পারি তখনই, যখন সেই প্রশ্ন করার সুযোগ আর থাকে না।
মানুষের জীবনে সাফল্যের মূল্য অবশ্যই আছে। ডিগ্রি, পদোন্নতি, পেশাগত অর্জন—এসব সম্মানের বিষয়। কিন্তু জীবনের প্রকৃত শক্তি গড়ে ওঠে সম্পর্কের ওপর। এমন সম্পর্ক, যেখানে মানুষ শুধু আনন্দ ভাগ করে না; নীরবতাও বুঝতে শেখে। কয়েক দিন কোনো খবর না পেলে উদ্বিগ্ন হয়। প্রয়োজনে দরজায় গিয়ে দাঁড়ায়।
বিশেষ করে যারা একা থাকেন—চাকরি, পড়াশোনা বা অন্য কোনো কারণে পরিবার থেকে দূরে—তাদের জন্য নিয়মিত খোঁজ নেওয়া কেবল সৌজন্য নয়, এটি এক ধরনের মানবিক দায়িত্ব। একইভাবে, পরিবার, বন্ধু ও সহকর্মীদেরও উচিত এমন একটি যোগাযোগের সংস্কৃতি গড়ে তোলা, যেখানে কারও অস্বাভাবিক নীরবতা চোখ এড়িয়ে না যায়।
ডা. ফারা ফেরদৌসের মৃত্যু কী কারণে হয়েছে, সেটি তদন্তেই স্পষ্ট হবে। কিন্তু এই ঘটনা আমাদের যে প্রশ্নটি রেখে যায়, তার উত্তর আমাদেরই খুঁজে নিতে হবে—আমরা কি সত্যিই আমাদের প্রিয় মানুষগুলোর খোঁজ রাখছি?
আজই হয়তো কয়েক মিনিট সময় বের করা যায়। বাবা-মাকে ফোন করা যায়। ভাই-বোনের সঙ্গে কথা বলা যায়। কোনো বন্ধুকে শুধু জানতে চাওয়া যায়, "তুই কেমন আছিস?" কোনো সহকর্মীর অস্বাভাবিক অনুপস্থিতির কারণ জিজ্ঞেস করা যায়।
হয়তো সব সমস্যার সমাধান হবে না। কিন্তু একজন মানুষ অন্তত বুঝতে পারবেন—তিনি একা নন, কেউ একজন তার খোঁজ রাখে।
জীবনের শেষ হিসাব পদবি, ডিগ্রি কিংবা সম্পদ দিয়ে হয় না। শেষ পর্যন্ত মানুষ খোঁজে মানুষেরই সঙ্গ, ভালোবাসা আর উপস্থিতি। আর অনেক সময়, একটি আন্তরিক ফোনকল কিংবা একটি দরজায় কড়া নাড়াই হয়ে উঠতে পারে জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান উপহার।
২|
২৭ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৪৩
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: রাজধানীর শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটের একটি ফ্ল্যাট থেকে ৩২ বছর বয়সী চিকিৎসক ও ৩৯তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের কর্মকর্তা ডা. ফারাহ ফেরদৌসের পচনধরা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) কার্ডিওভাসকুলার কোর্সের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং ২০২২ সাল থেকে একাই ওই ফ্ল্যাটে বসবাস করছিলেন। ২৩ জুন পরিবারের সঙ্গে তার শেষবার কথা হয়, এরপর আর কোনো যোগাযোগ না থাকায় এবং ফ্ল্যাট থেকে দুর্গন্ধ বের হলে প্রতিবেশীদের খবরে পুলিশ দরজা ভেঙে তার মরদেহ উদ্ধার করে। শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি; পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, স্ট্রোকে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।
©somewhere in net ltd.
১|
২৭ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:০৬
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: এই কারণেই দীর্ঘদিন একা একা জীবনযাপন করা ঠিক নয়। আপুটি কোনো একটি বিষয় নিয়ে গভীর হতাশায় ভুগছিলেন। বর্তমানে আমাদের তরুণ প্রজন্মের অনেকেই নানা কারণে এমন হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। কেউ সম্পর্ক বা বিয়ে নিয়ে উদ্বিগ্ন, আবার কেউ ভবিষ্যৎ ও কর্মজীবন নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং হতাশায় ভুগছে। এ কারণেই আমি কুমিল্লায় মামার বাসায় থাকি। আমার কয়েকজন বন্ধুকেও একই ধরনের মানসিক সংকটে পড়তে দেখেছি। বিষয়টি ধীরে ধীরে যেন আমাদের সমাজকে, এমনকি একটি জাতি হিসেবেও, গ্রাস করে ফেলছে।
।