| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |

কলেজ ভবন সম্প্রসারণের আওতায় পড়ে সেই শেফালিকা তরুর সমূল উচ্ছেদ ঘটেছে পাঁচ বছর আগে। এর পরে দ্বিতীয় শিউলিতরুকে পাই কাঁঠালবাগানে আমাদের নতুন বাসার পেছনের গলিতে। রোগাশোগা জীর্ণ শীর্ণদেহী এক কিশোরী। ল্যাকপ্যাকা দু তিনটে ডাল। তাই ধরে সারাদিনে বস্তির ছেলেপুলেরা ঝুল খায়। ভাঙে, মোচড়ায়। এরই ভেতর আশ্বিনে সেই মেয়ে ফুলের ডালা খুলে বসে। ঐ জীর্ণশীর্ণ দেহের ভেতর কোথায় সে এত ফুলের ভ্রুণ রেখে দেয় সে এক আশ্চর্য ব্যাপার! তলাটা ছেয়ে যায় সাদা ফুলে। বস্তির শিশুর দল দিনমান সেখানে।
একদিন সেই রোগাপটকা শেফালি তরু কুড়ালের এক ঘায়ে সাবাড় হলো। তার জায়গায় দশতলা এ্যাপার্টমেন্টর সীমানা দেয়াল উঠে গেল। গাছটার গোড়া থেকে আধ হাত খানেক রয়ে গেল দেয়ালের বাইরে। সেটাকে কেন্দ্র করে এখন গলির আবর্জনার ভাগাড় গড়ে উঠেছে। নগরায়ণের কুড়–ল যেন সেই কুপিত দেবতা যে কি না সূর্যকে ভালোবাসার অপরাধে শিউলিকে অভিশাপ দিয়েছিল রাত পোহাবার আগেই ঝরে যেতে! আমাদের গলির শিউলিতরু তেমনি অভিশাপের বোঝা মাথায় নিয়ে লোপাট হয়ে গেল। হয় তো আমাদের কথকতা থেকে একদিন হারিয়ে যাবে শিউলিকে নিয়ে এই করুণমধুর কিংবদন্তি। আমাদের ঋতুমালা থেকে একদিন হয় তো হারিয়ে যাবে শরত।
শরতকে আমরা সংহার করছি। আমরা আমাদের ঋতুলোকে প্রতিদিন ঠেসে দিচ্ছি ধুলোঢাকা আকাশ, বিষাক্ত মেঘ, দূষিত বায়ু, রিক্ত বনভূমি, বর্জ্যক্লিষ্ট মাটি, বিশুষ্ক নদী Ñ লোপাট করছি পাখপাখালি-ফুল-প্রজাপতি-কীটপতঙ্গ-জীববৈচিত্র্য। আমাদের ‘ময়লা জামার’ নামাবলীতে এখন লেখা হবে ঋতু-সংহার কাব্য।
শেষ...
২|
২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৪ সকাল ১০:৫০
অপূর্ণ রায়হান বলেছেন: শুধু শরৎ কি ! আমরা তো সব ঋতু , সমস্ত প্রকৃতি সবই সংহার করে চলছি ।
ভালো থাকবেন সবসময় ।
৩|
২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৪ রাত ১১:২৯
ঝর্না রহমান বলেছেন: আপনাদের পাঠ, মন্তব্য এবং শুভকামনার জন্য ধন্যবাদ।
©somewhere in net ltd.
১|
২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৪ রাত ৯:৫৫
আমি ময়ূরাক্ষী বলেছেন: শরতের এই নির্মলতা, শুভ্রতা হারিয়ে যাচ্ছে ক্রমশ।