| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
জয় বাড়ৈ
আমি একজন অতি সাধারণ ছেলে। ভালবাসি শুধু ঘুরতে।
বয়স সবে আঠারো। এই ছোট্ট জীবনে তেমন কোথায়ও ঘোরা হয়নি। শুধুমাত্র আমাদের কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি আর সিলেট অল্প অল্প করে ঘুরেছি। তাও আবার কোন পারিবারিক কারনে। কিন্তু ঘোরার নেশাটা মনে হয় আমার জন্মগত। বেশি ঘুরি না কিন্তু ঘুরতে খুবই ভালবাসি। পুরো পৃথিবীটা ঘুরে তবেই আমি আমার শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করতে চাই।
যাই হোক, দেশের বাইরে যাওয়ার স্বপ্ন ছিল অনেকদিন ধরে। গতবছর মিশনারি কাজে ভারত যাওয়ার একটা সুযোগ এসেছিল। কিন্তু আঠারো বছর না হওয়ার কারনে এম্বাসির ম্যানেজার আমাকে এপ্লাই-ই করতে দিলেন না। আর যাদের মাধ্যমে আমি যাব তারাও আমাকে কোন কাগজপত্র দেয় নায়। তাই অনেক কষ্ট করে পাসপোর্ট, ই-টোকেন করেও কোন লাভ হইল না। মনটাই খারাপ হয়ে গেল। প্রতিদিন দিন গুনতাম যে কবে আমার আঠারো বছর হবে।
অবশেষে বহুল প্রতিক্ষিত সেই দিন আসল। আমি সাধারনত জন্মদিন পালন করি না। কিন্তু এতই আনন্দে ছিলাম যে আমার আঠারো বছর পদার্পনের দিনটি খুব ঘটা করে পালন করলাম। এবার কে ঠেকায়। ই-টোকেন করতে দিলাম আমাদের এক পরিচিত ভাইয়ার কাছে। অনেকদিন লাগল ই-টোকেন হাতে পেতে। কাগজপত্র সব রেডি করে নির্দিষ্ট দিনে শ্যামলি ভিসা সেন্টারে যেয়ে জমা দিয়ে আসলাম। অনেক ভয়ে ছিলাম যে ভিসা পাব কি পাব না। একদিকে আমার স্টুডেন্ট আইডি কার্ডের মেয়াদ শেষ আবার পাসপোর্টের ঠিকানার সাথে কারেন্ট বিলের কোন মিল নাই। যদিও ফেইসবুকে ট্রাভেল গ্রুপগুলাতে পোষ্ট দিয়ে জানলাম যে এইগুলা কোন সমস্যা না তবুও ইন্ডিয়ান এম্বাসি বলে কথা। আবার বয়সও বহুত কম। সবেমাত্র আঠারো। আবার এপ্লাইও করসি একা, বাবা/মা ছাড়া।
আস্তে আস্তে ভিসা ডেলিভারির ডেট চলে আসল। মাঝের দিনগুলা ভয়ংকর ছিল। টেনশনে খাওয়া দাওয়া একদমই হয় না। যাতে ভিসা পাই এরজন্য আমার সৃষ্টিকর্তার কাছে কিছু টাকা মানতও রাখলাম। আবার কয়েকটা ভিক্ষুককেও কিছু দিয়েছিলাম। এমন ভাবসাব মনে হয় যেন আমার থেকে ধার্মিক এ জগতে আর একটাও নাই। দোয়া করতে করতে গেলাম ভিসা সেন্টারে। লম্বা লাইন। লাইনে দাড়িয়ে সৃষ্টিকর্তার নাম স্মরণ করতে থাকলাম। আস্তে আস্তে যখন লাইন ঠেলে ভিতরে ঢুকলাম আমার গা পুরা হাল্কা হয়ে গেল। হার্টবিট ক্রমশ বাড়তে থাকল। এক এক জন দেখি খালি পাসপোর্টে বের হয়ে যাচ্ছে। এইটা দেখে ত আমার মনে হইল পুরা জগত সংসার ঘুরতেসে। আবার কাউকে দেখলাম মাত্র ছয় মাসের ভিসা পেতে। এই মুহুর্তগুলা যে কত বিশ্রী ছিল যা আমি বলে বোঝাতে পারব না। কখন যে সামনে চলে আসলাম টেরও পাইলাম না। কাঁপা কাঁপা হাতে ডেলিভারি স্লিপটা দিলাম। আমার পাসপোর্ট সহজেই পেয়ে গেলো আর আমাকে দিয়ে দিল। ভয়ে আমি পাসপোর্ট খুলি না। চিন্তা করলাম একটু আড়ালে যেয়ে খুলে দেখব যাতে আমি ভিসা পাইলাম নাকি পাইলাম না কেউ দেখে ফেলে। না পাইলে কেমন লজ্জার একটা ব্যাপার। তাই এই ভাবনা। ওইদিকে মাথা ঘুরাইতেসে ত ঘুরাইতেসেই। ঘুরাইতে ঘুরাইতে কখন যে পাসপোর্টটা খুললাম টের পাইলাম না। খুলেই দেখি সেই সোনার হরিন। দেখেই যে কেমন একটা অনুভব হইল তা কোনভাবেই বোঝানো যাবে না। আরো যখন দেখলাম ভিসা এক বছরের তখন আমি কি স্বপ্ন দেখতেসিলাম নাকি কে জানে।
অনেক জায়গায় পড়েছি, শুনেছি যে ইন্ডিয়ান ভিসা পেতে সবাই কত কষ্ট করেছে কিন্তু আমি এত সহজেই যে পেয়ে যাব তা আমি কখনই ভাবি নাই। জীবনের একটা বেষ্ট দিন ছিল ওইটা। ইন্ডিয়ান ভিসা পেয়েছি এর জন্য না, কেন জানি মনে হয়েছিল অসম্ভবকে সম্ভব করেছি এরজন্যই।
বি.দ্রঃ আমার মূল ভ্রমনকাহিনী শুরু হবে পরের পর্ব থেকে। আর আমি একদমই ভাল লিখতে পারি না। এটাই আমার প্রথম লেখা। তাই যদি কোন ভুল থাকে তবে প্লিজ আমাকে ক্ষমা করবেন আর আপনাদের যেকোন মন্তব্য আমাকে জানাবেন।
০৯ ই মার্চ, ২০১৭ বিকাল ৪:৪৮
জয় বাড়ৈ বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে আমাকে অনুপ্রাণিত করার জন্য। ![]()
২|
০৯ ই মার্চ, ২০১৭ বিকাল ৪:৫৯
ওমেরা বলেছেন: জী আমি ও আপনার সাথে ভ্মন শুরু করলাম ।
০৯ ই মার্চ, ২০১৭ বিকাল ৫:০৩
জয় বাড়ৈ বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। আশা করি আমাদের ভ্রমণ অনেক আনন্দদায়ক হবে ![]()
৩|
০৯ ই মার্চ, ২০১৭ বিকাল ৫:৫১
বিজন রয় বলেছেন: লিখুন যেভাবে পারেন।
০৯ ই মার্চ, ২০১৭ রাত ৮:৩৯
জয় বাড়ৈ বলেছেন: ধন্যবাদ ভাইজান ![]()
৪|
১০ ই মার্চ, ২০১৭ রাত ৩:৪৫
সচেতনহ্যাপী বলেছেন: আমরা এত ঝামেলাতেই যেতাম না।। ইসলামপুর এবং সদরঘাট থেকেই ভিসা হয়ে যেত।।
না লিখলে অভ্যস্থ হবেন কি ভাবে??
১০ ই মার্চ, ২০১৭ সকাল ৮:৫২
জয় বাড়ৈ বলেছেন: হা হা হা । ভাল বলেছেন। ধন্যবাদ আপনার সুন্দর মন্ত্যবের জন্য ![]()
৫|
১০ ই মার্চ, ২০১৭ দুপুর ২:৩৩
আমি ইহতিব বলেছেন: ইন্ডিয়া যাওয়ার জন্য রেডি হলাম (আপনার সাথে, পোস্টের মাধ্যমে
)
১০ ই মার্চ, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:১৫
জয় বাড়ৈ বলেছেন: হি হি হি। আমাদের ভ্রমন শুভ হোক। ![]()
৬|
১০ ই মার্চ, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৪৪
দৃষ্টিসীমানা বলেছেন: হু, বিদেশ যাচ্ছেন পাসপোর্ট ভিসা মানিব্যাগ সব সাবধানে রাখবেন । সেখানে স্বজন পাওয়া অত সহজ হবে না । মঙ্গল কামনা রইল ।
১০ ই মার্চ, ২০১৭ রাত ৯:২৬
জয় বাড়ৈ বলেছেন: ঠিক বলেছেন ভাই। আমার চোখের সামনেই অনেক বিপদ দেখেছি। এমনকি আমাদের এক বাংলাদেশিও বিরাট বিপদে পড়েছিল। সব ঘটনাই লিখব পরের পর্বগুলোতে।
৭|
১১ ই মার্চ, ২০১৭ বিকাল ৫:৪২
কামরুন নাহার বীথি বলেছেন:
আপনার এটিই প্রথম লেখা, ব্লগিং শুরু করলেন আমার প্রিয় বিষয় নিয়ে।
ব্লগে স্বাগত জানাই, লিখতে থাকুন।
পাঠক হিসেবে পাশে পাবেন।
১১ ই মার্চ, ২০১৭ রাত ৯:০৯
জয় বাড়ৈ বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। আপনার মন্তব্য আমাকে অনেক অনুপ্রেরণা দিয়েছে। ধন্যবাদ ![]()
৮|
১১ ই মার্চ, ২০১৭ রাত ১০:১১
বিলুনী বলেছেন: ধন্যবাদ ।
শুভ কামনা রইল আনন্দময় হোক আপনার ভারত যাত্রা ।
যদি কিছু মনে না করেন তাহলে জানালে বাধিত হব
আপনার এক বছরের জন্য এই ভারতীয় ভিসাটি
কোন টাইপের ভিসা, অর্থাত এটা টুরিস্ট , স্টুডেন্ট না
অন্য কোন টাইপের ভিসা । আপনার ভিসা প্রাপ্তির বিষয়সহ
অন্যান্য তথ্য আমাদের বেশ উপকারে লাগবে ।
১১ ই মার্চ, ২০১৭ রাত ১০:২৭
জয় বাড়ৈ বলেছেন: ধন্যবাদ সুন্দর মন্ত্যবের জন্য। আমার ভিসা টুরিস্ট ভিসা ছিল। আর মাল্টিপাল এক বছরের ভিসা। ![]()
৯|
১২ ই মার্চ, ২০১৭ সকাল ১০:৫১
রবি১০ বলেছেন: হা হা হা । ভাল বলেছেন। ধন্যবাদ আপনার সুন্দর মন্ত্যবের জন্য ভাল বলেছেন। ধন্যবাদ আপনার সুন্দর মন্ত্যবের জন্য
©somewhere in net ltd.
১|
০৯ ই মার্চ, ২০১৭ বিকাল ৪:৪৪
ইমরান আশফাক বলেছেন: চালিয়ে যান, আমরাও অপেক্ষায় আছি ভ্রমনের খুটিনাটি জানার জন্য। কোনরকম লজ্জ্বা বা দ্বিধা-দ্বন্দ ছাড়াই এগিয়ে যান ছবিসহ।