| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
গল্পটা নিবেদিতা আর তন্ময় এর।
গল্পটা নিবেদিতার প্রতি নিবেদিত একটি ছেলের।
এদের গল্পের আগাগোড়া জুড়ে আছে একটি কলেজ।
ভেবে অবাক হতে হয়,একসময় মেয়ে দেখলে লজ্জায় আঁৎকে উঠা ছেলেটি একটা মেয়েকে ভালোবেসে ফেলে,ভালোবাসার চেষ্টা করে।
মেয়েটার কাছে আসার চেষ্টা করে।
একসময় মেয়ে দেখলে চোখ মাটিতে নামিয়ে ফেলা ছেলেটাও হাটু গেড়ে কোন এক মেয়েকে কিছু একটা বলতে চায়।
আচ্ছা এই সাহস আসে কোত্থেকে?
এই স্পর্ধার শিক্ষা সে পায় কিভাবে?
প্রেম।শব্দটি সোজা-সাপ্টা কিছু বর্ন দিয়ে তৈরি।
কিন্তু,শব্দটার আশ্চর্য কিছু অলৌকিকতা রয়েছে।
শব্দটা তন্ময় দের মনে কি যেন করে ফেলে।
দুমড়ে মুচড়ে দেয় ভেতরকার ভীতিকে।
ভয়কে,লোকলজ্জাকে।
তন্ময়ও চায় চিৎকার করে বলে উঠতে,"ভালোবাসি নিবেদিতা,অনেক বেশি ভালোবাসি"
তবু,শহরের কোলাহলে শব্দ বেরোয় না তার গলা দিয়ে।
বেরোলেও কোলাহলে শত কম্পনের ভিরে নিবেদিতা শুনতে পায় না সে চিৎকার।
তাই,কেঁদে ভাসানো রাত শেষ হলে তার জাণালা দিয়ে জেগে উঠা সূর্যের ডাকে ঠিকই সাড়া দেয় তন্ময়।
আবারো শুরু করে, নিবেদিতার পিছু পিছু এক চিলতে প্রাপ্তির জন্যে।
সময় যেতে থাকে,সাগরের স্রোতও অবিরাম আঘাত করে যায় তার সৈকতকে।
তন্ময় নিবেদিতার কাছে যেতে চায়।তার স্পন্দন অনুভব করতে চায়।তার সবকিছু কেন্দ্রবিন্দু করতে চায়।
নিবেদিতাকে কেন্দ্র করে বৃত্ত এঁকে গড়তে চায় বিশাল এই পৃথিবীর মাঝে নিজের ছোট্ট এক পৃথিবী।তাইতো,সকাল হলেই হুড়মুড়িয়ে ঘুম থেকে উঠে পাড়ি জমায় কলেজের পথে।
নিবেদিতার একটু দেখা পেয়েই সে নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ ভাবে সে।
তবু,ভাবে আজকে বলে দিব নিবেদিতাকে।
সেই খেয়ালে রাস্তার মোড় থেকে প্রত্যেকদিন কিনেও নেয় সে একটি লাল গোলাপ।
গোলাপটা মূল্যবান না,কিন্তু নিষ্পাপ।
গোলাপটা তবু নিবেদিতার কাছে পৌছায় না কখনো।
মফস্বল শহরের আনকোড়া ভালো ছেলের বুকে এতটা সাহস হয়ে উঠে না নিবেদিতার হাতে গোলাপ তুলে দেওয়ার।
গোলাপ তার বাসি হয়,কিন্তু তন্ময় বড় কষ্টে তার মনে তৈরি হওয়া নিবেদিতার গোলাপকে যত্নে লালন করে।
বন্ধুত্বের বেশে ভালোবাসাকে গোপন করে রাখে সে নিবেদিতার থেকে।
আর নিবেদিতা?
বুঝেও সে বুঝে না।শোনেও সে শোনে না।তন্ময়ের এই স্নিগ্ধতায় তন্ময় হয়ে থাকতে পারে না সে, বাধ সাধে বাস্তবতা নামক নির্মম শব্দটা।
এই শব্দের দোহাইয়ে নিজেকে সামলে নেয় সে,বুঝতে দেয় না কিছুই।
কিন্তু,পাগলটা কেনো গোপন করে রাখতে পারে না নিবেদিতার প্রতি তার ভালোবাসা?
এসব ভেবে নিবেদিতার কাজল দেওয়া চোখটাও ভিজে আসে।
পরক্ষনে মনে পড়ে,এই কাজল তো তন্ময়ের জন্যেই লাগানো।
ভালোবাসি বলতে না পারলেও নিবেদিতা অনুভব করে তন্ময়কে।
তার ভেতরে-বাহিরে।
তন্ময়ের পাগলীটা তন্ময়ের জন্যে উপবাস পালন করে।ক্ষনে ক্ষনে চোখ ভিজে আসে।তবু,সামলে নেয় কাজলগুলো তন্ময়ের বড্ড প্রিয় এই মনে করে।
নিবেদিতা ভেবে নেয়,"বুয়েটে" চান্স পেলেই বলে দিব হতচ্ছাড়াকে।বলে দিব এই ভয় পাওয়া চশমা লাগানো ছেলেটা আমার।আমার তন্ময়।আমার হতচ্ছাড়া।
এতসব উদাসীন ভাবনা ভাবতে থাকা নিবেদিতার ঠিকানার দূরের কোন এক ঠিকানায় বসে তন্ময় ও ভাবতে থাকে একই কথা।
বুয়েট এ ভর্তি কনফার্ম হলেই,বাসায় না গিয়ে পাগলীটাকে বলে দিব কথাগুলো।এতদিন যেসব কথা মোবাইলে লিখেও সেন্ড বাটনে ক্লিক করা হয় নি।
সেসব এবার বলেই দিব।খুঁজে নিব কাজলদেওয়া আহ্লাদী চোখ জোড়ার দিকে তাকিয়ে থাকার অধিকার।
হায় রে অদৃষ্ট!
দুটি মন এক হতে পারে না শুধুমাত্র একটি দেয়ালের কারনে।
দেয়ালটা "বাস্তবতা"।
এই, চার অক্ষরের শব্দ দুটো কিভাবে যে কত হৃদয়কে জোড়া লাগায়,আবার কত হৃদয়কে কাচের আয়নার মত ভেঙ্গে-চুড়ে দেয়, তা শুধু সে'ই জানে।
তন্ময় জানালা দিয়ে আকাশের দিকে তাকায়,আকাশের তারাদের লুকোচুরি খেলায় আঁকতে চেষ্টা করে নিবেদিতার মুখ।
আঁকতে আঁকতে ঘুমিয়ে যায় সে।স্বপ্নেও সে আঁকতে থাকে নিবেদিতার মুখখানা।
ঘুমের মধ্যেই তন্ময়ের চোখজোড়া ভিজে উঠে,তবু মুখে হাসির রেখাও ফুটে।
এভাবে এভাবে চলে আসে তাদের মধ্যকার বাস্তবতা মিটিয়ে ফেলার দিন।
"বুয়েট ভর্তি পরীক্ষা"
ঢাকার আরামবাগে নেমে বুয়েট ক্যাম্পাসের যাওয়ার জন্যে রিক্সায় উঠে সে।
রিক্সা আর পিচ ঢালা ঘর্ষনে সে শুনতে পায় নিবেদিতার কণ্ঠস্বর।
আকাশের দিকে আবারো তাকায় সে,দূরে বসে হাসতে থাকা সৃষ্টিকর্তার কাছে কড়জোড়ে কাজল দেওয়া মেয়েটাকে পাওয়ার প্রার্থনা করে সে।
নিবেদিতার হাতটা ধরতে তার যোগ্যতার প্রয়োজন।আজ সে যোগ্যতা অর্জনের পরীক্ষা।
পরীক্ষা শেষ।
পরীক্ষা পরবর্তী দিনগুলো মৃত্যু যন্ত্রনার মধ্যে কাটে তার।
কাটে নিবেদিতারও।
আজ ভর্তি পরীক্ষার রেজাল্ট প্রকাশিত হবে।তন্ময় আবারো রাস্তার মোড়ের দোকান থেকে আবারো কিনে নেয় নিষ্পাপ এক গোলাপ ফুল।
ডান পকেটে রাখে সে গোলাপটা।
বাম পকেটেও হাত দেয় সে।সেখানে ছোট্ট এক বোতলে সায়ানাইড রাখা।
এই ছোট্ট বোতলের সায়ানাইড তার শরীরে কি করতে পারে,তন্ময় তা জানে।
নিজের বিচিত্র এই অবস্থা দেখে তার চোখ ভিজে উঠে।সাথে মুখে হাসির রেখাও থাকে।
জয়ন্ত হাটতে থাকে,রেজাল্ট দেখার জন্যে উদ্ভাসের নোটিশ বোর্ডের দিকে হাটতে থাকে সে।
একি চিত্রপটের ভিন্ন পিঠে বসে নিবেদিতা ভগবানের মূর্তির সামনে ক্রন্দনরত।
কাজলের কথা ভুলে গিয়ে সে প্রার্থনা করছে তন্ময়ের বিজয়ের জন্যে।
তন্ময় নোটিশ বোর্ডের অনেকটা কাছে পৌছে গেল।
মাথায় শুধু একটায় প্রশ্ন
"গোলাপ নাকি সায়ানাইড? "
©somewhere in net ltd.