নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

একজন সুখী মানুষ, স্রষ্টার অপার ক্ষমা ও করুণাধন্য, তাই স্রষ্টার প্রতি শ্রদ্ধাবনত।

খায়রুল আহসান

অবসরে আছি। কিছু কিছু লেখালেখির মাধ্যমে অবসর জীবনটাকে উপভোগ করার চেষ্টা করছি। কিছু সমাজকল্যানমূলক কর্মকান্ডেও জড়িত আছি। মাঝে মাঝে এদিক সেদিকে ভ্রমণেও বের হই। জীবনে কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করিনি, এখন তো করার প্রশ্নই আসে না। জীবন যা দিয়েছে, তার জন্য স্রষ্টার কাছে ভক্তিভরে কৃতজ্ঞতা জানাই। যা কিছু চেয়েও পাইনি, এখন বুঝি, তা পাবার কথা ছিলনা। তাই না পাওয়ার কোন বেদনা নেই।

খায়রুল আহসান › বিস্তারিত পোস্টঃ

বিদায়ের ব্যথা রয়ে যায় অন্তরে

২০ শে মে, ২০২৬ সকাল ১১:৫৭



গতকাল রাত দশটা দশে আমার ছোট ভাই চপল ও তার ছোট ছেলে নাকিব কে এয়ারপোর্টে সী-অফ করে এলাম। এর আগে ওর বড় ছেলে নাফিসকেও এয়ারপোর্টে রিসীভ ও সী-অফ করেছিলাম যথাক্রমে ০৩ ও ০৯ মে ২০২৬ তারিখে। এবারে ওরা পৃ্থক তারিখে ও পথে বাংলাদেশে এসেছে ও ফেরত গেছে। খুবই অল্প সময়ের জন্য এসেছিল, তাই ওদেরকে নিয়ে তেমন কোথাও ঘুরতে যেতে পারিনি। যাও বা একদিন প্রাচীন শহর সোনারগাঁওয়ে যাবার জন্য আমরা রওনা হয়েছিলাম, পথিমধ্যে জঘন্য যানজটে আটকা পড়ে ওদের হাঁসফাস উঠে যায় এবং পরিশেষে সে যাত্রাটি পরিত্যাক্ত হয়। বড় ভাতিজা নাফিস চলে যাবার পর অবশ্য চপল ও নাকিবকে নিয়ে রংপুর গিয়েছিলাম। সেখানে কয়েকদিন থাকাকালে আমার ছোটভাই উৎপলসহ আমরা রংপুরে অবস্থানরত আত্মীয় স্বজনের বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলাম। তারপর একদিন (১৩ মে ২০২৬) মাইক্রোবাস ভাড়া করে সবাই মিলে তুষভাণ্ডারের কাশীরামপুর, আদিতমারি উপজেলার বিন্যাগাড়ি ও আদিতমারি এবং লালমনিরহাটের হাড়িভাঙ্গায় বসবাসরত সকল আত্মীয় স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের বাসায় সকাল থেকে রাত এগারটা পর্যন্ত বেড়িয়েছি। বলা যায় নাড়ির টানেই যেন এসব জায়গায় যাওয়া হয়েছিল। আদিতমারিতে চপল উৎপলের শিক্ষক রঞ্জিৎ দেবনাথ, আবু যাফর ও হাবিবুর রহমান স্যারদের বাসায়ও গিয়েছিলাম। ওনারা অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে আপ্যায়ন করেছিলেন। হাড়িভাঙ্গায় আম্মার একমাত্র জীবিত বোন সাজেদা খালার বাসায় গিয়ে তার সাথে দেখা ও কুশল বিনিময় করে আসি। একেক জায়গায় মনের মাঝে একেক রকমের মিশ্র অনুভূতির জন্ম হচ্ছিল। কেন যেন মনে হচ্ছিল, আমাদের অনেকের জন্য এই আকস্মিক ও ক্ষণিকের দেখাগুলো হয়ে যেতে পারে ‘শেষ দেখা’! শেষ দেখা মানে শেষ চাক্ষুষ যোগাযোগ। এর পরে আর চোখ এদেরকে দেখতে পাবে না, শুধু হয়তো আরও কিছুদিন কান এদের কথা শুনতে পারবে আর এদের মুখ একে অপরের সাথে কথা বলতে পারবে ফোনের মাধ্যমে।

নাফিস ফেরত যাবার একদিন আগে, অর্থাৎ ০৮ মে ২০২৬ তারিখে চপল ঢাকায় বসবাসরত আমাদের এক্সটেন্ডেড পরিবারের সবাইকে একটি স্থানীয় রেস্টুরেন্টে মধ্যাহ্নভোজে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। মাত্র তিনজন ব্যতীত আমন্ত্রিত সবাই (৩০ জন+) উপস্থিত হয়েছিল। ঐ তিনজন ব্যক্তিগত অসুবিধার কারণে উপস্থিত হতে পারে নাই। আগে মাঝে মাঝে আমার বাসায় বিভিন্ন উপলক্ষে সবাই একত্রিত হ’তাম। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে নানা অসুবিধার কারণে সে রেওয়াজটা পালন করা সম্ভব হয় নাই। এ কারণে সেদিনের এ বিরাট পারিবারিক সম্মিলনটা অনেকদিন পরে হলেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। নাতি-নাতনি, ভাতিজা-ভাতিজি, ভাগ্না-ভাগ্নি সহ চাচা চাচী, মামা মামী, ফুফু ও দাদা-দাদী, নানা-নানীদের সরব উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে একটা পারিবারিক মিলন মেলায় পরিণত করেছিল। উপস্থিতদের মধ্যে কয়েকজনের বয়স সত্তর ছুঁয়েছে বা অতিক্রম করেছে। আগামীতে এ ধরণের আরেকটি পারিবারিক সম্মিলনে হয়তো তাদের অনেকেই উপস্থিত থাকতে পারবেন না। আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীন ভালো জানেন; তিনি সর্বজ্ঞ, অন্তর্যামী এবং সকল প্রাণের সৃষ্টি্কর্তা ও সুরক্ষাকারী। তাঁর পবিত্র দরবারে অশেষ কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি তিনি আমাদের সবাইকে সুস্থ শরীরে অনুষ্ঠানটিতে উপস্থিত হয়ে সকলের সাথে কুশল বিনিময়ের তওফিক দিয়েছিলেন বলে।

চপলকে অশেষ ধন্যবাদ জানাচ্ছি এমন সুন্দর একটি পারিবারিক প্রীতি সম্মিলন আয়োজন করার জন্য। সে ও নাকিব বোধকরি এখন মধ্য আকাশে নিদ্রারত অবস্থায় নিউ ইয়র্কের উদ্দেশ্যে মহাসাগর পাড়ি দিচ্ছে। আল্লাহতা’লা যেন ওদেরকে সহি-সালামতে নিজ গৃহে পৌঁছে দেন এবং সেখানে ওদেরকে স্বাভাবিক জীবন পরিক্রমায় ফিরিয়ে আনেন। অল্প ক’দিনের জন্য বেড়াতে আসলেও, নাফিস ও নাকিব দুই ভাই বেশ স্বাচ্ছন্দে সবার সাথে মেলামেশা করেছে। ওরা উভয়েই নিউ ইয়র্ক সিটিতে মানুষ হয়েছে। নাড়ির টান অনুভব না করলে ওদের বয়সের ছেলেদের এতদূর থেকে এত টাকা পয়সা খরচ করে ঢাকা, রংপুর ও আদিতমারি’র মত জায়গায় বেড়াতে আসার কথা নয়। ওরা খুব অল্প বয়সে মাতৃহারা হয়। এক আকস্মিক সড়ক দুর্ঘটনায় ওদের মায়ের মৃত্যুর পর চপল একাই একাধারে ওদের মা ও বাবার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে ওদেরকে লালন করে। ওদের উভয়কে সে ভালো ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়িয়েছে। নাকিব Stuyvesant High School এ পড়েছে, যেটা নিউ ইয়র্ক সিটির অন্যতম সেরা স্কুল। নাফিস যে Stony Brook University থেকে মেকানিকাল ইঞ্জিনীয়ারিং পাশ করেছে, সেটাও একটা বিখ্যাত ইউনিভার্সিটি। সেই university থেকে পাশ করা অন্ততঃ দুইজন নোবেল লরিয়েটের নাম এ মুহূর্তে উল্লেখ করতে পারছি। এরা হলেন CN Yang এবং Paul Lauterbur। CN Yang ১৯৫৭ সালে পদার্থ বিদ্যায় নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। Paul Lauterbur ২০০৩ সালে তার magnetic resonance imaging (MRI) সংক্রান্ত কাজের জন্য নোবেল পুরস্কার প্রাপ্ত হন।

দোয়া করি, আল্লাহতা’লা যেন ওদের দুই ভাইয়ের সহায় থাকেন তাদের সারাটা জীবন জুড়ে। যে মাতৃস্নেহ থেকে ওরা অল্প বয়সে বঞ্চিত হয়েছে, সেটা কোনদিন পূরণ হবার নয়। তবে আল্লাহ চাইলে তো অবশ্যই তাদেরকে সকল আপদ বিপদ থেকে সুরক্ষা করে তাদের জীবনটাকে ভরে দিতে পারেন স্নেহ-মায়া-মমতা-আদর ভালোবাসায়। সেটাই যেন হয়। কঠোর সাধনার মধ্য দিয়ে ওদেরকে সাফল্যের সাথে লালন করে চপল এক অসাধ্য সাধন করেছে। আল্লাহতা’লা যেন তাকে এর জন্য যথাযোগ্য বিনিময় দান করেন এবং ওর জীবনেও সে যা কিছু থেকে বঞ্চিত হয়েছে তা বহুগুণে পূরণ করে দেন। মধ্যগগনে সূর্য বিরাজমান থাকা অবস্থায় আমাদের মনেই হয় না যে সূর্যটা এক সময় সারা পৃথিবীকে অন্ধকারে নিপতিত করে টুপ করে বিদায় নেবে। কিন্তু আমাদের মনে না হলেও সূর্যটা বিদায় নেয় ঠিকই। শীতকালে যখন দিনটা ছোট হয়ে যায়, তখন বিকেল বলতে কিছু থাকে না। মধ্যাহ্ন পার হবার পরেই সূর্যটা বিদায়ের প্রস্তুতি নিতে থাকে এবং খুব দ্রুততার সাথে চোখের আড়াল হয়ে যায়। যাদের জীবন ‘বিকেল’ এ পৌঁছে যায়, তারা জানেনা কার এখন শীতের বিকেল চলছে আর কার গ্রীষ্মের। যেটাই হোক, বিকেল থেকেই বিদায়ের একটা সুর শোনা যায়; তাই তাদের মনের মাঝেও মায়ার জোয়ার উথলে ওঠে।

ওরা চলে যাবার পর ঘরটা খালি খালি লাগছে। নয় দিন আগে নাফিস চলে যাবার পরেও তাই লেগেছিল। ক্ষণিকের তরে হলেও, প্রতিটি বিদায় ব্যথা রেখে যায়, মায়া রেখে যায়। তারপরে ধীরে ধীরে প্রাকৃতিক নিয়মে সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে আসে। মানুষ তার নিত্যদিনের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। মাঝে মাঝে স্মৃতিগুলো মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।


ঢাকা
১৯ মে ২০২৬
বিকেল চারটা।
শব্দ সংখ্যাঃ ৮৫০




মন্তব্য ১৫ টি রেটিং +৫/-০

মন্তব্য (১৫) মন্তব্য লিখুন

১| ২০ শে মে, ২০২৬ দুপুর ২:১৩

ইফতেখার ভূইয়া বলেছেন: আমার জীবনের দীর্ঘ একটা সময় প্রবাসে থেকে যে অভিজ্ঞতা হয়েছে তাতে মনে হয়েছে প্রবাসে বেড়ে ওঠা মানুষজন কম-বেশী বাংলাদেশের জন্য অনুভব করলেও আদতে নাড়ির সাথে সেই সম্পর্কটা ঠিক ওভাবে ধরে রাখতে পারেন না। আসলে সেটা সম্ভবও নয়। ওখানে প্রাত্যিহিক জীবনের ব্যস্ততা ভাবার অতটা সময়ও দেয় না। তাছাড়া বেড়ে ওঠা চারপাশের একটা প্রভাব থেকেই যায়। তবে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে যখন ব্যস্ততা কমে আসে তখন নাড়ির আকুলতাটাও খানিকটা বৃদ্ধি পায় এই যা।

আমার জন্ম ও কৈশোরের অনেকটা সময় বাংলাদেশে কাটলেও যৌবনের বেশীরভাগ সময় কেটেছে নিউ ইয়র্কে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা, চাকুরি জীবনের শুরু সবই ওখানটায়। ওখানকার পথ-ঘাট, মাটি-বাতাস সবই আমার আপন বলে মনে হয়। তদুপরি বাংলাদেশ কম-বেশী মনের এক কোনে রয়ে গেছে। আমি নিজেও চেয়েছি আমার সন্তানরা বাংলাদেশের মাটিতে জন্মাক, বড় হোক, কিছুটা সময় এ মাটির সাথেও কাটাক। ওরা জানুক, ওরা কোথা থেকে এসেছে, ওদের রুটস কোথায়। কারন, ওরা খানিকটা বড় হয়ে যাওয়ার পর যখন এ মাটি ছেঁড়ে যাবে অন্তত এটা যেন ভুলে না যায় যে বাংলাদেশেও ওদের কেউ এক সময় থেকেছে।

আপনার পরিবারের কাছের মানুষগুলোর ব্যাপারে পড়ে সে ভাবনাটাই আরো জেঁকে বসেছে। তবুও দিনশেষে জীবনকে চলতে দিতে হয়, জীবনের নিয়মে। আপনার সুস্বাস্থ্য ও সুন্দর জীবন কামনা করছি। ধন্যবাদ।

২১ শে মে, ২০২৬ সকাল ৯:৪৫

খায়রুল আহসান বলেছেন: "প্রবাসে বেড়ে ওঠা মানুষজন কম-বেশী বাংলাদেশের জন্য অনুভব করলেও আদতে নাড়ির সাথে সেই সম্পর্কটা ঠিক ওভাবে ধরে রাখতে পারেন না। আসলে সেটা সম্ভবও নয়। ওখানে প্রাত্যিহিক জীবনের ব্যস্ততা ভাবার অতটা সময়ও দেয় না। তাছাড়া বেড়ে ওঠা চারপাশের একটা প্রভাব থেকেই যায়। তবে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে যখন ব্যস্ততা কমে আসে তখন নাড়ির আকুলতাটাও খানিকটা বৃদ্ধি পায় এই যা" - চমৎকার আপনার পর্যবেক্ষণ ও মন্তব্য। আমিও আপনার সাথে একমত।

"তবুও দিনশেষে জীবনকে চলতে দিতে হয়, জীবনের নিয়মে" - এ ছাড়া আর উপায়ই বা কী আছে?

২| ২০ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৩:০২

রাজীব নুর বলেছেন: সবাই ভালো থাকুক। সুস্থ থাকুক।

২১ শে মে, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

খায়রুল আহসান বলেছেন: তাই হোক, তবে তাই হোক।

৩| ২১ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৩:২৭

করুণাধারা বলেছেন: পোস্ট পড়া শুরুর পর মনে কয়েকটা প্রশ্ন জেগেছিল, পড়তে পড়তে দেখলাম সব প্রশ্নের উত্তর দেয়া আছে।

প্রশ্ন করতে চাচ্ছিলাম, আপনার ভাইয়ের ছেলে নাকিবের বয়স কত! আমি এ যাবৎ দেখেছি, বিদেশ থেকে আসা অল্প বয়সের ছেলেমেয়েরা মা-বাবার সাথে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে বা মা-বাবার প্রিয়জনের সাথে দেখা করা এসব উপভোগ করে, কিন্তু একটু বড় হলেই তারা আর এসব পছন্দ করেনা, প্রথমত অচেনা পরিবেশ আর দ্বিতীয়ত দেশের অচেনা আত্মীয়স্বজনের সাথে নিজেকে মেলাতে না পারায়। বিদেশে জন্ম নেয়া, হাইস্কুলে পড়া নাকিব ব্যতিক্রম বলা যায়। ‌বাবার সাথে তার বন্ধন দৃঢ় বলেই হয়তো সে খুশি মনে বাবাকে সঙ্গ দিয়েছে বিভিন্ন উপজেলায় ঘুরে ঘুরে প্রিয়জনদের সাথে সাক্ষাৎ করার সময়।

ভাবছিলাম ওদের মা কোথায়! সেটার উত্তরও পেয়েছি, মন খারাপ হলো। দোয়া করি আপনার ভাই এবং তাঁর দুই সন্তানের জন্য, তাঁরা যেন পরস্পরের সহায় হয়ে শান্তিময় জীবন কাটাতে পারেন।

আপনার ভাই একাই মা-বাবা হয়ে যেভাবে দুই ছেলেকে মানুষ করে তুলতে পেরেছেন, এমন দেখা যায় না। হাইস্কুলের নাম জানা নেই, কিন্তু stonybrook যে খুবই নামী বিশ্ববিদ্যালয় এটা জানি।

প্রতিটি বিদায় ব্যথা রেখে যায়, মায়া রেখে যায়। ঠিক কথা। জীবন এগিয়ে চলে আবার কখনো দেখা হবে সেই আশা নিয়ে।

২১ শে মে, ২০২৬ রাত ৮:২৭

খায়রুল আহসান বলেছেন: "বিদেশে জন্ম নেয়া, হাইস্কুলে পড়া নাকিব ব্যতিক্রম বলা যায়" - ওর জন্মটা বিদেশে হয়নি, দেশেই হয়েছিল। ও যখন মা বাবার সাথে প্রবাসের উদ্দেশ্যে দেশত্যাগ করে, তখন ওর বয়স সাড়ে চার ছিল। তবে ওর পড়াশোনাটা শুরুই হয়েছিল বিদেশে। প্রথমে পড়তো এলাকার স্কুলে। হাইস্কুলে ওঠার সময় কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে Stuyvesant High School এ ভর্তি হয়। আমার এক নিউ ইয়র্ক প্রবাসী বন্ধু অন্যত্র প্রকাশিত এ লেখাটি পড়ে মন্তব্য করেছেঃ "Stuyvesant High School নিউ ইয়র্কের শ্রেষ্ঠ পাবলিক স্কুল যেখানে ভর্তি পরীক্ষা উত্তীর্ণ হওয়া বেশ চ্যালেঞ্জিং"।

"হাইস্কুলের নাম জানা নেই, কিন্তু stonybrook যে খুবই নামী বিশ্ববিদ্যালয় এটা জানি" - হাইস্কুলের নামটি কিন্তু পোস্টেই stonybrook এর আগেই দেয়া ছিল। হয়তো কোন কারণে আপনার নজর এড়িয়ে গেছে।

২২ শে মে, ২০২৬ সকাল ১০:১২

খায়রুল আহসান বলেছেন: "দোয়া করি আপনার ভাই এবং তাঁর দুই সন্তানের জন্য, তাঁরা যেন পরস্পরের সহায় হয়ে শান্তিময় জীবন কাটাতে পারেন" - এত সন্দর একটা দোয়া করলেন! অশেষ ধন্যবাদ। এটাই আমার মনে হয় এখন ওদের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত দোয়া।
মন্তব্যের শেষ কথাটাও খুব সুন্দর, ইতিবাচক ও আশা জাগানিয়া।

৪| ২৪ শে মে, ২০২৬ রাত ১০:০২

মেহবুবা বলেছেন: নাফিস কি কোথাও কাজ শুরু করেছে। দায়িত্বশীল ছেলে। আল্লাহ ওদের সবাইকে কল্যাণ দান করুক সেই দুয়া করি।

২৫ শে মে, ২০২৬ সকাল ১০:৫০

খায়রুল আহসান বলেছেন: জ্বী। নাফিস Stony Brook University থেকে Mechanical Engineering এ গ্রাজুয়েশন ও মাস্টার্স্ শেষ করে এখন নিউ ইয়র্কের একটি ভালো কোম্পানিতে চাকুরি করছে। এর আগে অল্প সময়ের জন্য অন্য একটি শহরে অন্য একটি কোম্পানিতেও চাকুরি করেছিল। কিন্তু ওর কর্মস্থল নিউ ইয়র্ক থেকে বেশ দূরে ছিল বলে সেটা ওর ভালো লাগেনি।

"দায়িত্বশীল ছেলে" - জ্বী, ওরা দু'ভাইই সেই ছোটবেলা থেকেই বয়সের তুলনায় অনেক, অনেক বেশি দায়িত্বপূর্ণ ছিল। এখনও তাই।

ওদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে দুয়া করার জন্য আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ।

৫| ২৪ শে মে, ২০২৬ রাত ১০:২৬

করুণাধারা বলেছেন: শুনেছি আমাদের মস্তিষ্কের ভিন্ন ভিন্ন অংশের আলাদা রকমের কাজ হয় যেমন ভাষাগত দক্ষতা লেখালেখির দক্ষতা গাণিতিক দক্ষতা এরকম কাজের জন্য মস্তিষ্কের আলাদা অংশ ব্যবহৃত হয় আমার লেখালেখির দক্ষতা নিয়ন্ত্রক মস্তিষ্কের অংশ ইদানিং মনে হয় ঠিকমত কাজ করছে না, কারণ মনে যা ভাবি সেটা লেখায় প্রকাশ করতে গিয়ে দেখি অন্যরকম অর্থ বোঝাচ্ছে!

নিউইয়র্কের স্কুল সম্পর্কে তেমন কিছু জানিনা, যেহেতু আমার এবং পরিবারের সবার লেখাপড়া বাংলাদেশে। কিন্তু Stonybrook আমার কাছে পরিচিত নাম, আমার পরিচিত অনেকেই দেশে graduation এর পরে post graduation এর জন্য এই বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেছেন, তাই এর নাম জানা। আমি হাইস্কুলের নাম জানা নেই, কিন্তু stonybrook যে খুবই নামী বিশ্ববিদ্যালয় এটা জানি।বলে এই কথাটা বোঝাতে চাচ্ছিলাম।

২৭ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৬

খায়রুল আহসান বলেছেন: ও আচ্ছা, এখন বুঝেছি পুরোপুরি।
আপনার "লেখালেখির দক্ষতা নিয়ন্ত্রক মস্তিষ্কের অংশ ইদানিং মনে হয় ঠিকমত কাজ করছে না" - আমি অন্ততঃ এমনটি মনে করতে পারছি না। কারণ আপনার সদ্য প্রকাশিত লেখাটিও এবং সাম্প্রতিক পোস্টগুলোতে আপনার মন্তব্যগুলোও তেমন কোন ইঙ্গিত দিচ্ছেনা। বরং আমার তো মনে হয়, সহজ করে বলা কোন কথাও বুঝতে আমারই দেরি হচ্ছে বলে ইঙ্গিত পাচ্ছি। যাহোক, পুনরায় এসে বিষয়টি ব্যাখ্যা করে যাবার জন্য ধন্যবাদ।

৬| ২৫ শে মে, ২০২৬ দুপুর ১২:১০

মেহবুবা বলেছেন: আসলে আমি কোনভাবে ওদের চিনি এবং জানি। নাফিস যেমন করে নাকিবকে খেয়াল রেখেছে, মাশাআল্লাহ্।
ওরা এসেছিল দেশে জানতে পারিনি, দেখতে পেলে ভালো লাগতো।
ওদের আল্লাহ অনেক ভালো রাখুক সেই দুয়া করি।

২৮ শে মে, ২০২৬ সকাল ১১:৫৪

খায়রুল আহসান বলেছেন: নাফিস মাত্র এক সপ্তাহের জন্য এবং ওর ভাই ও বাবা ১৩ দিনের জন্য তিন দিনের ব্যবধানে এক ঝটিকা সফরে এসেছিল। ওরা সবাই চলে যাবার পর এ পোস্টটা লিখেছি।
শুভকামনা ও দুয়ার জন্য ধন্যবাদ।

৭| ০৭ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৪

মোস্তফা সোহেল বলেছেন: সবার জন্য শুভকামনা রইল।

০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৯

খায়রুল আহসান বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.