নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

একজন সুখী মানুষ, স্রষ্টার অপার ক্ষমা ও করুণাধন্য, তাই স্রষ্টার প্রতি শ্রদ্ধাবনত।

খায়রুল আহসান

অবসরে আছি। কিছু কিছু লেখালেখির মাধ্যমে অবসর জীবনটাকে উপভোগ করার চেষ্টা করছি। কিছু সমাজকল্যানমূলক কর্মকান্ডেও জড়িত আছি। মাঝে মাঝে এদিক সেদিকে ভ্রমণেও বের হই। জীবনে কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করিনি, এখন তো করার প্রশ্নই আসে না। জীবন যা দিয়েছে, তার জন্য স্রষ্টার কাছে ভক্তিভরে কৃতজ্ঞতা জানাই। যা কিছু চেয়েও পাইনি, এখন বুঝি, তা পাবার কথা ছিলনা। তাই না পাওয়ার কোন বেদনা নেই।

খায়রুল আহসান › বিস্তারিত পোস্টঃ

কবিতাঃ ক্রিস্টিকে মনে পড়ে

৩১ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৬

ক্রিস্টি,
এখন তুমি কেমন আছো, ক্রিস্টি?
কোন ভুবনে বিচরণ করছো তুমি?
কি আছে তোমার মনোলোকে?
কাকে খুঁজে বেড়ায় তোমার দুটো চোখ?
কি ভেবেই বা ক্ষণে ক্ষণে তুমি মুচকি হাসো?

অথচ-
এমনটি তো হওয়ার কথা ছিলনা।
মেধা ও মননের অপূর্ব সমন্বয়ে তুমি,
কতই না অসাধারণ ছিলে!
শ্বেতপরী হয়ে ছুটেছো এদিক ওদিক,
পীড়িতের সেবায় নিমগ্ন থেকেছো রাতদিন।

হঠাৎ,
মস্তিষ্কে তোমার নাড়া দিল এক অচেনা অতিথি,
দ্রুত সার্জারীতে দেখা গেল সে নির্দোষ।
ক্রমে সেরে উঠছিলে তুমি, প্রিয়জনের মুখে হাসি।
কিন্তু, কোথা থেকে যেন আবার কি হয়ে গেলো,
এন্সেফেলাইটিসে আবার অবচেতনে গেলে তুমি।

সেই থেকে-
পৃথিবীর ভার যেন নেমে এল তোমার দেহে,
তোমার জীবন হয়ে গেল চলৎশক্তিহীন, শয্যায় সীমিত।
পর পর এপিলেপ্টিক আক্রমণে দেহ হলো ক্ষতবিক্ষত।
তীব্র খিঁচুনিতে পড়ে যাও, কেটে যায় জিহ্বা,মুখ।
নিমেষেই হয়ে যাও অবোধ শিশুর মত, মাতৃনির্ভর!

সেই দিন,
কি জানি কেমন করে, দেখা হলো তোমার সাথে,
হাসপাতালের শয্যায় তুমি চেতন, তবে বোধহীন।
চিরচেনা ডাক্তারের দেখা পেয়ে মুচকি হেসেছিলে,
মাথায় হাত বুলানোর সময় তাকে ‘স্যরি’ বলেছিলে,
কারণ অযত্নে তোমার চুলগুলো ‘গ্রীজি’ হয়েছিল।

বেদনাবিধুর
সেই শয্যাপাশে ছিল তোমার মা, আর বিশ্বস্ত স্বা্মী।
চোখে তাদের গভীর হতাশা, মুখে চিন্তার বলিরেখা।
কঠিন সময়ে কবিমনা ডাক্তারকে বলতে হয়েছিলো,
নিষ্ঠুর সত্যকথা। দিন যাবে খারাপের দিকে, দিনদিন।
শুন্যের কোঠায় মিলিয়ে যাবে তোমার স্মৃতি একদিন!

আমি ছিলাম,
সেই সত্যকথনের সাক্ষী, আর প্রার্থনা করেছিলাম,
'ফিরিবার পথ নাই' কথাটা যেন মিথ্যে হয়ে যায়!
বন্ধ হওয়া পথের চাবি যার হাতে, মর্ত্যে নেমে এসে
তিনি যেন খুলে দেন বদ্ধ দুয়ার, আবার যেন হাসিমুখে
ফিরে আসে আমাদের ক্রিস্টি, ফ্লোরেন্স নাইটিংগেল!


ক্রিস্টিকে আমি দেখেছিলাম এক বিষন্ন বিকেলে, আমেরিকার একটি হাসপাতালের শয্যায়। শুনেছিলাম তার করুণ কাহিনী। ত্রিশের নীচে বয়স। নিজে নার্স ছিলেন, আজ তার জীবন নার্স নির্ভর। বিধাতা যেন তার অপার করুণায় তাকে সুস্থ করে দেন, এই ভাবনায় কবিতাটি লিখেছিলাম!

নিউ ইয়র্ক সিটি,
৩১ মে ২০১৩।

মন্তব্য ২২ টি রেটিং +৫/-০

মন্তব্য (২২) মন্তব্য লিখুন

১| ৩১ শে মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৪

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: কবিতা সুন্দর হয়েছে !
কাকে খুঁজে বেড়ায় তোমার দুটো চোখ?
কি ভেবেই বা ক্ষণে ক্ষণে তুমি মুচকি হাসো?

.................................................................
কার ভাবনায় এতটা মগ্ন তুমি,
আমায় কি তবে একটুও ভালোবাসো?
মেঘেদের ডানায় পাঠাই যে চিঠি,
উত্তর তার আসে না তো ফিরে,
তবুও কেন এই অবুঝ মন,
শত আশা বাঁধে তোমাকেই ঘিরে?
দুটি চোখের ওই দূর সীমানায়,
লুকিয়ে আছে কোন সে মায়া?
মুচকি হাসির ওই আড়ালে,
পড়েছে কার গোপন ছায়া?

৩১ শে মে, ২০২৬ রাত ৮:০৮

খায়রুল আহসান বলেছেন: "কবিতা সুন্দর হয়েছে" - ধন্যবাদ।
কবিতার পংক্তিদুটো পড়ে আপনার মনে যেসব ভাবনার উদয় হয়েছে, সেগুলো শেয়ার করার জন্যও ধন্যবাদ। তবে কবিতাটি লিখার সময় আমার মনে এমন কোন ভাবনার উদয় হয়নি।

২| ৩১ শে মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৭

নজসু বলেছেন:



অদ্ভুত এক বিষণ্ণতার কাব্য। আপনার কবিতার প্রতিটি লাইনে মন খারাপের যে হাহাকার ফুটে উঠেছে, তা হৃদয় স্পর্শ করে গেল শ্রদ্ধেয়।

আমাদের জীবনে সবারই এমন কিছু মুহূর্ত আসে যখন মনের ভেতরের মেঘগুলো বৃষ্টি হয়ে ঝরতে চায় কিন্তু ঝরে পড়া হয়না। কবিতাটা পাঠ করে বেশ কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে রইলাম। ক্রিস্টি যেখানেই থাকুন না কেন, ভালো থাকুন।

০১ লা জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৯

খায়রুল আহসান বলেছেন: স্মৃতিটাই বিষণ্ণতার, তাই কাব্যও বিষণ্ণতার।
একদিন যিনি স্বয়ং পীড়িতদের সেবায় আত্মনিবেদিত ছিলেন, সেদিন তাকেই সম্পূর্ণভাবে তার সতীর্থদের সেবানির্ভর হতে দেখেছিলাম।
চমৎকার একটি কাব্যিক মন্তব্য লিখে প্রেরণা যুগিয়ে যাবার জন্য অশেষ ধন্যবাদ, প্রিয় নজসু

৩| ৩১ শে মে, ২০২৬ রাত ৯:৪৪

হাসান মাহবুব বলেছেন: ক্রিস্টিকে কখনও দেখি নি। আপনার কবিতার মাধ্যমে তবুও সে যেন আমার চেনা হয়ে উঠল। তার জন্যে অনুভব করলাম। শান্তি কামনা করলাম। মানুষ তো চলে যায় সবাই, তারপরেও এভাবে বেঁচে থাকে কেউ কেউ।

০২ রা জুন, ২০২৬ সকাল ১১:০১

খায়রুল আহসান বলেছেন: "মানুষ তো চলে যায় সবাই, তারপরেও এভাবে বেঁচে থাকে কেউ কেউ।" - জ্বী, ঠিক বলেছেন। চলে যাবার পরেও কেউ কেউ সকলের অগোচরে কারো কারো মনে বেঁচে থাকে।
সংবেদনশীল, মমত্ববোধসম্পন্ন, সুন্দর এই মন্তব্যটির জন্য ধন্যবাদ।

৪| ৩১ শে মে, ২০২৬ রাত ১১:৩০

শায়মা বলেছেন: ক্রিস্টির এর পরের খবর কি?

কবিতাটা তার শোনা হয়েছিলো কিংবা পড়া হয়েছিলো?

০২ রা জুন, ২০২৬ দুপুর ১:০৩

খায়রুল আহসান বলেছেন: এর পরের খবর জানার কোন উপায় ছিল না, নেই।
কবিতাটা সম্ভবতঃ তার শোনাও হয়নি, পড়াও হয়নি।
তবে তার ডাক্তার সাহেব পড়েছেন।

৫| ০১ লা জুন, ২০২৬ সকাল ১০:৩৬

রাজীব নুর বলেছেন: সুন্দর কবিতা।

০২ রা জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৯

খায়রুল আহসান বলেছেন: ধন্যবাদ।

৬| ০১ লা জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৩

মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন: কবিতা চমৎকার তবে ঘটনা মন ভারাক্রান্ত করে দেওয়ার মত। ক্রিস্টির জন্য শুভ কামনা।

০৩ রা জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৪

খায়রুল আহসান বলেছেন: মন ভারাক্রান্ত করে দেওয়ার মতই ঘটনা ছিল সেটা। কেবলমাত্র দোয়া এবং শুভকামনা ব্যতীত আমাদের আর করার কীই বা আছে!
মন্তব্য এবং 'লাইক' এর জন্য অনেক ধন্যবাদ।

৭| ০১ লা জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৫

কাজী ফাতেমা ছবি বলেছেন: ক্রিষ্টি ভালো থাকুক

সুন্দর কবিতা

০৪ ঠা জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২২

খায়রুল আহসান বলেছেন: কবিতা পাঠ এবং মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ।

৮| ০২ রা জুন, ২০২৬ রাত ১১:৩৯

করুণাধারা বলেছেন: বেদনাবিধুর
সেই শয্যাপাশে ছিল তোমার মা, আর বিশ্বস্ত স্বামী।
চোখে তাদের গভীর হতাশা, মুখে চিন্তার বলিরেখা।


যে কবিমনা ডাক্তার তাদের নিষ্ঠুর সত্য কথা বলেছিলেন, তিনি কে? আপনি কি করে সেই সত্য কথনের সাক্ষী হয়েছিলেন?

কবিতাটা পড়ে মন বিষণ্ন হয়ে গেল!

০৪ ঠা জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:২৭

খায়রুল আহসান বলেছেন: তিনি কে, সেটা হয়তো এখানে বলা সমীচীন হবে না। তবে এটুকু বলতে পারি, তিনি সেই হাসপাতালের একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছিলেন।
বলা যায়, আমি দৈবক্রমে সেখানে উপস্থিত ছিলাম।
মন বিষণ্ণ করার মতই একটা স্মৃতি সেটা।

৯| ০৩ রা জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৪৭

রাজীব নুর বলেছেন: পোষ্টে আবার এলাম। কে কি মন্তব্য করেছেন সেটা জানতে।

০৫ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:০২

খায়রুল আহসান বলেছেন: ওকে। ঠিক আছে।

১০| ০৫ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২

আলামিন১০৪ বলেছেন: লেখক বলেছেন: এর পরের খবর জানার কোন উপায় ছিল না, নেই।
কবিতাটা সম্ভবতঃ তার শোনাও হয়নি, পড়াও হয়নি।
তবে তার ডাক্তার সাহেব পড়েছেন।[/sb

ডাক্তার সাহেব ব্লগে আছেন কি? তিনি তো খোঁজ দিতে পারবেন। মনে হয় ক্রিস্টির ব্রেইন অপারেশনে ভজঘট লেগে খিচুনী ব্যারাম হয়েছিল। মৃগী রোগ নিয়ে তো কত মানুষ বেঁচে থাকে।

০৬ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:৩৯

খায়রুল আহসান বলেছেন: "ডাক্তার সাহেব ব্লগে আছেন কি?" - না, ডাক্তার সাহেব ব্লগে নেই।

১১| ১৪ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:১৫

মিরোরডডল বলেছেন:




এই লেখাটা মন ছুঁয়ে গেলো।
অসুস্থতার কাছে মানুষ খুব অসহায়।

লেখাটা মনে করিয়ে দিলো কিছু স্মৃতি।
ফিউ ইয়ারস ব্যাক, আফটার অফিস এবং উইকেন্ডে ফেডারেল গভর্মেন্টের একটা স্কিমে ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ করেছি।
নিঃসঙ্গ ভলনারেবল মানুষের পাশে থাকা, তাদের মেন্টাল সাপোর্ট দেয়া।
ক্রিস্টি যদিও সেই এইজ গ্রুপের না, তারা ছিলো সিনিয়র সিটিজেন।

তাদের জীবনের গল্পগুলো খুব কষ্টের। জীবনের অন্য একটা রূপ দেখেছি।
তাদের কেউ কেউ ভিজিট করার সেই সময় মারা গেছে। করোনার সময় সার্ভিস বন্ধ হয়ে যায়।
পরবর্তীতে ফোনে কথা বলে খোঁজ নেয়ার চেষ্টা করেছি কিন্তু তাদের ম্যাক্সিমাম ফোনে কথা বলার অবস্থায় ছিলো না।

কেন যেন পোষ্ট পড়ে সেই মানুষগুলোর মুখ দেখছি।
তবে তারা আমাকে অনেক স্নেহ করতো, মাথায় হাত বুলিয়ে ব্লেস করতো, সময় দেবার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতো।
অনেক এজ গ্যাপ সত্ত্বেও এরা ছিলো আমার বন্ধুর মতো।
এদের সাথে আমার অনেক মেমরিজ, যেগুলো আমাকে ভাবায়, কাঁদায়।

১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:৫৭

খায়রুল আহসান বলেছেন: অনেকদিন পরে এলেন, ধন্যবাদ।
লেখাটা পড়ে আপনার যে স্মৃতিগুলো এখানে শেয়ার করেছেন, সেগুলোকে আপনার জীবনের মূল্যবান সঞ্চয় হিসেবে মনে করতে পারেন। কষ্টের দূুরবস্থায় মানুষ অসহায় থাকে। সে সময়ে যারা তাদেরকে ভালোবেসে দুটো কথা বলে, মাথায় হাত বুলিয়ে আশার বাণী শোনায়, তাদেরকে তারা অন্তর থেকে দোয়া করে। আর দোয়া না করতে পারলেও, ভালো কাজের মূল্যায়ন তো ভালো বিনিময় দ্বারাই হয়ে থাকে!

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.