নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

একজন সুখী মানুষ, স্রষ্টার অপার ক্ষমা ও করুণাধন্য, তাই স্রষ্টার প্রতি শ্রদ্ধাবনত।

খায়রুল আহসান

অবসরে আছি। কিছু কিছু লেখালেখির মাধ্যমে অবসর জীবনটাকে উপভোগ করার চেষ্টা করছি। কিছু সমাজকল্যানমূলক কর্মকান্ডেও জড়িত আছি। মাঝে মাঝে এদিক সেদিকে ভ্রমণেও বের হই। জীবনে কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করিনি, এখন তো করার প্রশ্নই আসে না। জীবন যা দিয়েছে, তার জন্য স্রষ্টার কাছে ভক্তিভরে কৃতজ্ঞতা জানাই। যা কিছু চেয়েও পাইনি, এখন বুঝি, তা পাবার কথা ছিলনা। তাই না পাওয়ার কোন বেদনা নেই।

খায়রুল আহসান › বিস্তারিত পোস্টঃ

‘ছুটি’র স্মৃতি

০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০

(প্রায় দু’মাস আগে লেখা। তখন গ্রীষ্মকাল হলেও ঢাকায় কয়েকদিন পরপর বৃষ্টি হতো। এখনকার মত “ঘাম ঝরে দরদর” ধরণের গরম ছিল না। রাতগুলো তুলনামূলকভাবে বেশ ঠাণ্ডা থাকতো।)

আজ খুব ভোরে (শেষরাতে) বিজলি চমকানোর আলো আর বজ্রপাতের শব্দে ঘুম ভেঙে গেল। রাতে শোবার আগে দেখে নিয়েছিলাম, জানালার কাঁচটি ইঞ্চি চারেক খোলা রেখে নেটের জানালাটা পুরোটা লাগানো আছে। ঘুমানোর আগে ঘরের ভেতরে বাতাস চলাচলের জন্য শিওরের কাছের জানালায় এ সামান্য ব্যবস্থাটুকু নিশ্চিত করাটা এখন আমার প্রাত্যহিক অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটুকু খোলা না রাখলে একটু হাঁসফাস বোধ করি। ঘুম ভেঙে গেলেও, আরেকটু ঘুমোতে ইচ্ছে করছিল। ঘুম জড়ানো চোখে সময়টা দেখে নিলাম, কেবলমাত্র ফজরের ওয়াক্ত শুরু হয়েছে। উঠবো উঠবো করতে করতে ভয় হচ্ছিল, উঠতে না পারলে ফজরের নামাজটা ওয়াক্তের মধ্যে পড়ে নিতে পারবো না। কারণ, এ সময়ের ঘুমটা মারাত্মক রকমের গভীর হয়ে থাকে। যাহোক, আমার এই আলসেমির বিরুদ্ধে প্রকৃ্তিই বাধ সাধলো। আধো ঘুমের মধ্যেই টের পেলাম, বৃষ্টির ঝাপটার একটা হাল্কা ধারা মুখে এসে লাগছে। ধড়ফড় করে উঠে জানালার কাঁচটা পুরোপুরি লাগিয়ে দিলাম। আর এই দ্রুত অনুশীলনের কারণে চোখে লেগে থাকা ঘুমটাও কোথায় যে চলে গেল!

ভোর ছয়টায় হাঁটার জন্য নিচে নেমে দেখি, আমাদের বাসার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সরু খালটার বুকে যেন জোয়ার এসেছে। ভোর রাতের সেই সামান্য সময়ের বৃষ্টিতেই (কিন্তু ভারীবর্ষণ) প্রায় মরা খালটা জলে ভরে টইটম্বুর হয়ে গেছে। এই জলস্রোত গুলশান লেক হয়ে গিয়ে মিশবে হাতির ঝিলের জলের সাথে। সেই আনন্দে মাতোয়ারা খালের স্রোতধারা উত্তর থেকে দক্ষিণে বয়ে যাচ্ছে, মৃদু লয়ে নয়, বেশ ব্যস্ত ত্রস্ত হয়ে। সেই স্রোতে ভেসে যাচ্ছে গাছের ঝরা পাতা, শুকনো সরু ডাল ও কঞ্চি এবং আরও হরেক রকমারি ভাসমান দ্রব্যাদি। একটাও পলিথিন ব্যাগ চোখে পড়লো না বলে মনটা খুশি হলো। আকাশে পাখিদের ওড়াউড়ি চলছে, খালের পাশের গাছ-গাছালিতে বসে থাকা পাখিদের কিচির মিচির আওয়াজও বেশ জোরেই শোনা যাচ্ছে। অদূরে দেখলাম একটা কানি বকও ওৎ পেতে বসে আছে জল থেকে টুপ করে তার নাশতার কোন উপকরণ বেছে নেয়ার জন্য। সাধারণতঃ ছোট কোন মাছ, ব্যাঙাচি কিংবা খালের তীর ঘেষে চলমান কোন পোকা মাকড় ছাড়া এখানে তার মেন্যুতে আর কিছু পাওয়ার কথা নয়।

মুহূর্তের মধ্যেই শৈশবে ফিরে গেলাম। ঝরা পাতা, শুকনো সরু ডাল ও কঞ্চি ইত্যাদিকে ‘কেয়াপাতার নৌকো’ এবং সরু খালটিকে ‘তালদিঘি’ কল্পনা করে নিজের অজান্তেই যেন স্মৃতি থেকে আওড়ালামঃ

“কেয়াপাতায় নৌকো গড়ে’
সাজিয়ে দেব ফুলে,
তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেবো,
চলবে দুলে দুলে“।

(ছুটি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)

প্রতিটি মানুষের অন্তরে একটি ইম্প্রেশনিস্ট কবি সত্তা রয়েছে। শৈশবের স্মৃতিমালা তার কোমল মনে যে ইম্প্রেশন রেখে যায়,সেটা অবিনাশী। বয়স যতই বাড়ুক, অনুকূল পরিবেশ পেলে সেটা তার মনের ক্যানভাসে উদয় হয়, তাকে ভাবায়, তাকে দিয়ে লেখায়।


ঢাকা
১৭ মে ২০২৬, ভোর ০৬-০২
শব্দ সংখ্যাঃ ৪১০

মন্তব্য ৩ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (৩) মন্তব্য লিখুন

১| ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:১১

ভুয়া মফিজ বলেছেন: আমি দেশ ছাড়ার পর যখনই দেশে গিয়েছি, শীতকালে গিয়েছি। বিজলি চমকানোর আলো, বজ্রপাতের শব্দ আর মুষলধারের বৃষ্টি............এই তিনের কম্বো যে কতোকাল দেখি না তা একমাত্র উপরওয়ালা জানে। প্রচন্ডভাবে মিস করি। ইংল্যান্ডে এই কম্বোর দেখা পাওয়া মোটামুটি অসম্ভব। প্রতিবার শীতে দেশে গেলে ভাবি, পরেরবার অবশ্যই কালবৈশাখীর সময়ে আসবো। বিভিন্ন বাস্তবতায় আসা আর হয়ে উঠে না। :(

প্রতিটি মানুষের অন্তরে একটি ইম্প্রেশনিস্ট কবি সত্তা রয়েছে। শৈশবের স্মৃতিমালা তার কোমল মনে যে ইম্প্রেশন রেখে যায়, সেটা অবিনাশী। বয়স যতই বাড়ুক, অনুকূল পরিবেশ পেলে সেটা তার মনের ক্যানভাসে উদয় হয়, তাকে ভাবায়, তাকে দিয়ে লেখায়। চমৎকার উপলব্ধি!! এই কথা কয়টা আর লেখার বাকি অংশ থেকে দেশের ভেজামাটির সুঘ্রান পাচ্ছি, যেটা পৃথিবীর কোন সুগন্ধিই দিতে পারবে না।

২| ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:২৬

অপ্‌সরা বলেছেন: শৈশবের চাইতে সুন্দর স্মৃতি আর কিছুতে নেই.......

৩| ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:১২

রাজীব নুর বলেছেন: আজকাল আমার শুধু ছোটবেলার সৃতি মনে আসে।
আমি সব কিছু বাদ দিয়ে অতীতে চলে যাই। বড় ভালো লাগে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.