| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
খায়রুল আহসান
অবসরে আছি। কিছু কিছু লেখালেখির মাধ্যমে অবসর জীবনটাকে উপভোগ করার চেষ্টা করছি। কিছু সমাজকল্যানমূলক কর্মকান্ডেও জড়িত আছি। মাঝে মাঝে এদিক সেদিকে ভ্রমণেও বের হই। জীবনে কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করিনি, এখন তো করার প্রশ্নই আসে না। জীবন যা দিয়েছে, তার জন্য স্রষ্টার কাছে ভক্তিভরে কৃতজ্ঞতা জানাই। যা কিছু চেয়েও পাইনি, এখন বুঝি, তা পাবার কথা ছিলনা। তাই না পাওয়ার কোন বেদনা নেই।
(চিন্তাসূত্রঃ হঠাৎ পাওয়া একটি চমৎকার ভিডিও ক্লিপ এবং অতঃপরের ভাবনা। ভিডিও লিঙ্কঃ Click This Link
জানিনা, এটা কোন ‘AI content’ কিনা, তবে ৯৯ বছরের পার্থক্যে থাকা এই বৃদ্ধা এবং শিশুটির কথোপকথন হৃদয়ে নাড়া দিয়ে গেল। বৃদ্ধার বয়স ১০৪ এবং শিশুটির মাত্র ৫। দু’জনের মাঝে খুবই candid আলাপচারিতা, এর মধ্য দিয়েই উঠে এসেছে জীবনের কিছু অমূল্য দর্শন। আমাদের মাঝে যারা ‘Ripe Age’ পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছি, আলহামদুলিল্লাহ, তারা নিতান্তই সৌভাগ্যবান। আর যারা পারেন নি, তারা যে সৌভাগ্যবান নন, এ কথা ভাবার কোন প্রয়োজন নেই। আল্লাহতা’লা কাকে, কেন, কতটুকু হায়াৎ দিবেন, এটা জানার এখতিয়ার শুধুমাত্র তাঁরই। যার জন্য যেটা মঙ্গলজনক, তিনি তাকে সেটাই দিয়ে থাকেন। আপাতঃদৃষ্টিতে যেটাকে অমঙ্গলজনক মনে হয়, অন্তর্যামীর দৃষ্টিতে হয়তো সেটাই সেই ব্যক্তির জন্য মঙ্গলজনক। কারও ‘Ripe Age’ শুরু হয় ৭০ এর পর থেকেই, আবার কারো কারো ৮০ বা ৯০ তে গিয়ে সেটা শুরু হয়। যখনই শুরু হোক, ঐ বয়সটাকে সামলে নিয়ে যথাসম্ভব সুস্থ থেকে জীবনকে সঠিকভাবে যাপন, উপভোগ ও Celebrate করতে পারাটাই ‘Ripe Age’ এর সার্থকতা।
এই পাকা ফলের মত ঝুলে থাকার বয়সটাও অনেকের পছন্দের নাও হতে পারে। যারা জীবনের শেষদিন পর্যন্ত নিজেকে Competitive রাখতে পারেন, জীবনের প্রতি আগ্রহ ও ঔৎসুক্য ধরে রাখতে পারেন, অতি সামান্য হলেও কোথাও না কোথাও অবদান রাখতে পারেন, কারও মুখে হাসির রেখা ফোটাতে ও মনে আলোর শিখা জ্বালাতে পারেন, তারাই এ বয়সটাকে ভালোবাসতে পারেন এবং প্রকৃ্ত অর্থে ভাগ্যবান। জীবনের বোঝা তাদেরকে ন্যুব্জ করতে পারে না। অপরপক্ষে এমন বয়সে (পাকা ফল) পৌঁছানোর আগেই অনেকে জীবন ধারণের আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। এর নানাবিধ কারণ হতে পারে; যেমন যন্ত্রণাদায়ক অসুখ বিসুখ, পরিবারে অশান্তি, মানুষের কাছ থেকে পাওয়া বড় ধরণের কোন প্রতারণা, নিঃসঙ্গতাবোধ, বিষণ্ণতা, আকস্মিক বড় ধরণের কোন আর্থিক দুর্দশা, ইত্যাদি। নিঃসঙ্গতাবোধ দুই ধরণের হতে পারে; পূর্ণ পরিবারের সাথে থেকেও নিঃসঙ্গ বোধ করা, আবার ছানা-পোনা বড় হয়ে উড়ে যাবার পর যদি আপন ঠিকানার পথ খুঁজতে প্রবাসে বা দূরে কোথাও উড়ে যায় তখন শাবকহীন পক্ষীর ন্যায় ‘Empty Nester’ হয়ে প্রায় শুন্য ঘরে বসবাসের কারণে নিঃসঙ্গ বোধ করা। ওদের সাথে যদি নাতি নাতনিও চলে যায় তবে নিঃসঙ্গতাবোধ ত্বরান্বিত ও প্রবলতর হয়।
‘Ripe Age’ মানুষকে সুযোগ করে দেয় ফেলে আসা জীবনটাকে ফিরে দেখার। বিচক্ষণ ব্যক্তিরা নিজেদের কিছু ভুল ত্রুটিও সেই সুযোগে শুধরে নিতে কিংবা প্রায়শ্চিত্ত করতে পারেন। কেউ কেউ প্রকৃতিকে নতুন করে চিনতে শুরু করেন। নিজের ভেতরে লুকিয়ে থাকা কোন প্রতিভাকে আবিষ্কার করে মনের মাধুরী মিশিয়ে তার বিকাশ সাধন করতে পারেন। কে বলেছে বিকেলে ভোরের ফুল ফোটে না? ভোরের ফুল না ফুটুক, বিকেলে, সন্ধ্যায় বা নিশীথে যেসব ফুল ফোটে তাদের শোভা হয়তো রাতে দৃশ্যমান হয় না, কিন্তু তাদের সৌরভ তো চতুর্দিক মৌ্মাতাল করে রাখে। তাই তো দেখি কেউ ‘Ripe Age’ এ এসে নতুন করে ফটোগ্রাফী শিখছেন এবং এতে সিদ্ধহস্ত হচ্ছেন, কেউ নতুন করে গান ধরেছেন কিংবা বাদ্যবাজনা শিখছেন, ফিটনেস ফ্রীকরা নিয়মিত বিরতিতে ম্যারাথন দৌড় কিংবা ওয়াকাথনে অংশ নিচ্ছেন বা নিদেন পক্ষে নিয়ম করে সকাল বেলা ৪/৫ কি.মি হেঁটে ও শারীরিক অনুশীলন করে সবান্ধবে পেট পুরে নাস্তা করে বাসায় ফিরছেন। যাদের গিন্নী বাসায় কোন অজুহাতেই মিষ্টি খেতে দেন না, তারা এই সুযোগে টপাটপ দু’চারটা মিষ্টিও গিলে ফেলেন। আমার এক নিকট বন্ধু রীতিমত পরীক্ষা ও অডিশন দিয়ে এই পাকা বয়সেই বিপুল উৎসাহে রেডিওতে সংবাদ পাঠ শুরু করেছেন এবং তিনি ক্রমান্বয়ে ভালো করে চলেছেন। আমরা তার এই ইতিবাচক এনার্জীর পরিচয় পেয়ে গর্বিত। যারা এসবের কিছুতেই আগ্রহী নন, তারা নতুন করে তাদের বইপড়ার কিংবা লেখালেখির পুরনো অভ্যাসে ফিরে যান। অনেকে ধর্মে কর্মে নিবিড়ভাবে আত্মনিয়োগ করে শান্তি লাভ করেন। এভাবেই তারা বিষণ্ণতা ও নিঃসঙ্গতাবোধে বুঁদ হয়ে বসে না থেকে যে যেভাবে পারেন, ‘Ripe Age’ টাকে Celebrate করেন।
শুরুতেই বলেছি, যারা ‘Ripe Age’ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেন, তারা ভাগ্যবান। এই বয়সে তারা যাপিত জীবনের লব্ধ অভিজ্ঞতা থেকে কনিষ্ঠদেরকে ইতিবাচক ও উপকারী জ্ঞান বিতরণ করতে পারেন। সমাজহিতৈষী কাজে নিজেদেরকে নিয়োজিত করতে পারেন। বিনামূল্যে ছাত্র পড়াতে পারেন, নিরক্ষর বয়স্কদেরকে অন্ততঃ পত্রিকার হেডলাইন পাঠের কিংবা চিঠি লিখতে পারার উপযোগী জ্ঞান দান করতে পারেন। একজন মাত্র ব্যক্তিকে হলেও তার আর্থিক দুর্দশা দূর করায় ভূমিকা রাখতে পারেন। চিকিৎসকগণ অন্ততঃ দু’তিন মাস অন্তর এক দিনের জন্য দরিদ্রদেরকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দিতে পারেন। অর্থাৎ যার যেটুকু সাধ্য আছে, সে অনুযায়ী তিনি সমাজকে কিছু দিয়ে যাবার চেষ্টা করতে পারেন। তাহলে সন্তুষ্টি ও শান্তির একটি তৃপ্তি নিয়ে তারা সবাই শেষ জীবনটা কাটাতে পারেন। এসব কাজে নিজেকে নিয়োজিত করলে নিঃসঙ্গতাবোধ সহজে কাছে ভিড়তে পারবে না। জীবন পরিক্রমার প্রত্যুষ, মধ্যাহ্ন ও অপরাহ্ন যার যেমনই কাটুক না কেন, গোধূলিতে এসে অস্তমান সূর্য যেমন চতুর্দিকে সোনালী আভা ছড়িয়ে বিদায় নেয়, সব ‘পাকাফল’ দের ঝরে পড়ার লগনটাও যেন সেরকমই মায়াবী আলো ছড়িয়েই আসে! তারা চলে যাবার পরেও যেন তাদের আভা বেশ কিছুকাল রয়ে যায় এবং অন্যদের পথ দেখায়। সকলের জন্য সে দোয়াই রইলো।
ঢাকা
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শব্দ সংখ্যাঃ ৭৩০
০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৬
খায়রুল আহসান বলেছেন: ভিডিও ক্লিপটি দেখতে পেরেছেন কিনা, জানিনা। মনে হয় পারেন নাই। তাইআপনার ও অন্যান্য পাঠকদের সুবিধার্থে এই চমৎকার ভিডিও'র লিঙ্কটা আবার আলাদা করে মন্তব্যের ঘরে দিলামঃ
https://www.facebook.com/share/v/1DeqWHBx4o/?mibextid=wwXIfr
আশাকরি এটি সময় করে দেখবেন।
০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৯
খায়রুল আহসান বলেছেন: ভিডিও ক্লিপটা দেখে আমি মুগ্ধ ও অভিভূত হয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে বসেছিলাম। কি সুন্দর করে তিন/চার প্রজন্মের ব্যবধানের দুজন মানুষ অনর্গল তাদের জীবনের কথা বলে গেলেন! জীবনের শেষ প্রান্তে আসা একজনের ছিল জীবন ঘনিষ্ঠ প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতার কথা, আর কেবল জীবন শুরু করা অপরজনের ছিল জীবন নিয়ে অন্তহীন ঔৎসুক্য ও জিজ্ঞাসা। আর তাদের অকপট কথোপকথনে পাঠক/শ্রোতা মাত্রই পেলেন জীবন নিয়ে ভাবনার অনেক নিমিত্ত উপাত্ত। সেরকম কিছু অসংলগ্ন ভাবনা নিয়ে ভাবতে ভাবতেই লিখে ফেললাম এই পোস্টটা। যদিও দুটোর মধ্যে প্রাসঙ্গিকতাটুকু বেশ শিথিল।
প্রথম মন্তব্য ও প্রথম 'লাইক'টির জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
২|
০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৯
Lyly Amora বলেছেন: Among Us stays fresh with unpredictable matches, clever deception, and plenty of tense moments between Crewmates and Impostors. Jump in and see how long you can survive.
৩|
০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:১৩
নীল-দর্পণ বলেছেন: প্রথমবার দেখতে পারিনি, এখন দেখতে পেলাম। সত্যিই চমতকার ভিডিওটি। ধন্যবাদ আপনাকে এত সুন্দর এটা বিষয় জানানোর জন্যে।
১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:০৩
খায়রুল আহসান বলেছেন: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ, দ্বিতীয় বারের মত এসে বিষয়টি জানিয়ে যাবার জন্য।
৪|
১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৫
আহমেদ জী এস বলেছেন: খায়রুল আহসান,
"রাইপ এজ" এর মতোই একটি "রাইপ রাইটিং"!
পাকা ফলের মতো ঝুলে থাকা বয়সেও অনেক মানুষই মনে মনে আগের মতো কাঁচা অবস্থায় গাছে ঝুলে ঝুলে দোল খেতে চায়। কারণ সব মানুষের মাঝেই "শ্যালী'র মতো একটি শিশু বাস করে যে!
ভিডিওটি দেখে আপনিও নিশ্চয়ই সেই ছেলেবেলা থেকে কৈশোর,যৌবন, প্রবীন কালে ঘুরে এসেছেন! সে সব কাল পরিক্রমা রোমন্থন করে এই যে টসটসে পাকা আমের মতো উপলব্ধির লেখাটি লিখলেন, তাতেই মজে রইলুম।
লেখায় ++++++
শুভেচ্ছান্তে।
১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:৫৩
খায়রুল আহসান বলেছেন: "রাইপ এজ" এর মতোই একটি "রাইপ রাইটিং"! - অনেক ধন্যবাদ। মন্তব্যে প্রীত ও প্রাণিত হ'লাম।
"পাকা ফলের মতো ঝুলে থাকা বয়সেও অনেক মানুষই মনে মনে আগের মতো কাঁচা অবস্থায় গাছে ঝুলে ঝুলে দোল খেতে চায়। কারণ সব মানুষের মাঝেই "শ্যালী'র মতো একটি শিশু বাস করে যে!" - একদম ঠিক কথা বলেছেন। পরের কথাটাও অন্ততঃ আমার ক্ষেত্রে শতকরা শতভাগ সঠিক হয়েছে।
৫|
১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:৪৪
রাজীব নুর বলেছেন: জনাব, আপনি কি একাকীত্বে ভূগছেন?
১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১২
খায়রুল আহসান বলেছেন: লেখাটা পড়ে কি এরকমই মনে হলো?
৬|
১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:২৫
মেহবুবা বলেছেন: জানিনা কি আছে ভাগ্যে ! তবে নিঃসঙ্গতাবোধ নিয়ে কেন যেন চিন্তা হয় না; করবার মত কত কি আছে আল্লাহ যদি সুস্থ রাখেন।
১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:৫৪
খায়রুল আহসান বলেছেন: ঠিক বলেছেন। আমিও একই অবস্থায় আছি। পূর্ণ এ সংসারে এখনও কত কিছু যে করার বাকি রয়ে গেছে! এসব ভাবনার মাঝে স্বার্থ্পরের মত নিঃসঙ্গ বোধ করি কিভাবে?
৭|
১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৪০
শায়মা বলেছেন: রাইপ এইজে সোনালী আভা ছড়িয়ে বিদায় নেবার পরে কেউ মনে রাখবে বা রাখবে না তা দেখবার জন্য আর সেই রাইপ মানুষেরা জেগে থাকবেন না। তবে বেঁচে থাকা মানুষগুলোর মাঝে রেখে যাবে সেই আভা।
১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:২৯
খায়রুল আহসান বলেছেন: "রাইপ এইজে সোনালী আভা ছড়িয়ে বিদায় নেবার পরে কেউ মনে রাখবে বা রাখবে না তা দেখবার জন্য আর সেই রাইপ মানুষেরা জেগে থাকবেন না" - তা তো অবশ্যই। আর সেটা দেখার উদ্দেশ্য নিয়েই নিশ্চয়ই ওনারা সেসব 'মনে রাখার মত' কাজগুলো করে যান নাই।
"তবে বেঁচে থাকা মানুষগুলোর মাঝে রেখে যাবে সেই আভা" - হুম্ম, মানুষ বেঁচে থাকে তার কর্মের মাঝে।
মন্তব্য ও 'লাইক' এর জন্য ধন্যবাদ।
৮|
১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:০৭
সৈয়দ মশিউর রহমান বলেছেন: রাইপ এইজে সোনালী আভা ধরে রাখতে হলে আগে নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে নতুবা হতাশ, নিঃসঙ্গতা গ্রাস করবে।
১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২০
খায়রুল আহসান বলেছেন: হুম্ম!
আমার পোস্টের শেষ দুটো অনুচ্ছেদে আমি বলেছি 'Ripe Age' এও একজন মানুষ কিভাবে নিজের competitiveness ধরে রাখতে পারেন এবং সমাজে বিভিন্ন কল্যাণমূলক ও সৃষ্টিধর্মী কাজে অবদান রেখে গোধূলির সোনালী আভা ছড়াতে ছড়াতে অস্ত যেতে পারেন।
৯|
১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০
কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত) বলেছেন: আপনার ভাবনার মতোই প্রার্থনা করি, জীবনের প্রত্যুষ বা মধ্যাহ্ন যেমনই কাটুক না কেন, অপরাহ্ন আর গোধূলিতে এসে প্রতিটি মানুষের জীবন যেন অস্তগামী সূর্যের মতো চারিপাশে মায়াবী সোনালী আভা ছড়িয়ে বিদায় নিতে পারে। আমাদের পথ দেখানোর জন্য আপনার এই অভিজ্ঞতার আলো খুব প্রয়োজন। এমন এক শান্ত, স্নিগ্ধ ও জীবনের প্রতি ভালোবাসায় ভরপুর লেখার জন্য আপনাকে গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা!"
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:৫৯
খায়রুল আহসান বলেছেন: বহুদিন পরে আমার কোন একটি পোস্টে এসে আমার জন্য এত মূল্যবান একটি মন্তব্য রেখে যাবার জন্য আপনাকে জানাচ্ছি অশেষ ধন্যবাদ ও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।
পোস্ট থেকে উদ্ধৃতি বোল্ড করে দেয়াতে প্রীত হয়েছি। আমি উপলব্ধি করি, একজন লেখকের কোন কথা যখন কোন পাঠকের মনে রেখাপাত করে, তখন তিনি পোস্ট থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে মন্তব্য করেন।
আশাকরি ভালোই ছিলেন/আছেন। ব্লগে নিয়মিত আসুন, থাকুন।
১০|
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:২০
অধীতি বলেছেন: জীবনের এই পাকা সময়ে এসে যারা জীবন সম্পর্কে ভাবতে পারে তারাই দ্যূতি ছড়িয়ে রাখতে পারে। চিন্তা করতে পারা এক ধরণের ক্ষমতা। যাদের এই ক্ষমতা নেই তারা পাকা ফল হবার আগেই হতাশ হয়ে যায়। চিন্তার একটা খারাপ দিক হলো উদাসীন করে ফেলে। আর উদাসীনতাই চিন্তাশীলদের অন্যান্যদের থেকে আলাদা করে রাখে। "পাকা ফল" পরিভাষাটা দারুণ লাগল। রিলসটা দেখলাম। জীবনের দুইটা প্রান্ত যখন এক সীমারেখায় আসে তখন উভয়েই প্রভাবিত হয়। বৃদ্ধা পাকা ফলটি আনন্দিত হচ্ছে একটি প্রস্ফুটিত মুকুলের সঙ্গের দ্বারা যা তার স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। অপরদিকে মুকুলটি জ্ঞানের দ্বারা সমৃদ্ধ হচ্ছে। জীবন খুবই অদ্ভুত এবং আনন্দ-বেদনার সংমিশ্রণে তৈরি একটি বারুদ; কখন ফুটে যায় বলা যায় না।
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫২
খায়রুল আহসান বলেছেন: "চিন্তা করতে পারা এক ধরণের ক্ষমতা" - জ্বী, অবশ্যই এটা স্রষ্টার একটি বিশেষ দান। বয়সের সাথে সাথে তারতম্য ভেদে মানুষের চিন্তাশক্তি লোপ পেতে থাকে; এর পরেও যাদের চিন্তাশক্তি অক্ষুন্ন থাকে, তারা সত্যিই ভাগ্যবান।
"বৃদ্ধা পাকা ফলটি আনন্দিত হচ্ছে একটি প্রস্ফুটিত মুকুলের সঙ্গের দ্বারা যা তার স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। অপরদিকে মুকুলটি জ্ঞানের দ্বারা সমৃদ্ধ হচ্ছে। জীবন খুবই অদ্ভুত এবং আনন্দ-বেদনার সংমিশ্রণে তৈরি একটি বারুদ; কখন ফুটে যায় বলা যায় না" - জীবন নিয়ে খুব সুন্দর একটি পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন। অনেক ধন্যবাদ।
১১|
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৪:৩১
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
সুন্দর মুল্যবান লেখাটি বেশ মনযোগ দিয়ে পড়লাম ।
লিংক ফলো করে লেখাটির মুল অনুপ্রেরনার বিষয়গুলি কিছুটা পাঠ করলাম । কোন সন্দেহ নেই সেই লেখাটির
সাথে এ আই সংস্লেষ আছে । ফেইস বুকের লেখাটি থেকে কিছু গুরুত্বপুর্ণ অংশ তুলে নিতে চেয়েছিলাম কিন্তু এমনই
কঠিন পিডিএফ যে কপি করা গেলনা । তবে কিয়দংশ পাঠ করেছি ।
জানতে পারলাম তাদের বয়সের ব্যবধান ৯৯ বছর। প্রযুক্তির দুনিয়ায় তারা যেন দুই ভিন্ন প্রান্তের মানুষ। কিন্তু যখন
তারা জীবনের কথা বলতে বসলো, তখন আবিষ্কার করলো তারা আসলে এতটা আলাদা নয়।
জানলাম, এমন দুজন মানুষের মধ্যে একটি কথোপকথন যাদের একজন সবে জীবনের যাত্রা শুরু করেছে, যার মনে
অগণিত প্রশ্ন, অফুরন্ত উদ্যম ও স্বপ্ন; আর অন্যজন প্রায় একটি পূর্ণ শতাব্দী পার করে এসেছেন, সঙ্গে বয়ে এনেছেন
অসংখ্য স্মৃতি, অভিজ্ঞতা, প্রতিকূলতা পেরিয়ে অর্জিত দৃঢ়তা এবং নীরব প্রজ্ঞা।
দেখলাম ঠিক এমনটাই ঘটেছিল এক তরুণী ও ৯৯ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার মধ্যে। তাদের বয়সের ব্যবধান ছিল ৯৯ বছর।
অথচ তারা যখন মুখোমুখি বসে কথা বললো, সেখানে ছিল না কোনো তর্ক, কোনো মতবিরোধ কিংবা প্রজন্মগত দূরত্ব।
বরং ঘটেছিল দৃষ্টিভঙ্গির এক অপূর্ব ও প্রাণবন্ত বিনিময় যা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, মানুষ হিসেবে আমরা আসলে
কতটা কাছাকাছি।যা আমরা অনেকেই প্রায় এক যুগেরো বেশি সামুতে থেকে নীজেদের মধ্য গড়ে তুলতে পারিনি ,
কথায় পারলেও কাজে পারিনি তার প্রমান ভুরি ভুরি ।
তারা কথোপকথনে কী আবিষ্কার করেছিল?
স্বপ্ন সবারই আছে, শুধু স্বপ্নের ধরন আলাদা।
ভয় সর্বজনীন, সাহসও তাই।
প্রযুক্তি বদলায়, কিন্তু মানুষের সংযোগের প্রয়োজন বদলায় না।
তারা একে অপরকে সবচেয়ে মূল্যবান দুটি উপহার দিল।
বৃদ্ধা তরুণীকে দিলেন জীবনকে দেখার একটি পরিণত দৃষ্টিভঙ্গি
আর তার বিনিময়ে তরুণী বৃদ্ধাকে দিল আশা ও প্রাণশক্তির উপহার।
জীবন থেকে পাওয়া শিক্ষা আমাদের মনে করিয়ে দেয় জ্ঞান ও প্রজ্ঞা
শুধু এক দিক থেকে অন্য দিকে প্রবাহিত হয় না; বরং তা দুই প্রজন্মের
মাঝেই প্রবাহিত হয়।
বয়োজ্যেষ্ঠদের কাছে রয়েছে আমরা কোথা থেকে এসেছি তার মানচিত্র;
আর তরুণদের হাতে রয়েছে আমরা কোথায় যেতে পারি তার দিকনির্দেশক কম্পাস।
ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কৌতূহল দিয়ে যখন আমরা এই প্রজন্মগত দূরত্বের সেতু তৈরি করি,
তখন আসলে আমরা সবাই সমৃদ্ধ হই, অন্তরে একটি কোমল উপলব্ধি আসে সেটি হল-
প্রজন্মের মধ্যে সংযোগ এবং আমাদের অভিন্ন মানবিক অভিজ্ঞতার একটি হৃদয়ছোঁয়া প্রতিফলন।
এর উদ্দেশ্য হলো আমাদের নিজেদের পরিবার ও সমাজের মধ্যে মমতা, ধৈর্য এবং অর্থবহ কথোপকথনের
অনুপ্রেরণা দেওয়া।
মুল রেফারেন্স এর লেখা আর আপনার এই মুল্যবান লেখাপাঠে অনুধাবিত এবং হদৃয় হগীনে ধারণকৃত বিষয়গুলিকে
যথা দুই প্রজন্মের দূরত্ব, জীবনের অভিজ্ঞতা, তরুণের স্বপ্ন, প্রবীণের প্রজ্ঞা, ভয়-সাহস, প্রযুক্তির পরিবর্তন এবং মানুষের
চিরন্তন ভালোবাসা ও সংযোগ এসবকে ধারণ করে একটি কবিতার আংগিকে সাজানোর জন্য ইচ্ছে করছে ।
চেষ্টা করে দেখব যদি পারি তাহলে আমার ব্লগে তুলে ধরব ইনশাল্লাহ । সেটি আপনার নজরে আসুক বা না
আসুক কবিতা রচনার মুল অনুপ্রেরণা দানকারী হিসাবে কবিতাটি হবে আপনার প্রতি উৎসর্গিত ।
সুন্দর লেখাটির জন্য ধন্যবাদ ।
শুভেচ্ছা রইল
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭
খায়রুল আহসান বলেছেন: "সেটি আপনার নজরে আসুক বা না আসুক কবিতা রচনার মুল অনুপ্রেরণা দানকারী হিসাবে কবিতাটি হবে আপনার প্রতি উৎসর্গিত" - সেটি আমার নজরে এসেছে এবং উৎসর্গের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে সেখানে একটি মন্তব্যও রেখে এসেছি।
বৃদ্ধার বয়স ১০৪, শিশুটির মাত্র ৫, তথাপি কি সুন্দর ভাবে তাদের সাবলীল কথোপকথন ঝর্নাধারার মত প্রবাহিত হলো বিরতিহীন প্রায় ১১ মিনিট ধরে! উভয়ে উভয়ের জিজ্ঞাসার প্রাণবন্ত উত্তর দিল এবং একে অপরকে সমৃদ্ধ করলো! আমার এই ভিডিও ক্লিপটি বারবার দেখতে/শুনতে ইচ্ছে করে।
১২|
১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৩৮
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন:
আয়নাতে আজ মুখটি বদলায়, রেখা জাগে ত্বকে,
সত্য এবং সুষমা রয় সেই রেখাদের চোখে
যেথায় গেছেন, তারই যেন এক মানচিত্র আঁকা,
ভেতরের সব আনন্দ আর অশ্রু দিয়ে ঢাকা।
১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২৯
খায়রুল আহসান বলেছেন: হুম্ম! সুন্দর বলেছেন।
©somewhere in net ltd.
১|
০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৮
নীল-দর্পণ বলেছেন: চমৎকার একটা বিষয়ে বলেছেন তো! আমি তো 'Ripe Age' টার্মটার সাথে এখনি পরিচিত হলাম! ভবিষ্যতে আমার চারপাশের মানুষ পর্যবেক্ষণ করতে কাজে লাগবে।
আমার মনে হয় শারিরীক অসুস্থতা, আর্থিক এবং পারিবারিক সমস্যার কারনে সুন্দর ভাবে যাপন বলেন আর উদযাপন বলেন তার কোনটাই হয়ে ওঠে না আমাদের সমাজে যারা 'Ripe Age' এ পৌছান তাদের পক্ষে।