নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

একজন সুখী মানুষ, স্রষ্টার অপার ক্ষমা ও করুণাধন্য, তাই স্রষ্টার প্রতি শ্রদ্ধাবনত।

খায়রুল আহসান

অবসরে আছি। কিছু কিছু লেখালেখির মাধ্যমে অবসর জীবনটাকে উপভোগ করার চেষ্টা করছি। কিছু সমাজকল্যানমূলক কর্মকান্ডেও জড়িত আছি। মাঝে মাঝে এদিক সেদিকে ভ্রমণেও বের হই। জীবনে কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করিনি, এখন তো করার প্রশ্নই আসে না। জীবন যা দিয়েছে, তার জন্য স্রষ্টার কাছে ভক্তিভরে কৃতজ্ঞতা জানাই। যা কিছু চেয়েও পাইনি, এখন বুঝি, তা পাবার কথা ছিলনা। তাই না পাওয়ার কোন বেদনা নেই।

খায়রুল আহসান › বিস্তারিত পোস্টঃ

‘Ripe Age’ এবং নিঃসঙ্গতাবোধ

০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৪

(চিন্তাসূত্রঃ হঠাৎ পাওয়া একটি চমৎকার ভিডিও ক্লিপ এবং অতঃপরের ভাবনা। ভিডিও লিঙ্কঃ (1) Facebook)

জানিনা, এটা কোন ‘AI content’ কিনা, তবে ৯৯ বছরের পার্থক্যে থাকা এই বৃদ্ধা এবং শিশুটির কথোপকথন হৃদয়ে নাড়া দিয়ে গেল। বৃদ্ধার বয়স ১০৪ এবং শিশুটির মাত্র ৫। দু’জনের মাঝে খুবই candid আলাপচারিতা, এর মধ্য দিয়েই উঠে এসেছে জীবনের কিছু অমূল্য দর্শন। আমাদের মাঝে যারা ‘Ripe Age’ পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছি, আলহামদুলিল্লাহ, তারা নিতান্তই সৌভাগ্যবান। আর যারা পারেন নি, তারা যে সৌভাগ্যবান নন, এ কথা ভাবার কোন প্রয়োজন নেই। আল্লাহতা’লা কাকে, কেন, কতটুকু হায়াৎ দিবেন, এটা জানার এখতিয়ার শুধুমাত্র তাঁরই। যার জন্য যেটা মঙ্গলজনক, তিনি তাকে সেটাই দিয়ে থাকেন। আপাতঃদৃষ্টিতে যেটাকে অমঙ্গলজনক মনে হয়, অন্তর্যামীর দৃষ্টিতে হয়তো সেটাই সেই ব্যক্তির জন্য মঙ্গলজনক। কারও ‘Ripe Age’ শুরু হয় ৭০ এর পর থেকেই, আবার কারো কারো ৮০ বা ৯০ তে গিয়ে সেটা শুরু হয়। যখনই শুরু হোক, ঐ বয়সটাকে সামলে নিয়ে যথাসম্ভব সুস্থ থেকে জীবনকে সঠিকভাবে যাপন, উপভোগ ও Celebrate করতে পারাটাই ‘Ripe Age’ এর সার্থকতা।

এই পাকা ফলের মত ঝুলে থাকার বয়সটাও অনেকের পছন্দের নাও হতে পারে। যারা জীবনের শেষদিন পর্যন্ত নিজেকে Competitive রাখতে পারেন, জীবনের প্রতি আগ্রহ ও ঔৎসুক্য ধরে রাখতে পারেন, অতি সামান্য হলেও কোথাও না কোথাও অবদান রাখতে পারেন, কারও মুখে হাসির রেখা ফোটাতে ও মনে আলোর শিখা জ্বালাতে পারেন, তারাই এ বয়সটাকে ভালোবাসতে পারেন এবং প্রকৃ্ত অর্থে ভাগ্যবান। জীবনের বোঝা তাদেরকে ন্যুব্জ করতে পারে না। অপরপক্ষে এমন বয়সে (পাকা ফল) পৌঁছানোর আগেই অনেকে জীবন ধারণের আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। এর নানাবিধ কারণ হতে পারে; যেমন যন্ত্রণাদায়ক অসুখ বিসুখ, পরিবারে অশান্তি, মানুষের কাছ থেকে পাওয়া বড় ধরণের কোন প্রতারণা, নিঃসঙ্গতাবোধ, বিষণ্ণতা, আকস্মিক বড় ধরণের কোন আর্থিক দুর্দশা, ইত্যাদি। নিঃসঙ্গতাবোধ দুই ধরণের হতে পারে; পূর্ণ পরিবারের সাথে থেকেও নিঃসঙ্গ বোধ করা, আবার ছানা-পোনা বড় হয়ে উড়ে যাবার পর যদি আপন ঠিকানার পথ খুঁজতে প্রবাসে বা দূরে কোথাও উড়ে যায় তখন শাবকহীন পক্ষীর ন্যায় ‘Empty Nester’ হয়ে প্রায় শুন্য ঘরে বসবাসের কারণে নিঃসঙ্গ বোধ করা। ওদের সাথে যদি নাতি নাতনিও চলে যায় তবে নিঃসঙ্গতাবোধ ত্বরান্বিত ও প্রবলতর হয়।

‘Ripe Age’ মানুষকে সুযোগ করে দেয় ফেলে আসা জীবনটাকে ফিরে দেখার। বিচক্ষণ ব্যক্তিরা নিজেদের কিছু ভুল ত্রুটিও সেই সুযোগে শুধরে নিতে কিংবা প্রায়শ্চিত্ত করতে পারেন। কেউ কেউ প্রকৃতিকে নতুন করে চিনতে শুরু করেন। নিজের ভেতরে লুকিয়ে থাকা কোন প্রতিভাকে আবিষ্কার করে মনের মাধুরী মিশিয়ে তার বিকাশ সাধন করতে পারেন। কে বলেছে বিকেলে ভোরের ফুল ফোটে না? ভোরের ফুল না ফুটুক, বিকেলে, সন্ধ্যায় বা নিশীথে যেসব ফুল ফোটে তাদের শোভা হয়তো রাতে দৃশ্যমান হয় না, কিন্তু তাদের সৌরভ তো চতুর্দিক মৌ্মাতাল করে রাখে। তাই তো দেখি কেউ ‘Ripe Age’ এ এসে নতুন করে ফটোগ্রাফী শিখছেন এবং এতে সিদ্ধহস্ত হচ্ছেন, কেউ নতুন করে গান ধরেছেন কিংবা বাদ্যবাজনা শিখছেন, ফিটনেস ফ্রীকরা নিয়মিত বিরতিতে ম্যারাথন দৌড় কিংবা ওয়াকাথনে অংশ নিচ্ছেন বা নিদেন পক্ষে নিয়ম করে সকাল বেলা ৪/৫ কি.মি হেঁটে ও শারীরিক অনুশীলন করে সবান্ধবে পেট পুরে নাস্তা করে বাসায় ফিরছেন। যাদের গিন্নী বাসায় কোন অজুহাতেই মিষ্টি খেতে দেন না, তারা এই সুযোগে টপাটপ দু’চারটা মিষ্টিও গিলে ফেলেন। আমার এক নিকট বন্ধু রীতিমত পরীক্ষা ও অডিশন দিয়ে এই পাকা বয়সেই বিপুল উৎসাহে রেডিওতে সংবাদ পাঠ শুরু করেছেন এবং তিনি ক্রমান্বয়ে ভালো করে চলেছেন। আমরা তার এই ইতিবাচক এনার্জীর পরিচয় পেয়ে গর্বিত। যারা এসবের কিছুতেই আগ্রহী নন, তারা নতুন করে তাদের বইপড়ার কিংবা লেখালেখির পুরনো অভ্যাসে ফিরে যান। অনেকে ধর্মে কর্মে নিবিড়ভাবে আত্মনিয়োগ করে শান্তি লাভ করেন। এভাবেই তারা বিষণ্ণতা ও নিঃসঙ্গতাবোধে বুঁদ হয়ে বসে না থেকে যে যেভাবে পারেন, ‘Ripe Age’ টাকে Celebrate করেন।

শুরুতেই বলেছি, যারা ‘Ripe Age’ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেন, তারা ভাগ্যবান। এই বয়সে তারা যাপিত জীবনের লব্ধ অভিজ্ঞতা থেকে কনিষ্ঠদেরকে ইতিবাচক ও উপকারী জ্ঞান বিতরণ করতে পারেন। সমাজহিতৈষী কাজে নিজেদেরকে নিয়োজিত করতে পারেন। বিনামূল্যে ছাত্র পড়াতে পারেন, নিরক্ষর বয়স্কদেরকে অন্ততঃ পত্রিকার হেডলাইন পাঠের কিংবা চিঠি লিখতে পারার উপযোগী জ্ঞান দান করতে পারেন। একজন মাত্র ব্যক্তিকে হলেও তার আর্থিক দুর্দশা দূর করায় ভূমিকা রাখতে পারেন। চিকিৎসকগণ অন্ততঃ দু’তিন মাস অন্তর এক দিনের জন্য দরিদ্রদেরকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দিতে পারেন। অর্থাৎ যার যেটুকু সাধ্য আছে, সে অনুযায়ী তিনি সমাজকে কিছু দিয়ে যাবার চেষ্টা করতে পারেন। তাহলে সন্তুষ্টি ও শান্তির একটি তৃপ্তি নিয়ে তারা সবাই শেষ জীবনটা কাটাতে পারেন। এসব কাজে নিজেকে নিয়োজিত করলে নিঃসঙ্গতাবোধ সহজে কাছে ভিড়তে পারবে না। জীবন পরিক্রমার প্রত্যুষ, মধ্যাহ্ন ও অপরাহ্ন যার যেমনই কাটুক না কেন, গোধূলিতে এসে অস্তমান সূর্য যেমন চতুর্দিকে সোনালী আভা ছড়িয়ে বিদায় নেয়, সব ‘পাকাফল’ দের ঝরে পড়ার লগনটাও যেন সেরকমই মায়াবী আলো ছড়িয়েই আসে! তারা চলে যাবার পরেও যেন তাদের আভা বেশ কিছুকাল রয়ে যায় এবং অন্যদের পথ দেখায়। সকলের জন্য সে দোয়াই রইলো।

ঢাকা
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শব্দ সংখ্যাঃ ৭৩০

মন্তব্য ১ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৮

নীল-দর্পণ বলেছেন: চমৎকার একটা বিষয়ে বলেছেন তো! আমি তো 'Ripe Age' টার্মটার সাথে এখনি পরিচিত হলাম! ভবিষ্যতে আমার চারপাশের মানুষ পর্যবেক্ষণ করতে কাজে লাগবে।

আমার মনে হয় শারিরীক অসুস্থতা, আর্থিক এবং পারিবারিক সমস্যার কারনে সুন্দর ভাবে যাপন বলেন আর উদযাপন বলেন তার কোনটাই হয়ে ওঠে না আমাদের সমাজে যারা 'Ripe Age' এ পৌছান তাদের পক্ষে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.