| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
"হয়তো পূনর্জন্ম"
দুর্নিবার চেতনার পায়ে হঠাৎ করেই যেন আলস্যের শেকল,
ঝলসে ওঠা চোখের পলকে নামে নীরব রাতের সহাবস্থানের কামনা ।
যন্ত্রনার শিরশিরে অনুভূতিটা থেকে থেকে জানান দেয় মস্তিষ্কের আবদ্ধ সব গোপন কুঠুরিতে,
অস্বস্তির মাঝে মহাপ্রলয়ের অশনিসংকেত হয়ে বাজে ক্যাথোড্রলের নির্নিমেষ ঘণ্টাধ্বনি।
ভৈরবের ফেনায়িত তরঙ্গের মত বয়ে চলা উষ্ণ রক্তস্রোত জাগিয়ে রাখে শরীরের প্রতিটি কোষ, ধ্বংস কিংবা বিভাজনের পথে।
অসাড় অনুভূতিগুলো একত্রিত হয়ে ধরা দেয় অবচেতনার ফ্রেমে,
শারীরিক সামর্থ্য একে একে সচেতন করে তার সব ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যতা, এবং ধীরে ধীরে আমি বুঝে উঠতে শুরু করি আমার অস্তিত্বকে।
রাত জাগা পাখির কর্কশ চিৎকারের মত শব্দে সচকিত হয় চরাচর,
দেখার এক তীব্র বাসনা নিয়ে
আমি দু'চোখ মেলে তাকাই সামনে...
আমার দৃষ্টিসীমার পুরোটা জুড়ে তখন ঘনীভূত আঁধারের রাজ্য,
আমি দিশেহারা হয়ে আবার চেয়ে থাকি,
শঙ্কা আর সম্ভাবনা দ্রুত মিলেমিশে আমার অস্তিত্বে অপেক্ষা হয়ে জন্মায়।
কোন অদেখার নির্মোহ আমন্ত্রনে আমি যেন যুগ যুগ ধরে বসে থাকি-
নিস্প্রান এক প্রান্তরে, সম্পূর্ণ একাকী।
থেমে যায় কালচক্র, থেমে যায় সময়,
এক বিচিত্র ঘোরের মাঝেই কেটে যায় আমার জন্ম-জন্মান্তর।
স্বপ্নের সাথে বিচ্ছিন্ন ভাবনার স্ফূরণে সক্রিয় হয়ে জেগে ওঠে লুপ্ত বোধ,
অদৃষ্টের গোচরে দৃষ্ট হয় সপ্তবর্ণ রং,
অনুভূত হয় বেঁচে থাকার আনন্দ।
এবং পূর্ণতার প্রতিমূর্তি হয়ে-
ক্ষনিক পরেই তীব্র আলোয় উদ্ভাসিত হয় প্রকৃতি, সেই আলোর রেশ ঠিকরে এসে প্লাবিত করে আমার চোখ, আমার মুখ, আমারই একান্ত শরীর।
অপার বিস্ময়ে আমি তাকিয়ে থাকি সৃষ্টির সূচনা পথে,
হয়তো বা পূনর্জন্মের মোহে......
-কৃষ্ণেন্দু দাস,
আষাঢ়-১৪২৫ বঙ্গাব্দ।
©somewhere in net ltd.