| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
কিরকুট
আমি মানুষ, আমি বাঙালি। আমার মানবিকতা, আমার সংস্কৃতির উপর আঘাত হানতে চাওয়া, ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাওয়া প্রাণী মাত্রই আমার কাছে পিশাচ। আমার দেশের উপর আঘাত হানতে চাওয়া প্রাণীদের পালনকারী, প্রশ্রয়দানকারী মাত্রই আমার কাছে পিশাচ, রাক্ষস। হোক সে যে কোনো সাম্প্রদায়িক কিংবা ঢেঁড়স চাষ পরামর্শক।
ধর্মীয় ইতিহাস নিয়ে কথা বললেই অনেকের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি কাজ করে। কারণ আমরা প্রায়ই ধর্মকে দেখতে চাই প্রশ্নের ঊর্ধ্বে, ইতিহাসের ঊর্ধ্বে। কিন্তু বাস্তবতা হলো ধর্মের ইতিহাসও মানুষই তৈরি করেছে, আর মানুষ মানেই ক্ষমতা, রাজনীতি, দ্বন্দ্ব ও সহিংসতা। কাবার হাজরে আসওয়াদ বা কালো পাথর ছিনতাইয়ের ঘটনা সেই বাস্তবতারই এক অনন্য দলিল।
এই ঘটনা কোনো আধুনিক ব্যাখ্যা নয়, কোনো বিদ্বেষমূলক বানোয়াট ভাষ্য নয়। এটি মধ্যযুগীয় মুসলিম ইতিহাসের স্বীকৃত অধ্যায়, যা বহু প্রামাণ্য ঐতিহাসিক গ্রন্থে নথিভুক্ত।
কারামিতা কারা ছিল
কারামিতা বা ক্বারামিতারা ছিল ইসমাইলি শিয়া মতাদর্শ থেকে উদ্ভূত একটি কট্টরপন্থী রাজনৈতিক ধর্মীয় গোষ্ঠী। তাদের প্রধান ঘাঁটি ছিল বর্তমান বাহরাইন ও পূর্ব আরব অঞ্চলে। তারা আব্বাসীয় খিলাফতকে অবৈধ মনে করত এবং মক্কা-কেন্দ্রিক ধর্মীয় আচারকে ক্ষমতাশালীদের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে দেখত।
কারামিতাদের মতে, কাবা বা হাজরে আসওয়াদ কোনো ঐশী কেন্দ্র নয়, বরং শাসকগোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রিত প্রতীক। এই চরম মতাদর্শ থেকেই তারা ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর এক আক্রমণের পথে যায়।
৯৩০ খ্রিস্টাব্দের মক্কা আক্রমণ
হিজরি ৩১৭ সালে, অর্থাৎ ৯৩০ খ্রিস্টাব্দে, হজের মৌসুমে কারামিতারা মক্কা আক্রমণ করে। ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী, এই আক্রমণে হাজার হাজার হাজী নিহত হয়। কাবা প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে হত্যাযজ্ঞ চলে। জমজম কূপের চারপাশে লাশ পড়ে থাকে।
এরপর তারা কাবার দেয়াল ভেঙে হাজরে আসওয়াদ তুলে নেয়। এটি ছিল একটি প্রতীকী ঘোষণা যে, পাথর নয়, মানুষের বিশ্বাসই একে পবিত্র করেছে। এই ঘটনা শুধু ধর্মীয় নয়, গভীরভাবে রাজনৈতিকও ছিল। কারামিতারা আব্বাসীয় খিলাফতের কর্তৃত্বকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছিল।
২২ বছর পাথরহীন কাবা
হাজরে আসওয়াদ প্রায় ২২ বছর কারামিতাদের দখলে ছিল। এই সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কিন্তু এর ফলে হজ বন্ধ হয়নি। মুসলমানরা পাথর ছাড়াই কাবা তাওয়াফ করেছে। এই বাস্তবতা একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আনেঃ ইসলামের মূল ভিত্তি কি কোনো বস্তু, নাকি বিশ্বাস ও কাঠামো? ইতিহাস নিজেই এর উত্তর দিয়েছে। কাবা টিকে ছিল, হজ টিকে ছিল, ধর্মীয় অনুশীলনও চলতে থাকে।
পাথরের প্রত্যাবর্তন
৯৫১ বা ৯৫২ খ্রিস্টাব্দে হাজরে আসওয়াদ ফেরত আসে। অধিকাংশ ঐতিহাসিকের মতে, এটি আব্বাসীয় খিলাফতের মধ্যস্থতায় এবং সম্ভবত মুক্তিপণ বা ক্ষতিপূরণের বিনিময়ে ফেরত আনা হয়। বলা হয়, পাথরটি তখন ভাঙা অবস্থায় ছিল। পরে সেটিকে রুপার ফ্রেম দিয়ে সংযুক্ত করা হয়, যা আজও দেখা যায়।
১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৭
কিরকুট বলেছেন: যারপরনাই কৃতার্থ হইলাম। ![]()
২|
১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৪
মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:
জান্নাতি এই পাথরটি হচ্ছে একখণ্ড উল্কাপিণ্ড।
এরকম উল্কাপান্ডা প্রায়ই পৃথিবীর বুকে এসে পড়ে।
এই পাথরটি ছিনিয়ে নেয়ার পর তারা নাকি এতে মলমূত্র ত্যাগ করেছিল-কথাটা কি সত্য?
১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৮
কিরকুট বলেছেন: এই ধরনের কোন ঐতিহাসিক বা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আমার জানা নাই। বাকি বিষয়ে লৌকিক কিছু কথা প্রচলিত আছে কিন্তু তা প্রমানিত না।
৩|
১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৮
গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: জানাছিল,আবার জানলাম।
©somewhere in net ltd.
১|
১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:০৭
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: পড়লাম ।