| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
কলিমুদ্দি দফাদার
“ঘুরছি আমি কোন প্রেমের ই ঘুর্নিপাকে, ইশারাতে শিষ দিয়ে কে ডাকে যে আমাকে”

আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি? সামনে হয়তো শহীদ কোকোর প্রয়ান দিবস, তারেক রহমানের কারা দিবস, স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালিত হবে।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ৩ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে একটি সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে।এরই ধারাবাহিকতায় ৭ নভেম্বর সেনাবাহিনীর কিছু সদস্য এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে পাল্টা অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। এ সময় বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান।
এই অভ্যুত্থানের ফলে তৎকালীন ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আসেখালেদ মোশাররফের নেতৃত্বাধীন সামরিক কর্তৃত্বের অবসান ঘটে এবং নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়।ফলে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন, পরবর্তী সময়ে তিনি রাষ্ট্রপতি হন এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় নতুন রাজনৈতিক ও আদর্শিক ধারা তৈরি হয়।১৯৭৫ সালের সাত নভেম্বরের বিপ্লব ছিল ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরের প্রতি বিপ্লব।
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরের পরে দেশেকে প্রিন্সিপালসের উপর দাঁড় করানো হয়:
১। সমাজতন্ত্র
২। ধর্ম নিরপেক্ষতাবাদ
৩। ভারত নির্ভরতা
৪। সোভিয়েত ব্লক
৫। ধর্মীয় রাজনীতিতে নিষেধাজ্ঞা
৬। সংবাদপত্র এবং রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ
৭। ভারতীয় হিন্দুত্ববাদের আদলে বাঙালি জাতীয়তাবাদ।
১৯৭৫ সালের সাত নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লবের পরে একাত্তরের সরকারের সকল নীতিমালা ডাস্টবিনে ফেলা হয় এবং প্রতিষ্ঠা করা হয় ঠিক বিপরীত মতাদর্শ:
১। সংবিধানে বিসমিল্লাহ।
ভারতের সাথে সম্পর্ক একবারে কমিয়ে দিয়ে মুসলমান বিশ্বাস সাথে সম্পর্ক স্থাপনে সংবিধানে ক্লজ যুক্ত করা।
৩। ইসলামি রাজনীতি উন্মুক্ত করা।
৪। আমেরিকান—পাকিস্তানি ব্লকে ঢোকা।
৫। সংবাদপত্র এবং রাজনৈতিক দল উন্মুক্ত করা।
৬। মুক্ত বাজার অর্থনীতি।
৭ মুসলমান জাতীয়তাবাদের আদলে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ।
ফেসবুক এক জামাত সমর্থক ছোট ভাই শেয়ার করলো। সোস্যাল মিডিয়ার যেহেতু রাজনৈতিক তর্ক নিষেধ এখানেই একটু মনের জ্বালা মিটাই!!!!
শেখ মুজিব নাকি ভারতের হিন্দুত্ববাদের আদলে বাঙালি জাতীয়তাবাদ রচনা করেছিলেন। ভারতীয় কংগ্রেস এবং গান্ধী পরিবার সেক্যুলার ঘরানার। ৪৭ এর পর থেকে ৯০ মাঝামাঝি পর্যন্ত ভারতীয় অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কংগ্রেসের ছিলো একক আধিপত্য। সেই ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশে চেয়েছিলেন ভারতীয় হিন্দুত্ববাদের আড়ালে বাঙালি জাতীয়তাবাদ রচনা করতে? ইহা ও কি যুক্তিতে ঘাটে? ২০ কোটি মুসলমানের দেশে ভারত যদি এখন সংবিধানে জয় শ্রী রাম যুক্ত করে বংগ দেশে ধর্মীয় দলগুলোর প্রতিক্রিয়া কি হবে?
জিয়াউর রহমান সংবিধান বিসমিল্লাহ যুক্ত করেছেন। পিছনের দড়জায় ক্ষমতায় অনেক সামরিক শাসক ধর্মীয় ট্রাম্প কার্ড খেলতেন। এরশাদ ও শুক্রবার কে রাষ্ট্রীয় ছুটি করেছেন। রাষ্ট্রীয় কাজে ধর্মকে যোগ করে দুজন দেশের অকৃত্রিম ক্ষতি করেছেন। দেশে এখন আওয়ামীলীগ নেই। ধর্মীয় রাজনৈতিক দলের সুফল এখন জিয়াউর রহমান ছেলে তারেক রহমান ভোগ করছেন।
জামাত বা অনন্যা ধর্মীয় দলগুলো জিয়াউর রহমান বা খালেদা জিয়াকে যেভাবে পছন্দ করে বা নমনীয় তারেক রহমানের ক্ষেত্রে মুদ্রার একদম উল্টো পিঠ। কারন জিয়াউর রহমানের সময়ে ধর্মভিত্তিক দলগুলো প্রকাশ পায় আর খালেদা জিয়ার সাথে জোট করে ক্ষমতার স্বাদ আর তারেক রহমান প্রতিপক্ষ। জুলাইয়ে আগে জামায়াতের দৃষ্টিতে তারেক রহমান নিষ্পাপ ও মাসুম শিশু থাকলে নির্বাচনের পুর্বে হয়ে যায় মিষ্টার ১০% আর খাম্বা তারেক। আর জামাতের সেই চিরো চেনা কার্ড "ইন্ডিয়ার সাথে আঁতাত"। মোটাদাগে জামাতি দৃষ্টি ভঙ্গিতে দেখলে জিয়াউর রহমান আর খালেদা জিয়ার শাসনামল বাদে পুরোটাই সময় বাংলাদেশ ছিলো ইন্ডিয়ার কব্জায়......
০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৫
©somewhere in net ltd.
১|
০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩১
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ইতিহাস পড়তে ভালো লাগে ।