| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সম্মানিত সুধী,
অপরূপ সৌন্দর্য্যের লীলাভূমি আমাদের এই দেশ। প্রকৃতির তার সমস্ত সৌন্দর্য্য দিয়ে সাজানো চেষ্টা করেছে আমাদের এই দেশকে। তারই একটি নিদর্শন হলো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ¯্রােতজ বন ’’সুন্দরবন’’। ১৯৯৬ সালে ইউনেস্কো প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য-এর আধার হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
সবাইকে গত ১৪ই ফেব্রুয়ারী জাতীয় সুন্দরবন দিবসের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আপনারা হযতো আমাদের এই প্রচারপত্র দেখে অবাক হবেন এই ভেবে ’সুন্দরবন এবং দূনীতি দুইটি ভিন্ন বিষয় বা সুন্দরবনের ক্ষেত্রে দূনীতি মাত্রা নিয়ে’’। আপনাদের জ্ঞাতার্থে সুন্দরবন এবং দূনীতি (সুন্দরবন সম্পর্কিত) সম্পর্কিত তথ্য নিম্মে দেওয়া হলো:
আয়তন: ৫৭৭০ বর্গ কিলোমিটার (৬০% বাংলাদেশ এবং ৪০% ভারত)।
প্রাণী: প্রায় ৪৩০টি রয়েল বেঙ্গল টাইগার এবং প্রায় ৩০,০০০টি হরিণ সহ ৫০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ৩২০ প্রজাতির পাখি, ৪০০ প্রজাতির মাছ, ৫০ টি প্রজাতির সরীসৃপ, ৮ প্রজাতির উভচর প্রাণী এবং অসংখ্য কিট-পতঙ্গ রয়েছে।
উদ্ভিদ: সুন্দরী সহ প্রায় ৪০ প্রজাতির বৃৃক্ষ।
বাংলাদেশের মোট বনভূমির প্রায় ১৪% হলো সুন্দরবন এবং অর্থনৈতিক এবং ভৌগোলিক দিক থেকে এর গুরুত্ব অপরিসীম।
দূনীতি: সুন্দরবনের দূনীতির ক্ষেত্রগুলো হলো কাঠ পাচার, বন্য পশু (বাঘ, হরিণ) পাচার বা পাচারে সহায়তা করা ও সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেওয়া (পরোক্ষভাবে) এবং বিভিন্ন নীতিমালা প্রণয়ন করার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত স্বার্থ দেখা ইত্যাদি।
গত বছরে (২০১২ সাল) দেশের দক্ষিনাঞ্চল থেকে বিভিন্ন সময় আইন শৃঙ্খলা বাহিনী প্রায় ৩টি বাঘের চামড়া এবং প্রায় ৫ টি মৃত হরিণ বা হরিনের মাংস উদ্ধার করে । সবচেয়ে আলোচিত অন্যতম ঘটনা ছিল র্যাব কর্তৃক শ্যামলী থেকে সুন্দরবনের ৩টি জীবিত বাঘের বাচ্চা উদ্ধার। সংগঠিত প্রত্যেকটি ঘটনার সাথে প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে সম্পর্ক ছিল। প্রত্যেকটি ঘটনায় মামলা হলেও অলৌকিকভাবে ওইসব কর্মকর্তা তালিকাভূক্ত হয়নি। এছাড়া প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৫ টন কাঠ পাচার হয়।
প্রকাশিত তথ্যের ছাড়াও, দেশে প্রায় ৫-১০ টি চক্র আছে যারা দেশের বন্যসম্পদ বিদেশে পাচারের মত ঘৃন্য কাজে জড়িত, যার সিংহভাগ আসে সুন্দররবনের পশু (বাঘ হরিন সহ অন্য প্রাণীর চামড়া, দেহের অংশ বা অংশবিশেষ) থেকে। আর এসব ক্ষেত্রে চোরাকারবারিদেরকে সহায়তা করে থাকে দেশের কতিপয় রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক ব্যক্তিরা, যা বিভিন্ন সময়ে পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু অজ্ঞাত কারনে তারা সবসময় আইনের বাইরে থেকেছে।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ¯্রােতজ বনভূমিকে মানুষ নামের ওই সব দূনীতি পরায়ণ পশুদের হাত থেকে বাঁচানোর লক্ষ্যে ২০০১ সাল থেকে ১৪ই ফেব্রুয়ারি জাতীয় সুন্দরবন দিবস পালনের মধ্যে দিয়ে জনসাধারনের মধ্যে সুন্দরবন রক্ষার আন্দোলনকে বেগবান করার চেষ্টা করছে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন।
এখন আর ঘরে বসে থাকার সময় না, আসুন হাতে হাত ধরে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই। দূনীতির বিরুদ্ধে সচেতন হই, অপরূপ সৌন্দর্য্যের এবং ¯্রােতজ বনভূমির অভায়ারন্য হিসাব খ্যাত সুন্দরবনকে রক্ষায় সচেতন হই, অন্যকেও সচেতন করি।
©somewhere in net ltd.