নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মানুষ মরে গেলে পঁচে যায় আর বেঁচে থাকলে বদলায়

সৈয়দ কুতুব

নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!

সৈয়দ কুতুব › বিস্তারিত পোস্টঃ

ভোট দিতে আসুন, সাথে কেনাকাটাও সেরে নিন

২৬ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:২৫


আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। আলাদা ব্যালটে মাত্র চারটি ছোট পয়েন্ট থাকবে যেখানে ভোটাররা 'হ্যাঁ' অথবা 'না' ভোট দেবেন। কিন্তু এই চারটি পয়েন্টের পেছনে লুকিয়ে আছে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবনা যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামো সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে।

বর্তমান সংবিধানে শুধু বাংলা ভাষার স্বীকৃতি আছে এবং আমরা বাঙালি জাতি হিসেবে পরিচিত। জুলাই সনদে সব মাতৃভাষার স্বীকৃতি দেওয়া হবে এবং নাগরিকদের পরিচয় হবে বাংলাদেশি। সংবিধানের মূলনীতি বর্তমানে বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। নতুন ব্যবস্থায় তা হবে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সম্প্রীতি। মৌলিক অধিকারে যুক্ত হচ্ছে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট এবং ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষার অধিকার।

সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন আসছে। এখন সংসদের দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেই সংবিধান বদলানো যায়। জুলাই সনদে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদের উভয় কক্ষের অনুমোদন এবং গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ পরিবর্তনে গণভোটের বাধ্যবাধকতা আনা হয়েছে। এতে সংবিধান পরিবর্তন আরও কঠিন হবে এবং ক্ষমতাসীন সরকার ইচ্ছামতো সংবিধান বদলাতে পারবে না।

প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য সীমাবদ্ধতা আসছে। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদসীমা নেই এবং শেখ হাসিনা চারবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। জুলাই সনদে একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ বা দশ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। প্রধানমন্ত্রী এখন একাধিক পদে থাকতে পারেন, নতুন নিয়মে তা নিষিদ্ধ হবে। জরুরি অবস্থা জারির ক্ষমতাও সীমিত হচ্ছে। এখন প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষরেই জরুরি অবস্থা জারি হয় এবং মৌলিক অধিকার স্থগিত করা যায়। নতুন ব্যবস্থায় মন্ত্রিসভার অনুমোদন ও বিরোধী দলীয় নেতার উপস্থিতি বাধ্যতামূলক হবে এবং মৌলিক অধিকার খর্ব করা যাবে না।

রাষ্ট্রপতি এখন সংসদ সদস্যদের প্রকাশ্য ভোটে নির্বাচিত হন। নতুন ব্যবস্থায় গোপন ব্যালটে নিম্নকক্ষ ও উচ্চকক্ষের সদস্যরা ভোট দেবেন। রাষ্ট্রপতির নিয়োগ ক্ষমতা বাড়ছে এবং প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়াই বিভিন্ন কমিশনের প্রধান নিয়োগ দিতে পারবেন। অপরাধীকে ক্ষমা করার ক্ষমতা সীমিত হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা পরিবারের সম্মতি ছাড়া ক্ষমা করা যাবে না।

সংসদ ব্যবস্থায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ প্রতিষ্ঠা। স্বাধীনতার পর থেকে এক কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ চলে আসছে। নতুন ব্যবস্থায় ১০০ সদস্যের একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে যেখানে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে আসন বণ্টন হবে। নারীদের সংরক্ষিত আসন ৫০ থেকে ক্রমান্বয়ে ১০০তে উন্নীত করা হবে। ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত হবেন যা এখন সরকারি দল থেকেই হয়। সংসদ সদস্যরা বর্তমানে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে পদ হারান। নতুন নিয়মে বাজেট ও আস্থাবিল ছাড়া অন্যান্য বিষয়ে স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন।

নির্বাচন ব্যবস্থায় সবচেয়ে আলোচিত পরিবর্তন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার পুনঃপ্রবর্তন। বর্তমানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নেই। জুলাই সনদে সরকারি দল, বিরোধীদল ও দ্বিতীয় বিরোধীদলের মতামতের ভিত্তিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রস্তাব আছে। নির্বাচন কমিশন গঠনে প্রধানমন্ত্রীর একক নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেতা ও আপিল বিভাগের বিচারপতির সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হবে।

বিচার বিভাগে ব্যাপক সংস্কার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রধান বিচারপতি এখন রাষ্ট্রপতি যে কাউকে নিয়োগ দিতে পারেন, নতুন নিয়মে আপিল বিভাগ থেকে নিয়োগ দিতে হবে। হাইকোর্টের বিচারক নিয়োগ প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণ থেকে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন কমিশনে স্থানান্তরিত হবে। আপিল বিভাগের বিচারক সংখ্যা প্রধান বিচারপতির চাহিদা অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। প্রতিটি বিভাগে হাইকোর্টের বেঞ্চ স্থাপন এবং বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতার সাংবিধানিক নিশ্চয়তা দেওয়া হচ্ছে।

ন্যায়পাল, সরকারি কর্মকমিশন, মহা হিসাব নিরীক্ষক ও দুদক চেয়ারম্যান নিয়োগে বিরোধী দলসহ বিভিন্ন পক্ষের সমন্বয়ে কমিটি গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। সাংবিধানিক ক্ষমতার অপব্যবহার রোধের ব্যবস্থাও যুক্ত করা হয়েছে যা আগে ছিল না।

সাংবিধানিক সংস্কারের বাইরে ৩৭টি প্রস্তাব আইন ও অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা যাবে। এর মধ্যে বিচারকদের আচরণবিধি, সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয়, স্বতন্ত্র ফৌজদারি তদন্ত সার্ভিস, আদালত ডিজিটালাইজেশন, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন এবং কুমিল্লা ও ফরিদপুরে নতুন প্রশাসনিক বিভাগ গঠন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

গণভোটে 'হ্যাঁ' জিতলে আগামী সংসদ নয় মাসের মধ্যে এই ৮৪টি সংস্কার বাস্তবায়ন করতে বাধ্য থাকবে। না করলে অন্তর্বর্তী সরকারের রেখে যাওয়া সংশোধনী বিল পাস বলে গণ্য হবে। আর 'না' জিতলে জুলাই সনদ কার্যকর হবে না এবং পুরোনো ব্যবস্থা বহাল থাকবে। ১২ই ফেব্রুয়ারির এই গণভোট বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। গণভোট নিয়ে কোনো মতামত কিংবা ঘাপলা থাকলে কমেনটস সেকশনে আলোচনা করতে পারেন । এসব বিষয় নিয়ে ডিবেইট হওয়া উচিত ।

মুল লেখা : https://www.jugantor.com/national/1057843




মন্তব্য ৪ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ২৬ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৪৯

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: আসলে গনভোটের বিষয়টি জটিল ।
অনেক পয়েন্ট খুবই ভালো,
আবার কিছু কিছু আছে সংশোধন করা উচিৎ
সে কারনে এবারের গনভোট সঠিক বার্তা পাবেনা ।
.........................................................................
এই আন্দোলনের দাবীদার সনদে স্বাক্ষর করে নাই,
তাহলে তাদের প্রচারনার অর্থ কি ?
নাকি জামাতে যোগদানের পর সব বিলীন হয়ে গেছে ???

২৬ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৫৩

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ভালো মন্দ বুঝতে রাজনীতিবিদেরা। আপনি মেলায় আসবেন, কেনাকাটা করবেন আর মেলা থেকে ফেরার আগে ভোট দিয়ে যাবেন।।

২| ২৭ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:২৭

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: বি.এন.পি তো মেলার কথা বলে নাই ।
ভোরে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে ভোটকেন্দ্রে আসবেন
সেখানে ফজরের নামাজ পড়ে ভোট দিবেন
এবং ভোট চলাকালীন থাকবেন ও
আপনার ভোট আপনি পাহাড়া দিবেন ।
..............................................................................
ভাইরে ভাই ! এই কোন দেশে এসে পড়লাম,
দেশের ইজ্জত রক্ষার জন্য ...
নিজের ইজ্জত বিকিয়ে দিন ।

২৭ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৩০

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: এগুলো পলিটিকাল রেঠোরিক হিসাবে বলা হয়েছে । সবাই যাতে সচেতন হয় ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.