নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মানুষ মরে গেলে পঁচে যায় আর বেঁচে থাকলে বদলায়

সৈয়দ কুতুব

নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!

সৈয়দ কুতুব › বিস্তারিত পোস্টঃ

প্রিয় প্রফেসর ইউনুস সাহেবের নিকট খোলা চিঠি ( কাল্পনিক)

২৮ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:২৬


মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা,
অন্তর্বর্তী সরকার,
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ

বিষয়: পে কমিশন বাস্তবায়ন ও সামষ্টিক অর্থনীতি পুনর্গঠনে একটি বিকল্প সামাজিক প্রস্তাব।

আসসালামু আলাইকুম। একজন সাধারণ নাগরিক হিসাবে আপনার শাসন আমল কেবল আইয়ুব খানের শাসন আমলের সাথে তুলনীয়। কিনতু এই শাসন আমলেও আমাদের সরকারি কর্মচারী ভাই-বোনদের মুখে হাসি নেই । আপনি ক্ষুদ্রঋণ দিয়ে বিশ্বজয় করেছেন, এখন আমাদের বিশ্বাস—বৃহৎ ঋণের মাধ্যমে আপনি সামষ্টিক অর্থনীতিতে অভাবনীয় ‘ম্যাজিক’ দেখাবেন। পে কমিশন বাস্তবায়ন নিয়ে সাধারণ নাগরিক হিসাবে আমার কিছু একান্ত চিন্তাপ্রসূত প্রস্তাবনা নিচে পেশ করছি।

পে কমিশন বাস্তবায়নে যে ৮০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন, তা ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণ হিসেবে নেওয়ার প্রস্তাব করছি। খেলাপি ঋণের মহাসমুদ্রে এই সামান্য কয়েক হাজার কোটি টাকা কোনো বড় পার্থক্য তৈরি করবে না। আপনি ক্ষুদ্রঋণে সুদের সফল প্রয়োগ দেখিয়েছেন; এখন সরকার ঋণ নেবে আর সুদ দেবে: গ্রামীণ মডেলকে গভর্নমেন্ট মডেলে রূপান্তরের এটাই শ্রেষ্ঠ সময়।

বেতন বাড়লে ১৪ লক্ষ পরিবার খরচ করবে, যা বাজারে তারল্য বাড়াবে। আমদানি বাড়লে ভ্যাট ও কাস্টমস ডিউটি বাড়বে। যদি রিজার্ভে টান পড়ে, তবে আমাদের তো আইএমএফ (IMF) আছেই। ঋণ শোধ করতে পুনরায় ঋণ নেওয়া বা রিফাইন্যান্সিং একটি আধুনিক কৌশল, যা অনেকটা গ্রামীণ ব্যাংকের চক্রাকার ঋণ পদ্ধতির মতোই কার্যকর হতে পারে।

হিসাব করলে দেখা যাবে ৮০ হাজার কোটি টাকা খরচ করে রাজস্ব ফেরত আসবে বড়জোর ১৫ হাজার কোটি। কিন্তু একজন ‘সোশ্যাল বিজনেস’ প্রবর্তক হিসেবে আপনি নিশ্চয়ই একে লোকসান বলবেন না। ৬৫ হাজার কোটির এই ঘাটতিকে আমরা সামাজিক বিনিয়োগ হিসেবে ব্র্যান্ডিং করতে পারি, যেখানে লাভের চেয়ে মানুষের সন্তুষ্টিই বড়।

আইএমএফ হয়তো ফিসক্যাল ডিসিপ্লিনের কথা বলবে। কিন্তু একজন নোবেলজয়ীর উদ্ভাবনী কৌশলের সামনে তাদের গতানুগতিক তত্ত্ব ধোপে টিকবে না। কঠোর শর্তকে ইনক্লুসিভ গ্রোথ স্ট্র্যাটেজি হিসেবে উপস্থাপন করুন। তারা রাজি না হলে শর্তহীন চীনা ঋণের সুযোগ তো আছেই। ভবিষ্যৎ দায়ভার ভবিষ্যৎ সরকার বুঝবে, এখন আমাদের তুষ্টিই মুখ্য।

প্রয়োজনীয় অর্থ সংস্থানে শিক্ষা বা স্বাস্থ্যের মতো স্পর্শকাতর খাত বাদ দিয়ে অবকাঠামো (মেট্রো বা সেতু) থেকে বরাদ্দ কমানো যেতে পারে। একটি সেতুর কাজ এক বছর পিছিয়ে গেলে তা সহজে দৃশ্যমান হয় না, কিন্তু বেতন না বাড়লে অসন্তোষ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। রাজনীতির মূলমন্ত্রই হলো যা দৃশ্যমান, তাতে বিনিয়োগ করা।

যদি ভবিষ্যতে মুদ্রাস্ফীতি বা রিজার্ভ সংকট চরমে পৌঁছায়, তবে আমাদের হাতে সবসময় বৈশ্বিক সংকট বা পূর্ববর্তী সরকারের উত্তরাধিকার: এই দুটি অকাট্য যুক্তি থাকবে। যেহেতু আপনি নৈতিকভাবে আপসহীন, তাই আপনার এই ব্যাখ্যা জনগণের কাছে বিশ্বাসযোগ্য হবে। দিনশেষে ফলাফল যাই হোক, আমাদের নিয়ত পরিষ্কার ছিল—এটাই হবে আমাদের ঐতিহাসিক বিজয়।

বিনীত নিবেদক, একজন সাধারণ নাগরিক যে এখনো বিশ্বাস করে অর্থনীতিতে ম্যাজিক হয় না, ম্যাথ হয়। কিন্তু যে জানে বাংলাদেশে ম্যাথের চেয়ে ম্যাজিকের চাহিদা বেশি ।



মন্তব্য ২ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ২৮ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:৪৯

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: পে কমিশন বাস্তবায়নে যে ৮০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন,
.........................................................................................
এত অতিরিক্ত টাকা আসবে কোথা থেকে ?
ঋণ করে ঘি খেলে তো চলবেনা ।
আর এই সরকারী চাকুরে মোট জনগনের ২৫% এর বেশী নয়,
তাহলে বাজার মূ্ল্য বেড়ে গেলে অন্য সাধারন পাবলিক কি করবে ।
বাস্তবতা হলো এই সরকারের মাথায় ভূত আছে,
নির্বাচিত সরকারকে বিপদে ফালানোর জন্য কারসাজি ।

২| ২৮ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৩:০৩

শ্রাবণধারা বলেছেন: আপনি লিখে থাকলে, খুব মজার এবং ভালো লেখা। অন্য কেউ লিখে থাকলেও ভালো লেখা, তবে সেটা উল্লেখ করে দেওয়ার প্রয়োজন ছিল! :)

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.