| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সৈয়দ কুতুব
নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!
বাংলাদেশ সরকারের নিয়োগ দর্শন: সঠিক মানুষ, ভুল চেয়ার। ভুল মানুষ, সঠিক চেয়ার। এবং কিছু ক্ষেত্রে, ভুল মানুষ, ভুল চেয়ার।একটা দেশ কীভাবে বোঝা যায়? অনেকে বলেন জিডিপি দেখে। অনেকে বলেন মাথাপিছু আয় দেখে। কিন্তু আমার মতে সবচেয়ে সহজ উপায় হলো দেখা কে কোন চেয়ারে বসে আছেন। এই একটা কাজ করলেই পুরো সিস্টেমটা বোঝা যায়। বাংলাদেশে এই পরীক্ষাটা করলে যা বেরিয়ে আসে সেটা হলো একটা সুন্দর, সুসংহত এবং সম্পূর্ণ উদ্ভট মিসম্যাচের ছড়াছড়ি । আজকে দুটো চেয়ারের ঘটনা বলব। একটা বিডার, আরেকটা বাংলাদেশ ব্যাংকের। একজন আশিক চৌধুরী, আরেকজন মোস্তাকুর রহমান। দুইজনই ভুল জায়গায় বসে আছেন ।
আশিক চৌধুরী একজন প্রতিভাবান মানুষ। এটা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। সিঙ্গাপুরে HSBC তে কাজ করেছেন। রিয়েল অ্যাসেট ফাইন্যান্সের সহযোগী পরিচালক ছিলেন। IBA থেকে পড়েছেন। আর ৪১ হাজার ফুট উপর থেকে স্কাইডাইভিং করে বিশ্ব রেকর্ড করেছেন। সাহস আছে। দক্ষতা আছে। উচ্চতার ভয় নেই। কিন্তু বিডার চেয়ারম্যান হওয়ার জন্য যা দরকার সেটা উচ্চতার সাহস না, মাটির জ্ঞান।
বিডা (Bangladesh Investment Development Authority) হলো দেশের বিদেশী বিনিয়োগ আনা ও স্থানীয় বিনিয়োগ উৎসাহিত করা সংস্থা । বিডার কাজ হলো বিদেশী বিনিয়োগ আনা। এই কাজটা করতে হলে জানতে হয় চট্টগ্রাম বন্দরে একটা কনটেইনার ছাড়াতে কত সময় লাগে, গ্যাস সংযোগ পেতে কত বছর অপেক্ষা করতে হয়, ট্যাক্স অফিসে গেলে কী পরিস্থিতি হয়, একটা কারখানার জন্য ৪২টা আলাদা অনুমোদন লাগে কেন। এগুলো HSBC এর স্প্রেডশিটে থাকে না। জানা যায় মাটিতে দাঁড়িয়ে।
আশিক চৌধুরী এই মাটিতে কখনো দাঁড়াননি। তার পুরো ক্যারিয়ার ব্যাংকের ডেস্কে। ইন্ডাস্ট্রি দেখেছেন কাগজে, লোনের ফাইলে। মাঠে না। তাহলে ১৮ মাসে কী করেছেন? রোড শো করেছেন। আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তৃতা দিয়েছেন। MOU সই করেছেন। ছবি তুলেছেন। আর ফলাফল? বিনিয়োগ প্রস্তাবের সংখ্যা নিম্নমুখী। নেট FDI কমেছে। এই পরিস্থিতিতে তিনি এখন ১৮০ দিনের একটা নতুন পরিকল্পনা জমা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে।
এবার আসুন মোস্তাকুর রহমানের কথায়। তিনি গার্মেন্টস মালিক। নারায়ণগঞ্জে হেরা সোয়েটার্স নামে কারখানা আছে। বিজিএমইএ, রিহ্যাব, আটাবে কাজ করেছেন। বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলেন। এবং এখন তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ব্যবসায়ী গভর্নর। গভর্নরের কাজ হলো মুদ্রানীতি ঠিক করা, ব্যাংকিং সেক্টর নিয়ন্ত্রণ করা, মুদ্রাস্ফীতি সামলানো, রিজার্ভ ম্যানেজ করা। এগুলো অত্যন্ত টেকনিক্যাল কাজ। কিন্তু মোস্তাকুর রহমানকে বসানো হলো কেন? একটু পেছনে যেতে হবে।
আওয়ামী লীগ আমলে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা ছাপানো হয়েছিল, ব্যাংক লোন বিতরণ করা হয়েছিল রাজনৈতিক বিবেচনায়। আহসান এইচ মনসুর এসে সেই সব বন্ধ করার চেষ্টা করেছিলেন, সুদের হার বাড়িয়েছিলেন, কঠোর নীতি নিয়েছিলেন। ফলে ব্যবসায়ীরা খুশি ছিলেন না। ১৬ শতাংশ সুদের হারে ঋণ নেওয়া কঠিন। তখন সমাধান কী? একজন ব্যবসায়ীকে গভর্নর বানাও। তিনি বুঝবেন ব্যবসায়ীদের কষ্ট। ঋণ সহজ হবে। টাকা ছাপানো সহজ হবে। সবাই খুশি। এতে অর্থনীতি খুশি থাকবে কিনা সেটা পরের আলাপ।
এখন দুজনকে পাশাপাশি রাখুন: আশিক চৌধুরী বিডায়, মোস্তাকুর রহমান বাংলাদেশ ব্যাংকে। মোস্তাকুর রহমান বিডায় হলে কী হতো? তিনি নিজে বিনিয়োগকারী, মাঠ চেনেন, গার্মেন্টস সেক্টর বোঝেন, বিজিএমই, রিহ্যাব- আটাবে কাজ করেছেন মানে একাধিক সেক্টরের মানুষদের সাথে সম্পর্ক আছে। বিদেশী বিনিয়োগকারীকে বলতে পারতেন আমি নিজে এখানে বিনিয়োগ করেছি, টিকে আছি, আপনিও পারবেন।
বিডার আসল কাজ হলো বিনিয়োগের পথের কাঁটা সরানো। সেই কাঁটাগুলো কোথায় লুকিয়ে আছে সেটা তিনিই ভালো জানেন। আশিক চৌধুরী বাংলাদেশ ব্যাংকে? না, এটা মাথায় আনা ঠিক হবে না। মূল কথা হলো রহমান সাহেব বিডার প্রধান হলে ঠিক ছিলেন কিন্তু তাকে ভুল জায়গায় বসানো হয়েছে। আর ভুল মানুষকে এমন জায়গায় বসানো হয়েছে যেখানে তার থাকার কথাই না। এটাকে কেবল দুর্ঘটনা বলে দায় এড়ানো যাবে না ।
আশিক চৌধুরী ১৮ মাস ধরে বিডায় আছেন। এই সময়ে বিনিয়োগ প্রস্তাবের সংখ্যা নিম্নমুখী। নেট FDI কমেছে। সুদের হার ১৬ শতাংশ। বন্দর ফি ৪১ শতাংশ বেড়েছে। গ্যাস বিদ্যুৎ সংকট আছেই। এই পরিস্থিতিতে তিনি ১৮০ দিনের নতুন পরিকল্পনা দিয়েছেন। ১৮ মাসে যা হয়নি সেটা পরের ১৮০ দিনে হবে কীভাবে? এই প্রশ্নের জবাব পরিকল্পনায় নেই। কারণ এই পরিকল্পনাটা কাজের জন্য না, দেখানোর জন্য। FTA, চীনে অফিস, সিঙ্গেল উইন্ডো প্ল্যাটফর্ম, এগুলো শুনতে বড় লাগে। কিন্তু ১৮০ দিন পরে যখন হবে না, তখন বলা যাবে পরিস্থিতি অনুকূল ছিল না। এটাই কৌশল। যে কাজের ফলাফল পরিমাপ করা যায় না সেই কাজ করো। ব্যর্থ হওয়া যাবে না ।
বাংলাদেশে এই ধরণের মিসম্যাচ কোনো দুর্ঘটনা না; এটা একটা সিস্টেম। সেই সিস্টেমের নিয়মটা সহজ। যোগ্যতা দেখো, তারপর দলীয় পরিচয় দেখো, তারপর যোগ্যতা ভুলে যাও। আশিক চৌধুরী ৪১ হাজার ফুট থেকে লাফ দেওয়ার সাহস রাখেন। মোস্তাকুর রহমান গার্মেন্টস কারখানা চালানোর অভিজ্ঞতা রাখেন। দুজনেই নিজের জায়গায় দক্ষ। কিন্তু দুজনকেই ভুল চেয়ারে বসানো হয়েছে। একজনকে ভুল কারণে, আরেকজনকে সঠিক কারণে কিন্তু ভুল পদে।এই দেশে চেয়ার কখনো খালি থাকে না। অভাব থাকে শুধু সেই মানুষটার, যার ওই চেয়ারে বসার কথা ছিল । 
১৮ ই মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫০
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ওকে ঠিক আছে ।
©somewhere in net ltd.
১|
১৮ ই মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪১
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: আশিক চৌধুরী বিডায়, মোস্তাকুর রহমান বাংলাদেশ ব্যাংকে।
..........................................................................................
সব কাজেই সমালোচনা করা যায়,
প্রাপ্তি আসে ফলাফলে ।
সেই ফল পেতে গাছ লাগানোর পরও সময় দিতে হয়
অতএব অপেক্ষা করুন, রসুন বুনুন
ফলকি টক না মিষ্টি বুঝা যাবে ।