নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মানুষ মরে গেলে পঁচে যায় আর বেঁচে থাকলে বদলায়

সৈয়দ কুতুব

নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!

সৈয়দ কুতুব › বিস্তারিত পোস্টঃ

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাদ্রাসার শিক্ষক: একটি প্রগতিশীল (?) অগ্রযাত্রা

৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১:০৮


আমি আসলে জন্মগতভাবেই খুব আশাবাদী মানুষ। সত্যি বলছি। ২৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে যখন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় নতুন নীতিমালা জারি করল, আমি মনে মনে বললাম , অবশেষে কেউ অন্তত ভাবল। ১২ সদস্যের কমিটি হবে, অভিভাবক থাকবেন, ওয়ার্ড কমিশনার থাকবেন, আর কাছের মাদ্রাসা থেকে একজন শিক্ষক থাকা বাধ্যতামূলক। খবরটি পড়ে এতটাই অভিভূত হলাম যে প্রশ্নটা মাথায় এলই না ; প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কমিটিতে মাদ্রাসার শিক্ষক কেন থাকবেন? তবে এই ধরনের প্রশ্ন যারা ভাবে তাদের সমাজে ভালো চোখে দেখা হয় না।

একই দিনে ক্রীড়া মন্ত্রণালয় জানাল যে চতুর্থ শ্রেণি থেকে ফুটবল, ক্রিকেট, সাঁতার বাধ্যতামূলক। চমৎকার উদ্যোগ! কিন্তু কমিটিতে একজন ক্রীড়া প্রতিনিধির কথা কেউ ভাবলেন না। আমাদের দেশে উন্নয়ন নিজেই নিজের পথ খুজে নেয় ; সমন্বয়ের ঝামেলায় যাওয়ার দরকার কী।

২০২৫ সালের আগস্টে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত ও শরীরচর্চা শিক্ষকের পদ তৈরি হলো। শিশুরা গান শিখবে, দৌড়াবে; এই ভেবে খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু তারপরই কিছু মানুষ রাস্তায় নামলেন এবং দাবি তুললেন যে সংগীত শিক্ষক নয়, বরং আরও ধর্ম শিক্ষক চাই। ফলস্বরূপ, নভেম্বরেই সরকার সংগীত ও শরীরচর্চা শিক্ষকের পদগুলো বাতিল করে দিল। সাংবাদিকরা যখন প্রশ্ন করলেন এটি কি চাপের ফল কি না, তখন অতিরিক্ত সচিব উত্তর দিলেন যে আপনারা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পারেন। এর চেয়ে সৎ এবং মার্জিত উত্তর পৃথিবীতে আর হয় না।

শিশু হারাল সংগীত শিক্ষক। আইসিটি প্রতিনিধি কখনো আসেননি, পুষ্টিবিদ ভাবনার অতীত। বিনিময়ে নয় হাজার আলাদা ধর্মীয় শিক্ষক পদ এখন প্রক্রিয়াধীন। অথচ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষা আগে থেকেই ছিল, সাধারণ শিক্ষকরাই পড়াতেন, কোনো শূন্যতা ছিল না। তারপরও নয় হাজার নতুন পদ কেন ? এই প্রশ্নটিও বোধহয় ভালো চোখে দেখা হয় না।

এই বিশেষ দিকটিতে বাংলাদেশ সত্যিই বিশ্বে অনন্য। তুরস্ক সেকুলার রাষ্ট্র ; সেখানে কমিটিতে মাদ্রাসার শিক্ষক বাধ্যতামূলক নয়। সৌদি আরব, ইরান, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া -কোথাও নেই। একটি সেকুলার সংবিধানের দেশ হিসেবে আমরা এককভাবে এই পথ আবিষ্কার করেছি। অনেকে একে অগ্রগতি বলছেন। আমিও বলছি কারণ স্রোতের বিপরীতে সাঁতার কাটার অভ্যাস আমার কখনো ছিল না।

ইতিহাস অবশ্য একটু বিরক্তিকর জিনিস। পাকিস্তানে জিয়াউল হক ১৯৭৭ সালে ক্ষমতায় এসে পাঠ্যক্রম সাজালেন 'ইসলামী মূল্যবোধ' অনুযায়ী, মাদ্রাসার সনদ পেল বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রির সমমান। ১৯৮৮ সালের মধ্যে মাদ্রাসার সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে গেল এবং পাকিস্তান রাজনৈতিক ইসলামের কেন্দ্রে পরিণত হলো। তবে জিয়া সামরিক শাসক ছিলেন ; মানুষ সহজেই বুঝতে পেরেছিল কী হচ্ছে। গণতান্ত্রিক নীতিমালার মোড়কে একই পথ হাঁটলে বোঝা কঠিন হয়। প্রতিরোধও।

এখানে সৎ থাকতে হলে একটা কথা বলতেই হবে - এই গল্পের প্রথম অধ্যায় শেখ হাসিনার হাতে লেখা। ২০১৮ সালে কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিস সনদকে মাস্টার্সের সমমান, পাঠ্যবই থেকে অসাম্প্রদায়িক লেখা অপসারণ, হেফাজতকে রাজনৈতিক স্বীকৃতি। দল ভিন্ন, সরকার ভিন্ন, কিন্তু শিশুদের শিক্ষার অভিমুখ একই দিকে। একে কাকতালীয় ভাবার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।

আমি এখনো আশাবাদী। মাদ্রাসার শিক্ষক কমিটিতে এসে নিশ্চয়ই বৈপ্লবিক কিছু করবেন, নয় হাজার ধর্ম শিক্ষক শিশুদের বিজ্ঞানমনস্ক করে তুলবেন, আর সংগীত না শিখলেও সৃজনশীলতার কোনো ক্ষতি হয় না ; ফিনল্যান্ড, জাপান, সিঙ্গাপুর ভুল পথে হাঁটছে। রাতে ঘুমানোর আগে শুধু একটা কথাই মনে হয়: শিশুর মন যেদিকে ঘোরানো যায়, সমাজও সেদিকে যায়। পার্থক্য শুধু, আমরা এখন আর প্রশ্ন করি না - কে ঘোরাচ্ছে, আর কেন।



মন্তব্য ২৪ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (২৪) মন্তব্য লিখুন

১| ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ ভোর ৪:৩০

আলামিন১০৪ বলেছেন: আপনি কি ধর্মবিদ্বেষী?

৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:৩৬

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: না। আমি ধর্মকে পলিটিকাল কারণে ইউজ করার বিপক্ষে। কেউ যদি দাবি করে সব মাদরাসায় একজন জেনারেল লাইনের সায়েনস টিচার কে কমিটিতে রাখতে হবে মাদরাসা ওয়ালা রা মেনে নিবে ? মাদরাসার টিচার এর নাম করে এখানে কারা ঢুকবে সেটা সবাই জানে । ;)

২| ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৭:৩৯

অগ্নিবাবা বলেছেন: হা হা হা

৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:৩৭

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: হাসির কি আছে ? কারা মাদরাসার টিচারের নাম করে ঢুকবে সেটা ভেবে দেখুন ।

৩| ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:৪৬

সামছুল আলম কচি বলেছেন: মাদ্রাসা শিক্ষক খারাপ/অযোগ্য কিসে ??!!

৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:৪১

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: বিষয়টা খারাপ বা অযোগ্যর না । জেনারেল এডুকেশনে মাদরাসার লাইনের টিচারের কোনো কাজ নেই । কমিটিতে তাহলে কেন রাখা হলো ? কেউ যদি দাবি করে সব কওমি মাদরাসায় একজন করে জেনারেল লাইনের সায়েনস টিচার রাখতে হবে মাদরাসা ওয়ালা রা মেনে নিবে ?

এটা পুরোপুরি পলিটিকাল ডিসিশন । মাদরাসার টিচারের নাম করে পলিটিকাল লোক ঢুকবে ।

৪| ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৯:৫৬

রাজীব নুর বলেছেন: মাদ্রাসা শিক্ষা দিয়ে বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলা সম্ভব নয়।

৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:৪৪

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ইমাম-মুয়াজজিন সরকারি ভাবে ধনী ইসলামিক দেশগুলোতে পাঠিয়ে রেমিটেনস পাওয়া যেতে পারে।

৫| ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:৩৪

মোগল সম্রাট বলেছেন:

শনিডা ছিলো কান্ধে আইনা লইবো পোন্দ। B-)



৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:৪৭

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আপনি দারুণ অনু গল্প লিখেন ; তবে যে ভাষায় comment করেছেন উহা চিপ জোকস । :)

৬| ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:২৯

নিমো বলেছেন: অত্যন্ত যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত, নচেৎ ঠাপামিন৪২০ দের কী হবে?

৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৫২

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: দেখো মুখের ভাষা দেখো; বলি কোনোদিন মধু খান নি মশাই ? :)

৭| ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৫:৩০

নতুন বলেছেন: উন্নত বিশ্বের শিক্ষায় বর্তমানে STEM এর উপরে জোর দিচ্ছে।

আমরা মাদ্রাসা শিক্ষকের কাছে বিজ্ঞান মেলা করার আগে গাইরিওত ঠিক আছে কিনা জিঙ্গাস করবো, তিনি ছেলে বা মেয়েদের পর্দার আয়োজন ঠিক আছে কিনা যাচাই করে অনুমিতি দেবেন, নতুবা বিজ্ঞান মেলা বন্ধ করা হতে পারে।

৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৫

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: :)

৮| ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৪:৩৪

মাথা পাগলা বলেছেন: বাংগু লজিক - মাদ্রাসার খারাপ দিক নিয়ে কথা বললেই নাস্তিক!

০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৯:৪৭

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: :)

৯| ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:১৯

শ্রাবণধারা বলেছেন: এটা খুব বড় বিপদের ইঙ্গিত দেয়। ধর্মীয় শিক্ষাকে নিরুৎসাহিত করার পরিবর্তে, তাদের ক্ষমতায়ন করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে ভাবার প্রয়োজন আছে।

সংসদেও এখন অনেক মোল্লা ঢুকে গেছেন। এভাবে চলতে থাকলে বাংলাদেশে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে।

০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৯:৫০

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: মোললারা সংসদে যাওয়ার চেয়ে কমিটিতে থাকা বেশি বিপদজনক । আসলে পলিটিকাল লোকজনকে ঢুকানো হবে ।

১০| ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:২০

নতুন বলেছেন: আমলীগ বিএনপি তো চান্দাবাজী আর ধান্দাবাজীতে সময় দেয়।

জামাতীরা গোড়া থেকে পরিবর্তন আনতে সময় লাগায়। B:-)

০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৩১

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: জামায়াতের টেকনিকটাও পুরোনো হয়ে গেছে ; বিএনপি জামায়াত কে ছাড় দেয় । বাংলাদেশের বেশিরভাগ পাবলিক বাংগু তে পরিণত হয়ে গেছে । ইশকুল/কলেজে সভাপতি পদে hons পাশের নিচে উনাদের চলে না কিনতু প্রাইমারীতে মাদরাসার টিচার কোন পাশ দিয়ে কমিটিতে ঢুকছে সেটা নিয়ে কোনো আলাপ নেই । বাংগু মিডিয়া বিজি metro rail এ চুমু খাওয়া কি পাপ নিয়ে ।

১১| ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:৩২

রাজীব নুর বলেছেন: পোষ্টে আবার এলাম। কে কি মন্তব্য করেছেন, সেটা জানতে।

০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৬

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ঠিক আছে ।

১২| ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৪৮

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: সৈয়দ কুতুব বলেছেন: সমবায় নিয়ে লিখলে লেখা এত ভিউ পেত বলে মনে হয় না ।
......................................................................................................................
ভালো কথা বলেছেন ।
সমবায় নিয়ে লিখেছিলাম ২/৩ বার গাজী সাহেবের কথায়
সেখানে কোন ব্লগার আমাকে উৎসাহ নিয়ে কিছু জানতে চায় নাই ।
এরপর সমবায় নিয়ম কানুন নিয়ে লিখলাম, সেখানেও আগ্রহী শ্রোতা পাইনি ।
কষ্ট করে গল্প লেখা শুরু করলাম, নাই কোন সমালোচনা ।
কবিতা ! মাত্র ২/৪ সাড়া দেয় ।
তাহলে বলুন কোনটা হট টপিক হতে পারে ?
আজও রেডিও টিভিতে টিকার মজুদ আর শিশু মৃত্যুর ব্যাপার নিয়ে হৈ ,চৈ যাচ্ছে ।

০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০৬

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ঠিকই আছে আপনার কথা ।,

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.